Wednesday, November 18, 2015

অধঃপতিত জাতির মুক্তির জন্য যামানার এমামের আবির্ভাব

অধঃপতিত জাতির মুক্তির জন্য যামানার এমামের আবির্ভাব

Manonio-Amamuzzaman2-226x300দুনিয়াময় এই যে মুসলিম নামক প্রায় ১৬০ কোটির জনসংখ্যা, যাদেরকে আল্লাহ কোর’আনে সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি বোলেছেন, যাদেরকে আল্লাহ মনোনীত কোরেছেন দুনিয়াময় শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য, আজ তারা নিজেরাই অন্যায় অবিচার, যুদ্ধ, হানাহানি, রক্তপাত, দারিদ্র্য, অশিক্ষা অর্থাৎ চরম অশান্তিতে নিমজ্জিত হোয়ে আছে। সর্বদিক থেকে সর্বনিকৃষ্ট জাতিতে পরিণত হোয়েছে। অথচ তাদের আল্লাহ ও তাঁর রসুলের প্রতি বিশ্বাস রোয়েছে, কোর’আনের প্রতি বিশ্বাস আছে, নামাজ পড়ে, হজ্জ্ব করে, দাড়ি, টুপি, পাগড়ী সবই আছে শুধুমাত্র এসলাম সম্পর্কে প্রকৃত আকীদা (Comprehensive Concept) অর্থাৎ শেষ এসলামের উদ্দেশ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের প্রক্রিয়া-প্রশিক্ষণ সম্বন্ধে অন্ধ হোয়ে যাওয়ার ফলে এই মহান জাতি আজ আটলান্টিকের তীর থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত প্রায় অর্ধ পৃথিবীতে মৃত লাশের মতো পড়ে আছে। তারা এমন কাল ঘুমে ঘুমিয়েছে যে একে জাগাবার জন্য শক্ত আঘাত ছাড়া উপায় নেই। হেযবুত তওহীদের এমাম, এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী তাঁর লিখিত এ ইসলাম ইসলামই নয়, এসলামের প্রকৃত রূপরেখা, এসলামের প্রকৃত সালাহ, দাজ্জাল? ইহুদি-খ্রিস্টান-সভ্যতা! সহ সকল বইয়ে, বক্তব্যে, আলোচনায় জাতির এই কালঘুম ভাঙ্গানোর জন্য শক্ত আঘাত কোরেছেন। তিনি বোলেছেন, ‘জানিনা, কয়জনের ঘুম ভাঙ্গবে, কয়জনের অন্ধত্ব ঘুচবে। হেদায়াত, পথ-প্রদর্শন নিশ্চয়ই আমার হাতে নয়, আল্লাহ বোলেছেন- তা তাঁর হাতে। কাকে তিনি হেদায়াত কোরবেন, অন্ধত্ব ঘুচাবেন, কাকে নয়, আমি জানি না। আমি শুধু জানি- আল্লাহর শেষ প্রেরিত, শেষ রসুল মোহাম্মদ (দঃ) বিন আবদাল্লাহ যে জীবন-ব্যবস্থা, যে দীন আল্লাহর কাছ থেকে এনে মানব জাতিকে উপহার দিয়েছিলেন, আজকের এসলাম সেই দীন নয়, যে জাতি তিনি সৃষ্টি করে গিয়েছিলেন, আজকের মুসলিম নামধারী উম্মতে মোহাম্মদীর দাবিদার এই বিরাট জাতিটি সেই জাতিও নয়।
সংস্কৃতিতে একটা কথা আছে- ফলেন পরিচয়তে! গাছের ফল থেকেই তার পরিচয়, শত যুক্তি তর্কে তা বদলানো যাবে না। কাজেই চার পাঁচ লাখ মানুষের সেই ছোট্ট জাতিটির কাজের ফল, আর গত কয়েক শতাব্দী ধোরে যে বিরাট জাতিটি শত্র“র গোলামি-দাসত্ব কোরল, এবং দাসত্ব থেকে আংশিক মুক্তি পাওয়ার পরও যে জাতি স্বেচ্ছায় দাসত্ব কোরছে, গায়রুল্লাহর এবাদত কোরছে, এই দু’টোকেই সেই একই জাতি বলে বিশ্বাস করা, একটি সুমিষ্ট আম গাছ আর একটি তিক্ত মাকাল ফলের গাছ, দু’টোকেই একই গাছ বলে বিশ্বাস করা বা যুক্তি-তর্ক দিয়ে তা প্রমাণ করার চেষ্টার মতই নির্বুদ্ধিতা ও নিষ্ফল।’ বুদ্ধি হবার পর থেকেই তাঁর মনে একটি প্রশ্ন নাড়া দিচ্ছিলো, তখন ঐ সময়ে এই উপমহাদেশসহ প্রায় সমস্ত মুসলিম দুনিয়া কোন না কোন ইউরোপীয়ান জাতিগুলির শাসনাধীন অর্থাৎ পাশ্চাত্য খ্রিস্টান শক্তির দাস। এই বিশাল জাতিটাকে ইউরোপের ছোট ছোট রাষ্ট্রগুলি টুকরো টুকরো করে ভাগ করে এক এক রাষ্ট্র এক এক টুকরো চুষে খাচ্ছিলো। তিনি সবার কাছে শুনতেন, বিশেষ করে ওয়াজে মাওলানা মৌলভীদের কাছ থেকে শুনতেন যে এসলামই একমাত্র সঠিক ধর্ম, এই জাতিই আল্লাহর কাছে গৃহীত, আর সব দোযখে যাবে। এই জাতিটি, বিশেষ করে এই আলেম মৌলভীরা আল্লাহর অতি প্রিয়, তাদের জন্য আল্লাহ জান্নাত সাজিয়ে গুছিয়ে রেখেছেন। কিন্তু তাঁর মনে খটকা লাগতো, তাই যদি হবে, শুধু আমরাই যদি সত্য পথের পথিক হই, তবে আমাদের এই ঘৃণার দাসত্ব কেন? তিনি মৌলভীদের কাছে প্রশ্ন কোরলে তারা বুঝিয়ে দিতেন- আল্লাহ অন্যদের অর্থাৎ আমাদের খ্রিস্টান প্রভুদের এই দুনিয়া ভোগ কোরতে দিয়েছেন এ জন্য যে তাদের পরকালে জাহান্নামে দেবেন আর আমাদের দরিদ্র, অশিক্ষা, আর গোলামির মধ্যে রেখেছেন এই জন্য যে আমাদের আখেরাত অর্থাৎ পরকালে সুখ দেয়া হবে। কোরআন-হাদিস উল্লেখ করে বুঝিয়ে দিতেন- এই দুনিয়াটা কত খারাপ জায়গা। এর কোন কাজে লিপ্ত না হোয়ে, চোখ-কান বুঁজে নামাজ, রোজা, ইত্যাদি করতে কোরতে জীবনটা কোনোরকম কাটিয়ে দিতে পারলেই পরকালে একেবারে জান্নাতুল ফেরদৌসে জায়গা পাওয়া যাবে। ঐ বয়সে তিনি তাই বুঝলেন। কিন্তু পরে যখন ইতিহাস পড়লেন, তখন দেখলেন যে মহানবীর পর তাঁর সৃষ্ট জাতি পৃথিবীতে ঠিক সেই স্থান দখল করেছিলো যে স্থানে আজ আমাদের প্রভু ঐ ইউরোপীয় জাতিগুলি দখল করে আছে। অর্থাৎ অর্থনৈতিক, সামরিক, রাজনৈতিক, পার্থিব সম্পদ, শিক্ষায়, বিজ্ঞানে, নতুন বিষয় অনুসন্ধানে, বিজ্ঞানের নতুন নতুন শাখার গবেষণায়, পৃথিবীর অজানা জায়গায় দুঃসাহসিক অভিযানে তারা যা ছিলেন, আজ পাশ্চাত্য জগত তাই হোয়েছে। মওলানা- মৌলভী সাহেবেরা যে জবাব দিয়েছিলেন তার মানে এই হয় যে- এসলামের প্রাথমিক যুগের ঐ মুসলিমদের আল্লাহ ইহজগতে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে দিয়েছিলেন আখেরাতে জাহান্নাম দেবেন বলে এবং তখনকার ইউরো-পীয়ানদের এবং বর্তমানের আমাদের জান্নাত দেবেন বোলে।
কিন্তু কোনভাবেই তাঁর মন সায় দিচ্ছিল না। বার বার কেবলই মনে হচ্ছিল কোথায় যেন কী একটা ভয়ংকর গোলমাল আছে, কোথাও এক বিরাট শুভংকরের ফাঁকি আছে। তাঁর অবচেতন মন থেকে বোধহয় স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা পৌঁছে গিয়েছিলো- ‘আমাকে বুঝিয়ে দাও! আমাকে বুঝিয়ে দাও! তোমার সর্বশ্রেষ্ঠ রসুল, তোমার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, সমস্ত মানব জাতির আদর্শ করে যাকে তুমি তৈরি কোরেছো (কোর’আন- সুরা আল-আহযাব ২১), যার নামে স্বয়ং তুমি আল্লাহ তোমার মালায়েকদের নিয়ে দরুদ ও সালাম পাঠাও (কোরআন- সুরা আল-আহযাব ৫৬), তার জাতি আজ ঘৃণিত দাস কেন? দেখতে পাচ্ছি এরা তোমায় বিশ্বাস করে। তা না কোরলে তো আর নামাজ পোড়ত না, রোজা রাখতো না, যাকাত দিতো না, হজ্জ্ব কোরত না, দাড়ি রাখতো না, মোছ কাটতো না, এত নফল এবাদত কোরত না, কোরবানি দিত না, খাতনা কোরত না, পাড়া মহল্লা কাঁপিয়ে জিকির কোরত না। এরা তো এ সবই করে, শুধু তাই নয় এদের মধ্যে অনেকে তো খানকায় বোসে কঠিন আধ্যাত্মিক সাধনাও করে, আধ্যাত্মিকতার বহু স্তর অনেকে অতিক্রম কোরেছেন। তবু কেন আমরা বিধর্মীদের পদদলিত দাস? কোথায় গলদ, কোথায় ফাঁকি?’
এই মহাবিশ্বের সর্বশক্তিমান স্রষ্টা তাঁর এই বান্দার মনের আকুল জিজ্ঞাসা শুনলেন। এরপর ধীরে ধীরে একটু একটু করে তাঁর মনের এই প্রশ্নের উত্তর আসতে লাগলো- সারা জীবন ধোরে। এখানে একটু, ওখানে একটু, বইয়ের পাতায়, ছোটখাট ঘটনায়, নিজের চিন্তার মধ্যে দিয়ে এমন কি চিন্তা না করেও হঠাৎ নিজে নিজেই জবাব মনের মধ্যে এসে যাওয়া, এমনি করে পেঁয়াজের খোসা ছাড়াবার মত একটি একটি করে সমস্ত আবরণ ঝোরে পড়তে লাগলো। এভাবেই তাঁর সেই ‘কেন’র জবাব তিনি পেয়েছেন জীবনের একটি পর্যায়ে এসে, তাঁর পরিণত বয়সে। তিনি জানতে পারলেন কোথায় গলদ, কোথায় সেই শুভংকরের ফাঁকি, যে ফাঁকিতে পড়ে আজ যে জাতির পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি হবার কথা- সেই জাতি পৃথিবীর নিকৃষ্টতম জাতিতে পরিণত হোয়েছে। আল্লাহর সার্বভৌমত্বের, তওহীদের ওপর ভিত্তি করে পৃথিবীর সমস্ত জীবন-ব্যবস্থা, দীন অবতীর্ণ হোয়েছিলো, সেই সার্বভৌমত্ব, তওহীদ যেমন পৃথিবীর কোন জাতির মধ্যে নেই, তেমনি এই তথাকথিত ‘মুসলিম’ জাতির মধ্যেও নেই। অন্য সব ধর্ম ও জাতি যেমন এবং যতখানি বহুত্ববাদের, শিরক, কুফরে ও নাস্তিক্যে ডুবে আছে এই জাতিও ততখানিই ডুবে আছে। অন্য ধর্মের মানুষগুলোর মত এই ধর্মের মানুষগুলোও বুঝছেনা, কেমন করে আজ আর তারা মুসলিম নেই। আকীদার (Concept) বিকৃতিতে তওহীদ এদের কাছে শুধু মাটির, পাথরের তৈরি মূর্তিকে সাজদা না করার মধ্যে সীমাবদ্ধ। তওহীদের মূল কথা হল, “লা এলাহ ইল্লা আল্লাহ, মুহাম্মাদুর (দ:) রসুল্লাল্লাহ” অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন হুকুমদাতা, নির্দেশদাতা নাই এবং মুহাম্মাদ (দ:) আল্লাহর রসুল। এই কলেমা হোচ্ছে আল্লাহর সঙ্গে মানুষের একটি অঙ্গীকার বা চুক্তি যাতে বলা হোয়েছে, জীবনের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, অর্থনৈতিক, বিচারিক, শিক্ষা অর্থাৎ যে স্তরেই হোক, যে বিষয়ে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের কোন কথা আছে, হুকুম আছে সেখানে অন্য কারো কথা বা হুকুম মানা যাবে না। যে বা যারা অন্য কারো হুকুম মানবে তারা এই কলেমার চুক্তি ভঙ্গ কোরবে, ফলে কাফের ও মোশরেক হোয়ে যাবে। আল্লাহর শেষ রসুলের মাধ্যমে প্রেরিত এসলামের শেষ সংস্করণ আর বর্তমানের “ইসলাম ধর্ম” যে দু’টি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিপরীতমুখী জিনিস তা পরম করুণাময় আল্লাহর রহমে তাঁর কাছে দিনের আলোর মত পরিষ্কার হোয়ে ধরা দিল।
