Thursday, December 3, 2015

আবার ফিরছেন লাদেন,

আবার ফিরছেন লাদেন,


আবার ফিরছেন লাদেন, তবে এবার বলিউডের পর্দায়। ২০১০ সালের পর ফের দেখা যাবে আল কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে। সব কিছু ঠিক থাকলে নতুন বছরেই সেলুলয়েডে আসছে লাদেন। ২০১৬ সালের ১৯ ফেব্র“য়ারি পরিচালক অভিষেক শর্মার ফিল্ম ‘তেরে বিন লাদেন-ডেড অর অ্যালাইভ’ মুক্তি পাওয়ার কথা। নকল লাদেনের ভিডিও তুলে টিভি চ্যানেলকে বেচে রাতারাতি শিরোনামে এসেছিলেন পাক সাংবাদিক আলি হাসান। ২০১০ সালে অভিষেক শর্মার এই ছবি শিরোনামে এনে দিয়েছিল তাকেও।
ছয় বছর পর এই ফিল্মেরই পার্ট-টু রিলিজ করতে চলেছেন তিনি। এমন একটা সময়ে, যখন আইএসের ধ্বংসলীলায় ইউরোপ-এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে আতঙ্কের আবহ। লাদেনের পন্থা এবং আল কায়দা অনেকটাই ব্যাকফুটে। ঠিক এই সময়েই পর্দায় লাদেনের প্রত্যাবর্তন। ছবিটিতে অভিনয় করছেন মনীশ পাল, সিকন্দর, প্রধুমান শিঙ্গ-সহ অনেকে। তবে পার্ট-টু হলেও প্রথম ছবিটির সঙ্গে এই ছবির কাহিনী সম্পূর্ণ আলাদা থাকবে বলে পরিচালক জানিয়েছেন।

মস্তিষ্কের নেই নারী-পুরুষ ভেদাভেদ

মস্তিষ্কের নেই নারী-পুরুষ ভেদাভেদ


‘নারী পুরুষ সমান সমান আছে যে তার অনেক প্রমাণ’- মৌচাক ছবিতে গানে গানে এ কথা বলেছিলেন মিঠু মুখোপাধ্যায়৷ সে যাত্রা অবশ্য উত্তমকুমার-রঞ্জিত মল্লিকের ষড়যন্ত্রে, দাড়ি কাটার প্রশ্নে হার মানতে হয়েছিল তাকে৷ কিন্তু বাস্তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, আরও মারাত্মক প্রমাণ তাদের হাতেই আছে৷ আসলে মানুষের মস্তিষ্কেরই পুরুষ বা নারীর কোনও ভেদাভেদ নেই৷ অর্থাৎ সব মানুষেরই মস্তিষ্ক মোটের উপর সমান৷
পুরুষ ও নারীর ব্যবহার থেকে মানসিকতা, চিন্তাভাবনায় হাজারো ফারাক৷ সেই নিরিখে ধারণা করা যেতে পারে, পুরুষ ও নারীর মস্তিষ্কের গড়ন বোধহয় আলাদা৷ কিন্তু সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের গঠনতন্ত্রে এরকম কোনও ভেদাভেদ নেই৷ ১৬৯ পুরুষ-মস্তিষ্ক ও ১১২ নারী-মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণা করেন একদল গবেষক?
ঠিক কোন কোন জায়গায় তা আলাদা হয়ে যায় তা নিয়েই চুলচেরা বিচার করেন তারা৷ ম্যাগনেটিং রেজোনেন্স ইমেজিং বা এমআরআই পদ্ধতির সাহায্যে এ কাজ করেন তারা৷ প্রাথমিক পরীক্ষায় মস্তিষ্কের অন্তত ১০টি অঞ্চলে ৩৩ শতাংশ ফারাক নজরে আসে৷
আরও বিস্তারিত গবেষণায় এই ফারাকের পরিমাণ ক্রমশ কমতে থাকে৷ দেখা যায়, পুরুষ বা নারীর মস্তিষ্কে ফারাক বলতে মোটে ৬ শতাংশ৷ অর্থাৎ ১০০টির মধ্যে মাত্র ৬টি মস্তিষ্ট পাওয়া যায়, যেগুলো নির্দিষ্টভাবে পুরুষের ধর্ম মানে কিংবা নারীর৷
এরপর ২৬ বছর বয়সী মস্তিষ্কের উপর পরীক্ষা চালাতে গিয়ে দেখা যায়, এ ধরনের নির্দিষ্ট মেরুকরণসম্পন্ন মস্তিষ্ক মোটে ২.৪ শতাংশ৷ এই গবেষণায় স্পষ্টতই প্রমাণ মিলছে, মানুষের মস্তিষ্কের কোনও লিঙ্গভেদ সেই অর্থে নেই৷ তফাৎ তৈরি হয় অন্য বিষয়ে৷ লিঙ্গভেদ নিয়ে মানুষের মাতামাতি এই গবেষণা হয়ত অনেকটাই কমিয়ে দেবে, এমনটাই মনে করছেন উইমেন স্টাটিজের বিশিষ্ট অধ্যাপিকা জর্ডন ইয়ং৷

Tuesday, December 1, 2015

মুমিন ও কাফেরের সংজ্ঞা

মুমিন ও কাফেরের সংজ্ঞা


মোহাম্মদ সাঈদ বিন তারিক:

