Saturday, March 5, 2016

শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চা সম্পর্কে ভ্রান্ত ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি

শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চা সম্পর্কে ভ্রান্ত ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি

হেলাল উদ্দিন
প্রতিটি জনগোষ্ঠীরই অবিচ্ছেদ্য অংশ তার সংস্কৃতি। সংস্কৃতির মধ্যেই প্রতিফলন ঘটে একটি জাতির নিজস্বতা, রুচি-অভিরুচি, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক, ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিক্ষা, জীবনবোধ, নীতিনৈতিকতা সককিছুর। একটি জাতিকে পদানত করার সর্বাধুনিক পদ্ধতি হিসাবে বিবেচিত হয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, অর্থাৎ যে কোন উপায়ে একটি জাতির উপরে অন্য একটি জাতির সংস্কৃতি চাপিয়ে দিয়ে চিন্তা চেতনার উপরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। তাহলেই সেই জাতির লোকেরা মানসিকভাবে, চিন্তা চেতনায় দাসত্ব বরণ করে নেবে। যারা অন্যজাতির সাংস্কৃতিক দাস, চিন্তার দাস তাদেরকে দেশ আক্রমণ করে সরাসরি দাস বানানোর দরকার পড়ে না, তারা চেতনে-অবচেতনেও প্রভুজাতির আনুগত্যে নিষ্ঠাবান থাকে। পাশ্চাত্য সভ্যতার সাংস্কৃতিক আগ্রাসন এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। অবাধ তথ্য প্রবাহ এবং আকাশ-সংস্কৃতির সুযোগ নিয়ে তারা প্রায় সারা পৃথিবীর মানুষকেই একটি অশ্লীলতানির্ভর জড়বাদী জীবনব্যবস্থা ও সংস্কৃতির দূষিত সাগরে বিলীন করে দিচ্ছে। যত দিন যাচ্ছে মানুষ স্বকীয়তা বিসর্জন দিয়ে সেই অপসংস্কৃতিকে মাথায় তুলে নিচ্ছে, ফলে যুবসমাজ হয়ে পড়ছে আদর্শহীন, চরিত্রহীন, ভোগী ও অর্থবিলাসী এবং চরম আত্মকেন্দ্রীক। ইসলামের বিরোধিতা, অশ্লীলতা, আনন্দ-উপভোগ আর উশৃঙ্খলতাই আধুনিকতার মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। পারিবারিক বন্ধনগুলি আলগা হয়ে যাচ্ছে, বিস্তার লাভ করছে নেশাদ্রব্য, মরণব্যধী ছড়িয়ে পড়ছে সমাজদেহের সর্বত্র। আজ আমাদের কাছে পশ্চিমা বস্তুবাদী সভ্যতার ধারক-বাহকদের গায়ের রং থেকে শুরু করে পোশাক, ভাষা, শিল্প, সাহিত্য, সঙ্গীত, খাদ্যাভ্যাস, মতবাদ সবকিছুই সর্বশ্রেষ্ঠ। ঔপনিবেশিক যুগে যখন আমরা সরাসরি তাদের দাস ছিলাম, তখনও সাংস্কৃতিক ও মানসিকভাবে আমরা এতটা দাস ছিলাম না। আজ আমরা ভুলেই গেছি যে, মুসলিম জাতির একটি নিজস্ব সমৃদ্ধ সংস্কৃতি আছে যা আল্লাহ প্রদত্ত, একাধারে পবিত্র, উন্নত ও মহান। ইতিহাস বলে, ইসলামের স্বর্ণযুগে ইউরোপীয়রা যখন মুসলিমদের দিকে তাকাত, তাদের চোখে থাকত মুগ্ধতার দৃষ্টি, তারা ইসলামের শিল্প, সংস্কৃতি, সাহিত্য, কলা, স্থাপত্যবিদ্যা, নবতর উদ্ভাবন প্রভৃতির শিক্ষা অর্জন করে গর্ব অনুভব করত। কি সঙ্গীত, কি কাব্য, কি নতুন নতুন সুর রচনায়- কোথায় নেই তারা। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল ধর্মীয় গানই লেখেন নি, অনেক বিষয়ে সুন্দর সুন্দর কবিতা, গান লিখে গেছেন। সেসব আজও সমাদৃত। কিন্তু কালের পরিক্রমায় আজকে সঙ্গীত বৈধ কি অবৈধ, নৃত্য বৈধ কি অবৈধ তার প্রশ্ন উঠছে। কারণ এগুলো আজ সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের মাধ্যমে পরিণত হচ্ছে। মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও সাহিত্যের নামে, নৃত্যের নামে আজ অশ্লীলতা, বেহায়াপনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কথা সবাই স্বীকার করবেন যে-অশ্লীলতার প্রসারে সমাজে অপরাধ বৃদ্ধি পায়, তাই তা বর্জনীয় হওয়াই সভ্যতার পরিচয়। কিন্তু এজন্য কাব্যকে, সঙ্গীতকে, নৃত্যকে, সাহিত্যকেই একচেটিয়াভাবে নিষিদ্ধ করে রাখা ধর্মান্ধতা ও কূপমণ্ডুকতার সামিল। মাথায় ব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলা কোন সমাধান নয়, বরং সঠিক চিকিৎসা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সেই শিক্ষকের জাতি মুসলিমরা আজ পশ্চিমা জাতিগুলির গোলামের চেয়ে বেশি কিছু নয়। এই অবস্থার একটি বড় কারণ ইসলামের অপব্যাখ্যা। ধর্মজীবী আলেমরা ফতোয়ার ছুরি চালিয়ে মুসলিমের জীবন থেকে সঙ্গীত, অভিনয়, নৃত্য, চিত্রশিল্প, ভাস্কর্য নির্মাণ সবকিছুকে বাদ দিয়ে দিয়েছে। তারা এগুলিকে একপ্রকার নিষিদ্ধ করে রেখেছে। অথচ ইসলাম এগুলোর কোনটিই নিষিদ্ধ করে নি, নিষিদ্ধ করেছে এগুলির সঙ্গে অশ্লীলতার মিশেলকে। প্রকৃতপক্ষে ইসলাম কোন সত্য ও সুন্দর, মানুষের সুকোমল বৃত্তি, প্রতিভা, সুর, সঙ্গীত, সাহিত্য, চলচ্চিত্র, নাটক ইত্যাদিকে অবৈধ বলে না। স্বয়ং স্রষ্টাই সুর ও নৃত্য সৃষ্টি করেছেন। শেষ প্রেরিত গ্রন্থ আল কোর’আনকে আল্লাহ পাঠিয়েছেন ছন্দবদ্ধ করে। কেবল কোর’আন নয়, যবুর, গীতা, পুরান, ত্রিপিটক ইত্যাদি ধর্মগ্রন্থও কাব্যময়। গীতা শব্দের অর্থই তো গান। নৃত্য হচ্ছে শৃঙ্খলার অনুপম নিদর্শন। পাখি আকাশে ওড়ে- তাদের মধ্যে বিরাজ করে শৃঙ্খলা ও তাল। পাখির কণ্ঠে তিনিই সুর ও সঙ্গীত দান করেছেন। আযান ইসলামের এক অনন্য সঙ্গীত। সুতরাং যিনি সুরকে সৃষ্টি করেছেন, তিনি সেই সুরকে নাজায়েজ করতে পারেন না। নাচ, গান, বাদ্যযন্ত্র, ছবি আঁকা, ভাস্কর্য নির্মাণ ইত্যাদি সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ড ও শিল্পকলা আল্লাহ কোথাও নিষেধ করেন নি। সুতরাং মানুষ যত খুশি গান গাইতে পারে, ছবি আঁকতে পারে, ভাস্কর্য নির্মাণ করতে পারে, কেউ বিকৃত ফতোয়ার চোখ রাঙানিতে তার সৃষ্টিশীলতার পথ রুদ্ধ করতে পারে না। কাজেই আমাদের প্রস্তাবনা হচ্ছে, সাধারণ ধর্মপ্রিয় মানুষের সামনে যদি ইসলামে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির প্রকৃত রূপ তুলে ধরা যায় তাহলে ধর্মব্যবসায়ীদের ফতোয়াবাজি দ্বারা সমাজকে সংস্কৃতিবিমুখ করার অপপ্রয়াস নস্যাৎ হবে।

