আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ: পশ্চিমাদের স্বার্থ আদায়ের তন্ত্র – গণতন্ত্র!
মোহাম্মদ আসাদ আলী:
পশ্চিমা ইহুদি-খ্রিস্টান ‘সভ্যতা’ কর্তৃক রূপায়িত নতুন যে বিশ্বব্যবস্থা কার্যকর কোরতে পশ্চিমারা এতদিন বদ্ধপরিকর ছিলো ইতোমধ্যেই সেই কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে তারা পৌঁছে গেছে। সেটা হচ্ছে পৃথিবীব্যাপী একমাত্রিক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা কোরে নিজেদের আধিপত্য কায়েম রাখা। তাদের পূর্বকল্পিত বিশ্বব্যবস্থাই পৃথিবী গ্রহণ কোরেছে এবং নেতা হিসেবে গ্রহণ কোরেছে ঐ আধিপত্যবাদীদের। তারা যে উদ্দেশ্যকে মাথায় রেখে যেভাবে কর্মসম্পাদন কোরেছে এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে যেই ফলাফল আশা কোরেছে ঠিক তা-ই হোয়েছে এবং হোচ্ছে, এর কোথাও কোন বিচ্যুতি হয় নি। আর তাদের এই কর্মসম্পাদনা থেকে বার বার যেটা প্রমাণিত হোয়েছে যে- মানবাধিকার, স্বাধীনতা, মানবতা ইত্যাদি তাদের মুখের বুলি হোলেও কার্যক্ষেত্রে সেগুলোকে তারা ‘ছেলে ভুলানো গান’ মনে করে, তাদের কাছে এগুলো বিশ্ববাসীর চোখে ধূলি দিয়ে স্বার্থোদ্ধারের একটি পন্থা বৈ কিছু নয়। পশ্চিমা বিশ্বব্যবস্থার মোড়ল, অপ্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ তার আশীর্বাদপুষ্ট দোসর রাষ্ট্রগুলিকে এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য বরাবরই গণতন্ত্রকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার কোরতে দেখা গেছে। বলা যায় এই গণতন্ত্রই তাদেরকে বর্তমান অবস্থায় নিয়ে এসেছে।
শতাব্দীর পর শতাব্দী পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ত্রুটি-বিচ্যুতির পর ইউরোপ ও আমেরিকায় বর্তমানে গণতন্ত্র একটি প্রতিষ্ঠিত সরকার পদ্ধতি। গণতন্ত্র আজ তাদের মূলধনে পরিণত হোয়েছে এবং তাদের সংস্কৃতি-সভ্যতার অনুকূলে গড়ে ওঠা সেই শাসনব্যবস্থাকেই তারা সমস্ত পৃথিবীর জাতিগোষ্ঠিগুলোর ঘাড়ে চাপাচ্ছে। এভাবেই পৃথিবীজুড়ে যে গতিতে এই শাসনব্যবস্থার বিস্তার ঘটানো হোয়েছে তার সমান্তরালে পাশ্চাত্যের ভারসাম্যহীন সংস্কৃতি ও সভ্যতারও বিস্তার ঘটেছে, বিশ্ব হোয়ে উঠেছে আপাদমস্তক পশ্চিমানির্ভর। এতে কোরে খুব সহজেই নিজেদের স্বার্থকে আদায় করে নিতে পারছে মোড়ল রাষ্ট্রগুলি।
পশ্চিমাদের এই সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের ফলে পৃথিবীতে এখন গণতন্ত্রের জয়-জয়কার। পশ্চিমা ভাবাদর্শে পরিচালিত দেশীয় মিডিয়া এবং শিক্ষাব্যবস্থার ফলে মানুষ অন্ধভাবে বিশ্বাস কোরছে যে গণতন্ত্রই একমাত্র গ্রহণযোগ্য শাসনব্যবস্থা। এর বিকল্প হিসেবে অন্য কোন শাসনব্যবস্থার কথা পৃথিবীবাসী কল্পনাও কোরতে পারছে না, আর কল্পনা কোরলেও কোন লাভ হবে না। কারণ গণতন্ত্রের মধ্যেই পশ্চিমাদের স্বার্থ, গণতন্ত্রই তাদের শাসন-শোষণের হাতিয়ার। এটা ছাড়া অন্য কোন শাসনব্যবস্থাকে পশ্চিম মেনে নিতে দিবে না। যুক্তি আসতে পারে – অনেক দেশেই তো এখনো গণতন্ত্র চালু নেই, সে দেশের মানুষ অন্য শাসনব্যবস্থাকে এখনো ধরে নিয়ে আছে। তাহোলে সে সব দেশে কেন পশ্চিমারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কোরতে চেষ্টা কোরছে না? এর উত্তরে প্রথমেই বোলতে চাই – সে সব দেশে যে পশ্চিমা সভ্যতার অনুপ্রবেশ ঘটে নি তা কিন্তু নয়। এটা বুঝতে হবে যে- আপাত দৃষ্টিতে পশ্চিমাদেরকে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মানুষের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বোলতে দেখা গেলেও বাস্তবে তাদের কাছে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা বা মানবাধিকারের কোন মূল্য নেই, এগুলো মূলত তাদের স্বার্থোদ্ধারের হাতিয়ার। কাজেই যেখানে তাদের স্বার্থ পরিপন্থী কোন কাজ হয় না এবং হবার কোন সম্ভাবনাও নেই, বরং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না থাকলেও সে দেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পরোক্ষভাবে তাদের হাতেই রোয়েছে সেখানে তারা কেন ঐ গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা কোরবে?
