Sunday, May 3, 2015

বাংলাদেশের কাছ থেকে সন্ত্রাস দমনের কৌশল জানতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

"বাংলাদেশের কাছ থেকে সন্ত্রাস দমনের কৌশল জানতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র"




 

বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস ও চরমপন্থা মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কাছ থেকে কৌশল জানতে চেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, সন্ত্রাস দমনে বিভিন্ন দেশের কাছে বাংলাদেশ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।  মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারী ওয়েন্ডি শেরমান আজ সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতকালে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল ও সুযোগ্য নেতৃত্বে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের সাফল্যের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যে কোন দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের তার ভূমি ব্যবহার করতে না দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, আমরা সন্ত্রাসীকে সন্ত্রাসী হিসেবে দেখি। তাদের কোন সীমানা এবং অঞ্চল নেই। তিনি বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে অবৈধ অস্ত্রের চোরাচালান বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিশওয়াল, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম এবং ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেন ব্লুম বার্নিকাট উপস্থিত ছিলেন।

আন্ডার সেক্রেটারী শেরমান ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়নের প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের মূল্য বৃদ্ধি করতে মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারীর প্রতি আহ্বান জানান।
সম্প্রতি নেপালের প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পের কথা উল্লেখ করে শেরমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষ করে ভূমিকম্প মোকাবেলায় আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী মার্কিন কর্মকর্তাকে জানান, নেপালের ত্রাণ তৎপরতায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের বিমান বন্দর বিশেষ সৈয়দপুর বিমান বন্দর এবং লালমনিরহাট বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে শেরমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রেও নির্বাচনে কিছু কিছু অনিয়ম হয়ে থাকে। তবে সরকার সবসময়ই পরবর্তী নির্বাচন ভালভাবে আয়োজনের চেষ্টা করে। বাংলাদেশ নির্বাচন ব্যবস্থা উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের পর সামরিক শাসকরা দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বাংলাদেশ এখন সে অবস্থা থেকে অনেকাংশ বেরিয়ে এসেছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে কিছু ছোটখাটো অনিয়ম হলেও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এটি খুবই ইতিবাচক দিক। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সহজে ও দ্রুত ভোট গ্রহণ এবং গণনায় স্বচ্ছতা আনতে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) চালুর কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রশংসা করে শেরমান একদিন বাংলাদেশের ইভিএম ব্যবস্থা চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্যই বিএনপি ভোট বর্জন করেছে। শেরমান বিএনপির নির্বাচন বর্জনকে খুবই দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন।

‘ধর্ম ব্যক্তিগত আর রাষ্ট্র সামষ্টিক’- এমন ধারণা সৃষ্টি হয়েছে মাত্র কয়েক শতাব্দী আগে;

‘ধর্ম ব্যক্তিগত আর রাষ্ট্র সামষ্টিক’- এমন ধারণা সৃষ্টি হয়েছে মাত্র কয়েক শতাব্দী আগে; 