Friday, March 4, 2016

মহাভারতের কথা: ধর্মের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী???

মহাভারতের কথা: ধর্মের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী???


আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশে শুধু মুসলিমই নয় বিরাট একটা জনসংখ্যা সনাতন ধর্মের অনুসারীও রয়েছেন। কাজেই এখানে তাদের উদ্দেশ্যে সনাতন ধর্মগ্রন্থ মহাভারত থেকে ধর্মের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, বলিদান বা কোরবানির মাহাত্ম কী, মানুষের প্রকৃত ধর্ম কী হওয়া উচিত ইত্যাদি প্রসঙ্গে অবতার শ্রীকৃষ্ণের (অনেকেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেন) অমীয় বাণী থেকে কিছু কথা সহজবোধ্যভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পরিণতি কী হবে সেটা জানতে চাইলে মহারানী দ্রৌপদীকে অবতার শ্রীকৃষ্ণ বলেন, এ যুদ্ধ তো সমাজের সুখের জন্য করতে হবে। অধর্মের নাশ করার জন্য আর ধর্মের স্থাপনা করার জন্য আমাদের এ যুদ্ধ করতেই হবে।
সংসারে যখন দুঃখ বৃদ্ধি পায়, সংসারে স্বল্প মানুষ সুখ অনুভব করে আর অধিকতর মানুষ দুঃখ অনুভব করে তখন সংসার রোগগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এরূপ সময় সেই রোগের নিরাময় করতেই হয়। নিজে নিজেকে বলিদান দিয়েও অধর্মের বিনাশ করা অনিবার্য হয়ে পড়ে। এরূপ সময় না সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ আর না প্রেম গুরুত্বপূর্ণ। না তো স্বার্থ দেখতে হয় আর না সুখের আশা করতে হয়। এইরূপই সময় এখন আপনাদের সবার সামনে। সিদ্ধান্ত আপনাদের সবার। ফলের স্বাদ বৃক্ষের প্রাপ্তি হয় না, কদাচিৎ সেইরূপে এই বলিদান থেকে আপনাদের লাভ নাও হতে পারে। নিজের হৃদয়ে উকি দাও, এতটা করুণা কি রয়েছে ওখানে, এতটাই কি ধর্ম রয়েছে আত্মায় যে, সমগ্র সমাজের জন্য নিজের বলিদান নিশ্চিত করতে পার। এই বিষয়ে আপনারা সবাই চিন্তা করুন।
দান তাকেই বলে যাতে দানী হারায় আর যাচক প্রাপ্তিলাভ করে কিন্তু বলিদান (এই অর্থে ইসলাম ধর্মে বলিদানকেই কোরবানি বলে) সেটাই হয় যা দানী দেয় আর সমগ্র জগৎ প্রাপ্ত করে।
গুরু দ্রোণকে উদ্দেশ্য করে বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণ বলেন, গুরু সে হয় যে বিদ্যা দান করে থাকে, বিদ্যার ব্যবসা করে না। এই কারণে গুরু নিজের শিষ্যের কাছে গুরুদক্ষিণার আশা করে না। কিন্তু আপনি নিজের অমূল্য জ্ঞানের মূল্য নির্ধারণ করেছেন। নিজের জ্ঞানের পরিবর্তে নিজের শিষ্যের নিকট প্রতিশোধ চেয়ে আপনি কেবল নিজের জীবনি বিষাক্ত করেন নি, বরং নিজের শিষ্যদের জীবন বিষাক্ত করে দিয়েছেন। আর এ সমস্ত নিজের মোহ ও অহংকারের বশে করেছেন। আপনি গুরু নন দ্রোণাচার্য। যে ব্যক্তির হৃদয়ে অহংকার আর মনে মোহ তথা লালসা থেকে থাকে তার হাতে ধর্মের কার্য তো হতেই পারে না।
মহামহীম ভীস্মকে উদ্দেশ্য করে শ্রীকৃষ্ণ বলেন, অজ্ঞনতা আপনার দোষ মহামহীম। আপনি তো ধর্মের বাস্তবিক রূপ জানার সম্মুখ প্রচেষ্টাই করেন নি কখনো। করুণার ছত্রতলে যতক্ষণ সমস্ত সংসার আশ্রয় গ্রহণ না করে ততক্ষণ সমাজে ধর্ম অসম্পূর্ণ থাকে। আপনি কেবল নিজের পরিবারের কথাই ভেবেছেন। সংসারের কল্যাণের জন্য তো চিন্তাই করেন নি আপনি। এই হেতু আপনার ত্যাগ স্বার্থেরই আরেক রূপ মাত্র।

