Thursday, August 6, 2015

দোয়া কেন ব্যর্থ হোচ্ছে? (পর্ব-১)

দোয়া কেন ব্যর্থ হোচ্ছে? (পর্ব-১)

মোহাম্মদ আসাদ আলীঃ

হেদায়াহ (সঠিক পথ নির্দেশনা) ও সত্যদ্বীন দিয়ে আল্লাহ আখেরী নবী বিশ্বনবী মোহাম্মদ (স:) কে পাঠিয়েছেন তিনি যেন এটাকে অন্য সমস্ত দ্বীনের, জীবনব্যবস্থার উপর প্রতিষ্ঠা করেন। (তওবা, ৩৩, ফাতাহ ২৮, সফ ৯)। এই হেদায়াহ হলো আল্লাহর তওহীদ, আল্লাহর সাবভৌমত্ব, লা এলাহা এল্লাাল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া জীবনের সর্ব অঙ্গনে অন্য কারো হুকুম না মানা। আর দ্বীনুল হক (সত্য জীবনব্যবস্থা) হোল ঐ হেদায়াহর উপর প্রতিষ্ঠিত, আইন, বিধান, হারাম-হালাল, বৈধ-অবৈধ, জায়েজ-নাজায়েজ ইত্যাদি। মানুষকে আল্লাহ সমাজবদ্ধ জীব হিসাবে সৃষ্টি কোরেছেন, তাই তার পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ইত্যাদি সামষ্টিক ক্ষেত্র পরিচালনা করার জন্য একটা জীবনব্যবস্থা অতি অবশ্যই প্রয়োজন। এই জীবনব্যবস্থা প্রধানত দু’রকমের হতে পারে- ক) যিনি সৃষ্টি কোরেছেন অর্থাৎ স্রষ্টার দেওয়া, খ) মানুষের নিজের তৈরি এক কথায় সৃষ্টির তৈরি করা।
এখন প্রশ্ন হলো মানুষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ কোরবে স্রষ্টার, আল্লাহর নাকি মানুষের নিজেদের তৈরি। যদি তারা স্রষ্টার দেওয়া পথ গ্রহণ করে তবে তারা হবে মো’মেন, সেটার ফল হবে দুনিয়াময় শান্তি, ন্যায়, সুবিচার এবং এই জীবনের পরের জীবনে জান্নাত। আর যদি মানুষের তৈরি পথ, ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তাহলে এই জীবনে নেমে আসবে অন্যায়, দুঃখ, কষ্ট, অভাব, দাঙ্গা, মারামারি, রক্তপাত- এক কথায় অশান্তি আর পরজীবনে আরও ভয়াবহ শাস্তি জাহান্নাম। যাহোক মহান আল্লাহ আখেরী নবীকে পাঠালেন, এমন একটা জীবনব্যবস্থা দিয়ে যেটা সমস্ত মানব জীবনে কার্যকরী হবে, এই জন্য এসলামের আকীদা উদ্দেশ্য, হলো সমস্ত বনী আদম হবে একটা জাতি। তাদের জীবনব্যবস্থা হবে একটা আল্লাহর দেওয়া দ্বীনুল হক, তাদের অনুসারীদের অনুসরণীয় ব্যক্তি হবেন একজন ‘অর্থাৎ আখেরী নবী (দ:)। এই উদ্দেশ্যে অর্থাৎ মানব জাতির সামগ্রিক জীবনে অন্যায়, সুবিচার, এককথায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মহানবী তাঁর আসহাবদের নিয়ে সংগ্রাম শুরু কোরলেন তাঁর জীবদ্দশায় সমস্ত জাজিরাতুল আরবে আল্লাহর দেওয়া সত্যদীন কায়েম হোল। তিনি এই দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার পর সংগ্রাম কোরে এই সত্যদীনকে মানবজীবনে প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব এসে পড়লো তাঁর উম্মাহর উপর। উম্মতে মোহাম্মদী তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করার জন্য অর্থাৎ আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করার লক্ষ্যে নিজেদের বাড়িঘর, সহায় সম্পত্তি, স্ত্রী-পুত্র, ক্ষেত-খামার ইতাদি বিসর্জন দিয়ে দুনিয়ার দিকে বেরিয়ে পড়লো। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে অর্ধ পৃথিবীতে এই সত্যদীন প্রতিষ্ঠা কোরল, মোটামুটি ৬০/৭০ বছর পর্যন্ত চোলল এক অখণ্ড জাতি হোয়ে মানবজীবন থেকে সর্বরকম অন্যায়, অবিচার দূর কোরে ন্যায় সুবিচার অর্থাৎ শান্তি প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এর পরই সংগ্রাম ত্যাগ করা হোল। দীন প্রতিষ্ঠার জেহাদ ত্যাগ কোরে অন্যান্য রাজা বাদশাহদের মত শান-শওকতের সঙ্গে রাজত্ব কোরতে আরম্ভ কোরল। এই সংগ্রাম- যেটা করার জন্যই এই উম্মতে মোহাম্মদীকে সৃষ্টি করা হোয়েছিলো এবং যা হোচ্ছে রসুলাল্লাহর (দ:) প্রকৃত সুন্নাহ এবং যা ত্যাগ কোরলে কেউ প্রকৃত উম্মতে মোহাম্মদী থাকেন না সেই জেহাদ ত্যাগ করার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হলো আকীদার বিকৃতি। আর আকীদার বিকৃতি হোলে ঈমানেরও কোন দাম থাকে না। কিন্তু ঐতিহাসিক সত্য হলো এই যে, মহানবীর (দ:) পর ৬০/৭০ বছর পর্যন্ত ঐ সংগ্রাম ‘জেহাদ’ চলেছিলো এবং তারপর তা বন্ধ করা হয় এবং উমাইয়া খলিফারা নামে খলিফা থেকেও আসলে পৃথিবীর আর দশটা রাজা-বাদশাহর মত শান-শওকতের সঙ্গে রাজত্ব করা আরম্ভ করেন। যে আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহ তার সর্বশ্রেষ্ঠ ও শেষ রসুলকে (দ:) পৃথিবীতে প্রেরণ করেন, যে আদর্শকে প্রতিষ্ঠার জন্য সেই রসুল (দ:) এবং আসহাব (রা:) অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করেন, জীবনের সমস্ত কিছু কোরবান কোরে তাদের নেতার পাশে এসে দাঁড়িয়ে জেহাদ করেন, আহত হন, প্রাণ দেন- সেই আদর্শকে ত্যাগ করার অনিবার্য পরিণতি কি হলো তা ইতিহাস। লক্ষ্যবিচ্যূত হওয়ার যে সব ফল হলো তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো ক) ঈমানের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ আকীদা বিকৃত হোয়ে গেলো। (খ) আল্লাহ ও রসুল (দ:) যে কাজ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ কোরে দিয়েছিলেন সেই কাজ, দীনের সংবিধান কোর’আন হাদিসের অতি বিশ্লেষণ অর্থাৎ দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি জোরে-শোরে ধুমধামের সাথে আরম্ভ করা হলো। ফলে লক্ষ্যচ্যূত জাতি বহু মাযহাবে ও ফেরকায় বিভক্ত হোয়ে শুধু শক্তিহীন হোয়েই পড়লো না, নিজেরা নিজেরা বিভিন্ন মাযহাব ও ফেরকার মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নির্জীব হোয়ে গেলো। (গ) এরপর ভারসাম্যহীন সুফীবাদ এই খণ্ড-বিখণ্ড ও নির্জীব জাতির মধ্যে প্রবেশ কোরে এর বহির্মুখী দৃষ্টি ও চরিত্রকে উল্টো কোরে অন্তর্মুখী কোরে দিলো। এরপর এ জাতি, যে জাতি পৃথিবীর সমস্ত অন্যায়কারী- সমস্ত নির্যাতক- সমস্ত অবিচারক ও অত্যাচারী ব্যবস্থার ত্রাসে পরিণত হোয়েছিলো- জ্ঞান-বিজ্ঞানে পৃথিবীর শিক্ষক হোয়ে নতুন নতুন জ্ঞানের দুয়ার পৃথিবীর মানুষের জন্য খুলে দিয়েছিলো- নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে মানব সভ্যতাকে সমৃদ্ধ কোরেছিলো, তা একটি অশিক্ষিত অজ্ঞ, প্রায় পশু পর্যায়ের জনসংখ্যায় পর্যবসিত হোয়ে গেলো এবং পরিণামে ইউরোপের বিভিন্ন খ্রিস্টান জাতিগুলির গোলামে পরিণত হলো।
কয়েকশ’ বছর ঘৃণ্য দাসত্বের পর কিছুদিন থেকে প্রকাশ্যভাবে স্বাধীনতা পেলেও এই জনসংখ্যা প্রকৃতপক্ষে আজও আদর্শগত ও মানসিকভাবে সেই গোলামই আছে অর্থাৎ প্রভুদের তৈরি করা আইন-কানুন, দণ্ডবিধি, অর্থনীতি, শিক্ষানীতি সবই চালু আছে। ফলে গোলামি যুগের চেয়েও এখন বেশিভাবে গোলামি চোলছে।
এখন এই গোলামদের কাজ হোল প্রার্থনা করা
আটলান্টিকের তীর থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত বিশাল এই শক্তিহীন অক্ষম ব্যর্থ জাতির এখন একমাত্র কাজ হোচ্ছে আল্লাহর কাছে দোয়া চাওয়া। এর ধর্মীয় নেতারা, আলেম, মাশায়েখরা এই দোয়া চাওয়াকে বর্তমানে একটি আর্টে, শিল্পে পরিণত কোরে ফেলেছেন। লম্বা সময় ধোরে এরা লম্বা ফর্দ ধোরে আল্লাহর কাছে দোয়া কোরতে থাকেন, যেন এদের দোয়া মোতাবেক কাজ করার জন্য আল্লাহ অপেক্ষা কোরে বোসে আছেন। মাঝে মাঝে বিশেষ (ঝঢ়বপরধষ) দোয়া ও মোনাজাতেরও ডাক দেওয়া হয় এবং তাতে এত লম্বা সময় ধোরে মোনাজাত করা হয় যে হাত তুলে রাখতে রাখতে মানুষের হাত ব্যথা হোয়ে যায়। কিছুদিন আগে লাউড স্পিকারে এক ‘ধর্মীয় নেতার’ বাদ ওয়াজ দোয়া শুনছিলাম। তিনি আল্লাহর কাছে লিষ্ট মোতাবেক দফাওয়ারী (ওঃবস নু রঃবস) বিষয় চাইতে লাগলেন। বেশির ভাগ বিষয়ই তাসাওয়াফের ব্যাপারে, তবে ইসরাইল রাষ্ট্রকে ধ্বংস কোরে বাইতুল মোকাদ্দাসকে মোসলেমদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার একটা দফা ছিলো, এবং দুনিয়ার মোসলেমের ঐক্যও একটা দফা ছিলো। ছত্রিশটা দফা গোনার পর আর গোনার ধৈর্য ছিলো না। তবে ওর পরও যতক্ষণ দোয়া চলেছিলো, তাতে মনে হয় মোট কমপক্ষে শ’খানেক বিষয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া