যখন ইউরোপে একটি বস্তুবাদী সভ্যতা স্থাপিত হয় যার মূলভাব হচ্ছে, “বর্তমানের এই জ্ঞান-বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির যুগে ধর্ম আর প্রযোজ্য নয়। যারা ব্যক্তিগতভাবে স্রষ্টায় বিশ্বাস করতে চায়, উপাসনা করতে চায় করুক, কিন্তু ধর্ম দিয়ে রাষ্ট্র চলবে না, রাষ্ট্র চলবে মানুষের তৈরি জীবনব্যবস্থা দিয়ে।” এই দর্শনকে বাস্তবরূপ দিতে গিয়ে প্রচারমাধ্যম ও শিক্ষা-ব্যবস্থার মাধ্যমে ধর্মকেই মুছে ফেলার প্রয়াস চালানো হয়েছে। ধর্মকে পশ্চাৎপদতা, কুসংস্কার, অন্ধত্ব ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে মানুষকে ধর্মহীন করে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তা সফল হয় নি। কারণ প্রতিটি মানুষের মধ্যে স্রষ্টার আত্মা, রূহ আছে (সুরা হিজর ২৯)। মানুষের হাতে আছে ধর্মগ্রন্থ যা স্রষ্টার স্বাক্ষর বহন করছে। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে সর্বত্র ছড়িয়ে আছে স্রষ্টা, প্রভুর নিদর্শন যার সামনে মানুষের মস্তক অবনত হয়। যখনই তারা বিপদাপন্ন হয় তখন প্রতি নিঃশ্বাসে তাদের স্রষ্টা, প্রভুর কাছেই আশ্রয় চায়। ইউরোপীয়রা ধর্মকে ব্যক্তিজীবনে নির্বাসন দিয়েছিল কারণ ঈসা (আ.) যে শিক্ষা নিয়ে এসেছিলেন সেটা ছিল মূলত ব্যক্তির আত্মিক পরিশুদ্ধির জন্য। জাতীয় জীবন পরিচালনার বিধান তাঁর আনার প্রয়োজন পড়ে নি, কেননা সেটা পূর্বের কেতাব তওরাতেই ছিল। কিন্তু ইউরোপে শুধু খ্রিষ্টধর্মের শিক্ষা দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা করা হয়েছিল। ফলে তাতে দণ্ডবিধি, অর্থনীতি ইত্যাদি না থাকায় ধর্মযাজকরা নিজেরাই নিজেদের মনগড়া বিধানকে ঈশ্বরের বিধান বলে চালিয়ে দিতেন। সমগ্র ইউরোপেই কয়েক শ’ বছর ধরে রাষ্ট্র ও চার্চের মধ্যে স্বার্থ ও কর্তৃত্ব নিয়ে প্রচণ্ড বিরোধ চলেছিল, লক্ষ লক্ষ মানুষ নিহত হয়েছিল, মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার হয়েছিল কোটি কোটি মানুষ। উপায়ন্তর না পেয়ে ১৫৩৭ সনে ব্রিটিশ রাজা অষ্টম হেনরির সময়ে ধর্মকে ব্যক্তিজীবনে আবদ্ধ করা হয় এবং রাজা হন সার্বভৌম কর্তৃত্বের মালিক। এই রাষ্ট্রনীতি সমগ্র ইউরোপে গৃহীত হয়। কিন্তু ইসলামে যেহেতু মানুষের সামগ্রিক জীবনের বিধান আছে, তাই মুসলিমদের ধর্মকে ব্যক্তি জীবনে সীমাবদ্ধ রাখার কোনো সুযোগ নেই। তবুও ইউরোপীয়রা যে মুসলিম দেশগুলো দখল করে নিয়েছিল সেখানে জাতীয় জীবন থেকে ইসলামকে ছেটে ব্যক্তিজীবনে সীমিত করে ফেলা হলো। আর ইউরোপের রাষ্ট্রব্যবস্থা এখানেও চাপিয়ে দেওয়ার হলো। কিন্তু আল্লাহ যাকে দুটো সুস্থ পা দিয়েছেন সে কেন হুইল চেয়ারে চলাফেরা করবে? তাই ইউরোপের রাষ্ট্রব্যবস্থা বিগত তিনশো বছরে মুসলিমদের উপর যতই চাপানোর চেষ্টা করা হোক সেটা তাদের জীবনে ও চিন্তা-চেতনায় সামগ্রিকভাবে গৃহিত হলো না। তাদের মধ্যে সামষ্টিক জীবনে ইসলাম প্রতিষ্ঠার চেতনা জাগ্রত থাকল। এখানেই ঘটল বিপত্তি। তাদের সামনে যে ইসলামটি আছে সেটা আর প্রকৃত রূপে নেই, সেটা বহু আগেই বিকৃত ও বিপরীতমুখী হয়ে গেছে, সেটা দিয়ে আর শান্তি আসবে না। উপরন্তু সেটা অতিবিশ্লেষণকারী আলেমদের দ্বারা এতটাই জটিল ও দুর্বোধ্য রূপ নিয়েছে যে সেটা সাধারণ মানুষের জ্ঞানের বাইরে চলে গেছে। তাই ধর্মীয় বিষয়ে তারা ধর্মব্যবসায়ীদের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়ল আর ধর্মব্যবসায়ীরাও মানুষের ঈমানকে ভুল পথে চালিত করে স্বার্থ হাসিল করতে সচেষ্ট হলো। শান্তির ধর্ম হয়ে গেল অশান্তির উৎস।
আমাদেরকে আজ বুঝতে হবে, যে ঈমান দুনিয়াতে নিপীড়িত মানুষের মুক্তি ও শান্তির কাজে লাগে না সে ঈমান আখেরাতেও জান্নাত দিতে পারবে না। এজন্যই আল্লাহ আমাদেরকে দোয়া করতে শিখিয়েছেন, “হে আমাদের প্রভু! আমাদের দুনিয়ার জীবনকে সুন্দর, মঙ্গলময় করো এবং আমাদের আখেরাতের জীবনকেও সুন্দর, মঙ্গলময় করো এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করো (সুরা বাকারা ২০১)।” বর্তমানে এ জাতির ঈমান, আমল সবই পরকালের সুন্দর জীবনের আশায় অথচ তাদের দুনিয়ার জীবন দুর্দশায় পূর্ণ অর্থাৎ অসুন্দর। কারণ তাদের ধর্মবিশ্বাস ধর্মব্যবসায়ীদের দ্বারা মানবজাতির অকল্যাণে ব্যবহৃত হচ্ছে। কাজেই মানুষের ঈমানকে সঠিক পথে (To right track) পরিচালিত করা গেলে তা জাতির উন্নতি-প্রগতি-সমৃদ্ধির কাজে লাগবে। এজন্য প্রথমেই ধর্মের কয়েকটি মৌলিক বিষয় সম্পর্কে প্রতিষ্ঠিত ভুল ধারণা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। 
ধর্ম কী? ধার্মিক কারা?