মধ্যপ্রাচ্যের যে আরব দেশগুলোতে এখনও রাজতন্ত্র চালু আছে সেখানকার অধিবাসীরা যে গণতন্ত্র চায় না তা কিন্তু নয়। বহির্বিশ্বের মত তাদেরকেও দেখা গেছে গণতন্ত্রের পক্ষে শ্লোগান তুলতে, রাজপথে নামতে। কিন্তু সে চেষ্টা কোন কাজে আসেনি, পশ্চিমা গণতন্ত্রের ধ্বজাধারীদের কাছ থেকে কোন সাহায্য-সহায়তা আসেনি। কারণ ঐ দেশগুলোতে গণতন্ত্র চালু করার সাথে পশ্চিমা স্বার্থের কোন সম্পর্ক নেই। যদি থাকতো তবে বছরখানেকও বোধহয় লাগতো না তিউনিসিয়া, মিশর, লিবিয়ার মত সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ইত্যাদি দেশগুলোতে গণতন্ত্র কায়েম হোতে। এখানেই বোঝা যায় – পশ্চিমাদের কাছে গণতন্ত্র আসলে কোন বিষয় নয়, আসল বিষয় হলো তাদের স্বার্থ। এই স্বার্থ বাস্তবায়নের জন্য তারা বহু পূর্ব থেকে চেষ্টা চালিয়ে এসেছে। পৃথিবীব্যাপী অন্যায়-অবিচার, যুদ্ধ, রক্তপাত নির্মূলের অভিপ্রায়ে ১৯৪৫ সালে যে জাতিসঙ্ঘকে জন্ম দেয়া হয় সেটাও ছিলো তাদের ঐ পরিকল্পনারই অংশবিশেষ।
পাশ্চাত্যের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য তাদের নিরাপত্তার ছাতা হিসেবে জাতিসঙ্ঘের ব্যবহার নতুন বিশ্বব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ কোরছে। জাতিসঙ্ঘ ১৯৩টি দেশের সঙ্ঘ হোলেও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন ও রাশিয়ার মতো হাতে গোনা কয়েকটি দেশ তা নিয়ন্ত্রণ করে। জাতিসঙ্ঘের সকল সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মূলত এই সব দেশের বিশেষ কোরে আজকের একক সুপার পাওয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটে যা কোনভাবেই তাদের মুখের সর্বাধিক উচ্চারিত বুলি গণতন্ত্রের সাথে সামঞ্জস্যশীল নয়। ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ব্যাপারে জাতিসংঘের স্বপ্নদ্রষ্টা ও সমর্থকদের যে আহ্বান ছিােলা বর্তমান অবস্থায় তা থেকে জাতিসঙ্ঘ অনেক দূরে অবস্থান কোরছে। এর কার্যক্রম এখন ধনী ও শক্তিশালী দেশগুলোর জাতীয় পররাষ্ট্রনীতির নকশা অনুসরণ কোরে চলে। জাতিসঙ্ঘ ব্যবস্থার মোট খরচের সিংহভাগও তারাই বহন করে। কারণ গণতন্ত্রের মতো এটাও তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য একটি বড় হাতিয়ার। যেখানে নিরাপত্তা পরিষদের সকল দেশ কোন একটি সিদ্ধান্তে একমত হবার পরে শুধুমাত্র একটি দেশ ভেটো দিলেই সেই সিদ্ধান্ত নাকচ হোয়ে যায় সেখানে “সংখ্যাগরিষ্ঠের মতোই চূড়ান্ত” – এই তত্ত্বের গণতন্ত্র কোথায় থাকে? আবার দেখা যায় কোন দেশ আক্রমণ কোরতে চাইলে অন্য সব দেশ বিরোধিতা কোরলেও যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেনের মতো কতিপয় দেশ কাউকে পাত্তা না দিয়ে আক্রমণ কোরে বসে, সেখানেও গণতন্ত্র কোন কাজে আসে না, গণতন্ত্রের ভাষ্য আর কৃতকর্মের মধ্যে কোন মিল পাওয়া যায় না। এর উত্তর একটিই – গণতন্ত্র পশ্চিমা আগ্রাসীদের কাছে কোন বিষয় নয়, আসল বিষয় হোল তাদের স্বার্থ। তারা গণতন্ত্র মানবে ততোক্ষণ, যতক্ষণ সেটা তাদের স্বার্থের অনুকূলে থাকবে।
কাজেই এটা স্পষ্ট যে- আজ পৃথিবীবাসী পশ্চিমের তাবেদারি কোরেই হোক আর তাদের গালভরা বুলিতে বিশ্বাস কোরেই হোক গণতন্ত্র নামক যে সিস্টেমটিকে তাদের চলার পাথেয় হিসেবে গণ্য কোরছে এবং সেটাকে বিকল্পহীন হিসেবে বিবেচনা কোরছে সেটা পশ্চিমাদের নিছক একটি পৃথিবীব্যাপী নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার ছাড়া কিছুই নয়। এই গণতন্ত্র আজ পর্যন্ত ঐ গুটিকতক আধিপত্যবাদীদের ভোগ-বিলাস, আরাম-আয়েশ ছাড়া আর কোন জাতিকে শান্তি-সমৃদ্ধি এনে দিতে পারে নি, পারার কোন সম্ভাবনাও নেই।
Wednesday, October 7, 2015
Thursday, September 10, 2015
দাঙ্গাকারীদের স্বর্গ নেই
দাঙ্গাকারীদের স্বর্গ নেই
0
আমীরুল ইসলাম:
ইসলামের প্রতি হিংসা ও বিদ্বেষবশত অনেকেই রসুলাল্লাহকে গালাগালি করে, কোর’আন পোড়ায়। যারা এই কাজগুলি করে, খোঁজ নিলে দেখা যাবে তারা প্রত্যেকেই ধর্মব্যবসায়ী বা ধর্মকে ব্যবহার করে স্বার্থ হাসিল করতে চায়। যেমন প্রকাশ্যে কোর’আন পুড়িয়ে মিডিয়ায় প্রচার করেছেন যে টেরি জোনস তিনি একজন প্যাস্টর বা ধর্মযাজক। আমরা বলতে চাই, যারা এভাবে অন্য ধর্মের সম্মানিত ব্যক্তি, আরাধ্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্টুন চলচ্চিত্র ইত্যাদি নির্মাণ করে অপপ্রচার করে তারা প্রকৃতপক্ষে কোনো ধর্মেরই অনুসারী নয়, তারা শয়তানের উপাসক। তারা হোচ্ছে ধর্ম ব্যবসায়ী দ্বারা প্রভাবিত রাজনৈতিক ধান্দাবাজদের হাতিয়ার। তারা এভাবে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে দিয়ে ক্রুসেডের জন্ম দিয়েছে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধোরে চলমান দাঙ্গা হাঙ্গামা সৃষ্টি করেছে। আজকে সারা দুনিয়ায় যতগুলি যুদ্ধ চলছে হিসাব করলে দেখা যাবে সেগুলির সিংহভাগই হোচ্ছে ধর্মীয় চেতনার ভিত্তিতে। যেমন সিরিয়াতে চলছে শিয়া-সুন্নী-জঙ্গিদের সহিংসতা, ইরাকে চলছে বিকৃত ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ, ইসরাইল যে সারা পৃথিবীতে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মধ্যে কোন্দল, যুদ্ধ-বিগ্রহ বাধিয়ে রেখেছে এবং পশ্চিমা দেশগুলিকে এই যুদ্ধে ব্যবহার করে যাচ্ছে এর পেছনেও কাজ করছে বিকৃত ধর্মীয় চেতনা। এই ভারতীয় উপমহাদেশেও যতগুলি হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার সৃষ্টি হয়েছে তার সবগুলোই এই ধর্মব্যবসায়ী এবং ব্রিটিশ শাসকদের ষড়যন্ত্রের ফসল। এভাবে যুদ্ধ, দাঙ্গা, সহিংসতা সব মিলিয়ে পশ্চিমা সভ্যতার রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং ধর্মব্যবসায়ীদের অন্ধত্ব দুনিয়াটিকে নরক কুণ্ডে পরিণত করেছে। ঈসা (আ.) সম্পর্কে আল্লাহর রসুল বলেছেন, “মানবজাতির মধ্যে সবার চেয়ে ঈসা ইবনে মরিয়মের (আ.) ভাই হবার ক্ষেত্রে আমি সর্বাধিক দাবিদার, তাঁর ও আমার মধ্যে আর কোনো নবী নেই” (কানজুল উম্মাল, ১৭ খণ্ড, হাদিস ১০৩৩)। অন্যত্র বলেছেন, “দুনিয়ায় এবং আখেরাতে আমি ঈসা ইবনে মরিয়মের (আ.) সবচেয়ে নিকটতম। সকল নবীরাই ভাই ভাই, কেবল তাদের মা আলাদা। তবে তাদের সবাই একই ধর্মের অনুসারী। (হাদিস- আবু হোরায়রা রা. থেকে বোখারী)। অথচ যে বনী ইসরাইলের প্রতি ঈসা (আ.) এসেছিলেন তারা এবং খ্রিস্টানরা রসুলাল্লাহ ও ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাঙ্গাত্মক চলচ্চিত্র কার্টুন বানিয়ে ইচ্ছাকৃত দাঙ্গা সৃষ্টি করতে চায়, নিজেরা আলোচনায় আসতে চায়। আবার ঈসা (আ.) শেষ রসুল সম্পর্কে তাঁর আসহাবদেরকে বলেছেন, “বিশ্বাস করো আমি তাঁকে দেখেছি এবং তাঁকে সম্মান জানিয়েছি। এভাবে সকল নবী তাঁকে দেখেছেন। তাঁর রূহকে দর্শনের মাধ্যমে নবীগণ নব্যুয়তপ্রাপ্ত হয়েছেন। আমি যখন তাঁকে দেখলাম আত্মা প্রশান্ত হয়ে গেল। আমি বোললাম, O Muhammad;, God be with you, and may he make me worthy to untie your shoelatchet; for obtaining this I shall be a great prophet and holy one of God. হে মোহাম্মদ! আল্লাহ আপনার সহায় হোন। আমাকে তিনি আপনার জুতার ফিতা বাঁধার যোগ্যতা দান কোরুন। কারণ আমি যদি এই মর্যাদা লাভ কোরি তাহলে আমি একজন বড় নবী হবো এবং আল্লাহর একজন পবিত্র মানুষ হয়ে যাবো। (The Gospel of Barnabas, Chapter 44). এভাবেই একজন নবী আরেকজন নবীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন, অবনত মস্তক ছিলেন, একে অপরকে ভাই মনে করেছেন। অথচ তাঁদের বিকৃত অনুসারীরা সেই নবী বা অবতারদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনায় লিপ্ত, একে অপরের রক্ত দিয়ে হোলি খেলে চোলেছে আর ভাবছে স্রষ্টা ভগবান ঈশ্বর মহাপ্রভু তাদের জন্য স্বর্গের দরজায় লাল গালিচা বিছিয়ে রেখেছেন। করুণ পরিহাস!!যারা ধর্মের নামে দাঙ্গাবিস্তার করে তারা যে জাহান্নামে যাবে এটা আল্লাহরই ঘোষণা। তিনি পবিত্র কোর’আনে বলেন, “এমন কিছু লোক রয়েছে যাদের পার্থিব জীবনের কথাবার্তা তোমাকে চমৎকৃত করবে। আর তারা সাক্ষ্য স্থাপন করে আল্লাহকে নিজের মনের কথার ব্যাপারে। প্রকৃতপক্ষে তারা কঠিন ঝগড়াটে লোক। যখন তারা ফিরে যায় তখন চেষ্টা করে যাতে সেখানে অকল্যাণ সৃষ্টি করতে পারে এবং শস্যক্ষেত্র ও প্রাণনাশ করতে পারে। আল্লাহ ফাসাদ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা পছন্দ করেন না। আর যখন তাকে বলা হয় যে, আল্লাহকে ভয় কর, তখন তার পাপ তাকে অহঙ্কারে উদ্বুদ্ধ করে। সুতরাং তার জন্যে জাহান্নামই যথেষ্ট। আর নিঃসন্দেহে তা হলো নিকৃষ্টতর ঠিকানা। (সুরা বাকারা ২০৪-৬)
সুতরাং এইসব কপট, স্বার্থবাজ ধর্মব্যবসায়ী ও প্রতারক রাজনীতিকদের প্রভাব থেকে প্রকৃত ধর্মকে উদ্ধার করতে না পারলে মানবজাতি কোনোদিনও মুক্তি পাবে না
Tuesday, September 8, 2015
দলের মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজন থাকলে জাতির মধ্যে কেন নয়?
দলের মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজন থাকলে জাতির মধ্যে কেন নয়?
0
রাকীব আল হাসান:
আমাদের দেশে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত, জাসদসহ অর্ধশতাধিক রাজনৈতিক দল রয়েছে, যাদের প্রত্যেকেই নিজেদেরকে গণতান্ত্রিক দল হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। যদিও দলগুলির আলাদা আলাদা মতাদর্শ রয়েছে যেমন কেউ ইসলামপন্থী, কেউ সমাজতন্ত্রী, কেউ ধর্মনিরোপেক্ষতাবাদী, কেউ জাতীয়তাবাদী ইত্যাদি ইত্যাদি। ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শের হলেও তারা একটি বিষয়ে একমত (অন্তত মুখে তারা যা বলে), সেটা হলো তারা সবাই গণতন্ত্র চায়, গণতন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতার লড়াইটা চালিয়ে যেতে চায়। ইসলামপন্থী এবং সমাজন্ত্রীরা কিভাবে মুখে গণতন্ত্রের কথা টেনে আনে সেটা আমার বোধগম্য নয়। সে যাই হোক, কোন রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতা-নেত্রীদের কাছে যদি বলেন, আপনার দলের মধ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা দরকার, অর্থাৎ একটি রাষ্ট্রে যেমন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলে নানা কর্মসূচির নানা দল গজিয়ে ওঠে ঠিক একইভাবে আপনার দলের মধ্যেও কিছু গ্রুপ তৈরি করা দরকার, এতে দলের নেতাদের স্বৈরাচারী মনোভাব দূর হবে, যা ইচ্ছা তা করতে পারবে না। ধরুন দলের মধ্যে দশটি গ্রুপ করলেন, প্রতিটা গ্র“পের একজন করে গ্রুপ লিডার থাকলো। এবার দলের সাধারণ সদস্যদের মধ্যে ভোটের মাধ্যমে একটি গ্রুপকে দলে কর্তৃত্ব করার ক্ষমতা দেওয়া হলো। পরাজিত নয়টি গ্রুপ এবার পরবর্তী ভোটের আগে পর্যন্ত সাধারণ সদস্যদের মাঝে বিজয়ী গ্রুপের ত্রুটি তুলে ধরে তাদের জনপ্রিয়তা ধূলোয় মেশানোর চেষ্ট করে যাবে। এছাড়াও বিজয়ী গ্রুপের যে কোন কাজের ত্রুটি বের করে তাদের অধিকাংশ কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে থাকবে। তবুও যদি কর্তৃত্বকারী গ্রুপটির স্বৈরাচারী মনোভাব দূর না হয় তবে বাকি নয়টি গ্রুপ মিলে হরতাল, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি কর্মসূচির মাধ্যমে ঐ গ্রুপকে টেনে হিঁচড়ে কর্তৃত্ব থেকে নামানোর চেষ্টা করবে, এতে সাধারণ সদস্যদের প্রাণহানী হলে হোক, অর্থের ক্ষতি হয় হোক তাতে আপনাদের কী? অন্তত আপনার দলের মধ্যে গণতন্ত্র তো প্রতিষ্ঠা হবে!