চাওয়া হোয়েছিলো। অর্থাৎ আল্লাহ- ঐ শ’খানেক বিষয় তুমি আমাদের জন্য কোরে দাও। অজ্ঞানতা ও বিকৃত আকীদার কারণে এরা ভুলে গেছেন যে কোন জিনিসের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা না কোরে শুধু তার কাছে চাইলেই তিনি তা দেন না, ওরকম দোয়া তার কাছে পৌঁছে না। আল্লাহ তার শ্রেষ্ঠ নবী (দ:) তার হাবিব কে যে কাজের ভার দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন সে কাজ সম্পন্ন কোরতে তাকে কি অপরিসীম পরিশ্রম কোরতে হোয়েছে, কত অপমান-বিদ্রুপ-নির্যাতন-পীড়ন সহ্য কোরতে হোয়েছে- যুদ্ধ কোরতে হোয়েছে, কত দিন রাত না খেয়ে কাটাতে হোয়েছে, আহত হোতে হোয়েছে। তিনি ওসব না কোরে বোসে বোসে আল্লাহর কাছে দোয়া কোরলেই তো পারতেন আমাদের ধর্মীয় নেতাদের মত। আল্লাহর কাছে বিশ্বনবীর (দ:) দোয়াই বড়, না আমাদের আলেম মাশায়েখদের দোয়াই বড়? দোয়াতেই যদি কাজ হতো তবে আল্লাহর কাছে যার দোয়ার চেয়ে গ্রহণযোগ্য আর কারো দোয়া নেই- সেই রসুল (দ:) ঐ অক্লান্ত প্রচেষ্টা (জেহাদ) না কোরে শুধু দোয়াই কোরে গেলেন না কেন সারাজীবন ধরে? তিনি তা করেন নি, কারণ তিনি জানতেন যে প্রচেষ্টা (আমল জেহাদ) ছাড়া দোয়ার কোন দাম আল্লাহর কাছে নেই।
প্রতিপক্ষ শত্র“র বিরুদ্ধে এরা ঐক্যবদ্ধভাবে জানের বাজি রেখে সম্পদ বিসর্জন দিয়ে সংগ্রাম করে না। করার সাহসও পায় না। এক জায়গায় একত্রিত হোয়ে আসমানের দিকে হাত তুলে শত্র“র জন্য গজব কামনা করে যেন আল্লাহ গজব দিয়ে শত্র“বাহিনীকে ধ্বংস কোরে দেন। কিন্তু প্রশ্ন হোল, আল্লাহ এদের দোয়া মোতাবেক শত্র“দের আজাব আর গজব দিয়ে ধ্বংস কোরে দিয়ে এই দুনিয়া কার হাতে তুলে দিবেন? ধর্মব্যবসায়ী, কুপমণ্ডুক আলেম মোল্লাদের কাছে? আত্মার ঘষামাজা নিয়ে ব্যস্ত খানকার গুহাভ্যন্তরে বসে বসে জিন্দেগি পার কোরছেন তাদের কাছে? সামান্য ছোটখাটো বিষয় নিয়ে তর্ক-বাহাস কোরে মত, পথ, তরিকা সৃষ্টি কোরে যারা ঐক্যহীন, শৃঙ্খলাহীন, আনুগত্যহীন হোয়ে নিজেরা নিজেরা নিত্য কোন্দলে লিপ্ত তাদের কাছে? আল্লাহ অত বে-হিসাবী নন, কাজেই আল্লাহ তাদের দাবি মোতাবেক শত্র“দের উপর গজব ও লানত না দিয়ে বরং যারা কোন ত্যাগস্বীকার না কোরে, জীবন-সম্পদ নিজের কাছে মজুদ রেখে কাপুরুষের মত অতি সন্তর্পণে সংগ্রাম ত্যাগ কোরে, আল্লাহর বিধান প্রত্যাখ্যান কোরে ইহুদি-খ্রিস্টান ‘সভ্যতা’, দাজ্জালের তৈরি ব্যবস্থাগুলিকে গ্রহণ কোরে নিয়েছে তাদের উপরই গজব ও লানত দিবেন এবং গত কয়েক শতাব্দী ধোরে দিয়েও চোলেছেন।
আসল কথা হোচ্ছে এই যে, আল্লাহ সর্ব শক্তিমান এমন কিছু নেই যা তিনি কোরতে পারেন না। কিন্তু তিনি দেখতে চান আমরা কি করি। তার সর্বশ্রেষ্ঠ নবীকে (দ:) তিনি যে কাজে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন সেই কাজ কোরতে সেই নবীকে (দ:) তার সারা জীবন ধোরে কি অপরিসীম কষ্ট, কি অক্লান্ত পরিশ্রম, কি নিষ্ঠুর নির্যাতন সহ্য কোরতে হোয়েছিলো, তা তার পবিত্র জীবনী যিনি একবারও পড়েছেন তিনি জানেন। আল্লাহর রসুল (দ:) তার জীবনে কতখানি কষ্ট সহ্য কোরেছেন, তা তার একটি কথায় কিছুটা আঁচ করা যায়। তার উম্মাহর মধ্যে যারা জীবনে অত্যন্ত কষ্টে পড়বেন, অসহনীয় দুঃখে যাদের জীবন ভারাক্রান্ত হবে তাদের উদ্দেশ্য কোরে তিনি বোলেছেন তারা যেন তাঁর (দ:) জীবনের অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট-বিপদ মনে কোরে নিজেরা মনে সাহস-সান্ত্বনা আনেন। মানব জাতির শ্রেষ্ঠ, আল্লাহর প্রিয় বন্ধুকে যেখানে জীবনভর এত কষ্ট-সংগ্রাম কোরতে হলো, সেখানে আমরা বসে বসে দোয়া কোরেই পার পেয়ে যাবো? আল্লাহ আমাদের লিষ্ট মোতাবেক দোয়ার ফল দিয়ে দেবেন? কখনোই দেবেন না। কারণ এটা আল্লাহর সুন্নাহ নয়। তবে এটাও সত্য যে আল্লাহই তাঁর কাছে দোয়া কোরতে বোলেছেন, সাহায্য চাইতে বোলেছেন- আল্লাহর রসুলও আল্লাহর কাছে দোয়া কোরেছেন। প্রশ্ন হোল:
আল্লাহর রসুল (দ:) কখন দোয়া কোরেছেন?