ধর্ম শব্দের অর্থ ধারণ করা। কোনো বস্তু, প্রাণি বা শক্তি যে বৈশিষ্ট্য বা গুণ ধারণ করে সেটাই হচ্ছে তার ধর্ম। আগুনের ধর্ম পোড়ানো। পোড়ানোর ক্ষমতা হারালে সে তার ধর্ম হারালো। মানুষের ধর্ম কী? মানুষের ধর্ম হচ্ছে মানবতা। অর্থাৎ যে ব্যক্তি অন্যের দুঃখ-কষ্ট হৃদয়ে অনুভব করে এবং সেটা দূর করার জন্য আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালায় সে-ই ধার্মিক। অথচ প্রচলিত ধারণা হচ্ছে যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট লেবাস ধারণ করে সুরা কালাম, শাস্ত্র মুখস্থ বলতে পারে, নামায-রোযা, পূজা, প্রার্থনা করে সে-ই ধার্মিক।

এবাদত কী?

এবাদত কী  ???
আল্লাহর এবাদত করার জন্যই মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে (সুরা যারিয়াত ৫৬)। এবাদত হচ্ছে যাকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে সেই কাজটি করা। গাড়ি তৈরি হয়েছে পরিবহনের কাজে ব্যবহারের জন্য, এটা করাই গাড়ির এবাদত। আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন তাঁর প্রতিনিধি (Representative) হিসাবে (সুরা বাকারা-৩০)। অর্থাৎ সমগ্র সৃষ্টিকে আল্লাহ যেভাবে সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ রেখেছেন ঠিক সেভাবে এ পৃথিবীকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখাই মানুষের এবাদত। ধরুন আপনি গভীর রাত্রে প্রার্থনায় মগ্ন। হঠাৎ পাশের বাড়ি থেকে ‘আগুন আগুন’ বলে আর্তচিৎকার ভেসে এল। আপনি কী করবেন? দৌড়ে যাবেন সাহায্য করতে নাকি চোখ-কান বন্ধ করে প্রার্থনা চালিয়ে যাবেন। যদি আগুন নেভাতে যান সেটাই হবে আপনার এবাদত। আর যদি ভাবেন- বিপন্ন ব্যক্তি অন্য ধর্মের লোক, তাহলে আপনার মধ্যে মানুষের ধর্ম নেই, আপনার নামায-রোযা, প্রার্থনা সবই পণ্ডশ্রম। 