তিনি প্রভুর কাছে বুঝতে চেয়েছিলেন কোন অপরাধে, কোন গলদে তার শ্রেষ্ঠ রসুলের জাতি দারিদ্র্যে, অশিক্ষায়, কুশিক্ষায়, প্রায় পশু পর্যায়ের জীবে পরিণত হোয়ে মোশরেক ও কাফেরদের গোলামে পরিণত হোল। রহমানুর রহীমের অনুগ্রহে এই মহাসত্যগুলি বুঝার পরে তিনি মহাবিপদে পড়ে গেলেন, ঘাড়ে এসে পড়লো ভয়াবহ দায়িত্ব। তিনি জানতেন মহানবীর বাণী- যে লোক জ্ঞান পেয়েও তা মানুষকে জানায় না, কেয়ামতে তার পেটে আগুন পুরে দেওয়া হবে। মহানবী এও বোলেছেন- যে হাশরের দিনে তার মুখে আগুনের লাগাম পরানো হবে। এর অর্থ এ দায়িত্ব যেমন করেই হোক ঘাড় থেকে নামাতেই হবে। ভেবে দেখলেন তার সামনে দু’টো পথ। প্রথমটা, যে সত্য তাঁকে বোঝানো হোয়েছে তা প্রকাশ্যে প্রচার করা। দ্বিতীয়টা-লিখে মানুষকে জানানো। প্রথমটার কথা চিন্তা কোরতেই বিশ্বনবীর আরেকটা হাদিস তাঁর মনে এলো। তা হচ্ছে এই যে- দীন যখন বিকৃত হোয়ে যাবে তখন যে ব্যক্তি প্রকৃত দীনকে মানুষের মধ্যে প্রচার কোরবে, তার দরজা, স্থান নবীদের দরজা থেকে মাত্র এক দরজা (step) নীচু হবে। এ হাদিসের মর্ম বড় ভয়াবহ। প্রত্যেক প্রেরিত, নবী যখন তার পূর্ববর্তী নবীর মাধ্যমে দেয়া দীনের বিকৃতি শোধরাতে চেষ্টা কোরেছেন, মানুষকে বিপথ থেকে সঠিক পথে আনতে চেষ্টা কোরেছেন তখন তার ভাগ্যে জুটেছে অপমান, বিদ্রুপ, বিরোধিতা ও সর্বপ্রকার অত্যাচার। আর ঐ অপমান, অত্যাচারের পুরোভাগে সবসময় থেকেছে ঐ বিকৃতি ধর্মের পুরোহিত, যাজক শ্রেণি। নবী-রসুলদের কোন পথ ছিলো না ঐ অপমান অত্যাচার সহ্য করা ছাড়া, কারণ তাদের পাঠানোই হোয়েছিলো ঐ কাজ দিয়ে। কিন্তু নবী-রসুল না হোয়েও যদি কোন সাধারণ মানুষ ঐ কাজ করতে যায়, তবে তারও ভাগ্যে তাই জুটবে যা প্রত্যেক নবী-রসুলের ভাগ্যে জুটেছে। তাই মহানবী বোলেছেন সেই সাধারণ মানুষেরও সম্মান হবে নবীদের চেয়ে মাত্র এক ধাপ কম। এমন কি শেষনবী এ কথাও বলে দিয়েছেন যে মাহদীরও (আঃ) প্রবল বিরোধিতা কোরবে এই বর্তমান এসলামের হর্তা-কর্তারা। মাননীয় এমামুয্যামান বোলতেন, ‘আমার মত অতি সাধারণ এবং অতি গোনাহগার মানুষ, নবী-রসুলেরা যে পথে হেঁটে গেছেন সে পথের ধূলি স্পর্শ করার যোগ্যতাও যার নেই, সেই চরিত্রও নেই, আমার পক্ষে ঐ কাজ করা সম্ভব নয়।’ স্বভাবতঃই তিনি দ্বিতীয় পথটি বেছে নিলেন। যার ফল হোচ্ছে তার লেখা বইগুলি। এই বই লেখার পথ বেছে নিতেও তাঁর দ্বিধা এসেছে, কারণ তিনি নিজেকে লেখক বলে মনে কোরতেন না, হয়তো গুছিয়ে বোলতে পারবেন না, হয়তো বোঝাতেও পারবেন না; কিন্তু তৃতীয় পথ নেই।
আরও একটা কারণ আছে তাঁর এই কাজে হাত দেবার। স্রষ্টার দেয়া জীবন-বিধানকে অস্বীকার করে, নাস্তিক্যের ওপর ভিত্তি করে পাশ্চাত্য ‘সভ্যতা’ মানব জাতিকে আজ এমন পর্যায়ে নিয়ে এসেছে যে, “আজ সমগ্র মানব জাতিটাই পারমাণবিক আত্মহত্যার দোড়গোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে।” এ আত্মহত্যাটা শুধু তাদের হবে না, আমরা যারা ঘৃণিত হীনম্মন্যতায় আল্লাহর দেয়া জীবন-ব্যবস্থাকে তাদের মতো ব্যক্তি জীবনে সীমাবদ্ধ করে রেখে, সমষ্টিগত জীবনে তাদের নকল কোরছি – আমাদেরও হবে। যদিও সময় বেশি নেই, তবু এখনও যদি পাশ্চাত্য তাদের নিজেদের গড়া জীবন-ব্যবস্থা পরিত্যাগ করে স্রষ্টার শেষ বিধান, শেষ এসলামকে গ্রহণ করে তবে এ বিভৎস আত্মহত্যার হাত থেকে বেঁচে যেতে পারে। আর তারা যদি তা নাও করে তবে এই বিরাট জাতি, যেটা তার অন্তহীন অজ্ঞতায়, আকীদার অন্ধত্বে নিজেকে মুসলিম ও উম্মতে মোহম্মদী বলে মনে করে আত্মতৃপ্তিতে ডুবে আছে, তাকে ধাক্কা দিয়ে বলা যে- জাগো, দেখো তুমি কোথায় আছো, সমষ্টিগত জীবনে আল্লাহকে বাদ দিয়ে পাশ্চাত্যের, গায়রুল্লাহর এবাদত কোরতে কোরতে কোথায় এসেছো। আখেরাত তো বহু আগেই গেছে, আল্লাহ রসুলের চোখে তো জাতি হিসাবে কার্যতঃ মোশরেক ও কাফের হোয়েছ কয়েক শতাব্দী আগেই, এখন ওদের সাথে সাথে এই পার্থিব আত্মহত্যারও সম্মুখীন হোয়েছ। এখনও সময় আছে তওবা করে শেরক ও কুফরী ত্যাগ করে মুসলিম হবার। উম্মতে মোহম্মদী হওয়াতো অনেক পরের কথা। শুধু মুসলিম হিসাবে নয়, মানুষ হিসাবেও এ দায়িত্ব পালন তাঁর এইসব লেখার অন্যতম উদ্দেশ্য।
বই লিখে টাকা উপার্জন তাঁর উদ্দেশ্য নয়। এই বই বিক্রি করে একটি টাকাও উপাজর্ন করেন নাই বরং তিনি তাঁর পিতৃসম্পদ বিক্রি করে এই দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিনামূল্যে তাঁর লিখিত বইগুলো বিতরণ কোরেছেন। পরবর্তীতে যখন ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয় তখন শুধু পুনঃমুদ্রনের জন্য একটা নামমাত্র মূল্য রেখেছিলেন। তিনি তাঁর কোন বইয়েরই স্বত্ব রাখেন নাই। তিনি জানতেন তাঁর বইগুলির প্রচণ্ড বিরোধিতা হবে। সেজন্য তিনি বোলতেন, বিরোধিতা যদি না হয় তবে বুঝবো আমি সত্য লিখতে পারি নি, শেষ এসলামকে তার প্রকৃত আলোকে মানুষের সামনে পেশ কোরতে ব্যর্থ হোয়েছি। এ বিরোধিতা আসবে ইহুদি-খ্রিস্টান ‘সভ্যতা’র পদ্ধতিতে ‘শিক্ষিত’ বর্তমান নেতৃত্বের ও তাদের অনুসারীদের (Agent) কাছ থেকে, বর্তমানের বিকৃত দীনের পুরোহিত, যাজকদের কাছ থেকে, ধর্ম যাদের রুজী-রোজগারের পথ, তাদের কাছ থেকে, ইউরোপীয়ান খ্রিস্টানরা মুসলিম জগত অধিকার করে মাদ্রাসা স্থাপন করে এসলাম শিক্ষার ছদ্মবেশে যে ধ্বংসকারি ফতোয়াবাজী শিক্ষা দিয়েছিলো সেই শিক্ষায় ‘শিক্ষিত’দের কাছ থেকে, অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার, রক্তপাত নির্মূল করে পৃথিবীতে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের জন্য নবী করিম (দঃ) তাঁর উম্মতের হাতে যে তলোয়ার ধরিয়ে দিয়েছিলেন সেই তলোয়ার ফেলে দিয়ে তসবিহ হাতে নিয়ে যারা খানকায় ঢুকেছেন তাদের কাছ থেকে। এক কথায় সর্বদিক থেকে বিরোধিতা আসবে।”
বাস্তবেও আমরা তাই দেখতে পেয়েছি, এই সব কটি শ্রেণির দ্বারা তিনি প্রবল বাধার সম্মুখীন হোয়েছেন। যাদের সত্য গ্রহণের মন আছে, যারা বুঝতে চাইবেন, তারা ইনশাল্লাহ বুঝতে পারবেন তিনি কী বোলতে চেয়েছেন। তাদের মধ্যে যাদের আর্থিক সামর্থ আছে, আল্লাহ যাদের রেযেক অন্যের চেয়ে বেশি দিয়েছেন তাদের কাছে তিনি অনুরোধ কোরেছেন তারা যেন তাঁর লিখিত এই বইগুলি পুনঃ মুদ্রণ করেন, যত বেশি সংখ্যায় সম্ভব হয়। তবে এও বোলেছেন যে, “আজকের ‘মুসলিম’ জাতি বহু নফল এবাদত কোরতে রাজী কিন্তু আল্লাহর রাস্তায় দুই পয়সা খরচ করতে রাজী নয়। অথচ আল্লাহ বোলেছেন- আমি মোমেনের সম্পদ ও প্রাণ জান্নাতের বদলে কিনে নিয়েছি (কোর’আন- সুরা আত-তওবা ১১১)। আমরা ঈমানের দাবিদার কিন্তু জানমাল আল্লাহর রাস্তায় কোরবানি করতে রাজী নই।”
তিনি বোলেছেন, ‘আমার অক্ষম কলম দিয়ে যা লিখেছি তা আমার কথা নয়- আল্লাহ ও তাঁর রসুল যা বোলেছেন তাই বোলছি এবং কোথায় বোলেছেন তার উদ্ধৃতিও দিয়েছি।
আল্লাহ তাঁকে যে মহাসত্য দান কোরলেন তা বোঝার পর তাঁর দায়িত্ব হোয়ে গিয়েছিল মানুষের কাছে এটি পৌঁছে দেওয়া। প্রাথমিকভাবে শুধু বই লিখে এই দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেতে চাইলেও ১৯৯৫ সনে এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যে আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি হেযবুত তওহীদ নামক একটি আন্দোলন গঠন কোরতে বাধ্য হন। গত ১৮ বছর ধোরে এই আন্দোলন শত বাঁধা, বিঘœ, অপবাদ, অত্যাচার ও যুলুম সত্ত্বেও সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উপায়ে মানবজাতিকে আল্লাহর তওহীদের দিকে আহ্বান করে যাচ্ছে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত হেযবুত তওহীদ এগিয়ে চোলতে থাকলো নানা বাধা বিপত্তি অতিক্রম কোরে। এভাবে চোলল ১৩ বছর। ১৩ বছর ধোরেই তিনি জানতেন তিনি যা বোলছেন এটাই সত্য এসলাম, আর যেটা বর্তমানে চালু আছে সেটা সত্য নয়, অর্থাৎ আল্লাহ রসুলের এসলাম নয়। কিন্তু তাঁর এই প্রচেষ্টায় তিনি এটা পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা কোরতে পারবেন কি না তা তিনি জানতেন না। ২০০৮ সালে মহামহীম আল্লাহ এক মো’জেজার (অলৌকিক ঘটনা) মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন যে তিনি এই দীনের যে আত্মা, আকীদা, ধারণা ও রূপ মানবজাতির সামনে উপস্থাপন কোরছেন সেটাই একমাত্র হক, সত্য। অর্থাৎ হেযবুত তওহীদ হক, হেযবুত তওহীদের এমাম হক এবং এই হেযবুত তওহীদ দিয়েই আল্লাহ অন্য সমস্ত জীবনব্যবস্থা লুপ্ত কোরে তাঁর দীনুল হক, সত্য জীবনব্যবস্থা অর্থাৎ এসলাম প্রতিষ্ঠা কোরবেন এনশা’আল্লাহ। তাই মানবজাতির এই ক্রান্তিলগ্নে সেই নতুন শান্তিময় বিশ্বব্যবস্থার আগমনের সুসংবাদ মানবজাতিকে জানাচ্ছে হেযবুত তওহীদ।