সেই সর্বশ্রেষ্ঠ নবী (দ:) দোয়া যে করেন নি তা নয়; তিনি কোরেছেন, কিন্তু যথা সময়ে কোরেছেন অর্থাৎ চূড়ান্ত প্রচেষ্টার পর, সর্বরকম কোরবানির পর, জান বাজী রাখার পর যখন আমলের আর কিছু বাকি নেই তখন। বদরের যুদ্ধ শুরু হবার ঠিক আগের মুহূর্তে যখন মুজাহিদ আসহাব তাদের প্রাণ আল্লাহর ও রসূলের জন্য কোরবানি করার জন্য তৈরি হোয়ে সারিবদ্ধ হোয়ে দাঁড়িয়েছেন, এখনই যুদ্ধ আরম্ভ হবে, শুধু সেই সময় আল্লাহর হাবিব আল্লাহর কাছে দোয়া কোরলেন তার প্রভুর সাহায্য চেয়ে।
দ্বিতীয় হেজরী সনের ১৭ই রমযান তিনশতের চেয়ে সামান্য অধিক মোজাহেদ অস্ত্রশস্ত্রে সহস্রাধিক মক্কার নগররাষ্ট্রের কাফের সৈন্যকে মোকাবেলা করেন। মোসলেম সৈনিকদের এক পঞ্চমাংশের কিঞ্চিত অধিক লোক লৌহবর্ম পরিহিত ও উটের উপর সওয়ার ছিলেন। অবশিষ্ট মোজাহেদ ছিলেন পদাতিক এবং বর্মহীন। অনেকের কাছেই তলোয়ারও ছিল না। তাদের হাতে ছিল খেজুরের ডাল দিয়ে তৈরি লাঠি। আপাতদৃষ্টিতে মনে হোচ্ছিল আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার জন্য পাগলপারা কিছু মানুষ জেনে বুঝে জ্বলন্ত আগুনে ঝাঁপ দিচ্ছে, যুদ্ধের ময়দান থেকে তাদের জীবন্ত ফিরে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। এ কঠিন বিপদের সময় রসুলাল্লাহ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় আল্লাহর দরবারে দু’আ কোরলেন : হে আল্লাহ! এ দিকে কোরায়েশরা নিজেদের অহংকারের যাবতীয় আয়োজনসহ উপস্থিত হোয়েছে। তারা তোমার রসুলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য এসেছে। হে আল্লাহ! তুমি তোমার অঙ্গীকার স্মরণ করো। এখন আসুক সেই সাহায্য, যার ওয়াদা তুমি আমার সাথে কোরেছিলে। হে আল্লাহ! আজ যদি এ মুষ্ঠিমেয় লোক ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় তাহোলে দুনিয়ার বুকে তোমার এবাদত করার মত কেউ থাকবে না। এ সময় আবু বকর (রা:) বোললেন, ‘হে আল্লাহর নবী! আপনি কম দোয়া কোরুন। কারণ আল্লাহ আপনাকে যে প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন তা তিনি অবশ্যই পূরণ কোরবেন।’ দোয়া করার সময় রসুলাল্লাহ (দ:) এতটা আকুল-হৃদয় হোয়ে পড়েন যে তিনি তাঁর তাবুর মধ্যে প্রায় চেতনালুপ্ত হোয়ে যান (ওহী আসার সময় এমনটা হোত)। এরপর তিনি জাগ্রত হোয়ে বলেন, ‘হে আবু বকর! সুসংবাদ গ্রহণ করো। আল্লাহর সাহায্য এসে গেছে। এই তো জিব্রাঈল। তিনি ঘোড়ার লাগাম ধোরে আছেন, আর তাঁর ঘোড়ার সামনের দাঁতগুলো ধূলা ময়লাযুক্ত।” (সিরাতুন্নবী (সা:)- ইবনে হিশাম)।
রসুলাল্লাহ যে দোয়া কোরলেন তার পেছনে কি ছিলো? ঐ দোয়ার পেছনে ছিলো আল্লাহর নবীর (দ:) চৌদ্দ বছরের অক্লান্ত সাধনা, সীমাহীন কোরবানি, মাতৃভূমি ত্যাগ কোরে দেশত্যাগী হোয়ে যাওয়া, পবিত্র দেহের রক্তপাত ও আরও বহু কিছু এবং শুধু তার একার নয়। ঐ যে তিনশ’ তের জন ওখানে তাদের প্রাণ উৎসর্গ করার জন্য সালাতের মত সারিবদ্ধ হোয়ে দাঁড়ানো ছিলেন তাদেরও প্রত্যেকের পেছনে ছিলো তাদের আদর্শকে, দীনকে প্রতিষ্ঠার জন্য অক্লান্ত প্রচেষ্টা, বাড়ি-ঘর, স্ত্রী-পুত্র সহায়, সম্বল, ব্যবসা বাণিজ্য এক কথায় পার্থিব সমস্তকিছু নির্দ্বিধায় কোরবানি করা এবং নির্মম নির্যাতন সহ্য করা। প্রচেষ্টার শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে শেষ সম্বল প্রাণটুকু দেবার জন্য তৈরি হোয়ে ঐ দোয়া কোরেছিলেন মহানবী (দ:)। ঐ রকম দোয়া আল্লাহ শোনেন, কবুল করেন, যেমন কোরেছিলেন বদরে। কিন্তু প্রচেষ্টা নেই, বিন্দুমাত্র সংগ্রাম নেই, ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাত তুলে দোয়া আছে অমন দোয়া আল্লাহ কবুল করেন না। বদরের ঐ দোয়ার পর সকলে জেহাদে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, অনেকে জান দিয়েছিলেন, আমাদের ধর্মীয় নেতারা দোয়ার পর পোলাও কোর্মা খেতে যান, আর পকেট ভর্তি কোরে টাকা পয়সাও নিয়ে আসেন। ঐ দোয়া ও এই দোয়া আসমান যমীনের তফাৎ। (চোলবে…)
[সমস্ত পৃথিবীময় অন্যায়, অবিচার, যুদ্ধ ও রক্তপাত ইত্যাদি নির্মূল করে ন্যায়, সুবিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৫ সনে এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী হেযবুত তওহীদ নামক আন্দোলনটি প্রতিষ্ঠা করেন। আল্লাহ তাঁকে প্রকৃত এসলামের যে জ্ঞান দান করেছেন তা তিনি যতটা সম্ভব হোয়েছে বই-পুস্তক লিখে, বক্তব্যের মাধ্যমে প্রচারের চেষ্টা করেছেন। এই নিবন্ধটি লেখকের বিভিন্ন লেখা ও বক্তব্য থেকে সম্পাদিত।

আল্লাহর মো’জেজা: হেযবুত তওহীদ দিয়েই সমস্ত পৃথিবীতে আল্লাহর সত্যদীন প্রতিষ্ঠিত হবে (এনশা’ল্লাহ)

আল্লাহর মো’জেজা: হেযবুত তওহীদ দিয়েই সমস্ত পৃথিবীতে আল্লাহর সত্যদীন প্রতিষ্ঠিত হবে (এনশা’ল্লাহ)

মো’জেজা কী?