আসুন সিস্টেমটাকে পাল্টাই

আসুন সিস্টেমটাকে পাল্টাই

কিছুদিন আগেও মানুষের শরীর কেনা-বেচা হতো। গবাদি পশুর মতো জীবন্ত মানুষকে নিয়ে চলত দরকষাকষি। শক্ত-সামর্থ পুরুষ ও রূপবতী নারীর দাম ছিল সর্বোচ্চ; অন্যদিকে শিশু-কিশোর, বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা বিক্রী হতো খুবই অল্প মূল্যে। সমাজে তাদের পরিচয় ছিল দাস হিসেবে। গরু-মহিষ দিয়ে যেভাবে জমিতে হালচাষ করা হয়, পণ্য পরিবহন করানো হয় এদেরকে দিয়ে তার চেয়েও কষ্টসাধ্য কাজ করানো হতো বিনা প্রশ্নে, বিনা শর্তে, নিঃশঙ্কচিত্তে। তাদের শরীরের উপর নিজেদেরও ততটা অধিকার ছিল না যতটা অধিকার ছিল মালিকের। মালিক যতক্ষণ চায়, যেভাবে চায় দাসকে ততক্ষণ সেভাবে গতর খাটাতে হতো। মালিকের ইচ্ছায় বেঁচে থেকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মালিকের ইচ্ছাতেই মরতে হতো। এক আদম সন্তানের শরীর নিয়ন্ত্রণ করতো আরেক আদম সন্তান।
কিন্তু আজ যুগের হাওয়া বদলেছে। মানুষের যান্ত্রিক সফলতা আকাশ ছুঁয়েছে। উত্তর মেরু-দক্ষিণ মেরুর রহস্য, তারকারাজি, সূর্য-চন্দ্রের অবস্থান, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও কার্যপ্রণালী, আসমান-জমিনের স্তরবিন্যাস, সমুদ্রের তলদেশের বৃহদাকার প্রাণী, কিংবা সূক্ষ্ম হতে সূক্ষ্মতম কীট-কীটানিকের, জীব-অনুজীবের, উদ্ভিদরাজির প্রতিটি কোষ থেকে অণু পরমাণু- সব আজ মানুষের নখদর্পনে; মানুষের নিয়ন্ত্রণে, মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক পদচারণায় মেতে উঠেছে বিশ্বজগৎ। গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ির জায়গা দখল করেছে বাস, ট্রাক, টেম্পু, রেল। কর্দমাক্ত রাস্তার দখল নিয়েছে পিচঢালা রাজপথ। কুপের দখল নিয়েছে পাম্প। কলাগাছ আর তালগাছের ভেলার বদলে এসেছে লঞ্চ, ইস্টিমার, স্পিডবোট, ডুবোজাহাজ। অন্ধকার খুপড়ি রূপ নিয়েছে বিশাল বিশাল সুরম্য অট্টালিকায়। পত্রবাহী দূতের দখল নিয়েছে মোবাইল ফোন, টিভি, ইন্টারনেট। আর এভাবেই যুগের পরশে বদলেছে দাসত্বের ধরনও। শারীরিক দাসত্বের দখল নিয়েছে মানসিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব (Mental slavery)। সিস্টেম নামক আধুনিক প্রভুর সুতোর টানে চলছে সাতশ’ কোটি মানুষের সার্বিক কার্যক্রম। অথচ কি আশ্চর্য! মানুষ বুঝতেও পারছে না তারা স্বাধীন নয়, মুক্ত নয়। তাদের স্বাধীন চিন্তার সুযোগ নেই, স্বাধীন কথা বলার সুযোগ নেই, স্বাধীন কর্মের সুযোগ নেই, স্বাধীন শিক্ষাগ্রহণ করার সুযোগ নেই, স্বাধীন প্রতিবাদের সুযোগ নেই। মানুষ কী ভাববে, কী শিখবে, কী জানবে, কী বলবে, কী শুনবে, কী খাবে, কোথায় যাবে সব পূর্বপ্রস্তুত সিস্টেমের শৃঙ্খলে বাঁধা। মানবজাতিকে কে বলে দেবে যে, পৃথিবী আজ সাতশ’ কোটি মানুষ নয়, সাতশ’ কোটি রোবটের গ্রহ (Robots Planet)?