আমার এই সহজ-সরল যুক্তি নির্ভর প্রস্তাবটি সত্যিকারের গণতন্ত্রমনা যে কোন দলের নেতৃবৃন্দের মেনে নেওয়া উচিত, কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো কোন দলের উচ্চ পর্যায়ের চেয়ারগুলিতে নেহায়েত উন্মাদ, পাগল অথবা নির্বোধ কোন প্রাণী বসে থাকলেই কেবল দলবিধ্বংসী এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। আরেক শ্রেণির নেত্রীবৃন্দ প্রস্তাবটি গ্রহণ করতে পারে, যারা নিজ স্বার্থ রক্ষার্থে দল ধ্বংস করতে সর্বদাই প্রস্তুত থাকে। তাদের কাছে দলীয় স্বার্থ নয়, নৈরাজ্যই পছন্দ।
আমার আপাত সুন্দর এই প্রস্তাবটি অর্থাৎ প্রচলিত সিস্টেম বা গণতন্ত্র গ্রহণ করলে একটি বৃহৎ শক্তিশালী দলও ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে, ঐক্য নষ্ট হয়ে মুখ থুবড়ে পড়বে, সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। একইভাবে এই সিস্টেম যখন কোন জাতির উপর চাপিয়ে দেওয়া হয় তখন ঐ জাতিও নানা দলে, উপদলে বিভক্ত হয়ে নিজেরা নিজেরা সংঘাত, সংঘর্ষ করে অকার্যকর, ব্যর্থ ও পশ্চাৎপদ জাতিতে পরিণত হয়, এটা অতি সাধারণ জ্ঞানেই বোঝা যায়। তাই ছোট্ট একটি প্রশ্ন রেখেই আজ শেষ করতে চাই, “একটি দলকে টিকিয়ে রাখার জন্য যদি গণতন্ত্র বাদ দিয়ে সামষ্টিক ঐক্যকে বেছ নিতে হয়, তবে জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিবর্তে জাতির জন্য বৃহত্তর ঐক্য কেন নয়?”
আমার এই সহজ-সরল যুক্তি নির্ভর প্রস্তাবটি সত্যিকারের গণতন্ত্রমনা যে কোন দলের নেতৃবৃন্দের মেনে নেওয়া উচিত, কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো কোন দলের উচ্চ পর্যায়ের চেয়ারগুলিতে নেহায়েত উন্মাদ, পাগল অথবা নির্বোধ কোন প্রাণী বসে থাকলেই কেবল দলবিধ্বংসী এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। আরেক শ্রেণির নেত্রীবৃন্দ প্রস্তাবটি গ্রহণ করতে পারে, যারা নিজ স্বার্থ রক্ষার্থে দল ধ্বংস করতে সর্বদাই প্রস্তুত থাকে। তাদের কাছে দলীয় স্বার্থ নয়, নৈরাজ্যই পছন্দ।
আমার আপাত সুন্দর এই প্রস্তাবটি অর্থাৎ প্রচলিত সিস্টেম বা গণতন্ত্র গ্রহণ করলে একটি বৃহৎ শক্তিশালী দলও ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে, ঐক্য নষ্ট হয়ে মুখ থুবড়ে পড়বে, সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। একইভাবে এই সিস্টেম যখন কোন জাতির উপর চাপিয়ে দেওয়া হয় তখন ঐ জাতিও নানা দলে, উপদলে বিভক্ত হয়ে নিজেরা নিজেরা সংঘাত, সংঘর্ষ করে অকার্যকর, ব্যর্থ ও পশ্চাৎপদ জাতিতে পরিণত হয়, এটা অতি সাধারণ জ্ঞানেই বোঝা যায়। তাই ছোট্ট একটি প্রশ্ন রেখেই আজ শেষ করতে চাই, “একটি দলকে টিকিয়ে রাখার জন্য যদি গণতন্ত্র বাদ দিয়ে সামষ্টিক ঐক্যকে বেছ নিতে হয়, তবে জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিবর্তে জাতির জন্য বৃহত্তর ঐক্য কেন নয়?”
আদম সৃষ্টির উদ্দেশ্য
১. পবিত্র কোর’আনে আদম সৃষ্টির ব্যাপারে
আল্লাহ বলেছেন, যখন আমি তাকে পুরোপুরি
সুঠাম করব এবং আমার রূহ থেকে ফুঁকে দেবো
তখন তোমরা সবাই তার সামনে সেজদাবনত
হবে। (সুরা হিজর ২৯)
শিক্ষা: মানুষের মাঝেও যে স্রষ্টা বাস
করেন, মানুষকে অবজ্ঞা করলে, মানুষকে কষ্ট
দিলে, মানুষের বেদনা-যন্ত্রণায় পাশে না
দাঁড়ালে তিনিও যে কষ্ট পান, ব্যথিত হয়ে
থাকেন, তার প্রমাণ আল কোর’আনের এই
আয়াত। পবিত্র কোর’আনের এই আয়াত
অনুযায়ী প্রত্যেক আদম সন্তানের ভেতরে
স্রষ্টার রূহ রয়েছে। সুতরাং মানুষকে
অবহেলা করা মানে স্রষ্টাকে অবহেলা
করা। আর মানুষের কল্যাণে কাজ করাই
হচ্ছে আল্লাহর রাস্তায় কাজ করা। এ
কারণেই আল্লাহ বলেছেন, “পূর্ব এবং
পশ্চিমদিকে তোমাদের মুখ ফিরানোতে
কোন পুণ্য নেই। কিন্তু পুণ্য আছে কেউ
আল্লাহর উপর, কিয়ামত দিবসের উপর,
মালায়েকদের উপর এবং সমস্ত নবী-
রসুলগণের উপর ঈমান আনবে, আর আল্লাহরই
প্রেমে স¤পদ ব্যয় করবে আÍীয়-স্বজন, এতীম-
মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও দাসমুক্তির
জন্যে (সুরা বাকারা ১৭৭)। শুধু তাই নয়,
তিনি হাদিসে কুদসীতে বলেছেন, ‘আমি
ভগ্নপ্রাণ ব্যক্তিদের সন্নিকটে অবস্থান
করি। অন্যত্র বলেছেন, বিপদগ্রস্তদেরকে
আমার আরশের নিকটবর্তী করে দাও। কারণ
আমি তাদেরকে ভালোবাসি (দায়লামী ও
গাজ্জালী)।
২. ভগবত গীতায় শ্রীকৃষ্ণ তাঁর সখা
অর্জুনকে বলছেন, যে সর্ব ভূতে অবস্থিত
নারায়ণকে উপেক্ষা করে মূর্তিতে
নারায়ণের অর্চনা করে, সে ভস্মে ঘৃতাহুতি
দেয়। (৬/৩১)
শিক্ষা: গীতার এই স্লোকটি যেন আল
কোর’আনেরই সমর্থন প্রদান করছে। নারায়ণ
তথা সৃষ্টিকর্তা সকলের ভেতরেই রয়েছেন।
মানুষমাত্রই পরমাÍার অংশ। মানুষের