মো’জেজা এসলামের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আল্লাহ যুগে যুগে প্রতিটি মানব সম্প্রদায়ে নবী রসুল প্রেরণ কোরেছেন, তাঁরা এসে আল্লাহকে একমাত্র এলাহ (হুকুমদাতা) হিসাবে মেনে নেওয়ার জন্য মানুষকে আহ্বান কোরেছেন। আল্লাহর এই নবী ও রসুলগণ যখন তাঁদের সম্প্রদায়ের নিকট গিয়ে বোলতেন, “আমাকে আল্লাহ নবী কোরে পাঠিয়েছেন”, তখন অধিকাংশ মানুষই তাঁদেরকে বিশ্বাস কোরত না, বোলত, “তুমি যে নবী তার প্রমাণ কি?” মানুষের কাছে নবী হিসাবে তাঁদের বিশ্বাসযোগ্যতা সৃষ্টির জন্য আল্লাহ নবীগণকে কিছু অলৌকিক ঘটনা বা মো’জেজা সংঘটনের ক্ষমতা দান কোরতেন। অলৌকিক এ ঘটনাগুলি আল্লাহই ঘটাতেন, তবে নবীদের মাধ্যমে। অর্থাৎ নবী রসুলগণ যে সত্যিই আল্লাহর তরফ থেকে মনোনীত ও নবুয়্যত প্রাপ্ত ব্যক্তি তা সত্যায়নের জন্য যে অসাধারণ ও অলৌকিক ঘটনা তাঁরা আল্লাহর হুকুমে ঘোটিয়ে দেখাতেন সেগুলোই হোচ্ছে মো’জেজা। পবিত্র কোর’আনে মো’জেজা শব্দটিই নেই, এ প্রসঙ্গে আল্লাহ যে শব্দটি ব্যবহার কোরেছেন তা হোচ্ছে- আয়াহ, অর্থাৎ চিহ্ন (সুরা শুয়ারা-১৫২)। নবীদের দ্বারা সংঘটিত প্রতিটি অলৌকিক ঘটনা হোচ্ছে তাঁদের সত্যতার চিহ্ন। এ চিহ্ন দেখেই মানুষ বুঝতে পারে যে, এ লোকটি নিশ্চয়ই আল্লাহর রসুল, নইলে সে যা কোরছে তা কিভাবে কোরছে? একাজ কোন সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভবই নয়। সুতরাং সে যা বোলছে তা-ও সত্য, হক।
দুইভাবে সত্য বোঝা যায়, উপলব্ধি করা যায়। (ক) যুক্তি, বুদ্ধি, জ্ঞান, দলিল প্রমাণ ইত্যাদির মাধ্যমে, (খ) চাক্ষুস অর্থাৎ নিজের চোখে দেখে। সমাজে কিছু লোক আছে যারা তাদের যুক্তি, বুদ্ধি, জ্ঞান দ্বারা সত্যকে বুঝতে পারে না, তখন মহান আল্লাহ মো’জেজা ঘটান যেন আল্লাহর দেওয়া ঐ বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করার আর কোন কারণ থাকতে না পারে। বিভিন্ন নবীর মো’জেজাগুলি পর্যবেক্ষণ কোরলে আমরা তার মধ্যেও এ বিষয়টি লক্ষ্য কোরতে পারি। তা হোচ্ছে, যে নবীকে আল্লাহ যে সময়ে ও যে সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরণ কোরেছেন, তাঁকে সেই সময়ের লোকদের বুদ্ধিবৃত্তি ও পারিপার্শ্বিকতা অনুযায়ী মো’জেজা দান কোরেছেন। স্থান কাল পাত্রভেদে মো’জেজার ধরণের মধ্যেও বহু পার্থক্য এসেছে। যেমন মুসা (আ:) এর সময় মিশরে খুব যাদুর প্রচলন ছিলো। তাই মুসা (আ:) এর মো’জেজাও ছিলো যাদুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাঁকে মো’জেজার মাধ্যমে যাদুকরদের মোকাবেলা কোরতে হোয়েছিল। আমাদের নবীর সময়ে আরবে কাব্যচর্চা খুবই সমৃদ্ধি অর্জন কোরেছিল, তাই মহান আল্লাহ পবিত্র কোর’আনকে কোরেছেন ছন্দবদ্ধ ও কাব্যময়। যখন মানুষের যুক্তিবোধ ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা কম ছিলো, তখন আল্লাহ যে মো’জেজাগুলি নবীগণকে প্রদান কোরেছেন সেগুলো ছিলো একেবারে প্রত্যক্ষ অর্থাৎ যুক্তি, বুদ্ধিবৃত্তিক বিশ্লেষণের কোন প্রয়োজন হোত না, চোখে দেখাই যথেষ্ট হোত এবং স্থুল বুদ্ধি দিয়েই বুঝতে পারা যেতো। যেমন: সালেহ (আ:) এর নির্দেশে পাথর ভেদ কোরে উটের আবির্ভাব হওয়া, পাথর থেকে ঝর্ণা সৃষ্টি হওয়া, ঈসার (আ:) মৃতকে জীবিত করা, মাটির পাখিতে প্রাণ প্রবিষ্ট করা ইত্যাদি। যখন মানুষের যুক্তিবোধ ও চিন্তার ক্ষমতা বৃদ্ধি পেল সে সময়ের নবীদের মো’জেজাগুলিও হোয়ে গেলো খানিকটা চিন্তা এবং যুক্তিভিত্তিক। যেমন আমাদের রসুলের শ্রেষ্ঠ মো’জেজা হোচ্ছে আল কোর’আন। কোর’আন যে মানুষের রচনা নয় তা যুক্তি-বুদ্ধি প্রয়োগ কোরেই বুঝতে হয়। হাজারটা প্রমাণ দেওয়া যাবে যা দিয়ে বোঝা যায় যে কোর’আন কোন মানুষের তৈরি হোতে পারে না, তবে সবগুলো প্রমাণই বুদ্ধিবৃত্তিক।
একবিংশ শতাব্দীতে মো’জেজার প্রাসঙ্গিকতা