এলেম বা সত্যের জ্ঞান কোথাই থেকে আসে ???

এলেম বা সত্যের জ্ঞান কোথাই থেকে আসে  ???

এলেম বা সত্যের জ্ঞান যখন কেউ প্রাপ্ত হয় সে আল্লাহর তরফ থেকেই প্রাপ্ত হয়। আল্লাহ এই জ্ঞান কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে সমগ্র মানবজাতিকেই দান করেন। সৃষ্টির সূচনালগ্নে তিনি আদম (আ.) কে সকল বস্তুর নাম শিক্ষা দিয়েছিলেন মানেই জ্ঞান দান করেছিলেন যে জ্ঞান কেয়ামত পর্যন্ত তাঁর সন্তানদের মস্তিষ্কে একটু একটু করে বিকশিত হবে এবং যার দ্বারা মানবজাতি সমসাময়িক সমস্যার উত্তর খুঁজে পেয়ে কল্যাণপ্রাপ্ত হবে। একটি নদীর প্রবাহে যেমন কোনো ব্যক্তির মালিকানা স্বীকৃত হতে পারে না, তেমনি জ্ঞানও অনুরূপ প্রাকৃতিক তথা আল্লাহপ্রদত্ত সম্পদবিশেষ। এরও কোনো ব্যক্তি মালিকানা হতে পারে না। তাই জ্ঞান মানবজাতির আমানত, এই আমানত কুক্ষিগত করে কবরে চলে যাওয়া বিরাট অন্যায় এবং সে আল্লাহর গজবের পাত্র। তাই আলেমদের প্রধান কর্তব্যই হচ্ছে, তার জ্ঞানকে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং তা মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে। বর্তমানে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কল্যাণের চেয়ে ধ্বংসাত্মক কাজেই বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে, আর ধর্মীয় জ্ঞানকে ব্যবহার করা হচ্ছে দাঙ্গা, সাম্প্রদায়িকতা, রঙ-বেরঙের ধর্মব্যবসা, জঙ্গিবাদ, জাতির মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি, রাজনীতিক ফায়দা হাসিল করার কাজে। ধর্ম থেকে মানুষ না পাচ্ছে পার্থিব কল্যাণ, না পাবে পরকালীন মুক্তি। এর জন্য প্রধানতই দায়ী এই আলেম নামধারী জনগোষ্ঠী। এজন্যই রসুলাল্লাহ বলেছেন, আলেমদের মধ্যে যারা মুত্তাকী ও সৎ তারা সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, আর যারা অসৎ ও দুনিয়ার লোভী তারা সৃষ্টির মধ্যে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট। [কিমিয়ায়ে সা’দাত-ইমাম গাজ্জালী (রহ.)]

Saturday, May 2, 2015

কোরআন এবং বিজ্ঞানের আলোকে ভূমিকম্পের কারণ

কোরআন এবং বিজ্ঞানের আলোকে ভূমিকম্পের কারণ
বিশ্ব আজ মহাবিপদের সম্মুখীন। মানব সভ্যতা এই হুমকির মুখোমুখি হয়েছে বিশ্বে উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে। সেই সঙ্গে আরো রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়া, অস্বাভাবিকভাবে মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে থাকার কারণগুলো। 

বৈজ্ঞানিকরা এখন এই সমস্যার কথা বললেও আজ থেকে সাড়ে চৌদ্দশ’ বছর পূর্বে আল্লাহ তায়ালা বিশ্ববাসীকে এসব বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন পৃথিবী বিপন্ন। এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা কি দেখে না যে, ক্রমেই আমরা তাদের জমিনকে এর বহিঃপরিসরের দিক দিয়ে সঙ্কুচিত করছি।’ -সূরা রাদ: ৪১

স্থলভাগের পরিসর ক্রমান্বয়ে কমে আসছে সমুদ্রের বিস্তারের মাধ্যমে। বিপদ এখানেই শেষ নয়, সমুদ্রের তলদেশ বাইরের দিকে প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি বেড়ে গেছে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা। বর্তমান সময়ের এসব সমস্যা নিয়ে সপ্তম শতাব্দীতে কেউ স্বপ্নেও ভাবত না অথচ তখনই কোরানে এ ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘যখন মহাসমুদ্রগুলো উত্তাল করে তোলা হবে’ (সূরা তাকবির: ৬)।
আরবিতে এটাকে ‘সুজ্জিরাত’ বলা হয়। ইবনে কাসির এর তাফসিরে বলেন, ‘যখন এটা রূপ নেবে প্রজ্বলিত অগ্নির।’ বিজ্ঞান-পূর্ব সেসব যুগে টগবগ করে ওঠা সাগরের পানির বিষয়টি কেউ বুঝে উঠতে পারেনি। কিন্তু এখন বিজ্ঞান কোরানের সত্যতাকেই তুলে ধরছে এবং সাগরতলে অগ্ন্যুৎপাতের সন্ধান পেয়েছে। বিজ্ঞানীদের ভয় পৃথিবী নামক গ্রহ উষ্ণতার কারণে খুব তাড়াতাড়ি ধ্বংস হয়ে যাবে। 

অন্যদিকে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ পৃথিবীকে নাটকীয়ভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতির সম্মুখীন করছে। এটা এক সময় চলে যেতে পারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তখন মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য বিরাট বিপদ সৃষ্টি হবে। বস্তুত পৃথিবীর প্রতি আমাদের কৃত অবিচারের দরুন এসব হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে স্থলভাগে ও সমুদ্রে মানুষের কর্মকাণ্ডের পরিণামে। -সূরা আর রুম: ৪১

এখন প্রশ্ন হলো, মানুষের যেসব কর্মকাণ্ড মানবজাতিকে বিপদাপন্ন করছে, সেগুলো কি আমাদের বিজ্ঞানীরা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবেন? যদি না হন, তাহলে পৃথিবীর ধ্বংস অনিবার্য। এ বিষয়েও কোরানে বলা হয়েছে, ‘যেদিন এই পৃথিবী অন্য এক পৃথিবীতে রূপান্তরিত হবে এবং আসমানগুলোতে ঘটবে পরিবর্তন, সে দিন…’ (সূরা ইবরাহিম: ৪৮)। কোরানে কারিমের অনেক আয়াতে এভাবেই বিশ্বজগতের ধ্বংসের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তবে যা অজানা, তা হলো কখন এটা ঘটবে।

‘নামাজ’ শব্দটিকে ‘সালাত’ বলায় ১৮ বছরের এক দম্পতির ‘ঈমান’ নষ্ট হয়ে গেছে বলে, দম্পতিকে ফের বিয়ে

‘নামাজ’ শব্দটিকে ‘সালাত’ বলায় ১৮ বছরের এক দম্পতির ‘ঈমান’ নষ্ট হয়ে গেছে বলে, দম্পতিকে ফের বিয়ে