দাজ্জাল আবির্ভূত হয়েছে দাজ্জাল শারীরিক কোন দানব নয়

দাজ্জাল আবির্ভূত হয়েছে দাজ্জাল শারীরিক কোন দানব নয়

Untitled-10_1-300x225এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী:
চৌদ্দশ’ বছর থেকে মুসলিম উম্মাহর ঘরে ঘরে দাজ্জাল সম্বন্ধে আলোচনা চলে আসছে। আল্লাহর শেষ রসুল মানবজাতির ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে যেসব কথা বলে গেছেন, পৃথিবীতে কী কী ঘটনা ঘোটবে সেগুলি সম্বন্ধে আভাস ও সরাসরি যা জানিয়ে দিয়েছেন সেগুলির মধ্যে দাজ্জাল সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণীগুলি যেমন চিত্তাকর্ষক তেমনি গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্বিগ্নকর। উদ্বিগ্নকর ও ভীতিপ্রদ এই জন্য যে দাজ্জালের শক্তি, প্রভাব ও প্রতিপত্তি সমগ্র মানবজাতির উপর প্রচণ্ড প্রভাব বিস্তার করে ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেবে, সমস্ত মানবজাতিকে বিপথে চালাবার চেষ্টা করবে। শুধু চেষ্টা নয়, বেশ কিছু সময়ের জন্য দাজ্জাল তার শক্তি ও প্রভাব বিস্তার করে গোটা মানবজাতিকেই বিপথে পরিচালিত করবে। কাজেই দাজ্জালকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখার বা অবজ্ঞা করার উপায় নেই।
আল্লাহর রসুল বলেছেন আদমের সৃষ্টি থেকে কেয়ামত পর্যন্ত এমন কোনো বিষয় বা ঘটনা হবে না, যা দাজ্জালের চেয়ে গুরুতর ও সংকটজনক (হাদীস- এমরান বিন হুসাইন (রা.) থেকে মুসলিম)। তিনি এ কথাও বলেছেন যে- নুহ (আ.) থেকে নিয়ে কোনো নবীই বাদ যান নি যিনি তাঁর উম্মাহকে দাজ্জাল সম্বন্ধে সতর্ক করেন নি (হাদীস- আবু ওবায়দা বিন র্যারাহ (রা.) ও আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রা.) থেকে আবু দাউদ, বোখারী, মুসলিম ও তিরমিযি)। শুধু তাই নয়, আল্লাহর নবী নিজে দাজ্জালের সঙ্কট (ফেত্না) থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন (হাদিস- আয়েশা (রা.) থেকে বোখারী)।
যে ব্যাপারটা মানবজাতির সৃষ্টি থেকে নিয়ে ধ্বংস পর্যন্ত যা কিছু ঘোটবে সে সমস্ত কিছুর চেয়ে বড়, সেটা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ আর আমরা সে সম্বন্ধে কতটুকু সজাগ ও সচেতন? বাস্তব অবস্থা এই যে আমরা মোটেই সজাগ নই এবং দাজ্জাল সম্বন্ধে আমাদের কোনো মাথাব্যথাই নেই। যে ঘটনাটিকে আখেরি নবী আদম (আ.) থেকে কেয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির জন্য সবচেয়ে গুরুতর ও সাংঘাতিক ঘটনা বলে চিহ্নিত করেছেন সেই মহা-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে আমাদের সমাজের আলেম সাহেবরাও কোনো গভীর গবেষণা করেন নি। এই মহা-প্রয়োজনীয় ব্যাপারটাকে বোঝার জন্য যতটুকু শ্রম দিয়েছেন তার চেয়ে লক্ষ গুণ বেশি শ্রম ও সময় দিয়েছেন দাড়ি-মোছ, টুপি-পাগড়ী, পাজামা, মেসওয়াক, কুলুখ আর বিবি তালাকের মতো তুচ্ছ ফতওয়ার বিশ্লেষণে।
দাজ্জাল সম্বন্ধে মহানবীর হাদিসগুলি প্রধানত দুই রকমের। একটা ভাগ দাজ্জালের আবির্ভাবের গুরুত্বের ব্যাপারে, অন্যটি দাজ্জালের পরিচয়জ্ঞাপক। মানবজাতির জীবনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ, সর্ববৃহৎ বিপদের সম্বন্ধে মানুষ বেখেয়াল ও নিরুদ্বেগ। যারা ধর্মের ব্যাপারে মহা-আলেম হয়েছেন ও ধর্মচর্চার মধ্যে ডুবে আছেন তারাও সংকীর্ণ ও প্রায়ান্ধ দৃষ্টির জন্য দেখতে ও বুঝতে সক্ষম হন নি যে দাজ্জালের আবির্ভাব মানবজাতি ধ্বংসকারী নুহের (আ.) মহাপ্লাবনের চেয়েও, প্রলয়ঙ্করী বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও কেন বড় (আকবর) ঘটনা; কেন মহাভারতে বর্ণিত কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের (যদি সে ঘটনা সত্য হয়ে থাকে) চেয়েও সাংঘাতিক, যে যুদ্ধে আঠারো অক্ষৌহিণী অর্থাৎ প্রায় এক কোটি আদম সন্তান নিহত হয়েছিল। অন্য ভাগের হাদিসগুলিতে আল্লাহর শেষ রসুল মানবজাতি যেন দাজ্জালকে ঠিকভাবে চিনতে পারে ও সাবধান হয়, দাজ্জালকে প্রত্যাখ্যান করে, তার বিরোধিতা করে, সে জন্য তার পরিচিতির চিহ্নগুলি বলেছেন। কিন্তু তার সময়ের মানুষের শিক্ষার স্বল্পতার জন্য তাঁকে বাধ্য হয়ে দাজ্জালকে রূপকভাবে বর্ণনা করতে হয়েছে। কিন্তু সে রূপক বর্ণনা আজ পরিষ্কারভাবে ধরা দিয়েছে, যদিও আমাদের প্রায়ান্ধ দৃষ্টির জন্য সে বর্ণনাও আমরা বুঝতে সক্ষম হচ্ছি না, দাজ্জালকে চোখের সামনে দেখতে পেয়ে ও দাজ্জালের পায়ে সাজদায় পড়ে থেকেও বুঝতে পারছিনা যে এই সেই বিশ্বনবী বর্ণিত দাজ্জাল, মাসীহ উল কায্যাব।
প্রথমেই দাজ্জালের নামটাকে নেয়া যাক। আল্লাহর রসুল একে দাজ্জাল নামে অভিহিত করেছেন। কিন্তু এটা কোনো নাম নয়, এটা একটা বর্ণনা, অর্থাৎ বিষয়টার বর্ণনা। যেমন এমাম মাহ্দী কোনো নাম নয়- বর্ণনা। মাহ্দী অর্থ হেদায়াহ প্রাপ্ত, যিনি সঠিক পথ, হেদায়াহ পেয়েছেন, তাঁর নিজের অন্য নাম থাকবে সবার মতো। তেমনি দাজ্জাল শব্দের অর্থ চাকচিক্যময় প্রতারক, যেটা বাইরে থেকে দেখতে খুব সুন্দর কিন্তু ভেতরে কুৎসিত। যেমন মাকাল ফল, দেখতে অতি সুন্দর, মনে হবে খেতেও অতি সুস্বাদু, কিন্তু আসলে খেতে বিস্বাদ, তিক্ত। ‘দাজ্জাল’ কোনো দৈত্য-দানব নয়, ‘দাজ্জাল’ ইহুদি-খ্রিষ্টান বস্তুবাদী ‘সভ্যতা’। পাশ্চাত্য যান্ত্রিক সভ্যতা বাইরে থেকে দেখতে চাকচিক্যময়, এর প্রযুক্তিগত সাফল্য মানুষকে মুগ্ধ করে ফেলে, চোখ ধাঁধিয়ে দেয়, কিন্তু এর প্রভাবাধীন পৃথিবী সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অবিচারে, দুঃখে, ক্রন্দনে, অশ্র“তে ভরপুর। বিগত শতাব্দীতে এই ‘সভ্যতা’ দুইটি বিশ্বযুদ্ধ করে চৌদ্দ কোটি আদম সন্তান হতাহত করেছে এবং তারপর থেকে বিভিন্ন ছোট খাটো যুদ্ধে আরও দুই কোটি মানুষ হত্যা করেছে। আহত বিকলাঙ্গের সংখ্যা ঐ মোট সংখ্যার বহুগুণ। বিধবা, সন্তানহারা, গৃহহারা, দেশত্যাগীদের কোনো হিসাব নেই। আর এই নতুন শতাব্দীতে শুধু এক ইরাকেই হত্যা করেছে দশ লক্ষ মানব। ইরাক ছাড়াও আফগানিস্তানসহ আরও অনেকগুলো দেশে তার এই হত্যাযজ্ঞ আজও চলছে। এই ‘সভ্যতা’র অধীনস্থ সমস্ত পৃথিবীতে খুন, চুরি, ডাকাতি, হাইজ্যাক, ধর্ষণ, অত্যাচার সীমাহীন এবং প্রতিদিন প্রতি দেশে ধাঁ ধাঁ করে বেড়ে চলেছে। তাই এর নাম দাজ্জাল, চাকচিক্যময়, চোখ ধাঁধানো প্রতারক।
আল্লাহর রসুল কর্তৃক বর্ণিত আখেরী যামানার দাজ্জাল কোনো দৃশ্যমান (Visible) বা শরীরী (Physical) দানব নয়, তখনকার দিনের মানুষদের বোঝাবার জন্য এটি একটি রূপক (Allegorical) বর্ণনা। এর পরও যদি কেউ জোর করে বলতে চান যে, না, এক চক্ষুবিশিষ্ট, বিরাটকায়, জলজ্যান্ত একটি অশ্বারোহী দানবই আসবে, তাহলে আমার বক্তব্য হচ্ছে, ধরুন আপনার কথামতো এক চক্ষুবিশিষ্ট এক বিশাল দানব পৃথিবীতে উপস্থিত হলো, তার বাহন ঘোড়া বা গাধার দুই কানের ব্যবধানই সত্তর অর্থাৎ বহু সহস্র হাত [আবু হোরায়রা (রা.) থেকে-বায়হাকী, মেশকাত], তাহলে কি কারো মনে সন্দেহের কোনো অবকাশ থাকবে যে এটাই রসুল বর্ণিত সেই দাজ্জাল? চোখের সামনে প্রায় পৃথিবীর সমান আয়তনের এক দানবকে দেখে প্রথমেই সকলের মনে প্রশ্ন আসবে, এই বিরাট দানব আসলো কোত্থেকে! তাকে দেখে কেবল মুসলিমরাই নয়, অ-মুসলিমরাও এক মুহূর্তে চিনে ফেলবে যে, এই তো ইসলামের নবীর বর্ণিত দানব দাজ্জাল। সকল মানুষেরই তখন আমাদের নবীর উপর এবং ইসলামের উপর ঈমান এসে যাবে।
দ্বিতীয়ত, আল্লাহর রসুল বলেছেন, দাজ্জাল ইহুদি জাতি থেকে উদ্ভূত হবে এবং আমার উম্মতের সত্তর হাজার (অসংখ্য) লোক দাজ্জালের অনুসরণ করবে [ইবনে হানবাল (রা.) থেকে মুসলিম]।
দাজ্জাল যদি রসুলের বর্ণনা অনুযায়ী সত্যিই জ্যান্ত কোনো দানবীয় প্রাণী হয় তাহলে কি করে এমন দানব মানব সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ইহুদি জাতির মধ্য থেকে আসতে পারে? আর মুসলিমরাই কী করে আল্লাহকে ছেড়ে একটি দানবকে অনুসরণ করতে পারে?
তৃতীয়ত, আল্লাহর রসুল বলেছেন, দাজ্জালের দুই চোখের মাঝখানে (অর্থাৎ কপালে) কাফের লেখা থাকবে। শুধু মো’মেন, বিশ্বাসীরাই তা দেখতে এবং পড়তে পারবে; যারা মো’মেন নয়, তারা পড়তে পারবে না [ আবু হোরায়রা (রা.), আবু হোযায়ফা (রা.) এবং আনাস (রা.) থেকে বোখারী ও মুসলিম]।
অর্থাৎ কিছু লোক (মো’মেন) দাজ্জালকে কাফের বলে বুঝতে পারবে আর কিছু লোক (যারা মো’মেন নয়) দাজ্জাল যে কাফের তা বুঝতে পারবে না, এবং বুঝতে পারবে না বলেই বহু সংখ্যক লোক তাকে রব বলে মেনে নেবে। দাজ্জাল যদি শরীরী কোনো দানবই হয় তাহলে সবাই তাকে প্রথম দর্শনেই দাজ্জাল বলে চেনার কথা। তারপরও সে কাফের কি কাফের নয় এ নিয়ে মানুষের মধ্যে দ্বিমত হওয়া সম্ভব? ধরুণ কোনো লোকালয়ে বা জনবহুল স্থানে হঠাৎ একটি বাঘ এসে পড়ল; সেখানের অবস্থাটা কি হবে ভাবুন। ছেলে, বুড়ো, নারী, পুরুষ নির্বিশেষে সবাই প্রাণ বাঁচাতে যে যেদিকে পারবে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করবে, তাই নয় কি? অথচ অকল্পনীয় বিরাট, ভয়ঙ্কর একটি দানব, যার বাহনের এক পা পৃথিবীর এক প্রান্তে আরেক পা পৃথিবীর অপর প্রান্তে, তাকে সামনা সামনি দেখেও কেউ চিনবে- কেউ চিনবে না, কেউ তাকে অনুসরণ করবে- কেউ করবে না, কেউ তার কপালের কাফের লেখা পড়তে পারবে- কেউ পারবে না এ কি হতে পারে?
তাহলে আর সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে দাজ্জাল কোনো শরীরী বা বস্তুগত দানব নয়, এটি একটি বিরাট দানবীয় শক্তির রূপক বর্ণনা; সেই সাথে এ কথাতেও সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে ঐ বিরাট শক্তিটিই হচ্ছে বর্তমান দুনিয়ার পাশ্চাত্য ইহুদি খ্রিষ্টান বস্তুবাদী যান্ত্রিক ‘সভ্যতা’।
[সমস্ত পৃথিবীময় অন্যায়, অবিচার, যুদ্ধ ও রক্তপাত ইত্যাদি নির্মূল করে ন্যায়, সুবিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৫ সনে এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী হেযবুত তওহীদ নামক আন্দোলনটি প্রতিষ্ঠা করেন। আল্লাহ তাঁকে প্রকৃত ইসলামের যে জ্ঞান দান করেছেন তা তিনি যতটা সম্ভব হয়েছে বই-পুস্তক লিখে, বক্তব্যের মাধ্যমে প্রচারের চেষ্টা করেছেন। এই লেখাটি মাননীয় এমামুয্যামানের লেখা “দাজ্জাল? ইহুদি-খ্রিষ্টান সভ্যতা!” বইটি থেকে সম্পাদিত। দাজ্জালের মতো এত ব্যাপক একটি বিষয় এইটুকু লেখার মধ্যে ফুটিয়ে তোলা কষ্টকর, তাই ‘দাজ্জাল’ সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে যামানার এমামের লেখা “দাজ্জাল? ইহুদি-খ্রিষ্টান সভ্যতা!” বইটি পড়–ন এবং এর উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রটি দেখুন।

জাতি এখনই হোতে পারে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও আনুগত্যে এক- বজ্রশক্তি

জাতি এখনই হোতে পারে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও আনুগত্যে এক- বজ্রশক্তি