আল্লাহর রসুল বিদায় নেওয়ার পর থেকে এই দীর্ঘ সময়ে এসলাম বিকৃত হোতে হোতে এখন প্রকৃত এসলামের আর বিকৃত কঙ্কালটি ছাড়া কিছু অবশিষ্ট নেই। এমন সময় আল্লাহর রহমে এ যামানার এমাম জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী আবার সেই হারিয়ে যাওয়া প্রকৃত এসলাম বুঝতে পেরেছেন। তিনি বোলছেন, বর্তমানে সারা দুনিয়ায় এসলাম হিসাবে যে ধর্মটি চালু আছে সেটি আল্লাহর দেওয়া প্রকৃত এসলাম নয়, বরং প্রকৃত এসলামের সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রকৃত এসলামটা কি তাও তিনি মানবজাতির সামনে পেশ কোরেছেন। এখন প্রশ্ন হোল, তাঁর এই কথা সত্য না অসত্য তা আমরা কি কোরে বুঝবো? বর্তমানে চালু থাকা হাজার হাজার এসলামী মতবাদের ভিড়ে তাঁরটাই যে সত্য সে ব্যাপারে কি কোরে নিঃসন্দেহ হবো? এর একমাত্র পথ – আল্লাহ যদি পূর্বের মতো কোন মো’জেজা ঘোটিয়ে জানিয়ে দেন সেক্ষেত্রেই আমরা তা বুঝতে পারবো। কিন্তু আমাদের এমাম নবী রসুল নন যে আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে মো’জেজা ঘটাবেন, তাই এখন কোন বিষয়কে সত্যায়ন করার প্রয়োজন হোলে স্বয়ং আল্লাহর নিজেকেই মো’জেজা প্রদর্শন করা ছাড়া আর কোন পথ নেই।
তাই গত ২ ফেব্র“য়ারি, ২০০৮ তারিখে হেযবুত তওহীদ ও তাঁর এমামকে সত্যায়ন করার জন্য আল্লাহই মো’জেজা সংঘটিত কোরলেন। গত ১৪০০ বছরে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির অভাবনীয় অগ্রগতি হোয়েছে। তাই এ মো’জেজার ঘটনাটিও সেই অগ্রসর বুদ্ধিবৃত্তির উপযোগী কোরেই আল্লাহ সংঘটন কোরেছেন। এই মো’জেজার মাধ্যমে মহান আল্লাহ তা’আলা মানবজাতিকে জানিয়ে দিলেন যে: হেযবুত তওহীদ হক, সত্য; হেযবুত তওহীদের এমাম হক, অর্থাৎ আল্লাহর মনোনীত, এবং এই হেযবুত তওহীদ দিয়েই সমস্ত পৃথিবীতে তাঁর সত্যদীন প্রতিষ্ঠা কোরবেন।
বিশ্ববাসীর জন্য আল্লাহর সেদিনের মো’জেজা
২৪ মহররম ১৪২৯ হেজরী মোতাবেক ২ ফেব্র“য়ারি ২০০৮ ঈসায়ী। এই দিন একটি সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হোয়েছিল ছাদের ওপর প্যান্ডেল টানিয়ে; ওপরে এবং চারিদিকে কাপড় দিয়ে ঘেরা। অনুষ্ঠানে ২৭৫ জন মোজাহেদ-মোজাহেদা ও ৪৩টির মতো বাচ্চা ও শিশু, যাদের মধ্যে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সের অন্ততঃ ৩ টি কোলের শিশু থেকে ১০-১২ বছর বয়স পর্যন্ত ছেলে মেয়ে উপস্থিত ছিলো। ছাদের ওপর এতগুলি মানুষের স্থান সংকুলানের সমস্যা হোচ্ছিল। এমামুয্যামানের বক্তব্য প্রদানের পূর্ব মুহূর্তে ছাদের পরিবেশ ছিলো খুবই হট্টগোলপূর্ণ। ৪৩টি বাচ্চার চিৎকার, চেঁচামেচি তো আছেই নিকটেই কোন মসজিদ বা ওয়াজ মাহফিল থেকে লাউড স্পিকারের আওয়াজ আসছিলো। বাড়িটি বিশ্বরোড সংলগ্ন হওয়ায় গাড়ির হর্নের ক্রমাগত আওয়াজ তো ছিলোই। কাছেই কোথাও একটি বিয়ে অনুষ্ঠানে লাউড স্পিকারে বাজানো গান-বাজনার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। বাইরে ছিলো প্রচণ্ড শৈত্য প্রবাহ। প্রচণ্ড বাতাসে প্যান্ডেলের কাপড় পত পত কোরে শব্দ কোরছিল। সেদিন ছিলো ঐ বছরের অন্যতম শীতল দিন। সবার শীতে খুব কষ্ট হোচ্ছিল। এরই মধ্যে এমামুয্যামান সবার উদ্দেশ্যে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ১০ মিনিটের একটি ভাষণ দিলেন, সেই ভাষণ লাউড স্পিকারে শোনানো হোল। যখন এমামুয্যামান তাঁর ভাষণ আরম্ভ কোরলেন তখন পরিবেশ পুরো অন্যরকম হোয়ে গেল। পরে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে যে যামানার এমামের ঐ ভাষণের সময় আল্লাহ ন্যূনতম আটটি মো’জেজা ঘটান। এ মো’জেজাগুলির উদ্দেশ্য ছিলো প্রধানত উপস্থিত সকলে যেন এমামুয্যামানের বক্তব্যটি সুস্পষ্টভাবে শুনতে পায়, কারণ ঐ ভাষণেই রোয়েছে হেযবুত তওহীদের বিজয় ঘোষণা। অতি সংক্ষেপে মো’জেজাগুলি হোল:
১) এমামুয্যামানের ভাষণ আরম্ভ হওয়ার মুহূর্ত থেকে চারিদিকে একটি অদ্ভুত পিনপতন নীরবতা, নিস্তব্ধতা নেমে এলো। মনে হোচ্ছিল পৃথিবীর সমস্ত শব্দ থেমে গেছে। কোথাও সামান্যতম শব্দ নেই, শুধু এমামুয্যামানের বলিষ্ঠ, সুন্দর কন্ঠ শোনা যাচ্ছে এবং প্রতিটি শব্দ এত পরিষ্কারভাবে শোনা যাচ্ছে যে, পরে অনেকে বোলেছেন তাঁর সামনে বোসে তাঁর কথা কোনও দিন এত পরিষ্কারভাবে শোনা যায় নি। তাঁর ভাষণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গোলমাল শুরু হোল।
২) সেখানে ৪৩টি বিভিন্ন বয়সের শিশু ছিলো, যারা একটু আগেও তুমুল হৈ চৈ হট্টগোল কোরছিল। এমামের ভাষণ শুরু হোতেই তারা কি আল্লাহর ইচ্ছায় সবাই চুপ হোয়ে গেলো এবং ১০ মিনিট ধোরে চুপ রোইল। অথচ ৩/৪ টা বাচ্চাকে ২ মিনিট চুপ কোরিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। এই অসম্ভব ঘটনাই সেদিন ঘোটল।