মানিকগঞ্জ: ফতোয়ার ব্যাপারে উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তারপরেও চলছে ফতোয়া। আর এসব ফতোয়ার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তারা প্রতিবাদ করার সাহস রাখেন না। মুখ বুঝে সহ্য করেন সমাজপতি আর ধর্মের অপব্যাখ্যাকারীদের নির্যাতন। এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী জেলা মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার হিজুলিয়া গ্রামে। ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম ‘নামাজ’ শব্দটিকে ‘সালাত’ বলায় ১৮ বছরের এক দম্পতির ‘ঈমান’ নষ্ট হয়ে গেছে এবং তাদের মধ্যকার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে এমন ফতোয়া দিয়ে একটি মাদ্রাসার সুপার ও সমাজপতিরা জোর করে তাদের ফের বিয়ে দিয়েছেন। অথচ ‘সালাত (একবচন) বা সালাহ (বহুবচন)’ হচ্ছে কোরআনিক আরবি শব্দ। যেটিকে ফার্সি ভাষায় ‘নামাজ’ বলা হয়। বাংলা ভাষাতেও নামাজ বহুল প্রচলিত শব্দ এবং এটির মাধ্যমে সালাতই বোঝায়। এছাড়া পারিভাষিক হিসেবে ফার্সি, উর্দু, হিন্দি ও তুর্কি ভাষাতেও নামাজ শব্দের মাধ্যমে সালাতকেই বোঝানো হয়, যার অর্থ শরীয়াতের নির্ধারিত পদ্ধতির মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ, দোয়া, রহমত, ক্ষমা প্রার্থনা করা। কিন্তু এরই অপব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার হিজুলিয়া গ্রামে ‘নামাজ’ নয় ‘সালাত’ বলায় মামুন বেপারী (৪০) ও শিল্পী বেগম (৩৬) নামে এক দম্পতিকে আবারো কলেমা পড়িয়ে বিয়ে দেয়া হয়েছে। ১৮ বছর দাম্পত্য জীবনে তাদের দুটি ছেলে রয়েছে। ওই গ্রামের মওলানা কাজী ফকরুদ্দিন লোকজন নিয়ে সালিশ বৈঠকে বসে এই ফতোয়া দিয়ে তা কার্যকর করেন। এই ফতোয়ার কারণে এলাকার মানুষের মধ্যে বিভক্তির পাশাপাশি জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ফতোয়ার মাধ্যমে নির্যাতনের শিকার মামুন ওই গ্রামের সিকিম বেপারীর ছেলে এবং পেশায় নির্মাণ শ্রমিক (রাজমিস্ত্রি)। মামুন বেপারী জানান, গত ২২ এপ্রিল একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত ‘নামাজ নয় সালাত’ প্রবন্ধ পড়ে তিনি এ নিয়ে একই গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আলাউদ্দিন ও হাবিবের সঙ্গে কথা বলেন। বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে মামুনের তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে আলাউদ্দিন ও হাবিব বিষয়টি স্থানীয় হিলফুল ফুযুল এতিমখানা ও মাদ্রাসার সুপার মওলানা কাজী ফকরুদ্দিনকে জানান। কাজী ফকরুদ্দিন বলেন, ‘নামাজ’ নয় ‘সালাত’ বলায় মামুনের ঈমান নষ্ট হয়ে গেছে। আর ঈমান নষ্ট হয়ে গেলে তওবা করে স্ত্রীকে পুনরায় বিয়ে করতে হবে বলে ফতোয়া জারি করেন তিনি। মূহূর্তের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরের দিন রাতে মামুনের বাড়িতে কাজী ফকরুদ্দিন ও এলাকার লোকজন উপস্থিত হয়ে সালিশ বৈঠকে বসে ওই ফতোয়া কার্যকরের চেষ্টা চালায়। এতে মামুন রাজি না হলে তারা নানা হুমকি-ধামকি দিয়ে চলে যায়। এরপর গত সোমবার দুপুরে হিজুলিয়া জামে মসজিদে বিষয়টি নিয়ে আবারো কাজী ফকরুদ্দিন, মুফতি হান্নান ও স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার রমজান আলীসহ এলাকার লোকজন সালিশ বৈঠকে বসেন। সেখানে মামুন ও তার স্ত্রীকে নানা ভয়-ভীতি দেখিয়ে হাজির করে পুনরায় কলেমা পড়িয়ে বিয়ে দেয়া হয়। মামুনের স্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, তারা এলাকার নিরীহ একটি পরিবার। সমাজপতিরা ও মাওলানারা তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে এই ফতোয়া