আল কোর’আনে মহান আল্লাহ বলেছেন- “তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও আমলে সালেহ করে, আল্লাহ তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসনকর্তৃত্ব দান করবেন। যেমন তিনি শাসনকর্তৃত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন তাদের দীনকে, যা তিনি তাদের জন্যে পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে শান্তি ও নিরাপত্তা দান করবেন (সুরা নুর- ৫৫)।”
এই আয়াতে মুমিনদের প্রতি আল্লাহর ওয়াদা হচ্ছে: (১) তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে খেলাফত, কর্তৃত্ব (Power) দান করা হবে। (২) তাদের দীনকে সু-প্রতিষ্ঠিত করা হবে। (৩) ভয়-ভীতির পরিবর্তে নিরাপত্তা (Security & Peace) প্রদান করা হবে। সে আলোকে আজকের মুমিন, মুসলিম ও উম্মতে মোহাম্মদী দাবিদার জাতিটির অবস্থান কোথায়? তাদের হাতে কি এই পৃথিবীর কর্তৃত্ব আছে? রূঢ় বাস্তবতা হচ্ছে এই যে, পৃথিবীর কর্তৃত্ব তো দূরের কথা বর্তমান মুসলিম নামধারী জাতিটি পৃথিবীর সর্বত্র অন্য সব জাতি দ্বারা পরাজিত, অপমানিত, অবহেলিত, নিগৃহিত এবং প্রতিটি জাতির লাথি খাচ্ছে, সব জাতি তাদেরকে ঘৃণার চোখে দেখছে, তাদের রাষ্ট্রগুলো আক্রমণ কোরে দখল কোরে নিচ্ছে (যদিও প্রকৃত ইসলামে ভৌগোলিক জাতি রাষ্ট্রের কোন ধারণা নেই, সুতরাং তা শিরক)। ইহুদি খ্রিস্টান ‘সভ্যতা’র ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত্র পুরো মুসলিম নামক এই জাতি, আরব অনারব নির্বিশেষে সকলে ভয়ে তাদের পায়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে। মুমিন এর প্রতি আল্লাহর উল্লেখিত অঙ্গীকার থেকে বাস্তবতার দূরত্ব লক্ষ যোজন। সুতরাং যদি আল্লাহ সত্যি অঙ্গীকার রক্ষাকারী হয়ে থাকেন, তাহলে এই জাতি মুমিন হতে পারে না, এবং মুমিন না হওয়ার মানেই মুশরিক এবং কাফের হওয়া। কারণ আল্লাহ মানুষ সৃষ্টিই করেছেন দুই রকম: মুমিন ও কাফের (সুরা তাগাবুন ২)। আর যদি তাদের দাবি অনুযায়ী তারা মুমিন ও মুসলিম হয়ে থাকে, তাহলে অনিবার্যভাবে আল্লাহই ওয়াদা খেলাফকারী সাব্যস্ত হন (নাউযুবেল্লাহ)। কিন্তু আল্লাহর ওয়াদা যে অনিবার্য সত্য তার প্রমাণ- ইতিহাস এবং আল্লাহর ঐ কথা, “যেমন খেলাফত দান করেছিলাম তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে”। একটি নিরক্ষর, কুসংস্কারাচ্ছন্ন, বাইরের দুনিয়া সম্পর্কে অজ্ঞ এবং বিশ্বের মধ্যে দরিদ্রতম আরব জাতি যখন আখেরী নবী মোহাম্মদ (দ:) এর অনুসারী হয়ে মো’মেনে রূপান্তরিত হলো, আল্লাহ ছাড়া সকল কর্তৃত্ব, সকল সার্বভৌমত্বের দাবিদারদের অস্বীকার করলো, ওয়াদা রক্ষাকারী আল্লাহ তাদেরকে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর জাতি বানিয়ে দিলেন, তাদের সামনে সারা দুনিয়া সভয়-সম্ভ্রমে লুটিয়ে