৩) ঠান্ডা হাওয়া বন্ধ হোয়ে যাওয়া। ঠাণ্ডা বাতাসের মধ্যে মিটিং করাই দুঃসাধ্য হোয়ে উঠেছিল। কিন্তু এমামের ভাষণের ঐ ১০ মিনিট শৈত্যপ্রবাহ পর্যন্ত বন্ধ হোয়ে গিয়েছিল। বাতাসের ধাক্কায় প্যান্ডেলের কাপড়ে যে আওয়াজ হোচ্ছিল তখন তাও বন্ধ হোয়ে গিয়েছিল। তখন যে পরিবেশটি তৈরি হোয়েছিল তা ছিলো সকলের জন্য আরামদায়ক।
৪) এমামের ভাষণ আরম্ভের একটু আগে পর্যন্তও অনুষ্ঠানের লাউড স্পিকার তিনটি শব্দ ছিলো অস্পষ্ট, খুব খেয়াল কোরে বুঝতে হোচ্ছিল। তিনটি স্পিকার তিন ধরণের হওয়ায় টিউন করা খুব কঠিন ছিলো, পুরো সাউন্ড সিস্টেমটাই ছিলো প্রায় অকেজো, পুরানো। কিন্তু এমাম কথা বলার সামান্য আগেই হঠাৎ লাউড স্পিকারের শব্দ একদম পরিষ্কার হোয়ে যায়। অনেকে বলেন, ‘আমরা লাউডস্পিকারের যে আওয়াজ শুনেছি তেমন আগে কখনো শুনি নাই, পরেও শুনি নাই।’
৫) অনুষ্ঠানস্থলে মোট ৫২টি মোবাইল ফোন চালু ছিলো। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সারাদেশের আমীরগণ, যাদের প্রত্যেকের ফোনে প্রচুর কল আসে। কিন্তু এমামের ভাষণের সময় একটিতেও কোন রিং বাজে নাই, কোন কল আসে নাই।
৬) সময় সংকোচন। এমাম ১০ মিনিট ৯ সেকেন্ড কথা বোলেছেন, অথচ সকলের কাছে মনে হোয়েছে মাত্র দু-এক মিনিট, সর্বোচ্চ তিন মিনিট।
৭) সবার অখণ্ড মনোযোগ। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মো’জেজা হোচ্ছে সকলের মনকে আল্লাহ পৃথিবীর সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন কোরে এমামুয্যামানের ভাষণের প্রতি নিবিষ্ট কোরে দিয়েছিলেন। কেউ বোলেছেন, মনে হোল যেন গভীর পানির মধ্যে বোসে এমামের কথা শুনছি, কেউ বোলেছেন, তখন মনে হোয়েছে পৃথিবীতে কেবল আমি আর এমাম আছি। আগের সবগুলি মো’জেজার একমাত্র উদ্দেশ্যই ছিলো মোজাহেদেরকে এমামের ভাষণটা শোনানো। এ সময় কারো মনোযোগে যেন সামান্য বিচ্যুতি না ঘটে সেজন্য আল্লাহ পুরো পরিবেশটা এমন কোরে দিয়েছিলেন।
৮) ঘটনার চারমাস পরে আমরা উদ্ঘাটন কোরি যে, এই ভাষণে এমামুয্যামানের কথাগুলির মধ্যে আল্লাহ তিন (৩) সংখ্যার একটি অভূতপূর্ব সমন্বয় সাধন কোরেছেন। ভাষণের অন্তত ৩০টির অধিক বিষয় তিনবার কোরে এসেছে বা ৩ দ্বারা বিভাজ্য। যেমন: এমামুয্যামান শুরুতে দোয়া করেন তিনটি, শেষে দোয়া করেন তিনটি, দোয়া চান তিনটি বিষয়ের জন্য, ভবিষ্যদ্বাণী করেন তিনটি, ভাষণে জান্নাত শব্দটি আছে তিনবার, জাহান্নাম তিনবার, মোট উপস্থিতি ৩১৮ জন ইত্যাদি। ঠিক যেমনভাবে তিনি কোর’আনকে ১৯ সংখ্যা দিয়ে বেঁধেছেন। কোন মানুষের পক্ষে সারাজীবনের সাধনাতেও এটা করা সম্ভব নয়।
এই আটটি মো’জেজার মধ্যে সাতটি মো’জেজা আল্লাহ এমনভাবে ঘটালেন যেগুলি কেবলমাত্র ঐ সময়ে ঐ স্থানে যারা উপস্থিত ছিলেন তারাই দেখতে পেলেন, অন্যরা সেটা দেখতে পায় নি। তাহোলে প্রশ্ন আসে, বাকি যারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না, বা যারা পরবর্তীতে আসবেন তারা কী কোরে ঐ মো’জেজার ব্যাপারে নিশ্চিত হবেন? তাই তাদের এবং তাদের পরবর্তী সকল মানুষের জন্য আল্লাহ সেখানে একটি মো’জেজা ঘটালেন এমনভাবে যেটি ঐ স্থান-কাল-পাত্রের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়, অন্যরাও এটা দেখতে পাবে। এটি আল্লাহ ঘটালেন কোর’আনের সংখ্যা সংক্রান্ত মো’জেজাটির সাথে মিল রেখে। সমস্ত কোর’আনকে আল্লাহ যেভাবে উনিশ সংখ্যার জালে আষ্ঠেপৃষ্ঠে বেঁধেছেন, ঠিক একইভাবে সেদিন এমামের সংক্ষিপ্ত ভাষণটিকে আল্লাহ বাঁধলেন তিন সংখ্যার জাল দিয়ে। উদ্দেশ্যও এক অর্থাৎ সত্যায়ন। এর দ্বারা আল্লাহ এটাই প্রকাশ কোরছেন যে, ‘ঐ ভাষণে যে কথাগুলো বলা হোয়েছে এগুলো যে মানুষটি বোলছেন তাঁর স্বরচিত নয়, এগুলো আমারই (আল্লাহর) কথা এবং তিনি আমারই মনোনীত ব্যক্তি।’
[সমস্ত পৃথিবীময় অন্যায়, অবিচার, যুদ্ধ ও রক্তপাত ইত্যাদি নির্মূল করে ন্যায়, সুবিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৫ সনে এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী হেযবুত তওহীদ নামক আন্দোলনটি প্রতিষ্ঠা করেন। আল্লাহ তাঁকে প্রকৃত এসলামের যে জ্ঞান দান করেছেন তা তিনি যতটা সম্ভব হোয়েছে বই-পুস্তক লিখে, বক্তব্যের মাধ্যমে প্রচারের চেষ্টা করেছেন। এই নিবন্ধটি লেখকের বিভিন্ন লেখা ও বক্তব্য থেকে সম্পাদিত। মো’জেজা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পড়–ন “আল্লাহর মোজেজা: হেযবুত তওহীদের বিজয় ঘোষণা” নামের বইটি।

কি হারালাম আর কি পেলাম?