কল্যাণে, জগতের কল্যাণে প্রবৃত্ত হওয়াই
তাই একজন মানুষের প্রকৃত স্রষ্টাভক্তির
পরিচয় বহন করে।
৩. মহামতি গৌতম বুদ্ধ বুদ্ধত্ব লাভ করার পর
শিষ্যদের উদ্দেশ করে বলেছিলেন, “হে
ভিক্ষুগণ, বহুজনের হিতের জন্য, বহুজনের সুখ
ও মঙ্গলের জন্য এমন ধর্ম প্রচার করো, যে
ধর্মের আদি, মধ্য এবং অন্তে কল্যাণ।”
শিক্ষা: খুবই পরিষ্কার। ধ্যান করে দুঃখ
থেকে মুক্তিলাভ নয়, মানুষের সমষ্টিগত
কল্যাণই ছিল মহামতি বুদ্ধের প্রচারিত
ধর্মের প্রকৃত লক্ষ্য।
৪. আবার ঈসা (আ.) ইহুদিদের প্রার্থনার
দিন শনিবারে শরিয়াতের বিধান লঙ্ঘন
করে অন্ধ, রুগ্ন, খঞ্জকে সুস্থ করে তুলেছেন
(নিউ টেস্টামেন্ট: মার্ক ৩, লুক ১৪)।
শিক্ষা: প্রশ্ন হলো, ঈসা (আ.) বেছে বেছে
এই শনিবারের দিন, যেটা ইহুদিদের
স্যাবাথ ডে ছিল, সেই দিনকেই অন্ধ ও রুগ্ন
ব্যক্তির সেবা করার জন্য গ্রহণ করলেন
কেন? কারণ এটাই যে, ইহুদিরা ধর্মীয়
আনুষ্ঠানিকতাকে মানবকল্যাণের চেয়েও
বেশি প্রয়োজনীয় জ্ঞান করতো। তারা
স্যাবাথের দিন কেবল উপাসনা করেই
কাটাতো, কোনো দুনিয়াদারি তথা রুগ্ন ও
দুস্থ ব্যক্তির সেবা করাকে সেদিন নিষিদ্ধ
কাজ বলে বিবেচনা করা হতো। তাই তিনি
স্যাবাথের দিনই ওই নিয়ম ভঙ্গ করে বুঝিয়ে
দিলেন যে, ধর্মের পরম উদ্দেশ্য হলো
মানবকল্যাণ। বাকি সব আনুষঙ্গিক। অথচ
আনুষ্ঠানিকতাকেই মুখ্য কাজ বিবেচনা
করে যখন মানুষকেই অবহেলার চোখে দেখা
হয় সেটা আর ধর্মকর্ম থাকে না, স্রষ্টার
সাথে সেটা এক প্রকার প্রতারণা হিসেবে
গণ্য হয়।
আল্লাহ বলেছেন, যখন আমি তাকে পুরোপুরি
সুঠাম করব এবং আমার রূহ থেকে ফুঁকে দেবো
তখন তোমরা সবাই তার সামনে সেজদাবনত
হবে। (সুরা হিজর ২৯)
শিক্ষা: মানুষের মাঝেও যে স্রষ্টা বাস
করেন, মানুষকে অবজ্ঞা করলে, মানুষকে কষ্ট
দিলে, মানুষের বেদনা-যন্ত্রণায় পাশে না
দাঁড়ালে তিনিও যে কষ্ট পান, ব্যথিত হয়ে
থাকেন, তার প্রমাণ আল কোর’আনের এই
আয়াত। পবিত্র কোর’আনের এই আয়াত
অনুযায়ী প্রত্যেক আদম সন্তানের ভেতরে
স্রষ্টার রূহ রয়েছে। সুতরাং মানুষকে
অবহেলা করা মানে স্রষ্টাকে অবহেলা
করা। আর মানুষের কল্যাণে কাজ করাই
হচ্ছে আল্লাহর রাস্তায় কাজ করা। এ
কারণেই আল্লাহ বলেছেন, “পূর্ব এবং
পশ্চিমদিকে তোমাদের মুখ ফিরানোতে
কোন পুণ্য নেই। কিন্তু পুণ্য আছে কেউ
আল্লাহর উপর, কিয়ামত দিবসের উপর,
মালায়েকদের উপর এবং সমস্ত নবী-
রসুলগণের উপর ঈমান আনবে, আর আল্লাহরই
প্রেমে স¤পদ ব্যয় করবে আÍীয়-স্বজন, এতীম-
মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও দাসমুক্তির
জন্যে (সুরা বাকারা ১৭৭)। শুধু তাই নয়,
তিনি হাদিসে কুদসীতে বলেছেন, ‘আমি
ভগ্নপ্রাণ ব্যক্তিদের সন্নিকটে অবস্থান
করি। অন্যত্র বলেছেন, বিপদগ্রস্তদেরকে
আমার আরশের নিকটবর্তী করে দাও। কারণ
আমি তাদেরকে ভালোবাসি (দায়লামী ও
গাজ্জালী)।
২. ভগবত গীতায় শ্রীকৃষ্ণ তাঁর সখা
অর্জুনকে বলছেন, যে সর্ব ভূতে অবস্থিত
নারায়ণকে উপেক্ষা করে মূর্তিতে
নারায়ণের অর্চনা করে, সে ভস্মে ঘৃতাহুতি
দেয়। (৬/৩১)
শিক্ষা: গীতার এই স্লোকটি যেন আল
কোর’আনেরই সমর্থন প্রদান করছে। নারায়ণ
তথা সৃষ্টিকর্তা সকলের ভেতরেই রয়েছেন।
মানুষমাত্রই পরমাÍার অংশ। মানুষের
কল্যাণে, জগতের কল্যাণে প্রবৃত্ত হওয়াই
তাই একজন মানুষের প্রকৃত স্রষ্টাভক্তির
পরিচয় বহন করে।
৩. মহামতি গৌতম বুদ্ধ বুদ্ধত্ব লাভ করার পর
শিষ্যদের উদ্দেশ করে বলেছিলেন, “হে
ভিক্ষুগণ, বহুজনের হিতের জন্য, বহুজনের সুখ
ও মঙ্গলের জন্য এমন ধর্ম প্রচার করো, যে
ধর্মের আদি, মধ্য এবং অন্তে কল্যাণ।”
শিক্ষা: খুবই পরিষ্কার। ধ্যান করে দুঃখ
থেকে মুক্তিলাভ নয়, মানুষের সমষ্টিগত
কল্যাণই ছিল মহামতি বুদ্ধের প্রচারিত
ধর্মের প্রকৃত লক্ষ্য।
৪. আবার ঈসা (আ.) ইহুদিদের প্রার্থনার
দিন শনিবারে শরিয়াতের বিধান লঙ্ঘন
করে অন্ধ, রুগ্ন, খঞ্জকে সুস্থ করে তুলেছেন
(নিউ টেস্টামেন্ট: মার্ক ৩, লুক ১৪)।
শিক্ষা: প্রশ্ন হলো, ঈসা (আ.) বেছে বেছে
এই শনিবারের দিন, যেটা ইহুদিদের
স্যাবাথ ডে ছিল, সেই দিনকেই অন্ধ ও রুগ্ন
ব্যক্তির সেবা করার জন্য গ্রহণ করলেন
কেন? কারণ এটাই যে, ইহুদিরা ধর্মীয়
আনুষ্ঠানিকতাকে মানবকল্যাণের চেয়েও
বেশি প্রয়োজনীয় জ্ঞান করতো। তারা
স্যাবাথের দিন কেবল উপাসনা করেই
কাটাতো, কোনো দুনিয়াদারি তথা রুগ্ন ও
দুস্থ ব্যক্তির সেবা করাকে সেদিন নিষিদ্ধ
কাজ বলে বিবেচনা করা হতো। তাই তিনি
স্যাবাথের দিনই ওই নিয়ম ভঙ্গ করে বুঝিয়ে
দিলেন যে, ধর্মের পরম উদ্দেশ্য হলো
মানবকল্যাণ। বাকি সব আনুষঙ্গিক। অথচ
আনুষ্ঠানিকতাকেই মুখ্য কাজ বিবেচনা
করে যখন মানুষকেই অবহেলার চোখে দেখা
হয় সেটা আর ধর্মকর্ম থাকে না, স্রষ্টার
সাথে সেটা এক প্রকার প্রতারণা হিসেবে