পড়লো। জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, শিক্ষায়, নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে, সামরিক শক্তিতে এক কথায় সর্বদিক দিয়ে সে জাতি পৃথিবীর সকল জাতির শিক্ষকের আসনে আসীন হয়েছিল। আর আজ ঐ অবস্থার ঠিক বিপরীত। এখন এই জাতিই সিদ্ধান্ত নিক যে, কোনটি সত্য, তাদের দাবি নাকি আল্লাহর ওয়াদা? তারা মুমিন হবার অর্থই হচ্ছে আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্র“তি ভঙ্গ করেছেন অথবা তিনি তা পূরণ করতে অক্ষম (নাউযুবেল্লাহ)। নতুবা তারা মুমিন নয়, মুসলিম নয়, অন্য কোন সিদ্ধান্ত অসম্ভব।
পূর্বেই বলেছি- মুমিন না হওয়ার অর্থই হলো কাফের। কিন্তু শুধু এই যুক্তিতেই নয়, আরও অকাট্য যুক্তি-প্রমাণ রয়েছে যা দ্বারা বর্তমানের মুসলিম নামধারী জাতি যে কার্যত কাফেরে পরিণত হয়েছে তা প্রমাণিত হয়। সে জন্য প্রথমেই আল কোর’আনে উদ্ধৃত কাফেরের সংজ্ঞা মোতাবেক এই জাতির অবস্থান যাচাই করা যাক। আল্লাহ বলেছেন, ‘আল্লাহ যা নাযেল করেছেন সে অনুযায়ী যারা হুকুম (বিচার ফায়সালা) করে না তারা কাফের, জালেম, ফাসেক (সুরা মায়েদা ৪৪, ৪৫, ৪৭)। এই আয়াতগুলোতে ‘হুকুম’ শব্দটি দিয়ে কেবল আদালতের বিচারকার্যই বোঝায় না, ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক অর্থাৎ সামগ্রিক জীবনে তাঁর নাযেল করা বিধান অর্থাৎ কোর’আন (এবং সুন্নাহ) মোতাবেক পরিচালনা করাকেও বোঝায়। মুমিন মুসলিম হবার দাবিদারগণ এখন আর একটি সু-সংহত উম্মাহরূপে নেই, তারা ভৌগোলিকভাবে পঞ্চাশটিরও বেশি জাতিরাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে ইউরোপিয় খ্রিস্টান, ইহুদি ও পৌত্তলিকদের দাসে পরিণত হয়েছে, তাই তারা তাদের সামষ্টিক কার্যাবলী আল্লাহর নাযেলকৃত বিধান দিয়ে ফায়সালা করে না। ফলশ্র“তিতে তারা ফাসেক (অবাধ্য), জালেম (অন্যায়কারী) এবং কাফেরে (প্রত্যাখ্যানকারী) পরিণত হয়েছে। আল্লাহ প্রদত্ত বিধানগুলোকে অপাংক্তেয় কোরে রেখে তারা ইহুদি-খ্রিস্টানদের আইন-কানুনগুলি নিজেদের দেশে প্রবর্তন কোরে তা দিয়ে সামষ্টিক কার্যাবলী পরিচালনা করছে।
পৃথিবীর কোথাও, একটি রাষ্ট্রেও আল্লাহর বিধান দিয়ে শাসনকার্য করা হয় না অর্থাৎ আল্লাহর আনুগত্য করা হয় না। তবে পশ্চিম এশিয়ার সৌদী আরবে কিছু অপরাধের সাজা শরিয়াহ্র আইন দিয়ে করা হয়। কিন্তু যতদূর জানা যায় সেখানেও আইন সকলের জন্য সমান নয় এবং তাদের রাজা-বাদশাহ-আমীররা পশ্চিমা সভ্যতার নিকৃষ্ট গোলামিতে নিয়োজিত এবং তাদের কথায় ওঠে আর বসে। মুমিন হওয়ার জন্য যে পূর্বশর্ত আল্লাহ দিয়েছেন সেই শর্ত তাদের মধ্যেও অনুপস্থিত। সুতরাং বর্তমানের এই মুমিন দাবিদার জাতিটি প্রকৃতপক্ষে মুমিন হওয়া তো দূরের কথা কার্যত কাফেরে পরিণত হয়েছে- এটা আল কোর’আন দ্বারা স্বীকৃত ও প্রমাণিত।