গহীনে (ভাঙনের) শব্দ: জীবনটা যেন হরর মুভি

গহীনে (ভাঙনের) শব্দ: জীবনটা যেন হরর মুভি




..........................................
১. আড়াই মাসের সন্তানকে গলা টিপে হত্যা করল বাবা
২. কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় গলা টিপে হত্যা
৩. ময়মনসিংহে গলা টিপে হত্যা করে বাবা তার দুই শিশু সন্তানকে
৪. নাইক্ষ্যংছড়িতে পাষন্ড মা ১ সন্তানকে গলা টিপে হত্যা
৫. সকালে বিনা তার সন্তান সামিরকে গলা টিপে হত্যা
৬. যেভাবে দুই সন্তানকে হত্যা করেন মা
৭. ব্রিজ থেকে ফেলে সন্তান হত্যা!
৮. পাবনায় সন্তান ও স্ত্রীকে বিষ প্রয়োগে হত্যা
৯. বাঞ্ছারামপুরে সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা
১০. স্বামীকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা
১১. কলঙ্ক ঢাকতে ৬ তলা থেকে নবজাতককে নিক্ষেপ মায়ের
১২. নিজের সন্তানকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার
...
একজন দাগী অপরাধী কিংবা একজন কুষ্ঠরোগী, যাকে সমাজের সবাই ঘৃণা করে বা দূরে থাকতে চায়, তারও একটি আশ্রয় থাকে। সেই আশ্রয়ের নাম পরিবার। অথচ শিশু দুটির মা জানিয়েছেন, তিনি নিজ হাতে গলা টিপে একে এক দুই সন্তানকে হত্যা করেছেন। কারণ? তাদের ‘ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা’। কি নির্মম প্রলাপ!
......
প্রতিদিনের পত্রিকার পাতা খুললেই সংবাদ পাই, সদ্যজাত সন্তানকে মা পলিথিনে মুড়িয়ে ডাস্টবিন বা নর্দমায় ফেলে রেখে যাচ্ছেন কিংবা ছাদ থেকে ছুড়ে মারছে। শিশুটির মৃত্যু হওয়ার আগেই কুকুর-বেড়াল তার হাত-পা খুবলে খেতে শুরু করছে। বাবা সন্তানকে হত্যা করছে, কুপিয়ে, বিষ খাইয়ে, শ্বাসরোধ করে ইত্যাদি নানা উপায়ে। ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রীর খুনোখুনিতো একেবারে সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এ কোন্ সমাজরে ভাই? পশুও তো এর চেয়ে মানবিক! পশুদের সমাজেও এটা অতি বিরল ঘটনা যে মা-বাবা শিশু শাবককে হত্যা করছে।
.....
জড়বাদী, ভোগনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন দুইয়ে মিলে মানুষকে এতটাই লোভী, স্বার্থ পর, আত্মকেন্দ্রিক করে তুলেছে যে, ব্যক্তিগত সুখ-সম্ভোগের জন্য রাষ্ট্র কিংবা সমাজের স্বার্থ তো দূরের কথা মানুষ তার পরিবারের স্বার্থও ভুলতে শুরু করেছে। অন্যদিকে সামাজিক অন্যায় ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, জীবনের নির্মম বাস্তবতা তাকে হতাশ, অস্থির, অসামাল করে তুলছে। ফলে সে জিঘাংসা আর ক্রোধের বশবর্তী হয়ে নিজ সন্তানের মাথায় বাড়ি দিতে যেমন দ্বিধা করছে না, নিজের গলায় দড়ি নিতেও দ্বিতীয়বার ভেবে দেখছে না। জীবনটা যেন হরর মুভি।
............
পাশ্চাত্যের অনুকরণে আমরা বিশ্বাস করছি যে, বস্তুগত উন্নতিই আমাদের সকল সুখের আধার। আমাদের সরকার রাস্তাঘাট, সেতু, উড়াল সেতু বানিয়ে আত্মতৃপ্তির হাসি হাসছে। আমাদের বাচ্চাগুলো পড়তে পড়তে মুখে ফেনা তুলে ফেলছে। আমাদের মায়েরা স্কুলের গেটের বাইরে বেঞ্চে বসে থেকে মেরুদণ্ড ক্ষয় করে ফেলছে। কিন্তু এই ‘উন্নতি’র দৌড় যে মাকাল ফলের মতো প্রতারণায় পূর্ণ তা কে তাদেরকে বোঝাবে? আমাদের হাজার বছরের বিশ্বাসভিত্তিক জীবনাচরণ, আমাদের মূল্যবোধ, আমাদের ধর্মভিত্তিক নীতি-নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে কেবল বস্তুগত উন্নতি আমাদের সুখ দিতে পারবে না। তা তাদের মতো কেবল ভোগের উদগ্র বাসনাই বৃদ্ধি করবে, সুখ স্বস্তি শান্তি দেবে না।
.........
হাস্যকর লাগে যখন দেখি আজও আমাদের বুদ্ধিজীবী, সমাজচিন্তকরা সেই প্রভু পশ্চিমা পণ্ডিতদের অমুক অমুক বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়েই এই সংকটের সমাধান দিচ্ছেন। যখন আমাদের সরকারের মন্ত্রীরা বলেন, পরিস্থিতি খুব খারাপ, নতুন আইনের কথা চিন্তা করা হচ্ছে। আফসোস, তারা সমাজের অবক্ষয় রোধ করবেন আইন দিয়ে! সুস্থ মানুষ এমনটা ভাবে কিভাবে? তারা কি শোনেন না যে ভাঙনের শব্দ মানুষের ভিতরে। কথিত বুদ্ধিজীবী আর শাসকদের এই অন্ধত্ব আর মানসিক দাসত্ব যতদিন না ঘুচবে কোনভাবেই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়।

Thursday, March 3, 2016

কারা প্রকৃত আলেম

কারা প্রকৃত আলেম


প্রকৃত আলেম সম্পর্কে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের অনেক উক্তি কোর’আন ও হাদিসে পাওয়া যায়। আমরা প্রকৃত আলেম বলতে বুঝবো আল্লাহর রসুলের আসহাবগণকে যাদেরকে স্বয়ং রসুল নিজে ইসলাম শিখিয়ে গেছেন, ইসলামের জ্ঞান তাদের চেয়ে বেশি আর কারও থাকা সম্ভব নয়। রসুলের আসহাবগণের পরবর্তীতে যারা আলেম হতে চান তাদের চরিত্র ও কাজ আসহাবদের মতোই হতে হবে। তা না হলে যতো বড় টাইটেলধারীই হোন না কেন, যতো বড় আলখেল্লাধারীই হোন না কেন তারা প্রকৃত আলেম নন। সুতরাং
১। প্রকৃত যারা আলেম তারা কখনও অহঙ্কারী হবেন না, কারণ অহঙ্কার কেবলমাত্র আল্লাহরই সাজে। প্রকৃত আলেমরা তাদের সঞ্চিত জ্ঞানকে খুবই সামান্য মনে করবেন এবং সর্বদা অতৃপ্ত থাকবেন। তারা নিজেদেরকে কখনোই আলেম বলে মনে করবেন না, দাবি বা প্রচার করা তো দূরের কথা।
২। তারা আল্লাহর দীন বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করবেন না। এই জ্ঞান অন্যকে দেওয়া তারা নিজেদের ঈমানী দায়িত্ব বলে মনে করবেন। আলী (রা.) কে রসুলাল্লাহ ‘জ্ঞান-নগরীর দ্বার’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি কি আজকের আলেমদের মতো তাঁর জ্ঞান বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন? জীবিকা অর্জনের জন্য তিনি কুলির কাজ করতেন এবং যাঁতার চাক্কি পিষে যবের আটা প্রস্তুত করতে গিয়ে তাঁর স্ত্রী জান্নাতের রানী মা ফাতেমার (রা.) পবিত্র হাতে কড়া পড়ে গিয়েছিল। এই জ্ঞানের দুয়ার আলীকেই (রা.) আমরা দেখি সিংহের বিক্রমে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে। তার অনন্য সাহসিকতা ও বীরত্বের জন্য রসুলাল্লাহ তাঁকে আরেকটি উপাধি দিয়েছিলেন- সেটা হলো আসাদুল্লাহ বা আল্লাহর সিংহ। সুতরাং যিনি দীনের যতো বড় আলেম হবেন তিনি ততো বড় যোদ্ধা হবেন অর্থাৎ আল্লাহর সার্বভৌমত্বের রক্ষক হবেন।

