Sunday, May 3, 2015

আসুন সিস্টেমটাকে পাল্টাই

আসুন সিস্টেমটাকে পাল্টাই

কিছুদিন আগেও মানুষের শরীর কেনা-বেচা হতো। গবাদি পশুর মতো জীবন্ত মানুষকে নিয়ে চলত দরকষাকষি। শক্ত-সামর্থ পুরুষ ও রূপবতী নারীর দাম ছিল সর্বোচ্চ; অন্যদিকে শিশু-কিশোর, বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা বিক্রী হতো খুবই অল্প মূল্যে। সমাজে তাদের পরিচয় ছিল দাস হিসেবে। গরু-মহিষ দিয়ে যেভাবে জমিতে হালচাষ করা হয়, পণ্য পরিবহন করানো হয় এদেরকে দিয়ে তার চেয়েও কষ্টসাধ্য কাজ করানো হতো বিনা প্রশ্নে, বিনা শর্তে, নিঃশঙ্কচিত্তে। তাদের শরীরের উপর নিজেদেরও ততটা অধিকার ছিল না যতটা অধিকার ছিল মালিকের। মালিক যতক্ষণ চায়, যেভাবে চায় দাসকে ততক্ষণ সেভাবে গতর খাটাতে হতো। মালিকের ইচ্ছায় বেঁচে থেকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মালিকের ইচ্ছাতেই মরতে হতো। এক আদম সন্তানের শরীর নিয়ন্ত্রণ করতো আরেক আদম সন্তান।
কিন্তু আজ যুগের হাওয়া বদলেছে। মানুষের যান্ত্রিক সফলতা আকাশ ছুঁয়েছে। উত্তর মেরু-দক্ষিণ মেরুর রহস্য, তারকারাজি, সূর্য-চন্দ্রের অবস্থান, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও কার্যপ্রণালী, আসমান-জমিনের স্তরবিন্যাস, সমুদ্রের তলদেশের বৃহদাকার প্রাণী, কিংবা সূক্ষ্ম হতে সূক্ষ্মতম কীট-কীটানিকের, জীব-অনুজীবের, উদ্ভিদরাজির প্রতিটি কোষ থেকে অণু পরমাণু- সব আজ মানুষের নখদর্পনে; মানুষের নিয়ন্ত্রণে, মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক পদচারণায় মেতে উঠেছে বিশ্বজগৎ। গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ির জায়গা দখল করেছে বাস, ট্রাক, টেম্পু, রেল। কর্দমাক্ত রাস্তার দখল নিয়েছে পিচঢালা রাজপথ। কুপের দখল নিয়েছে পাম্প। কলাগাছ আর তালগাছের ভেলার বদলে এসেছে লঞ্চ, ইস্টিমার, স্পিডবোট, ডুবোজাহাজ। অন্ধকার খুপড়ি রূপ নিয়েছে বিশাল বিশাল সুরম্য অট্টালিকায়। পত্রবাহী দূতের দখল নিয়েছে মোবাইল ফোন, টিভি, ইন্টারনেট। আর এভাবেই যুগের পরশে বদলেছে দাসত্বের ধরনও। শারীরিক দাসত্বের দখল নিয়েছে মানসিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব (Mental slavery)। সিস্টেম নামক আধুনিক প্রভুর সুতোর টানে চলছে সাতশ’ কোটি মানুষের সার্বিক কার্যক্রম। অথচ কি আশ্চর্য! মানুষ বুঝতেও পারছে না তারা স্বাধীন নয়, মুক্ত নয়। তাদের স্বাধীন চিন্তার সুযোগ নেই, স্বাধীন কথা বলার সুযোগ নেই, স্বাধীন কর্মের সুযোগ নেই, স্বাধীন শিক্ষাগ্রহণ করার সুযোগ নেই, স্বাধীন প্রতিবাদের সুযোগ নেই। মানুষ কী ভাববে, কী শিখবে, কী জানবে, কী বলবে, কী শুনবে, কী খাবে, কোথায় যাবে সব পূর্বপ্রস্তুত সিস্টেমের শৃঙ্খলে বাঁধা। মানবজাতিকে কে বলে দেবে যে, পৃথিবী আজ সাতশ’ কোটি মানুষ নয়, সাতশ’ কোটি রোবটের গ্রহ (Robots Planet)?

No comments:

Post a Comment