তাকওয়া ও হেদায়াহ কি এক জিনিস???

তাকওয়া ও হেদায়াহ কি এক জিনিস???


এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী:
চৌদ্দশ’ বছর আগে মহানবী (দ:) পৃৃথিবীর মানুষের জন্য যে দীন, জীবনব্যবস্থা নিয়ে এসে সমস্ত জীবনের সাধনায় আরবে প্রতিষ্ঠা কোরেছিলেন এবং তাঁর নিজের হাতে গড়া জাতির উপর সেটাকে সর্বাত্মক সংগ্রামের মাধ্যমে পৃথিবীময় প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব অর্পণ কোরে আল্লাহর কাছে চোলে গিয়েছিলেন, সেই দীনটি আর আজ আমরা যে দীন অনুসরণ কোরি এই দু’টি দীন শুধু যে একই দীন নয় তাই না, এ দুটি পরস্পরবিরোধী, বিপরীতমুখী দু’টো দীন। এই দুইটি দীনের মধ্যে মিল শুধু দৃশ্যত বাইরের; ভেতরে এ দু’টি বিপরীতধর্মী। কারা এই সত্য গ্রহণ কোরে সেই প্রকৃত দীন তাদের জীবনে আবার প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা ‘জেহাদ’ কোরবেন, কারা এ সত্য প্রত্যাখ্যান কোরবেন তা আমি জানি না। আমার হাতে হেদায়াতের শক্তি নেই, হেদায়াতের ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর কাছে। তিনি অনুগ্রহ কোরে যাদের হেদায়াত কোরবেন, শুধু তারাই হেদায়াত হবেন আর তিনি যাদের হেদায়াত কোরবেন না, আমার মত লক্ষ মানুষও তাদের সত্য দেখাতে পারবে না। যাই হোক, আমি এখানে হেদায়াহ ও তাকওয়া সম্পর্কে বর্তমানের বিকৃতি শোধরানোর চেষ্টা কোরব। দীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বুনিয়াদী বিষয় আকিদা ও ঈমানকে যেমন একই বিষয় কোরে ফেলা হোয়েছে তেমনি হেদায়াহ ও তাকওয়ার মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে এ দু’টি বিষয়কেও এক কোরে ফেলা হোয়েছে।
আমাদের বর্তমান বিকৃত আকিদায় আমরা এসলামকে যে দৃষ্টিতে দেখি তাতে ‘ধর্মকর্ম’ করে না এমন একটি লোককে যদি উপদেশ দিয়ে নামাজ রোজা করানো যায়, যাকাত দেয়ানো যায়, মিথ্যা পরিহার করানো যায়, সত্য কথা বলানো যায়, এক কথায় সব রকম অন্যায়-মিথ্যাচার থেকে তাকে বাঁচিয়ে পবিত্র জীবন-যাপন করানো যায়, তবে বলা হয় লোকটি হেদায়েত হোয়েছে। ভুল বলা হয়, সে হেদায়াত হয় নি, সে তাকওয়া অবলম্বন কোরেছে অর্থাৎ মুত্তাকী হোয়েছে। হেদায়াত ও তাকওয়া দুইটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ বিরামহীনভাবে চোলতে থাকে। এর এক মুহুর্তও ছেদ নেই, এর ছেদ মানেই মৃত্যু। আর চলা মানেই, পথ চোলছে মানেই, কোন না কোন পথে চোলছে। সঠিক পথেও চোলতে পারে, ভুল পথেও চোলতে পারে। হেদায়াত অর্থ সঠিক পথে চলা। আল্লাহ ও রসুল (দ:) যে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন, যে গন্তব্য স্থান নির্দিষ্ট কোরে দিয়েছেন সেই পথে চলা। সেটা কোন পথ? সেটা হোল ‘সেরাতুল মোস্তাকীম’’ সহজ-সরল পথ। ‘সেরাতুল মোস্তাকীম’ কী তা তাকওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া দরকার।
এবলিস আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ কোরল যে মাটি দিয়ে তৈরি তোমার খলিফা আদমকে (মানবজাতিকে) তোমার দেখানো পথ থেকে বিচ্যুত কোরে তাকে তার নিজের তৈরি করা পথে নিয়ে যাবো যে পথে চলার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হবে মানুষের জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে অশান্তি, অবিচার এবং যুদ্ধ ও রক্তপাত (ফাসাদ ও সাফাকু-দ্দিমা)। আল্লাহ এবলিসের ঐ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ কোরলেন এবং তাকে বোললেন, আমি মানুষ জাতির মধ্যে আমার নবী-রসুল পাঠিয়ে এমন পথ দেখাবো- যে পথে চোললে তারা তোমার ঐ অশান্তি-অবিচার, অত্যাচার ও রক্তপাতের মধ্যে যেয়ে পড়বে না। আমার নবী-রসুলদের দেখানো পথে চোললে তারা সুবিচার ও শান্তির মধ্যে বাস কোরবে। এই পথের নাম দিলেন তিনি সেরাতুল মোস্তাকীম; সহজ সরল পথ। এই সহজ সরল পথ কী? এটা হোল “লা এলাহা এল্লাল্লাহ” আল্লাহ ছাড়া আর কোন এলাহা, বিধানদাতা নেই; উপাস্য নেই, প্রভু নেই, কাজেই আর কারো আদেশ নিষেধ না মানা; জীবনের কোন ক্ষেত্রে আর কারো আইন-কানুন না