গণ্য হয়।
সামাজিক অপরাধ দূরীকরণে প্রয়োজন ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা
সামাজিক অপরাধ দূরীকরণে প্রয়োজন ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা
সামাজিক অপরাধ, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ধর্মব্যবসা ও অপরাজনীতির হীনচর্চা আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে গেছে। পরিসংখ্যান বলছে, কেবল আমাদের দেশেই নয় সমগ্র বিশ্বেই সামাজিক অপরাধ, অন্যায়, অশান্তি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিনের পত্রিকার পাতা খুললে যে নৃশংস হৃদয়বিদারী চিত্র চোখে ভেসে আসে, তা কোনো মানবসমাজের প্রতিনিধিত্ব করে না। মানুষের মধ্যে পারষ্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ, অবিশ্বাস, কূটিলতা, স্বার্থপরায়ণতা ইত্যাদি যখন বৃদ্ধি পায়, এক কথায় মানুষের নৈতিক চরিত্রের অধঃপতন ঘটে তখন সে মনুষ্যত্ব হারায়। সমাজে এর বহিঃপ্রকাশ ঘটে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। মানুষের চারিত্রিক অবনতি ও অবক্ষয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পুলিশ পাহারা দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হচ্ছে না, উপরন্তু যদি শান্তিরক্ষাকারীদের মধ্যেই দুর্নীতি প্রবিষ্ট হয় তখন শান্তি আসার শেষ পথটিও বন্ধ হয়ে যায়। তথাপি মানুষের শান্তির লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, তাদেরকে আধুনিক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে আইন কঠোর থেকে কঠোরতর করা হচ্ছে। যে অপরাধের সাজা ছিল ১০ বছর, তা বাড়িয়ে করা হচ্ছে যাবজ্জীবন, যে অপরাধের সাজা ছিল যাবজ্জীবন তা এখন মৃত্যুদণ্ড করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো দিনকে দিন মানুষের অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিতে পারলেই অপরাধ সংঘটন করছে। পুলিশ প্রহরায় রাস্তাঘাটে হয়তো অপরাধ সংঘটন কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায় কিন্তু বাড়ির মধ্যে স্বামী স্ত্রীকে হত্যা করছে, মেয়ে বাবা-মাকে হত্যা করছে, ভাই ভাইকে হত্যা করছে, পিতা-মাতা সন্তানকে হত্যা করছে, এই ভয়াবহ অবস্থায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দোষারোপ করার কোনো যুক্তি নেই। সমস্ত পরিসংখ্যান বলছে, দিন দিন অপরাধ বাড়ছে, উদ্ভাবিত হচ্ছে অপরাধের নিত্য-নতুন কলাকৌশল। এ থেকে বাঁচতে হলে আমাদেরকে বুঝতে হবে যে, শুধু শক্তি প্রয়োগ করে, দণ্ডবিধি দেখিয়ে মানুষকে অপরাধ থেকে ফিরিয়ে রাখা সম্ভব নয়। মানুষ শুধু দেহসর্বস্ব প্রাণী নয়, তার একটা আত্মাও আছে। এই আত্মাই তাকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই মানুষকে যদি আত্মিক শিক্ষা দেবার মাধ্যমে পরিশুদ্ধ করা হয়, তাদেরকে যদি নৈতিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তবে সে নিজেই আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে অপরাধ সংঘটন থেকে নিবৃত থাকবে। অপরাধ প্রবণতা থেকে মানুষেকে বিরত রাখার জন্য এটাই সর্বোত্তম পন্থা, পাশাপাশি অপরাধের জন্য কঠোর দণ্ডবিধিও থাকতে হবে।
আমাদের সমাজে যে ধর্ম প্রচলিত আছে তা একান্তই উপাসনাকেন্দ্রিক- সমাজকেন্দ্রিক নয়। এর নৈতিক শিক্ষাগুলি বহুবিধ কারণে মানুষকে অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পারছে না। তাদের জন্য প্রয়োজন ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা। মানুষকে শিক্ষা দিতে হবে প্রকৃত ধর্ম কী, প্রকৃত ইবাদত কী, মানুষের কাছে স্রষ্টার চাওয়া কী, কাজ ও কাজের পরিণতি (হাশর) কী, মানবজন্মের সার্থকতা কীসে, জান্নাতে বা স্বর্গে যাবে কারা ইত্যাদি। অতি সংক্ষেপে মূল কথাগুলো বলার চেষ্টা করছি:-
(১) ধর্ম কী? প্রকৃতপক্ষে ধর্ম হলো কোনো পদার্থ বা প্রাণীর প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য। যেমন আগুনের ধর্ম পোড়ানো, পানির ধর্ম ভেজানো। ঠিক একইভাবে মানুষের ধর্ম হলো মানুষের অভ্যন্তরস্থ মানবীয় গুণাবলী। সৃষ্টির প্রতি সহানুভূতি, দয়া, মায়া, ভালোবাসা, মনুষ্যত্ব, মানবতা, সৌহার্দ্য, বিবেক, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলা ইত্যাদি মানবীয় গুণাবলীই হলো মানুষের ধর্ম। যতক্ষণ একজন মানুষ অন্যের ব্যথায় ব্যথিত হয়, অন্যের দুঃখে দুঃখী হয়, অন্যের আনন্দে আনন্দিত হয়, অপরকে সহযোগিতা করে, আর্তপীড়িতের পাশে দাঁড়ায় ততক্ষণ সে ব্যক্তি ধার্মিক হিসেবে পরিগণিত হবার যোগ্য, কেননা তার ভিতরে মনুষ্যত্বের বৈশিষ্ট্যগুলি আছে। পক্ষান্তরে কেউ যদি নামায, রোযা, হজ, পূজা, অর্চনা, উপাসনা ইত্যাদি নিয়ে দিনরাত ব্যাপৃত থাকে কিন্তু তার ভিতরে মানবতার গুণাবলী না থাকে সে প্রকৃত ধার্মিক নয়, আল্লাহর প্রকৃত উপাসক নয়।