৩। প্রকৃত আলেম তার জ্ঞানকে মানবতার কল্যাণে নিস্বার্থভাবে প্রচার করে যান। তার শিক্ষায় একটিও বিষয় থাকে না বা থাকতে পারে না যা আল্লাহ বা তার রসুলের শিক্ষার বিপরীত। আল্লাহ ধর্মব্যবসা হারাম করেছেন, দীনের কাজের পার্থিব মূল্য গ্রহণকে তিনি আগুন ভক্ষণের সঙ্গে তুলনা করেছেন। যারা এই কাজ করে তাদেরকে তিনি বলেছেন পথভ্রষ্ট, অপবিত্র, জাহান্নামী (সুরা বাকারা- ১৭৪)। তাদের পেছনে দাঁড়াতে মো’মেনদেরকে নিষেধ করেছেন (সুরা ইয়াসীন ২১)। অথচ আজকের সমাজের প্রতিষ্ঠিত আলেমগণ জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হিসেবে দীন বিক্রি করাকেই বেছে নিয়েছেন। এরা আল্লাহর কোর’আনের আয়াতের পরিপন্থী কাজ করছেন এবং নিজেদের আলেম বলে দাবি করে অর্থের বিনিময়ে নামাজ পড়িয়ে, মুর্দা দাফন করে, খতম পড়ে, ওয়াজ মাহফিল, খোতবা দিয়ে বেড়াচ্ছেন। এদেরকেই আল্লাহর রসুল আসমানের নিচে সর্ব নিকৃষ্ট জীব বলেছেন।

৪। আল্লাহ কোর’আনে বলেছেন, তোমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমার রজ্জুকে ধরে রাখ। আজ এই নামধারী আলেমরা ইসলামকে নানান মাজহাব, ফেরকা, তরীকা, খানকা, পীরের অনুসারী এবং হাজারো ভাগে ভাগ করেছেন, সাধারণ মানুষ এই সব মাজহাব ফেরকা আবিষ্কার করে নি। এই কাজ করে নামধারী আলেমরা জাতিকে মেরে ফেলেছেন। প্রকৃত আলেমরা কখনই ইসলামকে এই ভাবে ধ্বংস করতে পারেন না।
৫। বর্তমানের আলেম দাবিদাররা যে মাদ্রাসা থেকে ইসলাম শিখে আলেম খেতাব পাচ্ছেন সেই মাদ্রাসাগুলি ব্রিটিশ খ্রিষ্টানদের ষড়যন্ত্রের ফসল। ঔপনিবেশিক যুগে খ্রিষ্টান প-িতরা বহু গবেষণা করে তওহীদহীন ও সংগ্রামহীন বিকৃত একটি ইসলাম তৈরি করে এবং ১৪৬ বছর ধরে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসায় সেই ইসলামটি এই জাতিকে শেখায়। সেই বিকৃত ইসলামটি বিক্রি করেই খাচ্ছেন এই আলেম-পুরোহিত শ্রেণিটি। সেই আত্মাহীন, ভারসাম্যহীন ইসলামের শিক্ষা গ্রহণ করে পদে পদে ফতোয়া দিয়ে, মতবাদ সৃষ্টি করে, জাতির মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করে চলছে এই পরনির্ভরশীল পুরোহিত শ্রেণিটি।
আমরা চাই এ জাতির সত্যনিষ্ঠ আলেম ওলামাদের কালঘুম ভাঙুক। তারাও আল্লাহর প্রকৃত তওহীদের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হোক

উম্মতে মোহাম্মদী কাকে বলে???

উম্মতে মোহাম্মদী কাকে বলে???