মানা অর্থাৎ প্রকৃত তওহীদ। আল্লাহ তার প্রদর্শিত পথ এত সহজ কেন কোরলেন? এই জন্য কোরলেন যে মানুষ যদি তার আইন, আদেশ নিষেধ ছাড়া অন্য কোন আইন, জীবন-বিধান না মানে তবেই এবলিস পরাজিত হবে। সে আর মানুষকে অন্য কোন পথে পরিচালিত কোরতে পারবে না এবং মানুষও অশান্তি, অবিচার আর রক্তপাতের মধ্যে পতিত হবে না। কাজেই মানবজাতির মধ্যে যারা এই সেরাতুল মোস্তাকীমে চোলবে তারা আল্লাহর দলে, আর যারা আল্লাহ ছাড়া অন্য যে কোন জীবন-বিধানকে স্বীকার কোরবে সেটা সম্পূর্ণই হোক বা আংশিকই হোক, তারা এবলিসের দলে। বিকৃত আকিদায় তারা ব্যক্তি জীবনে সারারাত নামাজ পড়লেও সারা বছর রোজা থাকলেও সেই এবলিসের দলে। এই সহজ সরলতাকে বোঝাবার জন্য রসুলাল্লাহ (দ:) বোলেছেন- মানুষের সাথে আল্লাহর চুক্তি হোচ্ছে এই যে, মানুষ আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে এলাহ বোলে স্বীকার কোরবে না, আল্লাহর পক্ষ থেকে চুক্তি হোচ্ছে এই যে, আল্লাহ তাকে জান্নাত দেবেন। এখানে নামাজ, রোজা, হজ্ব ইত্যাদির কোন শর্ত আল্লাহ রাখেন নি। এই হোল সহজ সরল পথ, সেরাতুল মোস্তাকীম। এই পথে চলা হোল হেদায়াতের পথে চলা, এই হোল আল্লাহর দেয়া দিক-নির্দেশনা।
এখন তাকওয়া। তাকওয়ার অর্থ সাবধানে জীবনের পথ চলা। কোথায় পা ফেলছেন তা দেখে পথ চলা। অর্থাৎ জীবনের পথ চলায় ন্যায়-অন্যায়, ঠিক-অঠিক দেখে চলা, অসৎ কাজ পরিহার কোরে সৎ কাজ কোরে চলা। কোর’আনের অনুবাদগুলিতে তাকওয়া শব্দের অনুবাদ করা হোয়েছে, ‘আল্লাহভীতি’ দিয়ে, ইংরেজিতে “ঋবধৎ ড়ভ এড়ফ” দিয়ে। তাতে প্রকৃত অর্থ প্রকাশ পায় না। কোনটা ন্যায়, কোনটা অন্যায় এর মাপকাঠি আসবে কোথা থেকে? এর মাপকাঠি অবশ্যই আল্লাহ ন্যায়-অন্যায়ের যে মাপকাঠি দিয়েছেন সেইটা, অন্য কোন মাপকাঠি নয়। কাজেই সে হিসাবে আল্লাহভীতি এবং ঋবধৎ ড়ভ এড়ফ শব্দগুলো চলে এবং সেই হিসাবেই তাকওয়া শব্দের অনুবাদ হিসাবে ওগুলো ব্যবহার করা হোয়েছে। ইংরাজি অনুবাদে আল্লামা ইউসুফ আলী অনুবাদ কোরেছেন Fear of God বোলে এবং মোহাম্মদ মারমাডিউক পিকথল কোরেছেন Mindful of duty to Allah অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি কর্তব্য সম্বন্ধে চেতনা বোলে। প্রকৃত পক্ষে তাকওয়া শব্দের মর্ম হোল আল্লাহ ন্যায়-অন্যায়ের যে মাপকাঠি নির্দিষ্ট কোরে দিয়েছেন, সেই মাপকাঠি মোতাবেক জীবনের পথে চলা। যারা অমন সাবধানতার সঙ্গে পথ চলেন তাদের বলা হয় মুত্তাকী। তাহোলে দেখা যাচ্ছে তাকওয়া ও হেদায়াত দু’টো আলাদা বিষয়। তাকওয়া হোচ্ছে সাবধানে পথ চলা আর হেদায়াত হোচ্ছে সঠিক পথে চলা। আরও পরিষ্কার করার চেষ্টা কোরছি। আপনি আপনার গন্তব্য স্থানের দিকে যেতে দু’ভাবে যেতে পারেন। অতি সাবধানে পথের কাদা, নোংরা জিনিস এড়িয়ে, গর্ত থাকলে গর্তে পা না দিয়ে, কাঁটার উপর পা না ফেলে চোলতে পারেন। ওভাবে চোললে আপনার গায়ে ময়লা লাগবে না, আছড়ে পড়ে কাপড়ে কাদামাটি লাগবে না। আবার পথের ময়লা, গর্ত, কাঁটা ইত্যাদির কোন পরওয়া না কোরে সোজা চলে যেতে পারেন। ওভাবে গেলে আপনি আছাড় খাবেন, গায়ে-কাপড়ে ময়লা কাদামাটি লাগবে। আর হেদায়াত হোচ্ছে আপনি এ উভয়ভাবের যে কোনও ভাবে যে পথে চোলছেন সে পথ সঠিক হওয়া, অর্থাৎ সে পথ আপনাকে আপনার প্রকৃত গন্তব্য স্থানের দিকে নিয়ে যাচ্ছে কিনা। পথ যদি সঠিক না হোয়ে থাকে অর্থাৎ হেদায়াত না থাকে তবে আপনার শত সাবধানে পথ চলা অর্থাৎ শত তাকওয়া সম্পূর্ণ বিফল, কারণ আপনি আপনার গন্তব্যস্থানে পৌঁছবেন না। আর যদি সঠিক পথে অর্থাৎ হেদায়াতে থাকেন ও চলেন তবে তাকওয়া না কোরেও গায়ের কাপড়ে মাদামাটি লাগিয়ে আপনি আপনার গন্তব্যস্থানে পৌঁছে যাবেন আপনি সফলকাম হবেন। অর্থাৎ তাকওয়া এবং হেদায়াতের মধ্যে বুনিয়াদেই পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। সেই সাথে এটাও দেখা যাচ্ছে যে – হেদায়াহ না থাকলে তাকওয়া অর্থহীন এবং সেই হেদায়াত, সঠিক পথটি হোল সেরাতুল মোস্তাকীম, সহজ সরল পথ, জীবনের কোন ক্ষেত্রে এক আল্লাহ ছাড়া কারো বিধান না মানা, তওহীদ।