(২) প্রকৃত ইবাদত ও মানবজীবনের সার্থকতা: মানবজাতির শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য কাজ করাই মানুষের প্রকৃত ইবাদত। যখন কারো বাড়িতে আগুন লাগে তখন যারা সেই আগুন নেভাতে না গিয়ে মসজিদে নামাজ পড়ে তারা আসলে আল্লাহর ইবাদত করছে না। আমাদের এ কথা থেকে কেউ যেন মনে না করেন যে, আমরা নামাজ পড়াকে ছোট করে দেখছি। হ্যাঁ, মানুষ অবশ্যই নামাজ পড়বে, কারণ নামাজ তাকে মানবতার কল্যাণে আত্মনিয়োগ ও সংগ্রাম করার যে চরিত্র দরকার তা সৃষ্টি করবে। মানুষের জীবনের উদ্দেশ্যে কেবল উদরপূর্তি, সংসারবৃদ্ধি ও দেহত্যাগ করা নয়, ওটা পশুর জীবন। মানুষ আল্লাহর রূহ ধারণকারী, আল্লাহর নিজ হাতে সৃষ্ট আশরাফুল মাখলুকাত। আল্লাহ তাঁর জীবনের উদ্দেশ্য স্থির করে দিয়েছেন যে, মানুষ যদি তার সমগ্র জীবনকালে স্বার্থকে কোরবানি দিয়ে মানবতার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে পারে তবেই তার মানবজনম সার্থক হবে। মানুষ যদি এই প্রত্যয় করে যে, সে বাঁচবে মানবতার কল্যাণে, মরবে মানবতার কল্যাণে, জ্ঞান লাভ করবে মানুষকে দেওয়া জন্য, জগতের উন্নতির জন্য, দুটো পয়সা রোজগারের জন্য নয় তবেই এই পৃথিবীতে তার আসার উদ্দেশ্য সার্থক হল।
(৩) হাশর: মানুষের জীবন কর্মফলের চক্রে বাঁধা। মানুষ যে কাজই করে তার ফল অবশ্যই তাকে ভোগ করতে হবে। এখানে যদি সে খারাপ কাজ, মন্দ কাজ, মানুষের জন্য অকল্যাণকর কাজ করে তবে পৃথিবীতেই তাকে তার কুফল ভোগ করতে হবে, হাশরের দিনও তার কষ্টদায়ক ফল ভোগ করতেই হবে। মানুষের পরিণতি বা হাশরের উপমা আল্লাহ, ঈশ্বর প্রকৃতিতে ছড়িয়ে রেখেছেন যেমন- বীজ থেকে অঙ্কুরিত হয় গাছ এবং আর গাছ থেকে হয় ফল। ফলই হচ্ছে সেই বীজের হাশর। এখন সেই বীজ যত ছোটই হোক বা যত বড়ই হোক, তিল, সরিষা, গম, সিম, সুপারি বা নারকেল যা-ই হোক না কেন। মানুষের কর্মও এমন বীজের মতই- তার একটি ফল আছেই। এটাই তার হাশর।
মানুষের আত্মিক এবং মানসিক পরিশুদ্ধির এই প্রশিক্ষণ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাগুলির মধ্যেও নেই, ধর্মগুলির মধ্যেও অনুপস্থিত, শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কৃতি সবই তো সম্পূর্ণ বস্তুবাদী ও ভোগবাদী। এ বিষয়গুলো যদি মানুষকে শিক্ষা দেয়া যায়, তাহলেই মানুষের মানসিক অবস্থার শুভ পরিবর্তন হবে এবং সামাজিক অপরাধ অনেকাংশেই বন্ধ হবে।
আমাদের সমাজে যে ধর্ম প্রচলিত আছে তা একান্তই উপাসনাকেন্দ্রিক- সমাজকেন্দ্রিক নয়। এর নৈতিক শিক্ষাগুলি বহুবিধ কারণে মানুষকে অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পারছে না। তাদের জন্য প্রয়োজন ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা। মানুষকে শিক্ষা দিতে হবে প্রকৃত ধর্ম কী, প্রকৃত ইবাদত কী, মানুষের কাছে স্রষ্টার চাওয়া কী, কাজ ও কাজের পরিণতি (হাশর) কী, মানবজন্মের সার্থকতা কীসে, জান্নাতে বা স্বর্গে যাবে কারা ইত্যাদি। অতি সংক্ষেপে মূল কথাগুলো বলার চেষ্টা করছি:-
(১) ধর্ম কী? প্রকৃতপক্ষে ধর্ম হলো কোনো পদার্থ বা প্রাণীর প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য। যেমন আগুনের ধর্ম পোড়ানো, পানির ধর্ম ভেজানো। ঠিক একইভাবে মানুষের ধর্ম হলো মানুষের অভ্যন্তরস্থ মানবীয় গুণাবলী। সৃষ্টির প্রতি সহানুভূতি, দয়া, মায়া, ভালোবাসা, মনুষ্যত্ব, মানবতা, সৌহার্দ্য, বিবেক, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলা ইত্যাদি মানবীয় গুণাবলীই হলো মানুষের ধর্ম। যতক্ষণ একজন মানুষ অন্যের ব্যথায় ব্যথিত হয়, অন্যের দুঃখে দুঃখী হয়, অন্যের আনন্দে আনন্দিত হয়, অপরকে সহযোগিতা করে, আর্তপীড়িতের পাশে দাঁড়ায় ততক্ষণ সে ব্যক্তি ধার্মিক হিসেবে পরিগণিত হবার যোগ্য, কেননা তার ভিতরে মনুষ্যত্বের বৈশিষ্ট্যগুলি আছে। পক্ষান্তরে কেউ যদি নামায, রোযা, হজ, পূজা, অর্চনা, উপাসনা ইত্যাদি নিয়ে দিনরাত ব্যাপৃত থাকে কিন্তু তার ভিতরে মানবতার গুণাবলী না থাকে সে প্রকৃত ধার্মিক নয়, আল্লাহর প্রকৃত উপাসক নয়।