রাকীব আল হাসান:
আল্লাহ আদম (আ.) থেকে শুরু করে তার প্রত্যেক নবী-রসুলকে পাঠিয়েছেন একটিমাত্র উদ্দেশ্য দিয়ে তা হলো যার যার জাতির মধ্যে আল্লাহর তওহীদ ও তার দেওয়া জীবনব্যবস্থা, দীন প্রতিষ্ঠা করা। শেষ নবীকে (সা.) পাঠালেন সমস্ত মানবজাতির উপর এই দীন প্রতিষ্ঠা করার জন্য (কোর’আন-সূরা আল-ফাতাহ-২৮, সূরা আত-তওবা-৩৩, সূরা আস-সফ্-৯)। পূর্ববর্তী নবীদের উপর অর্পিত দায়িত্ব তাঁরা অনেকেই তাদের জীবনেই পূর্ণ করে যেতে পেরেছিলেন, কারণ তাদের দায়িত্বের পরিসীমা ছিল ছোট। কিন্তু আমাদের শেষ নবীর (সা.) দায়িত্ব এত বিরাট যে এক জীবনে তা পূর্ণ করে যাওয়া অসম্ভব। অথচ যতদিন ঐ দায়িত্ব পূর্ণ করা না হবে ততদিন তার উপর আল্লাহর দেওয়া দায়িত্ব অপূর্ণ-অসমাপ্ত থেকে যাবে। তাই তিনি (সা.) এমন একটি জাতি সৃষ্টি করলেন পৃথিবী থেকে তাঁর চলে যাওয়ার পরও যে জাতি তাঁর উপর আল্লাহর দেয়া দায়িত্ব পূর্ণ করার জন্য তারই মতো সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। এই জাতি হলো তাঁর উম্মাহ-উম্মতে মোহাম্মদী- মোহাম্মদ (সা.) এর জাতি। বিশ্বনবী (সা.) তাঁর উম্মাহকে পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে তার চলে যাবার পর তিনি যেমন করে সংগ্রাম করে সমস্ত আরবে দীন প্রতিষ্ঠা করে সর্বরকম অন্যায়, অবিচার, অশান্তি দূর করলেন, ঠিক তেমনি করে বাকি দুনিয়ায় ঐ দীন প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব তাদের উপর অর্পিত হবে। ঐটাকে তিনি বললেন ‘আমার সুন্নাহ’; অর্থাৎ আমি সারা জীবন যা করে গেলাম এবং এও বললেন যে, যে আমার এই সুন্নাহ ত্যাগ করবে সে বা তারা আমার কেউ নয়; অর্থাৎ আমার উম্মত নয়। অবশ্যই, কারণ আল্লাহ যে দায়িত্ব দিয়ে তাঁকে পৃথিবীতে পাঠালেন, যে দায়িত্ব তিনি এক জীবনে পূর্ণ করতে না পারায় এক উম্মাহ সৃষ্টি করে তার উপর অর্পন করে চলে গেলেন, সেই দায়িত্ব যে বা যারা ছেড়ে দেবে-ত্যাগ করবে, তারা নিশ্চয়ই তার কেউ নয়। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে প্রথম যিনি বিশ্বনবীকে (সা.) রসুল বলে, প্রেরিত বলে স্বীকার করে এই দীনে প্রবেশ করলেন অর্থাৎ আবু বকর (রা.) মুসলিম হয়েই রসুলাল্লাহকে (সা.) জিজ্ঞাসা করলেন- “হে আল্লাহর রসুল! এখন আমার কাজ কী? কর্তব্য কী?” আল্লাহর শেষ নবী (সা.) যে উত্তর দিয়েছিলেন তা আমরা ইতিহাসে ও হাদীসে পাই। তিনি বললেন, “এখন থেকে আমার যে কাজ তোমারও সেই কাজ।” কোন সন্দেহ নেই যে যদি প্রত্যেকটি মানুষ-যারা ঈমান এনে মহানবীর (সা.) হাতে মুসলিম হয়েছিলেন তারা আবু বকরের (রা.) মত- যদি ঐ প্রশ্ন করতেন তবে তিনি (সা.) প্রত্যেককেই ঐ জবাব দিতেন। “আমার যে কাজ” বলতে তিনি কী বুঝিয়েছিলেন? তাঁর (সা.) কী কাজ ছিল? তাঁর কাজ তো মাত্র একটা, যে কাজ আল্লাহ তাঁর উপর অর্পণ করেছেন। সেটা হলো সমস্ত রকমের জীবনব্যবস্থা ‘দীন’ পৃথিবীর বুক থেকে অকার্যকর করে দিয়ে এই শেষ দীনকে মানব জীবনে প্রতিষ্ঠা করা। ইতিহাসে পাচ্ছি, শেষ-ইসলামকে গ্রহণ করার দিনটি থেকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আবু বকরের (রা.) কাজ একটাই হয়ে গিয়েছিল। সেটা ছিল মহানবীর (সা.) সংগ্রামে তাঁর সাথে থেকে তাঁকে সাহায্য করা। শুধু আবু বকর নয়, যে বা যারা নবীকে (সা.) বিশ্বাস করে মুসলিম হয়েছেন সেই মুহূর্ত থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি বা তারা বিশ্বনবীকে (সা.) তাঁর ঐ সংগ্রামে সাহায্য করে গেছেন, তাঁর সুন্নাহ পালন করে গেছেন। আর কেমন সে সাহায্য! স্ত্রী-পুত্র-পরিবার ত্যাগ করে , বাড়ী-ঘর, সম্পত্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য ত্যাগ করে , অর্ধাহারে-অনাহারে থেকে, নির্মম অত্যাচার সহ্য করে , অভিযানে বের হয়ে গাছের পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করে এবং শেষ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন বিসর্জন দিয়ে। এই হলো তার উম্মাহ, উম্মতে মোহাম্মদী, তাঁর প্রকৃত সুন্নাহ পালনকারী জাতি।
উম্মতে মোহাম্মদীর যে অর্থ বললাম, আবু বকর (রা.) সহ সমস্ত সাহাবারা যে সেই অর্থই বুঝেছিলেন; বিশ্বনবী (সা.) যে সেই অর্থই তাদের বুঝিয়েছিলেন তার অকাট্য প্রমাণ হচ্ছে রসুলাল্লাহর (সা.) পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার পর ৬০/৭০ বৎসর পর্যন্ত তাঁর উম্মাহর কার্যাবলী। এ ইতিহাস অস্বীকার করার কারো উপায় নেই যে নবী করিমের (সা.) পর তাঁর ঐ উম্মাহ বৃহত্তর ক্ষেত্রে অর্থাৎ আরবের বাইরে তাঁর ঐ সংগ্রাম ছড়িয়ে দিলো এবং পৃথিবীর একটা বিরাট অংশে এই দীন প্রতিষ্ঠা করল এবং মানবজীবনে শান্তি আনলো। আমি উম্মতে মোহাম্মদীর যে অর্থ-সংজ্ঞা করছি তা যদি ভুল হয়ে থাকে তবে ঐ উম্মাহর ঐ কাজের আর মাত্র দু’টি অর্থ হতে পারে। সে দু’টি হচ্ছে- ক) অস্ত্রের জোরে পৃথিবীর মানুষকে ধর্মান্তরিত করা। এটা হয়ে থাকলে আল্লার বাণী- “বলপূর্বক ধর্মান্তরিত করা নিষিদ্ধ” (কোর’আন- সূরা আল-বাকারা-২৫৬)- এর অর্থ আল্লাহর নবীও (সা.) বোঝেন নি, তাঁর সাহাবীরাও বোঝেন নি বা অস্বীকার করেছেন (নাউযুবিল্লাহ)। আর তা হলে অন্ততঃ ঐ সময়ের জন্য আটলান্টিকের তীর থেকে চীনের সীমান্ত আর উরাল পর্বত থেকে ভারত মহাসাগর এই ভূখণ্ডে একটাও অমুসলিম থাকতো না। কিন্তু ইতিহাস তা নয়। খ) পর-রাজ্য, পর-সম্পদ লোভে আলেকজাণ্ডার, তৈমুর, হালাকু ইত্যাদির মত সাম্রাজ্য বিস্তার করেছেন? না, কখনো নয়। তাহলে কী? তৃতীয় এমন কী কারণ থাকতে পারে যেজন্য একটি দেশের প্রতিটি যুদ্ধক্ষম ব্যক্তি তার পার্থিব সব কিছু কোরবান করে বছরের পর বছর একটানা যুদ্ধ করে যেতে পারে? কারণ একটাই- মানবজাতির জীবন থেকে সর্বরকম অন্যায়, অবিচার, অশান্তি দূর করে ন্যায়, সুবিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা- এটাই হলো রসুলাল্লাহর প্রকৃত সুন্নাহ। রসুলাল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে বা যারা আমার সুন্নাহ ত্যাগ করবে তারা আমার কেউ নয়।” যে বা যারা রসুলাল্লাহর কেউ নয় সে বা তারা কি তাঁর উম্মাহ, ‘উম্মতে মোহাম্মদী’? সাধারণ জ্ঞানেই বোঝা যায়- অবশ্যই নয়। অর্থাৎ তাঁর (সা.) সুন্নাহ ও তাঁর উম্মাহ অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। একটা ছাড়া আরেকটা নেই। আল্লাহ তাঁর নবীর (সা.) উপর যে দায়িত্ব অর্পণ করে ছিলেন; শুধু দায়িত্ব অর্পণ করে ছিলেন তাই নয়, যে কাজটা করতে তাঁকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন, যে কাজ তিনি দায়িত্ব পাবার মুহূর্ত থেকে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত করে গেলেন- অর্থাৎ সংগ্রামের মাধ্যমে এই জীবন ব্যবস্থা, এই শেষ দীন প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা- এটাই হলো তাঁর প্রকৃত সুন্নাহ। এই সুন্নাহ ত্যাগকারীদের সম্বন্ধেই তিনি বলেছিলেন ‘তারা আমার নয়’। তার ব্যক্তি জীবনের ছোটখাট, কম প্রয়োজনীয় অভ্যাসের সুন্নাহ বোঝান নি। একটা গুরুত্বপূর্ণ হাদীস উল্লেখ করছি। তিনি (সা.) বলেছেন-“এমন সময় আসবে যখন আমার উম্মাহ প্রতিটি ব্যাপারে বনি ইসরাইলকে নকল করবে। এমনকি তারা যদি তাদের মায়ের সাথে প্রকাশ্যে ব্যভিচার করে তবে আমার উম্মাহ থেকেও তাই করা হবে। বনি ইসরাইলরা বাহাত্তর ফেরকায় (ভাগে) বিভক্ত হয়েছিল, আমার উম্মাহ তিয়াত্তর ফেরকায় বিভক্ত হবে। এর একটি ভাগ ছাড়া বাকি সবই আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে।” সাহাবারা প্রশ্ন করলেন-“ইয়া রসুলাল্লাহ! সেই এক ফেরকা কোনটি?” তিনি (সা.) জবাব দিলেন-“যার উপর আমি ও আমার সঙ্গীরা (আসহাব) আছি” (হাদীস- আবদুল্লাহ বিন আমর (রা:) থেকে- তিরমিযি, মেশকাত )। এই হাদীসটির কয়েকটি অংশ আছে। আমরা একটা একটা করে বুঝে নিতে চেষ্টা করব। প্রথম কথা হলো- প্রথমেই যে তিনি ‘আমার উম্মাহ’ বলে শুরু করলেন তাতে তিনি তাঁর প্রকৃত উম্মাহ বোঝান নি। পেছনে যেমন বলে এসেছি অন্য জাতিগুলি থেকে আলাদা করে বোঝাবার জন্য অর্থাৎ ওহ মবহধৎধষ ংবহংব। দ্বিতীয়তঃ বনি ইসরাইল বলতে তিনি বর্তমানে ইহুদি-খ্রিষ্টান (ঔঁফরড়-ঈযৎরংঃরধহ ঈরারষরংধঃরড়হ) সভ্যতা বুঝিয়েছেন। ‘পাশ্চাত্য সভ্যতা’ শব্দটি শুনলেই আমাদের মনে খ্রিষ্টান ইউরোপ ও আমেরিকার কথাই মনে আসে। কিন্তু আসলে এরা গোড়া ইহুদি। ঈসা (আ.) খাঁটি ইহুদি বংশে জন্মেছিলেন, নিজে ইহুদি ছিলেন, তাঁর প্রত্যেকটি শিষ্য ইহুদি ছিলেন, ইহুদিদের বাইরে তাঁর শিক্ষা প্রচার করা তাঁরই নিষেধ ছিল। অর্থাৎ মুসার (আ.) দীনকে তাঁর ধর্মের আলেম-যাজকরা বিকৃত, ভারসাম্যহীন করে ফেলায় সেটাকে আবার ভারসাম্যে ফিরিয়ে আনাই ছিল তাঁর কাজ, নতুন কোন ধর্ম সৃষ্টি করা নয়। কিন্তু সেটাকে কেমন করে একটা নতুন ধর্মের রূপ দেওয়া হয়েছিল তা অন্যত্র উল্লেখ করা হয়েছে। কাজেই বিশ্বনবী (সা.) এখানে আলাদা করে খ্রিষ্টান না বলে একেবারে গোড়ায় ধরে শুধু ইহুদি বলছেন, কিন্তু বোঝাচ্ছেন আজকের এই জুডিও খ্রিষ্টান সভ্যতা। তিনি বলছেন আমার উম্মাহ ঐ ইহুদি-খ্রিষ্টান অর্থাৎ বর্তমানের পাশ্চাত্য সভ্যতাকে নকল-অনুকরণ করতে করতে হীনম্মন্যতার এক বীভৎস পর্যায় পর্যন্ত যাবে। আজ নিজের জাতিটির দিকে চেয়ে দেখুন- যেটাকে সবাই বিনা দ্বিধায় উম্মতে মোহাম্মদী বলে বিশ্বাস করে- এ জাতির রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক শিক্ষা, আইন-দণ্ডবিধি ইত্যাদি প্রত্যেকটি জিনিস ঐ ইহুদি-খ্রিষ্টানদের নকল-অনুকরণ। এ সমস্ত ব্যাপার থেকে আল্লাহর দীন ও তাঁর আদেশ সম্পূর্ণভাবে বাদ দেয়া হয়েছে। যে উম্মাহটাকে সৃষ্টিই করা হয়েছে ঐগুলি নিস্ক্রীয়-অকেজো করে দিয়ে বিশ্বনবীর (সা.) মাধ্যমে দেওয়া দীনকে পৃথিবীময় প্রতিষ্ঠা করার জন্য, সেই উম্মাহই যদি নিজেরটা ত্যাগ করে ঐগুলিই গ্রহণ ও নিজেদের উপর প্রতিষ্ঠা করে তবে সেই উম্মাহকে ‘উম্মতে মোহাম্মদী’ বলার চেয়ে হাস্যকর ও অসত্য আর কী হতে পারে?