 0

মসীহ উর রহমান:
মহান স্রষ্টা প্রাকৃতিক নিয়ম নীতির উপরে শাশ্বত জীবনব্যবস্থা, দীনুল হক এসলাম তৈরি কোরেছেন। এই জন্য এই দীনের অপর নাম দীনুল ফেতরাহ (প্রাকৃতিক ধর্ম)। পৃথিবীর সর্বত্র সকল মানবজাতির জন্য এই জীবনব্যবস্থা সমভাবে প্রযোজ্য হবে, প্রয়োগযোগ্য হবে। এই জীবনব্যবস্থাটি সারা পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব আল্লাহ প্রদান কোরলেন আখেরী নবীকে। এ কথা কোর’আনে নির্দিষ্ট কোরেই তিনি বোলে দিলেন যে, ‘আমি আমার রসুলকে সঠিক পথ প্রর্দশন (হেদায়াহ) এবং সত্যদীন দিয়ে প্রেরণ কোরলাম এই জন্যে যে তিনি যেন একে (এই হেদায়াহ ও জীবন ব্যবস্থাকে) পৃথিবীর অন্যান্য সমস্ত জীবন ব্যবস্থার উপর বিজয়ী করেন (কোর’আন-সুরা আল্ ফাতাহ- ২৮, সুরা আত তওবা- ৩৩ ও সুরা আস সফ- ৯)। অর্থাৎ পৃথিবীতে, মানব জাতির মধ্যে আল্লাহর শেষ রসুলকে প্রেরণের উদ্দেশ্য হোচ্ছে তাঁর মাধ্যমে হেদায়াহ, পথ প্রদর্শনসহ দীন পাঠানো এবং সেই হেদায়াহ ও দীনকে সমগ্র মানব জীবনে প্রতিষ্ঠা করা। কারণ সাধারণ জ্ঞানেই বোঝা যায় যে দীন (জীবন ব্যবস্থা) যদি মানুষের জীবনে কার্যকরই না হয় তবে তা রসুলের মাধ্যমে পৃথিবীতে পাঠানো অর্থহীন। তাই আল্লাহ তাঁর রসুলকে যেমন হেদায়াহ- দিক নির্দেশনা ও সত্যদীন সহ প্রেরণ কোরলেন, তেমনি তাকে এই কাজ করার নীতি ও কর্মসূচিও দান কোরলেন। সেই নীতি হোচ্ছে জীবন ও সম্পদ দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম, জেহাদ। এই নীতির উপর ভিত্তি করা একটি ৫ দফা কর্মসূচি আল্লাহ তাঁর রসুলকে দান কোরলেন, যেন তিনি কর্মসূচি মোতাবেক তাঁর সংগ্রাম পরিচালনা করেন। এই ৫ দফা কর্মসূচি তিনি তাঁর উম্মাহর উপর অর্পণ করার সময় বোলছেনÑ এই কর্মসূচি আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন, (আমি সারাজীবন এই কর্মসূচি অনুযায়ী সংগ্রাম কোরেছি) এখন এটা তোমাদের হাতে অর্পণ কোরে আমি চোলে যাচ্ছি। সেগুলো হোল :
(১) ঐক্যবদ্ধ হও।
(২) (নেতার আদেশ) শোন।
(৩) (নেতার ঐ আদেশ) পালন করো।
(৪) হেজরত করো।
(৫) (এই দীনুল হক কে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠার জন্য) আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ (সর্বাত্মক প্রচেষ্টা) করো।
যে ব্যক্তি (কর্মসূচির) এই ঐক্যবন্ধনী থেকে এক বিঘত পরিমাণও বহির্গত হোল, সে নিশ্চয় তার গলা থেকে এসলামের রজ্জু (বন্ধন) খুলে ফেললো- যদি না সে আবার ফিরে আসে (তওবা করে) এবং যে ব্যক্তি অজ্ঞানতার যুগের (কোনও কিছুর) দিকে আহ্বান কোরল, সে নিজেকে মোসলেম বোলে বিশ্বাস কোরলেও, নামাজ পোড়লেও এবং রোজা রাখলেও নিশ্চয়ই সে জাহান্নামের জ্বালানি পাথর হবে [আল হারিস আল আশয়ারী (রাঃ) থেকে আহমদ, তিরমিযি, বাব উল এমারাত, মেশকাত]।
দুর্ভাগ্যবশতঃ বিশ্বনবীর ওফাতের ৬০/৭০ বৎসর পর এবলিস এই উম্মাহর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মধ্যে বিকৃতি ঢুকিয়ে দিতে সমর্থ হোল। যার ফলে এই জাতি আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ ও ঐ ৫ দফা কর্মসূচি দু’টোই ত্যাগ কোরে এসলাম ও উম্মতে মোহাম্মদী দু’টো থেকেই বহি®কৃত হোয়ে গেলো। সেই থেকে এই কর্মসূচি যে পরিত্যক্ত হোয়েছিল এই তেরশ’ বছর ওটা পরিত্যক্ত হোয়েই ছিলো, শুধু তাই নয়, এই দীর্ঘ ১৩শ’ বছরে ক্রমে ক্রমে আল্লাহর দেওয়া সত্যদীনের রূপ, আকিদা বিকৃত হোতে হোতে একেবারে বিপরীতমুখী হোয়ে গেছে। আজ দুনিয়াময় যে এসলামটি আমরা দেখছি সেটি আল্লাহর রসুলের প্রকৃত এসলাম নয়, সেটি এসলামের একটি বিকৃত খোলসমাত্র যার আত্মা নেই, রক্ত সঞ্চালন নেই। গত কয়েক শতাব্দীতে এই দীনকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টায় বিভিন্ন মোসলেম দেশগুলিতে শত শত দল, আন্দোলন, সংগঠন করা হোয়েছে, কিন্তু আকিদার বিকৃতির কারণে আল্লাহ তাদেরকে ঐ কর্মসূচি বুঝতে দেন নি। ফলে ঐ সব সংগঠনগুলি বিভিন্ন রকমের ও বিভিন্ন দফার কর্মসূচি নিজেরা তৈরি কোরে নিয়েছে। কোথাও কেউ সাফল্য লাভ করে নি, পৃথিবীর এক ইঞ্চি জমিতেও তারা এসলামকে প্রতিষ্ঠা কোরতে পারেন নি, এবং ভবিষ্যতেও পারবে না। কারণ সবগুলোরই কর্মসূচি মানুষের মস্তিস্ক প্রসূত, আল্লাহর দেয়া নয়। ফলে তাদের ঐ প্রচেষ্টায় আল্লাহর কোন সাহায্য আসে নি, এবং ভবিষ্যতেও আসবে না। সারা পৃথিবীর মানবজাতিকে একটি মহাজাতিতে পরিণত করার জন্য যে কর্মসূচি আল্লাহ দিয়েছেন তার উপযোগিতা, সৌন্দর্য ও মাহাত্ম্য যথাসম্ভব সংক্ষেপে আলোচনা করার চেষ্টা কোরছি।
এই কর্মসূচিটির মধ্যে প্রথম তিনটি দফা অর্থাৎ ঐক্য, শৃঙ্খলা ও আনুগত্য হোচ্ছে জাতির বৈশিষ্ট্য, হেজরত হোচ্ছে পৃথক জাতিসত্তা সৃষ্টি ও জেহাদ হোচ্ছে ঐ জাতির গঠন, চরিত্র অর্জন ইত্যাদি সবকিছুর উদ্দেশ্য। সুতরাং প্রথম কাজ হোচ্ছে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও আনুগত্য এই তিনটি চরিত্র অর্জন করা। এই চরিত্র সৃষ্টি হোলেই জাতির মধ্যে এমন এক শক্তির সঞ্চার হবে যার সামনে পৃথিবীর কোন কিছুই আর অসম্ভব বোলে থাকবে না। তখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরাশক্তিও তার সামনে মাথা নত কোরতে বাধ্য।
প্রথম দফা: ঐক্য
স্রষ্টা প্রাকৃতিক নিয়মে ঠিক কোরেছেন যে, ঐক্য অনৈক্যের উপরে জয়ী হবে। দশজন ঐক্যবদ্ধ লোক একশত জন ঐক্যহীন লোকের তুলনায় শক্তিশালী হবে, তাদের উপরে বিজয়ী হবে। এই উম্মাহকেও বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্যে এই প্রাকৃতিক নিয়মটি আল্লাহ ব্যবহার কোরতে বোলছেন, তোমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আল্লাহর রজ্জুকে ধারণ করো, পরস্পর বিচ্ছিন্ন হোয়ো না (সুরা এমরান ১০৩)। যে সব কাজে ও কথায় উম্মাহর ঐক্য নষ্ট হবার সম্ভাবনা আছে যেমন শরিয়াহ নিয়ে অতি বিশ্লেষণ, তর্ক, মতভেদ, গীবত ইত্যাদি সে সব কাজকে আল্লাহর রসুল সরাসরি কুফর বোলে আখ্যায়িত কোরেছেন (হাদিস-আব্দাল্লাহ বিন আমর (রা:) থেকে- মুসলিম, মেশকাত)। লক্ষ্য করার বিষয়, মহানবী ঐক্যভঙ্গ করাকে কুফর বোলেছেন অর্থাৎ যারা ঐক্যভঙ্গ কোরবে তারা কাফের। দুর্ভাগ্যজনকভাবে রসুল চোলে যাওয়ার ৬০/৭০ বছর পর থেকেই এই জাতির ঐক্য বিনষ্ট হোয়ে যায় এবং জাতি শিয়া, সুন্নীসহ বিভিন্ন দলে, উপদলে, মাজহাবে, ফেরকায়, দলে উপদলে বিভক্ত হোয়ে পড়ে। গত কয়েক শতাব্দী ধোরে এই জাতি কেবলমাত্র বিভক্তই নয়, নিজেরা নিজেরা দাঙ্গা হাঙ্গামায় লিপ্ত রোয়েছে। এই কুফরী কাজ কোরে তারা দীন থেকে বহি®কৃত তো হোয়েছেই, পুরো জাতিটিকে অন্য জাতির গোলামে পরিণত কোরেছে। কারণ ঐ প্রাকৃতিক নিয়ম-টহরঃবফ বি ংঃধহফ, ফরারফব বি ভধষষ. সেই গোলামি আজও চোলছে। আজ এই জাতির যাবতীয় অনগ্রসরতার, পশ্চাদপদতার, হীনম্মন্যতার, দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ এই অনৈক্য। এককালে যারা সমগ্র পৃথিবীতে একক সামরিক পরাশক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হোয়েছিল, মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের আসন, শিক্ষকের আসন অধিকার কোরেছিল সেই মোসলেম জাতিটি আজ দুনিয়ার অন্যান্য পরাশক্তিগুলির করুণার পাত্র।