(২) প্রকৃত ইবাদত ও মানবজীবনের সার্থকতা: মানবজাতির শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য কাজ করাই মানুষের প্রকৃত ইবাদত। যখন কারো বাড়িতে আগুন লাগে তখন যারা সেই আগুন নেভাতে না গিয়ে মসজিদে নামাজ পড়ে তারা আসলে আল্লাহর ইবাদত করছে না। আমাদের এ কথা থেকে কেউ যেন মনে না করেন যে, আমরা নামাজ পড়াকে ছোট করে দেখছি। হ্যাঁ, মানুষ অবশ্যই নামাজ পড়বে, কারণ নামাজ তাকে মানবতার কল্যাণে আত্মনিয়োগ ও সংগ্রাম করার যে চরিত্র দরকার তা সৃষ্টি করবে। মানুষের জীবনের উদ্দেশ্যে কেবল উদরপূর্তি, সংসারবৃদ্ধি ও দেহত্যাগ করা নয়, ওটা পশুর জীবন। মানুষ আল্লাহর রূহ ধারণকারী, আল্লাহর নিজ হাতে সৃষ্ট আশরাফুল মাখলুকাত। আল্লাহ তাঁর জীবনের উদ্দেশ্য স্থির করে দিয়েছেন যে, মানুষ যদি তার সমগ্র জীবনকালে স্বার্থকে কোরবানি দিয়ে মানবতার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে পারে তবেই তার মানবজনম সার্থক হবে। মানুষ যদি এই প্রত্যয় করে যে, সে বাঁচবে মানবতার কল্যাণে, মরবে মানবতার কল্যাণে, জ্ঞান লাভ করবে মানুষকে দেওয়া জন্য, জগতের উন্নতির জন্য, দুটো পয়সা রোজগারের জন্য নয় তবেই এই পৃথিবীতে তার আসার উদ্দেশ্য সার্থক হল।
(৩) হাশর: মানুষের জীবন কর্মফলের চক্রে বাঁধা। মানুষ যে কাজই করে তার ফল অবশ্যই তাকে ভোগ করতে হবে। এখানে যদি সে খারাপ কাজ, মন্দ কাজ, মানুষের জন্য অকল্যাণকর কাজ করে তবে পৃথিবীতেই তাকে তার কুফল ভোগ করতে হবে, হাশরের দিনও তার কষ্টদায়ক ফল ভোগ করতেই হবে। মানুষের পরিণতি বা হাশরের উপমা আল্লাহ, ঈশ্বর প্রকৃতিতে ছড়িয়ে রেখেছেন যেমন- বীজ থেকে অঙ্কুরিত হয় গাছ এবং আর গাছ থেকে হয় ফল। ফলই হচ্ছে সেই বীজের হাশর। এখন সেই বীজ যত ছোটই হোক বা যত বড়ই হোক, তিল, সরিষা, গম, সিম, সুপারি বা নারকেল যা-ই হোক না কেন। মানুষের কর্মও এমন বীজের মতই- তার একটি ফল আছেই। এটাই তার হাশর।
মানুষের আত্মিক এবং মানসিক পরিশুদ্ধির এই প্রশিক্ষণ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাগুলির মধ্যেও নেই, ধর্মগুলির মধ্যেও অনুপস্থিত, শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কৃতি সবই তো সম্পূর্ণ বস্তুবাদী ও ভোগবাদী। এ বিষয়গুলো যদি মানুষকে শিক্ষা দেয়া যায়, তাহলেই মানুষের মানসিক অবস্থার শুভ পরিবর্তন হবে এবং সামাজিক অপরাধ অনেকাংশেই বন্ধ হবে।
কে সৃষ্টি করল এই সিস্টেম ???
কুকুরের সঙ্গে খাবার ভাগ করে খাওয়ার এই
নির্মম দারিদ্র্য কে সৃষ্টি করল? সে হচ্ছে
আমাদের প্রাণপ্রিয় গণতন্ত্র। ঔপনিবেশিক
প্রভুদের থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত
এই বস্তুতান্ত্রিক জীবনব্যবস্থা ও নীতিহীন
ভোগবাদিতার উপহার আমাদের এই ক্ষুধার্ত
সমাজ, বাস্তুহারার ক্রন্দন আর আয়লান-
রাকিব-রাজন।
.
এ সেই গণতন্ত্রের উপহার যার যপ করতে
করতে আমরা মাছের মতো খাবি খাচ্ছি।
এই পশ্চিমা গণতন্ত্রই আমাদের হৃদয়ে
ভোগের সীমাহীন চাহিদা সৃষ্টি করেছে,
অর্থের ক্ষধা সৃষ্টি করছে, দুচোখে বেধে
দিয়েছে স্বার্থঠুলি। সম্পদের আকাঙ্ক্ষা
অসীম হয়ে আমাদের মনুষ্যত্বকে গ্রাস করে
নিয়েছে, হৃদয়কে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে।
যার পরিণাম এই দু পেয়ে পশুর সমাজ।
.
কিছু মানুষ এবং কিছু রাষ্ট্র বিত্তবৈভবের
পাহাড়ের উপরে বসে চিন্তা করছে এত
টাকা কীভাবে ভোগ করব? তাদের পেট এতই
বড় যে পুরো পৃথিবীর যাবতীয় সম্পদ তারা
উদরস্থ করে ফেলতে সক্ষম, তবু তাদের হৃদয়
তৃপ্ত হবে না। এমন আরো এক পৃথিবীর সম্পদও
তারা খেতে প্রস্তুত, সুযোগ পেলেই খেয়ে
নেবে।
পৃথিবীতে এতো অসান্তি কেনো ???
জাহেলিয়াতি পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে পারি। স্রষ্টার দেয়া জীবনব্যবস্থা নিখুত, ত্রুটিহীন। স্রষ্টার দেয়া জীবনব্যবস্থায় অন্যায়, শোষন-জুলুম, নির্যাতন, হঠকারিতার কোন সুযোগ নাই। স্রষ্টাপ্রদত্ত জীবনব্যবস্থা বাস্তবায়ন হলে সমাজ থেকে শোষন-বৈসম্য দূর হয়ে সম্পদের সুষ্ঠ বন্টন নিশ্চিত হবে। কেউ অজস্র সম্পদ ভোগ করবে আর কেউ অনাহারে বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে, কষ্টকর জীবনযাপন করবে তা সম্ভব হবে না। শোষকের কাল হাত গুরিয়ে দিয়ে অত্যাচার -নির্যাতনমুক্ত একটি সুখী- শান্তিময় বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে স্রষ্টার দেয়া জীবনব্যবস্থা-শাসনব্যবস্থা মানব সমাজে প্রতিষ্ঠার ফলে। তাই আসুন আজকের এই করুন পরিনতি থেকে বাঁচতে, মানুষের ক্ষুদ্র মস্তিষ্কপ্রসূত, শোষনের হাতিয়ারসরূপ, ব্যর্থ, ত্রুটিপূর্ণ গনতন্ত্র-সমাজতন্ত্র-রাজতন্ত্ররুপী জীবনব্যবস্থাকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে মহান স্রষ্টাপ্রদত্ত নিখুত, ত্রুটিহীন... (পূর্বেজতবার মানবজীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ততবার সফল হয়েছে প্রমানীত) সেই
জীবনব্যবস্থাকে আমাদের রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে মুক্ত হবে মানবতা, প্রতিষ্ঠিত হবে মানবকল্যানময় সমাজ-রাষ্ট্র ও বিশ্বব্যবস্থা।
Subscribe to:
Posts (Atom)