সত্য জীবন ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া সমাজ শান্তিপূর্ণ হবে না

সত্য জীবন ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া সমাজ শান্তিপূর্ণ হবে না


 -মোহাম্মদ মসীহ উর রহমান, আমীর, হেযবুত তওহীদ
বগুড়ায় এক কর্মী সমাবেশে হেযবুত তওহীদের আমীর জনাব মসীহ উর রহমান বলেন, সত্য জীবনব্যবস্থা গ্রহণ করে নেওয়া ছাড়া যতভাবেই চেষ্টা করা হোক সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, আমাদের তাকাতে হবে রসুলাল্লাহর আগমনের সময়টির দিকে। বর্তমানে আমরা যে অবস্থায় বসবাস করছি, এর মতই চরম খারাপ অবস্থা তাদের হয়েছিল। বংশানুক্রমে খুন, লুটপাট, যুদ্ধ-বিগ্রহ, প্রতিশোধ-প্রতিহিংসায় লিপ্ত হয়ে তাদের অবস্থা এমন হয়েছিল যে পৃথিবীর অন্যান্য এলাকার মানুষ তাদেরকে ঘৃণার পাত্র হিসেবে দেখত। জাতি হিসেবে তাদের কোন মান-সম্মান ছিল না। তারা পৃথিবীতে একটি চরম দারিদ্রপীড়িত এবং অবজ্ঞাত জাতি হিসেবে পরিগণিত ছিল। সেই যুগটাকেই বলা হয় আইয়ামে জাহেলিয়াহ বা অন্ধকার যুগ। এই পশ্চাদপদ জাতিটাকেই অতি অল্পদিনের ব্যবধানে রসুলাল্লাহ পৃথিবীর বুকে একটি শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে যান। রসুলের আদর্শে গড়া তার উম্মাহ পরবর্তী ৬০/৭০ বছরের মধ্যে পৃথিবীতে শিক্ষা দীক্ষায়, জ্ঞানে বিজ্ঞানে, সামরিক শক্তিতে অর্থাৎ সর্বদিক দিয়ে একটি শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত হন। প্রশ্ন হচ্ছে:-
প্রথমতঃ রসুলাল্লাহ কিসের মাধ্যমে এই অভূতপূর্ব পরিবর্তন সাধন করেছিলেন? এর উত্তর হচ্ছে রসুলের উপর আল্লাহ প্রদত্ত সত্যদীন কায়েম করার মাধ্যমেই এই পরিবর্তন এসেছিল। আল্লাহর দেওয়া ঐ জীবন ব্যবস্থা অর্থাৎ সিস্টেমটি প্রয়োগ করার ফলেই আরবের ঐ আত্মকলহে লিপ্ত জাতির সদস্যরা পরবর্তীতে এক একজন সোনার মানুষে রূপান্তরিত হয়ে যান। তাই সুন্দর ও শান্তিময় পৃথিবী গড়তে সেই সত্য জীবনব্যবস্থা প্রয়োগ অপরিহার্য।
দ্বিতীয়তঃ বর্তমানে প্রচলিত ইসলামটি আল্লাহ রসুলের সেই প্রকৃত ইসলাম কি না? এর উত্তর হচ্ছে, বর্তমানে পৃথিবীতে ইসলাম নামক যে ধর্মটি চালু আছে সেটি আল্লাহ ও রসুলের প্রকৃত ইসলাম নয়। এই জাতিটি নিজেদেরকে মুসলিম বোলে দাবি করে, কিন্তু এরা প্রকৃতপক্ষে মুসলিম ও মো’মেন নয়। বিগত তেরশত বছরে ক্রমাগত বিকৃত হতে হতে সে ইসলাম বর্তমানে ঠিক এর বিপরীত একটি ইসলামে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। বাহ্যিক দিক থেকে দেখতে এই ইসলাম আল্লাহ রসুলের ইসলামের মত হলেও চরিত্রে, আত্মায় ঠিক এর বিপরীত। অর্থাৎ শেষ রসুল আনীত প্রকৃত ইসলাম মানুষকে দিয়েছিল সর্বরকম মুক্তি ও স্বাধীনতা, নির্মূল করেছিল সমস্ত অন্যায়-অবিচার, সামাজিকভাবে দিয়েছিল পরম নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দূর করেছিল বৈষম্য। কিন্তু বর্তমানে সে ইসলাম আর আমাদের মাঝে নেই। ধর্ম ব্যবসায়ী ও অতি পণ্ডিতদের কবলে পড়ে ইসলাম আজ নামাজ রোজাসর্বস্ব অন্যান্য ধর্মের মত একটি ধর্মে পরিণত হয়ে গেছে। পাশাপাশি পুরোহিতদের ন্যায় কথিত আলেম মোল্লারা একে জীবিকা নির্বাহের একটি উত্তম হাতিয়ারে পরিণত করেছে। সর্বশেষ ব্রিটিশদের হাতে সামরিকভাবে পরাজিত হওয়ার পর তাদের তৈরি মাদ্রাসা শিক্ষার মাধ্যমে তারা এই জাতির মন মগজে এক মৃত ইসলাম গেড়ে দিয়েছে এবং এই বিকৃত ইসলামের আলেমরা সেই ইসলামই বিক্রি করে খাচ্ছে, আলেমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না। এখন এই অশান্তিময় পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পেতে হলে আমাদের সত্যদীন গ্রহণ করতে হবে এবং সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