এই জাতির আলেম, ফকীহ, আল্লামা, মুফতি, মোহাদ্দেস সকলের প্রতি একটি সরল প্রশ্ন, রসুলাল্লাহ প্রদত্ত এই কর্মসূচির মধ্যে আমরা আছি কি না। যদি না থাকি তবে কি লাভ হবে এই মোসলমান দাবি কোরে, নামাজ পড়ে, রোজা রেখে? মহানবীর কথা মোতাবেক তো আমাদের জাহান্নামের জ্বালানি পাথর হওয়া ছাড়া পথ নেই।
আমাদের আজকের অবস্থানের সঙ্গে তৎকালীন আরবের অবস্থার বিষ্ময়কর মিল রোয়েছে। তখনকার আরবজাতি ছিলো হানাহানি, দাঙ্গা-ফাসাদ, দারিদ্র্য, কুসংস্কার সব মিলিয়ে তদানিন্তন পৃথিবীর সবচেয়ে পশ্চাদপদ এবং চরম ঐক্যহীন একটি জনগোষ্ঠী। বাকি দুনিয়ার সকল পরাশক্তি আরবদেরকে অবজ্ঞার চোখে দেখতো। আরবরাও ঐ সব পরাশক্তির দিকে চোখ তুলে তাকানোর কথাও ভাবতে পারতো না, একজন রোমান সৈন্যকে ১৫ জন আরবের সমতুল্য গণ্য করা হোত। এই রকম একটি অনগ্রসর জাতিকে মহানবী এমন এক দুর্ভেদ্য, সীসা গলানো প্রাচীরের মতো ঐক্যবদ্ধ জাতিতে রূপান্তরিত কোরলেন যে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ঐ আরবরাই হোয়ে গেলো বিশ্বের বুকে শ্রেষ্ঠতম জাতি। এই মহাবিজয় কোন মন্ত্রবলে হয় নি, প্রাকৃতিক নিয়মেই হোয়েছে। সেই প্রাকৃতিক নিয়মটি হোচ্ছে আল্লাহর দেওয়া উপরোক্ত কর্মসূচিটির বাস্তবায়ন। সেই শ্রেষ্ঠ জাতিটি আজ আবার তার আগের পর্যায়ে ফিরে গেছে এবং শত্র“দের গোলামে পরিণত হোয়েছে, মোসলেম নামধারী ১৬০ কোটির সুবিশাল জনসংখ্যাটি বহু ভৌগোলিক রাষ্ট্রে, রাজনৈতিকভাবে বহু মতাদর্শে বিভক্ত। ধর্মীয়ভাবে বহু ফেরকা, মাজহাব, আধ্যাত্মিকভাবে শত শত তরীকায় ছিন্নভিন্ন এবং এই সমস্ত দল উপদল নিয়ে নিজেদের মধ্যে হানাহানিতে লিপ্ত। তারা তাদের পাশ্চাত্য প্রভুদের সামরিক, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত শক্তি-সামর্থ্য, আবিষ্কার ইত্যাদির দিকে অবাক বিষ্ময়ে মাছের মতো হা কোরে তাকিয়ে থাকে। প্রভুরাও চায় মোসলেমদেরকে এইভাবে পায়ের নিচে দাবিয়ে রাখতে, তারা যেন আবার নতুন কোরে ঐক্যবদ্ধ হোতে না পারে সেজন্য প্রভূরা জাতির সকল বিভক্তিকে আরও উষ্কে দিয়ে, নিজেদের তৈরি বিভিন্ন রাজনৈতিক মতবাদ গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, রাজতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র ইত্যাদি প্রবেশ কোরিয়ে তাদের মধ্যে দাঙ্গা হাঙ্গামা এবং অশান্তি কায়েম কোরে রেখেছে।
কিন্তু যেহেতু আল্লাহর দেওয়া দীন প্রাকৃতিক, একে প্রতিষ্ঠার পথও প্রাকৃতিক। প্রাকৃতিক নিয়মগুলির কোন পরিবর্তন হয় না। তাই আজও যদি এই জাতিকে হৃত গৌরব ফিরে পেতে হয়, তাদেরকে সেই প্রাকৃতিক নিয়মটিই কাজে লাগাতে হবে। তাদের প্রথম কাজ হোচ্ছে, ‘আল্লাহর হুকুম ছাড়া আর কারও হুকুম মানবো না’ এই কথার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। দীন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি আল্লাহর চিরন্তন নির্দেশ, তিনি বোলছেন- তিনি তোমাদের ক্ষেত্রে সেই পথই নির্দ্ধারণ কোরেছেন যার আদেশ তিনি দিয়েছিলেন, নূহকে (আ:), যা তিনি প্রত্যাদেশ কোরেছেন আপনার [মোহাম্মদ (দ:)] প্রতি, এবং যার আদেশ দিয়েছিলাম এব্রাহীম, মূসা ও ঈসাকে (আ:) এই মর্মে যে ‘তোমরা দীনকে প্রতিষ্ঠা করো, এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি কোর না’ (সুরা শূরা ১৩)। সুতরাং জাতিকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা বর্তমানের এই অপমান লাঞ্ছনা ও গোলামির জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে চায় কি না। যদি চায় তবে প্রথম শর্ত, তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হোতে হবে। সেই ঐক্য যেন তেন ঐক্য নয়, আপৎকালীন ঐক্য নয়, সেই ঐক্য সীসা গলানো প্রাচীরের মতো ঐক্য (সুরা সফ- ৪)। মনে রাখতে হবে, ঐক্যই শক্তি, ঐক্যই মুক্তি, ঐক্যই প্রগতি আর বিভেদ, বিভাজন, মতভেদ, অনৈক্য হোচ্ছে দুর্বলতা যার ফল হোচ্ছে গোলামি, পরমুখাপেক্ষিতা, হীনতা ইত্যাদি।
২য় দফা: শৃঙ্খলা
যখন কিছু মানুষ কোন বিশেষ লক্ষ্য অর্জনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হবে তখন সর্বপ্রথম যেটা প্রয়োজন- তাদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তিকে নেতা হিসাবে গ্রহণ কোরতে হবে। যিনি হবেন যে কোন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা এবং যিনি অবিসংবাদিত এবং যিনি আল্লাহ কর্তৃক পরিচালিত (এঁরফবফ), যিনি আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এমন একজন নেতা না থাকলে ঐক্য এক মুহূর্তও টিকবে না। এটা হোচ্ছে প্রথম শৃঙ্খলা। জাতির লোকজন তাদের রুজি রোজগার, জীবিকা (চৎড়ভবংংরড়হ) নিয়ে যতই ব্যস্ত থাকুন, অতন্দ্র প্রহরীর মতো তাদের কান পেতে রাখতে হবে তাদের নেতা কখন কি আদেশ, কি নির্দেশ দেন। আরবিতে এই দ্বিতীয় দফাটি হোচ্ছে ‘সামেয়ু’ বা শোনা। এটি একটি আরবি বাগধারা বা প্রকাশভঙ্গি। সতর্কতার সাথে কোন বিষয়ে সদা, সর্বদা সচেতন হোয়ে থাকা বোঝায়। এখানে এই সচেতনতা হোচ্ছে দু’টি বিষয়ে। একটি নেতার আদেশ শোনার প্রতি সদা সর্বদা কান খাঁড়া কোরে রাখা, নেতার কখন কি আদেশ হয় তা তৎক্ষণাৎ পালনের জন্য প্রস্তুত থাকা এবং অপরটি নিজেদের শৃঙ্খলা অটুট রাখা। এমন একটি জাতি তৈরি করা যারা তাদের জন্য পালনীয় আদেশ নির্দেশগুলির শেকলে নিজেদেরকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখে এবং যে কোন পরিস্থিতিতে সেগুলি মেনে চলে। তাদের যতবড় ক্ষতিই হোক তবুও তারা কোথাও শৃঙ্খলাভঙ্গ করে না। সৃষ্টিজগতে যেমন বিধাতা একজন হওয়ায় কোথাও কোন বিশৃঙ্খলা নেই, তেমনি সমগ্র মানবজাতিতে যখন একজন মাত্র নেতা থাকবেন এবং সেই নেতা স্রষ্টার বিধান মোতাবেক হুকুম কোরবেন, তখন মানবসমাজেও প্রতিষ্ঠিত হবে বিশ্বপ্রকৃতির ন্যায় অতুলনীয় শৃঙ্খলা, সঙ্গতি ও সমন্বয় (উরংপরঢ়ষরহব, ড়ৎফবৎ ্ যধৎসড়হু)। রসুলাল্লাহ মোমেনের শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনের উদাহরণ দিতে গিয়ে বোলেছেন, ‘মো’মেন ব্যক্তি হোচ্ছে নাকে রশি লাগানো উট সদৃশ, যে দিকে রশি যায় সে দিকে সে যায়।’