দ্বিতীয় কথা হলো রসুলাল্লাহ (সা.) বলেছেন- বনি ইসরাইল বাহাত্তর ফেরকায় বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল, আমার উম্মাহ তিয়াত্তর ফেরকায় বিভক্ত হবে এবং মাত্র একটি ফেরকা (যেটা জান্নাতী) বাদে সবগুলি ফেরকাই আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে। অতি স্বাভাবিক কথা। কারণ যে ঐক্য ছাড়া পৃথিবীতে কোন কাজই করা সম্ভব নয়, কাজেই যে ঐক্যকে অটুট রাখার জন্য আল্লাহ সরাসরি হুকুম করলেন-“আমার দেওয়া দীন সকলে একত্রে ধরে রাখো এবং নিজেরা বিচ্ছিন্ন হয়োনা” (কোর’আন- সূরা আলে ইমরান-১০৩)- যে ঐক্যকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য মহানবী (সা.) বললেন, “কোর’আনের কোন আয়াতের অর্থ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক কুফর” (হাদীস- আব্দাল্লাহ বিন আমর (রা:) থেকে- মুসলিম, মেশকাত), যে ঐক্য ও শৃঙ্খলা সুদৃঢ় করার জন্য বললেন-“কান কাটা নিগ্রো ক্রীতদাসও যদি তোমাদের নেতা হয় তাহলেও ঐক্যবদ্ধভাবে তার আদেশ নির্দেশ পালন কর” (হাদীস- ইরবাদ বিন সারিয়াহ (রা:) থেকে আহমদ, আবু দাউদ তিরমিযি এবং ইবনে মাজাহ, মেশকাত) (এই ঐক্য অটুট রাখার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রসুল (সা.) কতভাবে চেষ্টা করেছেন তা কোর’আন এবং হাদীস থেকে দেখাতে গেলে আলাদা বই হয়ে যাবে।) সেই ঐক্যকে যারা ভেঙ্গে তিয়াত্তর ফেরকায় বিভক্ত হয়ে যাবে- তারা আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে না তো কোথায় নিক্ষিপ্ত হবে? জান্নাতে?
তৃতীয় কথা হলো যে একটি মাত্র ফেরকা (ভাগ) জান্নাতী হবে- যেটার কথা রসুলাল্লাহ (সা.) বলেছেন- সেটা সেই কাজ নিয়ে থাকবে যে কাজের উপর তিনি ও তাঁর আসহাব ছিলেন। তিনি (সা.) ও তাঁর আসহাব (রা.) কিসের উপর- কোন কাজের উপর ছিলেন? সেই মহাজীবনী যারা পড়েছেন, তাঁর (সা.) সাহাবাদের ইতিহাস যারা পড়েছেন-তাদের এ কথা স্বীকার করা ছাড়া কোন পথ নেই যে, নবুয়ত পাওয়ার সময় থেকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এই অতুলনীয় মানুষটির একটিমাত্র কাজ ছিল। সেটা হলো এই শেষ জীবনব্যবস্থা পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করে মানুষের জীবনে ন্যায়-শান্তি আনা এবং তার জীবিত অবস্থায় ও তাঁর ওফাতের পরে তাঁর সঙ্গীদেরও (আসহাব) জীবন ঐ একই কাজে ব্যয় হয়েছে। অর্থাৎ নেতা ও তার জাতির সম্পূর্ণ জীবন কেটেছে মানব জাতির কল্যানের জন্য। যে কল্যাণের একটিমাত্র পথ-মানবের জাতীয় ও ব্যক্তিগত জীবনে আল্লাহর দেওয়া জীবন বিধান প্রতিষ্ঠা, এক কথায় আল্লাহকে দেওয়া ইবলিসের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় আল্লাহকে জয়ী করে সমস্ত মানব জাতিকে অন্যায়-অবিচার-অশান্তি-যুদ্ধ ও রক্তপাত থেকে উদ্ধার করে পরিপূর্ণ শান্তি, ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা। যে বা যারা এই সংগ্রাম করবে শুধু তারাই রসুলাল্লাহর (সা.) সুন্নাহ পালনকারী, অর্থাৎ যার উপর আল্লাহর রসুল (সা.) ও তার আসহাব (রা.) ছিলেন। ইতিহাসের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বিশ্বনবীর (সা.) ঐ সঙ্গীরা (আসহাব) তাঁর ওফাতের পর তাদের নেতার উপর আল্লাহর অর্পিত কাজ একাগ্রচিত্তে চালিয়ে গেলেন, পার্থিব সমস্ত কিছু উৎসর্গ করে চালিয়ে গেলেন। কারণ তাদের কাছে ঐ কাজ ছিল বিশ্বনবীর (সা.) সুন্নাহ। ইতিহাসের দিকে লক্ষ্য করলে আরও দেখা যায় যে, বিশ্বনবীর (সা.) সংসর্গ যারা লাভ করে ছিলেন; সরাসরি তাঁর কাছ থেকে এই দীন শিক্ষা করে ছিলেন; এই দীনের উদ্দেশ্য এবং সেই উদ্দেশ্য অর্জনের প্রক্রিয়া শিক্ষা করে ছিলেন তারা তাঁর (সা.) ওফাতের পর ৬০/৭০ বছর পর্যন্ত বেঁচেছিলেন এবং ঐ ৬০/৭০ বছর পর বিশ্বনবীর (সা.) সাক্ষাত-সঙ্গীরা (রা.) শেষ হয়ে যাবার পরই পৃথিবীতে এই দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই সংগ্রাম যেই মুহূর্তে বন্ধ হলো জাতি হিসাবে ত্যাগ করা হলো সেই মুহূর্ত থেকে জাতি হিসাবে প্রকৃত উম্মতে মোহাম্মদী শেষ হয়ে গেলো। সেই জন্য মহানবী (সা.) তাঁর সুন্নাহ বলতে শুধু তাঁর নিজের সুন্নাহ বললেন না। বললেন- “আমি ও আমার সঙ্গীরা যার উপর আছি” এবং অন্য সময় এও বললেন যে “আমার উম্মাহর আয়ু ৬০/৭০ বছর।”
আজ আমরা কিছু আরবীয় লেবাস ধারণ করে, আলিশান মসজিদ নির্মাণ করে, ডান কাতে শুয়ে, খাওয়ার আগে নিমক আর খাওয়ার পরে মিষ্টি খেয়ে, টাখনুর উপর পাজামা পরে, গোল হয়ে বসে পাড়া কাপিয়ে যেকের করে ভাবছি পাক্কা উম্মতে মোহাম্মদী হয়ে গেছি। আর অন্যদিকে এই জাতি সর্বত্র লাঞ্ছিত, নিগৃহীত, উদ্বাস্তু, ইউরোপের রাস্তায় রাস্তায় অসহায় জীবন যাপন করছে, নিজেদের মধ্যে অনৈক্য-হানাহানি-মারামারিতে লিপ্ত, আমাদের সমাজসহ সারা বিশ্বের মানুষ শান্তিতে আছে নাকি অশান্তিতে আছে এ নিয়ে যাদের মাথা ব্যথা নেই, স্বার্থপরের মতো জীবন অতিবাহিত করছে তারা আসলে নিজেদেরকে উম্মতে মোহাম্মদী ভেবে আহাম্মকের স্বর্গে বাস করছেন। এরা না মুসলিম আর না তো এরা উম্মতে মোহাম্মদী।
[মতামতের জন্য ০১৭১১০০৫০২৫, ০১৯৩৩৭৬৭৭২৫, ০১৭৮২১৮৮২৩৭, ০১৬৭০১৭৪৬৪৩]