দিয়েছে। তারা ধর্মের অপব্যাখা দিয়ে তাদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও অবিচার করেছে। সমাজপতিদের অব্যাহত ভয়-ভীতি দেখানোয় তারা কোনো প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি বলেও জানান তিনি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার রমজান আলী কিছুই জানেন না বলে জানান। তবে, হিলফুল ফুযুল এতিমখানা ও মাদ্রাসার সুপার মাওলানা কাজী ফকরুদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, ‘ঈমান নষ্ট হলে স্ত্রীর সঙ্গে তালাক হয়ে যায়। তাই তাদের আবারো বিয়ে দেয়ার ফতোয়া কার্যকর করা সঠিক হয়েছে।’ এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ আবু মূছা জানান, ‘নামাজকে সালাত বললে কারো ঈমান নষ্ট হয় না। স্ত্রীর সঙ্গে তালাকও হয় না। এভাবে ধর্মের অপব্যাখা দিয়ে ফতোয়া জারি করা ঠিক হয়নি।’ শিবালয় সার্কেল এএসপি হারুণ-অর রশিদ জানান, বিষয়টি কেউ পুলিশকে জানায়নি। উচ্চ আদালতের নির্দেশে ফতোয়া জারি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী ও বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার হাইকোর্ট বেঞ্চ ফতোয়াকে অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে রায় দেন। রায়ে বলা হয়, একমাত্র আদালতই মুসলিম বা অন্য কোনো আইন অনুযায়ী আইনসংক্রান্ত কোনো প্রশ্নে মতামত দিতে পারেন। কেউ ফতোয়া দিলে তা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য হবে। এরপর আপিল হলে ২০১১ সালের ১২ মে তৎকালীন বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৬ বিচারপতির বেঞ্চ ফতোয়া সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত রায় দেন। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি প্রকাশিত হয় ফতোয়া সংক্রান্ত আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি। এতে অনেকগুলো বিষয়ের মধ্যে কয়েকটি হলো; ১. ধর্মীয় বিষয়ে যথাযথ শিক্ষিত ব্যক্তিরা শুধু ধর্মীয় বিষয় সম্পর্কে ফতোয়া দিতে পারবেন। এই ফতোয়া স্বেচ্ছায় গৃহীত হতে হবে। ফতোয়া মানতে কাউকে বাধ্য করা, জোর করা কিংবা অনুচিত প্রভাব প্রয়োগ করা যাবে না। ২. কোনো ব্যক্তির দেশে প্রচলিত আইন দ্বারা স্বীকৃত অধিকার, সম্মান বা মর্যাদা ক্ষুণ্ন বা প্রভাবিত করে, এমন ফতোয়া কেউ প্রদান করতে পারবে না। ৩. ফতোয়ার নামে কোনো প্রকার শাস্তি, শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা যাবে না। ৪. তবে ওই নির্দিষ্ট ফতোয়াটি (যা হাইকোর্ট অবৈধ বলেছেন) অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হলো। প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সালে নওগাঁ সদর উপজেলার আম্বিয়া ভাঙ্গাপাড়ার সাইফুল কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে স্ত্রী শাহিদার উদ্দেশে ‘তালাক’ শব্দটি উচ্চারণ করেন। কথাটি প্রতিবেশী মাওলানা আলহাজ আজিজুল হক শুনতে পান। কিন্তু এই ঘটনার পর তারা একসঙ্গে স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন যাপন করতে থাকেন। ঘটনার এক বছর পর, সাইফুলের অনুপস্থিতিতে মাওলানা আজিজুল হক উক্ত তালাকের ঘটনা শরীয়ত মতো ‘শুদ্ধ’ করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে জনৈক শামসুলের সঙ্গে শাহিদার হিল্লা বিয়ে দেন। এই ঘটনার পর সাইফুল শাহিদাকে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হলে তা হাইকোর্টের দৃষ্টিতে আসে। আদালত এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন এবং ২০০১ সালের জানুয়ারি মাসে হাইকোর্ট ডিভিশন ফতোয়াকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।