৩য় দফা: নেতার আনুগত্য
কর্মসূচির অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হোচ্ছে আনুগত্য। এই দীনে আনুগত্য হোল, আদেশ শোনামাত্র বিন্দুমাত্র ইতঃস্তত না কোরে সঙ্গে সঙ্গে সে আদেশ পালন করা। আনুগত্য হোচ্ছে একটি পরিবার, গোষ্ঠী বা জাতির মেরুদণ্ড, এটা যেখানে দুর্বল সেখানেই অক্ষমতা এবং ব্যর্থতা। এ নির্দেশ শুধু রসুলেরই নয়, এ নির্দেশ স্বয়ং আল্লাহর। তিনি তাঁর কোর’আনে মো’মেনদের, উম্মতে মোহাম্মদীকে আদেশ কোরেছেনÑ আল্লাহর আনুগত্য করো, তাঁর রসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্য থেকে আদেশকারীর (নেতার) আনুগত্য করো (সুরা নেসা ৫৯)। আদেশকারীর অর্থ, সংগঠন বা জাতীর মধ্যে থেকে যিনি নেতা নিযুক্ত হবেন এবং আনুগত্য (এতায়াত) অর্থ দ্বিধাহীনভাবে, আদেশের সঙ্গে সঙ্গে তা পূর্ণভাবে পালন করা, ঠিক যেভাবে সালাতের সময় এমামের (নেতার) তকবির অর্থাৎ আদেশের সঙ্গে সঙ্গে তা পালন কোরতে হয়। এই আয়াতে আল্লাহ তাঁর নিজের প্রতি আনুগত্য, তাঁর রসুলের প্রতি আনুগত্য ও নেতার প্রতি আনুগত্যের মধ্যে কোন শর্ত বা তফাৎ রাখেন নি; একই লাইনে, একই বাক্যে (ঝবহঃবহপব) এবং একই ধারাবাহিকতায় (ঈড়হঃরহঁরঃু) বোলে দিয়েছেন। আল্লাহর ঐ আদেশের প্রতিধ্বনি কোরে তাঁর রসুল বোলেছেন- যে আমার আনুগত্য ও অদেশ পালন কোরল সে আল্লাহর আনুগত্য ও আদেশ পালন কোরল, যে আমার আনুগত্য ও আদেশ পালন কোরল না, সে আল্লাহর আনুগত্য ও আদেশ পালন কোরল না এবং যে আদেশকারীর (আমীর, নেতার) আনুগত্য ও আদেশ পালন কোরল, সে আমারই আনুগত্য ও আদেশ পালন কোরল, যে আদেশকারীর (আমীর, নেতার) আনুগত্য ও আদেশ পালন কোরল না, সে আমারই আনুগত্যও আদেশ পালন কোরল না [আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বোখারী]। নির্দেশ পালন না করা হোলে ঐক্য ও শৃঙ্খলা যতোই নিখুঁত হোক সেটা অর্থহীন। আজকের পৃথিবীতে প্রায়শই দেখা যায়, কোন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান যখনই তার জাতিকে কোন আদেশ বা বিধান দেন, সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় এর বিরুদ্ধাচারণ ও সমালোচনা। কথিত আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় এই বিরোধিতা অপ্রত্যাশিত বা অবৈধ কিছু নয় বরং এটা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বৈধ। এই ব্যবস্থায় ২টি ভাগ রাখা হোয়েছে। একটা সামরিক, একটা বেসামরিক। সামরিক বাহিনীতে ঈড়সসধহফবৎ (আরবিতে আমীর) আদেশ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা পালন করা হয়, আর বেসামরিক নেতৃত্ব একটা হুকুম দিলে সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, ভাঙচুর শুরু হোয়ে যায়। সামরিক ও বেসামরিক জনগোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড একেবারে বিপরীত অবস্থা কেন? ওখানে বিনা শর্তে আদেশ মানা হয় অর্থাৎ নেতার আনুগত্য করা হয় বিধায় এত শৃঙ্খলা, এত সৌন্দর্য। আর নেতার আদেশ না মানার কারণেই যাবতীয় বিশৃঙ্খলা, অনৈক্য এবং পরিশেষে পতনের মূল কারণ। কিন্তু যেহেতু এসলামের ভিত্তিই হোল আল্লাহ ছাড়া কোন হুকুমদাতা বা এলাহ নেই, আর আল্লাহ যেহেতু সকল পক্ষপাতিত্বের ঊর্দ্ধে, সবকিছুর ঊর্দ্ধে এবং ন্যায় বিচারক। তাই তাঁর আদেশ সকলের জন্য কল্যাণকর এবং ভারসাম্যপূর্ণ। আল্লাহর কোন আদেশের ব্যাপারে মতান্তর বা বিরোধিতার প্রশ্ন অবান্তর। আর নেতার আনুগত্যের ব্যাপারে রসুলাল্লাহ বলেন, ‘কোন ক্ষুদ্রবুদ্ধি, কান কাটা, নিগ্রো, ক্রীতদাসও যদি তোমাদের নেতা নিয়োজিত হয়, তবে তার কথা বিনা প্রশ্নে, বিনা দ্বিধায় শুনতে ও মানতে হবে।’ কারণ ঐ ব্যক্তি আল্লাহ এবং রসুলের প্রতিনিধি। তার আদেশ প্রকারান্তরে আল্লাহরই আদেশ।
এতক্ষণ যে তিন দফার কথা বোললাম (১) ঐক্যবদ্ধ হওয়া (২) নেতার আদেশ শোনা (৩) নেতার ঐ আদেশ সঙ্গে সঙ্গে পালন করা, আল্লাহ প্রদত্ত এই তিন দফা যদি কোন একটি জাতি পূর্ণরূপে তাদের চরিত্রে ও বাস্তবে কায়েম করে, তাহোলে বলা যায়- সে জাতি তারা আর কোন সাধারণ জাতি থাকবে না, একটি অসাধারণ বজ্রশক্তি সম্পন্ন জাতিতে পরিণত হবে। এটুকু নিশ্চিত কোরে বলা যায়, যে মুহূর্ত থেকে একটি জাতি এই তিন দফাকে তাদের চরিত্রে কায়েম কোরতে পারবে, সেই মুহূর্ত থেকে তারা একটি পরাশক্তিতে পরিণত হওয়া শুরু কোরবে এবং যদি এই চরিত্র তারা ধোরে রাখে তবে তারা অতি অল্পদিনে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম জাতিতে পরিণত হবে। এটা প্রাকৃতিক নিয়ম। আল্লাহর রসুল আসার আগের জাহেলিয়াতে আচ্ছন্ন আরব জাতির উদাহরণ একটু আগেই দিলাম। ঐক্য, শৃঙ্খলা ও আনুগত্যের শিক্ষা তাদেরকে অতি অল্প সময়েই বিশ্বের সবার উপরে অধিষ্ঠিত কোরেছিল।
আজকের এই আদর্শহীন, লক্ষ্যবিচ্যুত সমাজ ও জাতি থেকে যতোই অন্যায় অবিচার বন্ধ করার চেষ্টা করা হোক, হানাহানি বন্ধ করার চেষ্টা করা হোক, চেঁচামেচি করা হোক, এ দিয়ে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক জীবনে শান্তি আসবে না, শৃঙ্খলা আসবে না; এগুলোর ব্যর্থতা প্রমাণিত হোয়ে গেছে। অত্যন্ত সরল সূত্র হোচ্ছে- ঐক্যবদ্ধ না হোয়ে, সুশৃঙ্খল না হোয়ে এবং একজন অবিসংবাদিত নেতার নেতৃত্ব ছাড়া পৃথিবীতে কোন জাতিই শ্রেষ্ঠত্ব লাভ কোরতে পারে নি। এটা চিরন্তন, শাশ্বত প্রাকৃতিক নিয়ম। আজকের বিশ্বের একক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র যা ৫২টি অঙ্গরাজ্য নিয়ে গঠিত। যদি ঐক্য ভেঙ্গে প্রতিটি রাজ্য স্বাধীনতা ঘোষণা করে তবে একদিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র নামক পরাশক্তির পতন হবে। এটা সরল কথা।
দীর্ঘ তেরশ’ বছর এই উম্মাহকে এই পবিত্র কর্মসূচি থেকে মাহরুম, বঞ্চিত রাখার পর রহমানুর রহিম আল্লাহ তাঁর অসীম করুণায় তাঁর দেয়া কর্মসূচির পরিচয় হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা এমাম, এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। এতবড় অনুগ্রহ থেকেই প্রমাণ হয় যে হেযবুত তওহীদ আল্লাহর নিজের আন্দোলন। তিনি চান এই আন্দোলনের নেতৃত্বেই পৃথিবীর মানুষ আবার এক জাতিতে পরিণত হোক। কাজেই আমাদের বক্তব্য হোল, এখনই সময় সকল পথ, তরিকা, মত, মতবাদ, রংস, পৎধপু ইত্যাদি পরিত্যাগ কোরে একমাত্র আল্লাহর তওহীদের ভিত্তিতে সকলে সম্মিলিতভাবে সীসা গলানো প্রাচীরের মতো ঐক্যবদ্ধ হোই। তবেই দুনিয়ার জীবনের এই লাঞ্ছনা, অবমাননা দূর হবে এবং আখেরাতেও মুক্তি মিলবে।
লেখক: আমীর, হেযবুত তওহীদ,