এই উপমহাদেশের রাজনীতিতে ধর্মই এখন এক নাম্বার ইস্যু

এই উপমহাদেশের রাজনীতিতে ধর্মই এখন এক নাম্বার ইস্যু





‘এই উপমহাদেশের রাজনীতিতে ধর্মই এখন এক নাম্বার ইস্যু। ধর্মনিরপেক্ষতা বর্তমানে শুধুমাত্র একটি শ্লোগান। আপামর জনতার মধ্যে এই শ্লোগানের ভিত্তি নেই। এই উপমহাদেশের মানুষ হাজার বছর ধরে ধর্ম দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। এদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে, শিরা-উপশিরায় ধর্ম মিশে আছে।’ গতকাল রাজধানীর পাবলিক লাইব্রেরিতে “ধর্মব্যবসায়ীদের অপপ্রচার নারী মুক্তির অন্তরায়” শীর্ষক সেমিনারে দৈনিক দেশেরপত্রের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রুফায়দাহ পন্নী এ কথা বলেন। তিনি বলেন- ‘এই উপমহাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ বিধায় তারা ধর্ম দ্বারা সহজেই প্রভাবিত হয়। ব্রিটিশদের বয়ে আনা ধর্মনিরপেক্ষতা ও তথাকথিক গণতন্ত্র এতদঞ্চলের মানুষের সহজাত চরিত্রের সাথে সামঞ্জস্যশীল নয়। এর প্রমাণ আমরা পেলাম ভারতের সদ্য অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনে। শত বছরের পুরনো ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী দল কংগ্রেসকে প্রত্যাখ্যান করে মানুষ বেছে নিল ধর্মাশ্রয়ী দলকে। এই একই ঘটনা যে আমাদের দেশেও ঘটবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কাজেই সরকারের জন্য এটি একটি অশনিসংকেত। ধর্মনিরপেক্ষতা দ্বারা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। ধর্মব্যবসায়ীদের উত্থানকে রোধ করার একমাত্র উপায় হলো- তারা যে ধর্মব্যবসায়ী, ধর্ম নিয়ে অপরাজনীতি করে খায় তা মানুষের সামনে প্রমাণ করে দেওয়া। এটা করতে না পারলে জাতি আবশ্যম্ভাবী সঙ্কটে পতিত হবে। আর এটা একমাত্র আমরাই প্রমাণ করতে পারবো এনশা’আল্লাহ। ধর্মব্যবসায়ীদেরকে ভ্রান্ত প্রমাণ করার জন্য যে তথ্য-উপাত্ত, যুক্তি-প্রমাণ দরকার তা আল্লাহ টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী পন্নী পরিবারের সন্তান এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীকে দান করেছেন। আমরা প্রমাণ করে দেবো যে, বর্তমানে ধর্মব্যবসায়ীরা যে এসলামকে নিয়ে ব্যবসা করে খাচ্ছে, রাজনীতি করছে সেটা প্রকৃত এসলাম নয়। কিন্তু সেটা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে সরকারকে। সরকারের নিজ স্বার্থেই এটা করা প্রয়োজন। আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে কংগ্রেস সরকারের পার্থক্য হলো- কংগ্রেসের সামনে মৌলবাদীদের ধর্ম দিয়ে মোকাবিলা করার মতো উপাদান ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের সামনে সেটা আছে, যা আমরা উপস্থাপন করছি। যদি সরকার সেটার গুরুত্ব দেয়।’
তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন- ধর্ম নিয়ে রাজনীতির মোকাবেলায় ধর্মের বিরোধিতা করে সফল হতে পারবেন না। বরং এটা দ্বারা আপনাদেরকে ধর্মব্যবসায়ীরা আরও নাস্তিক প্রমাণ করে দিবে। কারণ তাদের ভিত্তি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রোথিত। জোর করে তাদের মন থেকে ধর্মের বিশ্বাস দূর করতে পারবেন না এবং সেই চেষ্টা করা হবে ভুল। আপনারা মনে করছেন রাষ্ট্র ক্ষমতা আছে তাই কোনো ভয় নেই? ভুল ধারণা। ৫ই মে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপারেশন চালিয়ে তাদের রাস্তা থেকে উচ্ছেদ করে দিল। তারা কোথায় গেছে? তারা আসমানে চলে যায় নি, বা মাটির নিচেও যায় নি। তারা গ্রামে গ্রামে মানুষের সঙ্গে মিশে গেছে। মিশে যেয়ে গ্রামের নারীদেরকে, সরলপ্রাণ মুসলমানদেরকে বুঝিয়েছে যে এই সরকার নাস্তিক। আমাদের শেষ করে দিয়েছে, এসলাম শেষ করে দিয়েছে, আলেমদেরকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। ফল হয়েছে এই যে, এখন যতই শক্তি প্রয়োগ করবেন ততই আপনারা ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে প্রতীয়মান হবেন। কাজেই ধর্মের বিরোধিতা করেও নয়, শক্তি প্রয়োগ করেও নয়, ধর্মের মধ্যে থেকে সত্যের উপর দাঁড়িয়েই ধর্মব্যবসায়ীদেরকে ভ্রান্ত প্রমাণ করতে হবে। এ জন্য দরকার প্রকৃত এসলাম, যা আমাদের কাছে আছে।
দৈনিক দেশেরপত্র সম্পর্কে রুফায়দাহ পন্নী বলেন, ‘আমাদের পত্রিকার মূল শ্লোগান আপনারা দেখতে পাচ্ছেন- মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ। যেটা সত্য সেটা আমরা প্রকাশ করি। দৈনিক দেশেরপত্র আমাদের একটা মুখপত্র পত্রিকা। আমার বাবা এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী টাঙ্গাইলের করটিয়ার ঐতিহ্যবাহী পন্নী পরিবারের সন্তান। তাঁর আদর্শে আমরা অনুপ্রাণিত। দৈনিক দেশেরপত্রের মাধ্যমে আমরা তাঁর মহান আদর্শকে মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিচ্ছি।’
পরিশেষে উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘বাস্তবতার আলোকে এই সরকারের সামনে যে সঙ্কটগুলো আসছে তা আমি তুলে ধরলাম। এর যৌক্তিক সমাধানও প্রস্তাব করলাম। এখন বাকিটা তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়। এই সিদ্ধান্তের উপরই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে যে, তারা আশু বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে নাকি অশেষ ভোগান্তির শিকার হবে। তাদের সিদ্ধান্তের উপর আমার আর কোনো জোর নেই। কিন্তু আপনারা যারা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন, তাদেরও যথেষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। মনে রাখবেন, ধর্মব্যবসায়ীরা যে এসলামকে ভর করে চলছে তা আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত এসলাম নয়। এটা বিকৃত এসলাম। এই এসলাম মানুষকে না পৃথিবীতে শান্তি দিতে পারবে, না পরকালীন মুক্তি এনে দিতে পারবে। তাই আপনাদের প্রতি নিবেদন, আপনারা ধর্মব্যবসায়ীদের পেছনে ছুটবেন না। তাদের পেছনে নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাতসহ যতই এবাদত করেন তার কোনো সুফল আপনারা পাবেন না। বরং সেটা হবে আল্লাহর হুকুম অমান্য করা। যদি সত্যই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চান, তাহলে আমাদের আহ্বানে প্রকৃত এসলামের ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ হোন।’ অডিটোরিয়ামে উপস্থিত দর্শকবৃন্দ মুহূর্মুহু করতালির মাধ্যমে তার বক্তব্যকে স্বাগত জানান।