শুধুমাত্র শক্তি প্রয়োগে জঙ্গিবাদ নির্মূল কোনোকালেই সম্ভব হবে না

শুধুমাত্র শক্তি প্রয়োগে জঙ্গিবাদ নির্মূল কোনোকালেই সম্ভব হবে না


এ অভিশাপ থেকে মানবজাতিকে উদ্ধারের সঠিক পথ
-কাজী মাহফুজ

বিশ্বে চলমান সংকটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে জঙ্গিবাদ। জঙ্গিবাদীদের হাতে যে পরিমাণ মানুষ নিহত হচ্ছে বা ধ্বংসযজ্ঞ হচ্ছে তার চেয়ে বহু বহুগুণ বেশি মানুষ হতাহত হচ্ছে জঙ্গিবাদীদের দমন করতে গিয়ে। একের পর এক দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, ক্ষয়ক্ষতির কোনো সীমা-পরিসীমা থাকছে না। কিন্তু এত কিছু করেও দিন দিন জঙ্গিবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর কারণ কী?
প্রথম কারণ- জঙ্গিবাদ আদর্শিক বিষয়। যারা জঙ্গি হচ্ছে তারা একটি ভ্রান্ত আদর্শকে সঠিক মনে করে সেটা প্রতিষ্ঠার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে। এর সঙ্গে তাদের ধর্মীয় আবেগ ও ঈমান জড়িত। তারা যা করছে পার্থিব লাভের আশায় করছে না, পরকালীন প্রতিদানের আশায় করছে। এজন্য শক্তি প্রয়োগ করলে তাদের ঈমান আরো বলিষ্ঠ হচ্ছে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সেই চেতনা প্রবাহিত হচ্ছে।
দ্বিতীয় কারণ- জঙ্গিবাদের স্রষ্টা প্রকৃতপক্ষে পশ্চিমা পরাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলো যারা জঙ্গিবাদের ইস্যুকে জিইয়ে রেখে বিশ্বময় নিজেদের একাধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এজন্য মানবতার যতই বিপর্যয় ঘটুক না কেন, সেটা এই দানবিক পরাশক্তিগুলোর জন্য কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়, তাদের চাই তেল, গ্যাস, আধিপত্য। সুতরাং তাদের অনুসরণ করে যদি বল প্রয়োগে জঙ্গিবাদ দমনের বা নির্মূলের চেষ্টা চালানো হয়, সেটার ফল হবে উল্টো, জঙ্গিবাদ বৃদ্ধি পাবে। পরিণামে আমরাও পরাশক্তিদের তোপের মুখে পড়ে যাবো। সুতরাং এখন আমাদের নিজেদের স্বার্থে জঙ্গিবাদকে কার্যকর পদ্ধতির দ্বারা মোকাবেলা করতে হবে। সেটা হলো- সত্য আদর্শ দিয়ে মিথ্যা আদর্শ জঙ্গিবাদকে মোকাবেলা করতে হবে। যারা জঙ্গিবাদের পক্ষে প্রচার প্রচারণা চালায়, তারা কোর’আন হাদিস, ইতিহাস ইত্যাদি থেকে নানা যুক্তি, তত্ত্ব ও তথ্য তুলে ধরে মানুষকে জঙ্গি হতে প্ররোচিত করে। তাদের সেই যুক্তিগুলোকে যদি ভ্রান্ত হিসাবে প্রতীয়মাণ করা যায় তাহলে অবশ্যই কেউ আর জঙ্গিবাদের দিকে যাবে না এবং ইতোমধ্যেই যারা সেই ভুল পথে পা বাড়িয়েছে তারাও যদি বুঝতে পারে যে এ পথ তাদের দুনিয়া ও আখেরাত দুটোই ধ্বংস করছে তাহলে তারাও সংশোধিত হবে। জঙ্গিবাদের ভ্রান্ততা প্রমাণ করার জন্য কোর’আন হাদীসভিত্তিক যে যুক্তি তথ্য উপাত্ত দরকার তা আল্লাহর রহমে আমাদের কাছে আছে। এখন জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য দরকার এর ব্যাপক প্রচার। শক্তি প্রয়োগেরও দরকার আছে তবে সেটা একমাত্র পন্থা নয়।

এসলামের প্রকৃত সালাহ্

এসলামের প্রকৃত সালাহ্


মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী

আউযুবেল্লাহে মেনাশ শায়তানের রাজিম
বেসমেল্লাহের রহমানের রহিম
আল্লাহর দেয়া মানুষের জন্য জীবন বিধানে সালাতের গুরুত্ব ও মূল্য অত্যন্ত অধিক। তাঁর কোরানে আল্লাহ আশি বারেরও বেশী সালাহ্-কে উল্লেখ কোরেছেন, সালাহ্ কায়েম কোরতে বোলেছেন। আজ পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ, লক্ষ লক্ষ বিরাট বিরাট সুদৃশ্য মসজিদে দিনে পাঁচবার একত্রিত হয় সালাহ্ কায়েম কোরতে, আল্লাহর আদেশ পালন কোরতে। কিন্তু আল্লাহ যে উদ্দেশ্যে মো’মেনদের সালাহ্ কায়েম কোরতে আদেশ কোরেছেন সে উদ্দেশ্য সাধিত হোচ্ছে না। একশ’ পঞ্চাশ কোটির এই জাতিটি, যে জাতিটি নিজেদের মো’মেন, মোসলেম ও উম্মতে মোহাম্মদী বোলে বিশ্বাস করে, এই জাতিটি আজ পৃথিবীর অন্য সব জাতি দ্বারা পরাজিত লান্ছিত, অপমানিত, নিগৃহিত। আল্লাহর রসুল পৃথিবী থেকে চলে যাবার সময় তাঁর গড়া এ জাতিটি সংখ্যায় ছিলো পাঁচ লাখের মত। এটা ইতিহাস যে আল্লাহর রসুল চলে যাবার পর ৬০/৭০ বছরের মধ্যে ঐ ছোট্ট জাতিটি, একটি একটি কোরে নয়, এক সঙ্গে তদানিন্তন পৃথিবীর দু’টি বিশ্বশক্তিকে আক্রমণ কোরে তাদের সামরিকভাবে পরাজিত কোরে অর্দ্ধেক পৃথিবীতে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠা কোরেছিলো। সেই পাঁচলাখের জাতিটাও সালাহ্ কায়েম করতো, আজ একশ’ পঞ্চাশ কোটির এই জাতিটাও সালাহ্ কায়েম করে, অন্তত করে বোলে বিশ্বাস করে। তাহোলে সেই একই কাজ কোরে, আল্লাহর একই আদেশ পালন কোরে সেই পাঁচ লাখের প্রায় নিরক্ষর, চরম দরিদ্র জাতি বিশ্বজয় করলো আর বর্ত্তমানের একশ’ পঞ্চাশ কোটির জাতি, তাদের মধ্যে বহু উচ্চ শিক্ষিত, আলেম, পীর মোরশেদ থাকা সত্ত্বেও, বিশ্বের প্রাকৃতিক সম্পদের একটা বিরাট অংশের মালিক হওয়া সত্ত্বেও আজ বিশ্বের সমস্ত জাতি দ্বারা পরাজিত, নিগৃহিত। একই কাজ কোরে আল্লাহর একই আদেশ পালন কোরে পরিণতি, ফল শুধু আকাশ পাতাল নয়, একেবারে উল্টো কেন?