কে হবে সেই আলোর দিশারী?


কে হবে সেই আলোর দিশারী?

 0


ইয়াছিন হোসেন পাভেল:
মানব সমাজ যখন অন্যায়, অশান্তি, অবিচারে পরিপূর্ণ হয়ে উঠে, সমাজে যখন ধনী-গরীবের ব্যবধান ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়, তখন কিছু মহানব্যক্তি সমাজের মানুষকে এই অন্যায়-অত্যাচার, শোষণ-ত্রাসন থেকে মুক্তি দিয়ে একটি সুখময়, শান্তিময় জীবন উপহার দিতে আবির্ভূত হন। এই মহান ব্যক্তিত্বরা ইতিহাসে ‘বিপ্লবী’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। আর তাদের সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনের নাম হয়েছে ‘বিপ্লব’। ‘বিপ্লব’ শুধু একটি শব্দ নয়, এটি স্বপ্ন সমষ্টি। বিপ্লবীরা যুগে যুগে এসেছেন সময়ের দাবি মেটাতে। সমাজের স্বার্থরক্ষায় তারা জীবন-সম্পদ সব কিছু ত্যাগ করেছেন। এই চূড়ান্ত ত্যাগের বিনিময়ে তারা পার্থিব জীবনে হয়তো কিছুই লাভ কোরতে পারেন নি, কিন্তু মানুষের মনিকোঠায় থেকেছেন চির অমর হয়ে। সমাজের সকল শ্রেণি থেকেই উঠে এসেছেন অন্যায়ের সাথে আপোষহীন এই বিপ্লবীরা। তারা মানুষকে আলোর পথ দেখিয়েছেন, দেখিয়েছেন কল্যাণের পথ।
আজ দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সর্বত্রই যখন হানাহানি-মারামারি, অন্যায়-অত্যাচার, ধনী-গরিবের বৈষম্য বিদ্যমান তখন ঐ বিপ্লবীদের খুবই প্রয়োজন। কিন্তু কে হবে সেই বিপ্লবের অগ্রপথিক, অন্ধকারের পথ প্রদর্শক? আজ সমাজে শিক্ষিত বোলতে যে শ্রেণিটি আছে তারা চরম সুবিধাভোগী। এদের কাছে কোরবানি বা ত্যাগ একটি অবোধ্য বিষয়। এরা সমাজের জন্য যা করেন বলে মুখে প্রচার করে থাকেন তার বেশিরভাগ মূলত আত্মস্বার্থেই করেন। সমাজের মানুষের জন্য এরা যতটুকু করেন সেটুকু ব্যবসায়ে পুঁজি খাটানোর মতো। পরবর্তীতে সুদসহ আসল তুলে নেয়াই এদের প্রধান লক্ষ্য। লাভের গুঁড়ের পিঁপড়ার ভাগও এরা ছাড়েন না। এই সমাজের শিক্ষকের কাছে ছাত্র নিরাপদ নয়, ছাত্রের কাছে শিক্ষক নিরাপদ নয়। ছাত্র নিজের স্বার্থ আদায়ে শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে আবার শিক্ষক নিজের স্বার্থ আদায়ে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে অনৈতিকতার দিকে ঠেলে দেয়। রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তি অধিকাংশ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ও শিক্ষকদের সংস্কৃতিতে পরিণত হোয়েছে, শিক্ষাদান-শিক্ষাগ্রহণ সবই এখানে গৌণ। আর যারা এগুলোর বাইরে আছেন তাদের জগতও শুধুমাত্র নিজেদের নিয়ে। সমাজের স্বার্থে, মানবতার স্বার্থে বিপ্লব করা এদের কাছে অকল্পনীয় ব্যাপার। কোনভাবে খেয়ে পরে জীবনটা পার করে দিতে পারলেই এরা তৃপ্ত। সমাজের অধিকাংশ চিকিৎসকদের কাছে রোগীর জীবনের চেয়ে নিজেদের অর্থোপার্জনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কর্মক্ষেত্রে মাসে একবার হাজিরা দিয়েই এরা সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারেন। এদের বিবেক সমুদ্রের মতো বিশাল তাই ছোট-খাট আত্ম-গ্লানি এদের কাবু করতে পারেনা! এছাড়াও বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, দার্শনিক, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদসহ সুশীল সমাজের সকল গর্বিত প্রতিনিধিরা সমাজের মানুষকে তাদের দাবার গুটি হিসেবেই বেশি ব্যবহার করেন। তার পেছনে মতলব থাকে ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার, কিন্তু উপরের মোড়কটা থাকে জনস্বার্থ, জনকল্যাণ ইত্যাদি। সাধারণ মানুষ মুক্তির আশায় তাদের দ্বারস্থ হয় কিন্তু বার বার তারা শুধু পরাজিতই হয়, প্রতারিতই হয়। কিন্তু পরাজিত হলেও এরা হাল ছাড়ে না, কারণ তারা নিরুপায়। উপায় খুঁজতে গিয়ে মানুষ বার বার জুয়া খেলে। ঘোর অন্ধকারে পাগলের মতো হাঁতড়ে বেড়ায় আলোর দিশা। কিন্তু কে হবে সেই আলোর দিশারী যে নিজের স্বার্থ পায়ে ঠেলে জাতিকে আলোর পথ দেখাবেন? এতো সময় কি কারো আছে? কিন্তু তিনি আসবেনই, তাঁকে আসতেই হবে। কারণ এটাই এখন যুগের দাবী, এই সময়ের দাবী। তিনি ঠিকই হ্যামিলনের বাঁশীওয়ালার মতো বিপ্লবের সুর নিয়ে আবির্ভূত হবেন। কিন্তু আমরা কি তৈরি আছি তাঁকে বরণ করে নেওয়ার জন্য?

যে সভ্যতা তেলা মাথায় তেল দেয় ওই সভ্যতাকে ঘৃণা করি


যে সভ্যতা তেলা মাথায় তেল দেয় ওই সভ্যতাকে ঘৃণা করি

 0


মোহাম্মদ আসাদ আলী:
আজ মানবতা ত্রাহি সুরে চিৎকার করছে। মানবজাতির ইতিহাসে আজ অবধি তারা বর্তমানের মতো এতটা ভয়ংকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় নি। মানবতা, নীতি-নৈতিকতা, দয়া-মায়া, ভালোবাসা নামক সোনার হরিণ পৃথিবী থেকে উধাও হয়েছে বহু আগেই। এখন প্রশ্ন অস্তিত্বের, প্রশ্ন জীবন-মরণের। একদিকে জালেমের ক্রূর হাসি, অন্যদিকে মজলুমের আর্তনাদ। একদিকে প্রায় অসীম সম্পদের অধিকারী গুটিকতক পুঁজিপতির বিলাস-ব্যাসনে ডুবে থাকা, আর আরেকদিকে বুভুক্ষু হাড্ডিসার মানুষের সকল মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে পশু পর্যায়ের জীবনযাপন। পশ্চিমা বস্তুবাদী সভ্যতার অনুসরণ করতে গিয়ে আজ আমাদের এই করুণ পরিণতি। ‘তেলা মাথায় তেল ঢালা’ এ সভ্যতার মানদণ্ড মেনে নিয়ে আমাদের সমাজ ভয়াবহ ভারসাম্যহীনতায় পতিত হয়েছে। যার আছে তাকে আরও দেয়া হচ্ছে, যার নেই সে থাকছে শূন্য হাতে। যার ব্যাংক ব্যালেন্স, গাড়ি-বাড়ী, জায়গা-জমি আছে, বিত্ত-প্রাচুর্য আছে ব্যাংক তাকেই ঋণ দেয়। যার মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, অর্থ-বিত্ত নেই, সে মাথা খুঁটে মরলেও ঋণ পায় না। যার বংশ গৌরব আছে, অর্থ-সম্পদ আছে সে-ই সমাজের কর্তা হচ্ছে, যার বংশ মর্যাদা নেই, অর্থ-সম্পদ নেই তার যেন কর্তা হবার যোগ্যতাই নেই। যার কাকা-মামা চাকুরে সে-ই চাকরি-বাকরি পাচ্ছে, যার বংশে কেউ চাকুরে নেই শিক্ষিত হয়েও তাকে দিন কাটাতে হচ্ছে কুলি-মজুরি করে। কথিত ভদ্রলোক মহোদয়গণ কেবলমাত্র স্যুটেড-ব্যুটেড মহাশয়দেরকেই তাদের লোক দেখানো ভদ্রতা প্রদর্শন করেন, বিনয় দেখান, আর যাদের পরনে দামি কাপড় নেই তাদের দেখে নাক ছিটকান। দাওয়াত তাদেরকেই দেওয়া হয় যারা দামি উপহার সামগ্রী দিতে পারবে, পাল্টা দাওয়াত দিয়ে খাওয়াতে পারবে, বিশেষ অতিথি হিসেবে তাদেরকেই রাখা হায় যাদের কাছ থেকে সুবিধা লাভ করা যাবে। সালাম তাদেরকেই ঠোকা হয় যাদের পেশীশক্তি আছে, খাবার তাদেরকেই খাওয়ানো হয় যাদের বাসায় ফ্রিজভর্তি দামি খাবার আছে। এই সিস্টেম, এই নীতিবিবর্জিত মানদণ্ড কার্যত মানুষকে পশুতে পরিণত করছে। ধনী আরও ধনী হচ্ছে, গরীব আরও গরীব হচ্ছে; তথাকথিত সম্মানিতরা আরও সম্মানিত হচ্ছে, অপমানিতরা আরও অপমানিত হচ্ছে। এই তেলে মাথায় তেল দেওয়ার প্রবণতাকে আমরা ঘৃণা করি। এই অসভ্যতা থেকে বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত সমাজের নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের মুক্তি নেই। আর নির্যাতিত মানুষের মুক্তি না হলে জাতির উন্নতি-প্রগতি চিরদিনই অধরা থেকে যাবে। তাই আসুন সকলে সেই মুক্তির মিছিলে সামিল হই।

মানুষের প্রকৃত ধর্ম কী?