মো’মেনের সংজ্ঞা কি?

মো’মেনের সংজ্ঞা কি?


মো’মেন শব্দটি এসেছে ঈমান অর্থাৎ বিশ্বাস থেকে। পবিত্র কোর’আনে আল্লাহ মো’মেনের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে,
“তারাই মো’মেন যারা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের উপর ঈমান আনে এবং আর কোন সন্দেহ পোষণ করে না এবং জীবন ও সম্পদ দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করে। তারাই সত্যনিষ্ঠ।
(সুরা হুজরাত ১৫)।
আল্লাহর দেয়া প্রকৃত মো’মেনের এই সংজ্ঞাটা ঠিক ভাবে বুঝতে গেলে আমাদের বুঝতে হবে “যারা আল্লাহর ওপর ঈমানে”র অর্থ শুধু আল্লাহর অস্তিত্বে ও একত্বের ওপর ঈমান নয়, তাঁর উলুহিয়াতের ওপর, সার্বভৌমত্বের ওপর ঈমান, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন আদেশদাতা, হুকুমদাতা নেই এই বিশ্বাস করা অর্থাৎ তওহীদ।
আল্লাহর দেয়া মো’মেনের এই সংজ্ঞার দ্বিতীয় ভাগ হলো প্রাণ ও সম্পদ দিয়ে জেহাদ করা। কি জন্য জেহাদ করা? আল্লাহর তওহীদের, সার্বভৌমত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত দীনটি যদি মানুষের জীবনে প্রতিষ্ঠা, কার্যকর না হয় তবে ওটা অর্থহীন। কাজেই আল্লাহর তওহীদ ভিত্তিক ঐ দীনুল হক, সত্য জীবন-ব্যবস্থাটা মানব জীবনে প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা, জেহাদ। এই দু’টি একত্রে প্রকৃত মো’মেনের সংজ্ঞা। এই দু’টি যার মধ্যে আছে, আল্লাহর দেয়া সংজ্ঞা মোতাবেক সে প্রকৃত মো’মেন। এই সংজ্ঞায় আল্লাহ বলেন নি, যে সালাহ পড়বে সে মো’মেন, বা যে রোযা রাখবে সে মো’মেন, বা যে হজ্ব করবে, বা অন্য যে কোন পূণ্য, সওয়াবের কাজ করবে সে মো’মেন।
এ সংজ্ঞায় শুধু আল্লাহ ছাড়া আর সমস্ত রকম প্রভূত্ব, সার্বভৌমত্ব অস্বীকার ও আল্লাহর পথে জেহাদ। এর ঠিক বিপরীতে তিনি এ সতর্কবাণীও বলেছেন যে এ তওহীদে যে বা যারা থাকবে না, যারা তাদের ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত জীবনের যে কোন একটি ভাগে, অঙ্গনে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো বা নিজেদের তৈরি আইন-কানুন, রীতি-নীতি গ্রহণ বা প্রয়োগ করবে, আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ইলাহ বা সার্বভৌম হুকুমদাতা হিসাবে মানবে তারা শেরক করবে। আর শেরক ক্ষমা না করার জন্য আল্লাহ অঙ্গীকারাবদ্ধ (কোর’আন- সুরা নেসা ৪৮)।
মহান আল্লাহ মো’মেনের যে সংজ্ঞা দিয়েছেন আজ সারা পৃথিবীতে সেই সংজ্ঞা মোতাবেক মো’মেন আছে? নেই। আর মো’মেন নয় মানেই কাফের মোশরেক।