মানুষের প্রকৃত ধর্ম কী?

 0



রাকীব আল হাসান
—————–
ধর্ম ও ধারণ একই শব্দ থেকে এসেছে। যে গুণ বা বৈশিষ্ট ধারণ করে কোনো বস্তু তার স্বকীয়তা, নিজস্বতা পায় তাকেই ঐ বস্তুর ধর্ম বলে। যেমন একটি লৌহদণ্ড আকর্ষণ করার গুণ ধারণ করে চুম্বকে পরিণত হয়। এই আকর্ষণ করার গুণটিই হলো ঐ চুম্বকের ধর্ম। যদি কোনো কারণে চুম্বক তার ধর্ম তথা আকর্ষণ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে তবে সেটি পুনরায় লৌহে পরিণত হয়, সেটি আর চুম্বক থাকে না। একটি লৌহকে চুম্বকে পরিণত করতে হলে নিরন্তর তাকে চুম্বক দিয়ে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ঘর্ষণ করতে হয়, এটি চুম্বকের ধর্ম প্রাপ্ত করার প্রক্রিয়া। আবার পরিপূর্ণ চুম্বকও যদি আগুনে পোড়ানো যায় তবে সে তার ধর্ম হারিয়ে সাধারণ পদার্থে পরিণত হয়।
পানির ধর্ম হলো সে নিজে পবিত্র এবং সমস্ত কিছুকে ধৌত করে পবিত্র করে দেয়, তৃষ্ণার্তের তৃষ্ণা দূর করে নতুন জীবন দান করে। কিন্তু পানি যদি অপবিত্র, বিষাক্ত হয়ে যায় তবে সে অন্যকে না পবিত্র করতে পারে, না কারো তৃষ্ণা দূর করতে পারে। পানিকে পবিত্র করার জন্য, বিষমুক্ত করার জন্য আগুনে ফুটাতে হয়। এটিই পানির প্রকৃত ধর্ম প্রাপ্ত করার প্রক্রিয়া। ধর্মহীন তথা বিষাক্ত, অপবিত্র পানি মানুষের জীবনের কারণ না হয়ে মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
মানুষও একটি সাধারণ প্রাণী হিসাবে জন্মগ্রহণ করে আস্তে আস্তে মনুষ্য ধর্ম প্রাপ্ত হয়ে মানুষের স্তরে ওঠে। এই মনুষ্য ধর্ম হলো মানবতা। এক পিতার মধ্যে সন্তানের প্রতি যে ভালোবাসা থাকে তা পিতৃধর্ম, ছেলে-মেয়ের প্রতি মায়ের মমতা হলো মাতৃধর্ম, ভায়ের প্রতি ভায়ের যে প্রেম তা ভ্রাতৃধর্ম। আর মানুষের প্রতি মানুষের যে প্রেম, ভালোবাসা, মায়া, মমতা সেটি হলো মনুষ্যধর্ম। যার মধ্যে অন্য মানুষের প্রতি যত বেশি ভালোবাসা সে তত বড় ধার্মিক। সন্তান কষ্টে থাকলে মা-বাবার মনেও সুখ থাকে না, সন্তানের কষ্ট দূর করার জন্য সে আপ্রাণ চেষ্টা করে। বাবা-মা হিসাবে এটা তাদের কর্তব্য। মানুষ কষ্টে থাকলে অপর মানুষও কষ্টে থাকবে, অপরের কষ্ট দূর করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবে- এটা মানুষ হিসাবে তার কর্তব্য, এটাই তার এবাদত। এই এবাদতের জন্যই মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে। মানুষের প্রতি ভালোবাসাই স্রষ্টার প্রতি ভালোবাসা। সন্তানকে কষ্ট দিয়ে কি কখনো তার বাবা-মায়ের ভালোবাসা পাওয়া যায়? ঠিক একইভাবে আল্লাহর প্রিয় সৃষ্টি মানুষকে কষ্টে রেখে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া সম্ভব নয়।
এখন প্রশ্ন হলো- নামাজ, রোজা, পূজা, প্রার্থনা ইত্যাদি যে ধর্মীয় উপাসনাগুলি ধর্ম মনে করে, এবাদত মনে করে করা হয় সেগুলির উদ্দেশ্য কী? একটি লৌহকে যেমন চুম্বকের ধর্ম প্রাপ্ত করার জন্য নিরন্তর চুম্বক দিয়ে ঘর্ষণ করতে হয়, পানিকে যেমন বিশুদ্ধ করার জন্য ফুটাতে হয় ঠিক তেমনই মানুষের আত্মায় সর্বদা মনুষ্য ধর্ম তথা অন্য মানুষের প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত রাখার জন্য নানা উপাসনা করতে হয়। মানুষের সৃষ্টিগত বৈশিষ্টই এমন যে, সে অসচেতনভাবেই নিজ স্বার্থচিন্তায় মগ্ন হয়ে অপরের কল্যাণের চিন্তা ভুলেই যায়। নামাজ, রোজা, পূজা, প্রার্থনার মাধ্যমে সে স্রষ্টার কাছে জবাবদিহি করবে, স্রষ্টাকে স্মরণ করবে, তার কর্তব্য তথা এবাদতের কথা স্মরণ করবে, সে নিজ স্বার্থ ভুলে জগৎসংসারের কল্যাণ চিন্তা করবে। অর্থাৎ উপাসনাগুলি হলো ধর্ম প্রাপ্ত করার প্রক্রিয়া। যতবেশি উপাসনা করবে তত বেশি ধর্ম প্রাপ্ত হবে। এই উপাসনাগুলি সকল খারাপ কাজ থেকে, অকল্যাণকর কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখবে। এজন্যই আল্লাহ বলেছেন, “নিশ্চয় নামাজ সকল প্রকার ফাহেশা তথা অকল্যাণকর কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখে।” (সুরা আনকাবুত- ৪৫)। দিনরাত উপাসনায় মগ্ন থেকেও যদি কারো মধ্যে মনুষ্য ধর্ম জাগ্রহ না হয়, অকল্যাণকর কাজ থেকে সে বিরত না হয়, মানুষের কষ্ট দূর করার জন্য নিজের জীবন-সম্পদ ব্যয় করার মনোবৃত্তি সৃষ্টি না হয় তবে সকল উপসনালয় ব্যর্থ।

আসমানের নিচে সর্বনিকৃষ্ট জীব কে???

রসুল আখেরী যামানা সম্পর্কে পাঁচটি জিনিস বোলছেন, (১) এসলাম শুধু নাম থাকবে, (২) কোর’আন শুধু অক্ষর থাকবে, (৩) মসজিদসমূহ ভর্ত্তি হবে, সেখানে কোন জায়গা পাওয়া যাবে না, কিন্তু সেখানে হেদায়াত থাকবে না, (৪) আমার উম্মাহর আলেমরা হবে আসমানের নিচে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীব, (৫) তাদের তৈরী ফেতনা তাদের ওপর পতিত হবে। [হযরত আলী রা: থেকে বায়হাকী]

 কথা বোলেছেন সেটা কি বর্ত্তমান সময় নয়? কারণ আমাদের চারপাশের আলেম নামের যে জীবগুলিকে বিচরণ কোরতে দেখি তারা আহার্য্য যোগাড়ের জন্য আল্লাহর দীন বিক্রয় করাকে বেছে নিয়েছে। যে খ্রীস্টানরা সামরিক শক্তিবলে দুনিয়া দখল কোরে এখন মানবজাতিকে সভ্য করার ঠিকাদারি গ্রহণ কোরেছে, সেই খ্রীস্টানদের ধর্মগুরুদের নৈতিক অধঃপতনের চিত্র দেখে বিষ্ময়ে হতবাক হোয়ে যেতে হয়। যে অভিযোগটি খ্রীস্টানদের উচ্চমার্গের ধর্মনেতা যথা কার্ডিনাল, বিশপদের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে উত্থাপিত হোয়ে থাকে তা হোল শিশুদের উপর যৌন নিপীড়ন (Child Molestation) ও সমকামীতা। যারা বিশ্বের কিছুমাত্র খবরও রাখেন তাদের কাছে এ সংবাদ অতি পরিচিত। অন্যান্য প্রধান ধর্মগুলির যাযক, পুরোহিত সমপ্রদায়ও এ জাতীয় অপরাধ থেকে মুক্ত নন।
তবে সবচেয়ে ঘৃণ্য অবস্থা এই মোসলেম বোলে পরিচিত জনসংখ্যার আলেমদের। যারা এ জনসংখ্যার ধর্মীয় নেতা ও আলেম সমপ্রদায় তারা আল্লাহ যে কাজ কোরে উপার্জন করাকে কেবল হারামই করেন নি বরং আগুন খাওয়া বোলেছেন, সেটাকেই জীবিকা হিসাবে গ্রহণ কোরেছেন। তারা মসজিদে এমামতি কোরে, আযান দিনে, খোৎবা দিয়ে, মিলাদ পড়িয়ে, জানাজা ও তারাবীর নামাজ পড়িয়ে, কোরআন খতম দিয়ে, ওয়াজ কোরে, ফতোয়া দিয়ে, কোরবানী কোরে, মসজিদ মাদ্রাসার জন্য চাঁদা তুলে এবং আরো নানা প্রক্রিয়ায় ধর্মকে পূজি কোরে টাকা উপার্জন কোরছেন অর্থাৎ ধর্মকে বিক্রী কোরে খাচ্ছেন। পরনির্ভরশীল, মেরুদণ্ডহীন এই সব ধর্মগুরুদের সমাজে নেতা হিসাবে কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই; শুধু তা-ই নয়, তাদের এ জনসংখ্যার নেতৃত্ব দেবার ন্যূনতম যোগ্যতাও নেই। দাড়ি, টুপি ও লেবাসসর্বস্ব অন্তসারশূন্য এই আলেম সমপ্রদায়ের যাবতীয় যোগ্যতা কিছু হাদীস কোরআন মুখস্থ জ্ঞান, মাসলা-মাসায়েল জানা ও আরবী মাখরাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই জ্ঞানের অধিকারী হোয়েই তারা নিজেদেরকে এসলামের ধারক বাহক বোলে মনে করে এবং এই অহঙ্কারে মাটিতে তাদের পা পড়ে না। অথচ আখেরী যামানার এই আলেমদের সম্পর্কেই আল্লাহর রসুল বোলেছেন, আমার উম্মাহর আলেমরা হবে আসমানের নিচে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীব [আলী (রা undefined থেকে বায়হাকী]। দীন বিক্রী ছাড়াও খ্রীস্টান যাযকদের মতো চারিত্রিক অধঃপতনেও এই আলেম সমপ্রদায় কম যান না। গত ২৭ ডিসেম্বর, ২০১০ এর প্রথম আলো পত্রিকার একটি সংবাদ শিরোনাম ছিল এমন 'ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসার সুপার গ্রেফতার।' তাদের এ চারিত্রিক দিকগুলি জনগণের কাছে এতটাই সুবিদিত যে এ নিয়ে আর বিস্তারিত আলোচনায় গেলাম না।