কি হারালাম আর কি পেলাম?

এস.এম.সামসুল হুদা:
যে সময়ের কথা বোলছি তখন প্রকৃত এসলাম ছিলো না। প্রকৃত এসলাম হারিয়ে গেছে রসুলাল্লাহর দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণের ৬০/৭০ বছর পরেই যখন উম্মতে মোহাম্মদী আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ত্যাগ কোরেছে। আমরা বোলছি ১৪শ’ শতকের কথা। মোসলেম জাতির পায়ের নিচে তখন অর্ধেক দুনিয়া। অঢেল সম্পদের উত্তরাধিকার হোয়ে এই জাতিটির শাসকেরা অন্যান্য রাজা বাদশাহদের মতোই ভোগবিলাসে মত্ত। তবে তারা মোসলেম ছিলেন এ কথা অনস্বীকার্য। কারণ অর্ধ-পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব তখনও আল্লাহর, সেখানে আইন-কানুন, অর্থনীতি, দণ্ডবিধি অর্থাৎ জীবনব্যবস্থা তখনও আল্লাহর। এই দীনের প্রভাবে সেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত ছিলো অকল্পনীয় শান্তি। সমাজ থেকে অন্যায় অশান্তি, অপরাধ প্রায় নির্মূল হোয়ে গিয়েছিল। মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা ছিলো চূড়ান্ত, মাসের পর মাস আদালতে অপরাধ সংক্রান্ত কোন মামলা আসতো না। মানুষ যাকাত ও সদকার অর্থ নিয়ে পথে পথে ঘুরতো কিন্তু গ্রহণ করার মতো কোন দরিদ্র মানুষ খুঁজে পেত না। একজন যুবতী নারী অলঙ্কার পরিহিত অবস্থায় সম্পূর্ণ একা শত শত মাইলের পথ পাড়ি দিতে পারতো, তার মনে কোনরূপ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও জাগ্রত হোত না। এমন একটি সময়ে পরিব্রাজক ইবনে বতুতা মোসলেম সভ্যতার প্রতিটি শহর পরিভ্রমণ করেন। তার লেখা থেকে সে সময়ের একটি সুস্পষ্ট চিত্র পরিস্ফুট হোয়ে ওঠে।
খোলাফায়ে রাশেদীনের প্রায় ৬০০ বছর পরে ১৩৩০ সনের কাছাকাছি সময়। মোসলেমরা ব্যবসা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে, হজ্বের উদ্দেশ্যে আরও বিভিন্ন কারণে দূর দূরান্তরে ভ্রমণ কোরতেন। তাদের যাত্রাবিরতি ও বিশ্রামের জন্য পথের বিভিন্ন স্থানে অতিথিশালা (ঈড়হাবহঃ) তৈরা করা হোত। যাদের নিজস্ব পরিবার পরিজন নেই, তারাও এসব অতিথিশালাতে অবস্থান কোরতেন। মক্কার অতিথিশালাগুলির মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ছিলো রাবি কনভেন্ট। এখানে একটা পানির কূপ ছিলো, যার পানি এত মিষ্টি যে সারা মক্কায় তার কোনো তুলনা পাওয়া যেত না। যাঁরা এখানে থাকতো তাঁরা সবাই ছিলেন আল্লাহর জন্য সর্বত্যাগী মানুষ। হেজাজের মানুষ অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখতো রাবিকে। আমীরের নির্দেশে তায়েফের লোকেরা এটার অধিবাসীদের জন্য ফলমূল সরবরাহ কোরত। যার যে বাগান আছে- সে পাম গাছের হোক বা ডুমুর, আঙুর বা পিচেরই হোক, উৎপাদিত ফলের একটা অংশ তাকে এই অতিথিশালার অধিবাসীদের জন্য পাঠাতে হোত, নিজের উটে করে। তায়েফ থেকে মক্কা দু’ দিনের পথ। কেউ যদি গাফেলতি বা কৃপণতাবশত সময়মত ফল না পাঠাতো তাহোলে তার বাগানের ফলন কমে যেতো। এবং পরের বছর গাছ মরে বাগান উজাড় হোয়ে যেতো। একদিন মক্কার আমীরের কয়েকজন প্রতিনিধি কনভেন্ট পরিদর্শনে এলেন সরকারি ঘোড়ায় করে। ঘোড়াগুলোকে সেই কূপের পানি খাওয়ানো হয়। তার একটু পর পেটে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হওয়ায় সমস্ত ঘোড়া মাটিতে গড়াগড়ি খেতে শুরু কোরল। খবর শুনে সঙ্গে সঙ্গে আমীর নিজে কনভেন্টে ছুটে আসলেন এবং সেখানকার অধিবাসীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তাদের একজনকে নিয়ে ঘোড়াশালে এলেন। কনভেন্টের ঐ অধিবাসী এসে ঘোড়াগুলির পেটে হাত বুলিয়ে দিতে বমি কোরল পশুগুলো, পেটের পানি বের হোয়ে যেতেই আস্তে আস্তে তারা সুস্থ হোয়ে উঠল।
এই ঘটনার কারণ বর্তমানের এই বস্তুবাদী সভ্যতার যুগে বোঝা খুবই কঠিন, উপলব্ধি করা তো প্রায় অসম্ভবের পর্যায়ে পড়ে। বস্তুতঃ আল্লাহর সত্যদীন যে স্থানে প্রতিষ্ঠিত থাকে সে স্থানের প্রতিটি বিষয়ের সঙ্গে আল্লাহর প্রত্যক্ষ যোগাযোগ থাকে। আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী যে শাসক শাসন করেন, সেই শাসককে আল্লাহই পরিচালিত করেন। এই ঘটনার মধ্যে তেমন একটি উদাহরণই পাওয়া যায়। কনভেন্টের অধিবাসীদের জন্য যাদের নিয়মিত ফলমূল পাঠানোর দায়িত্ব তারা যদি না পাঠাতো তাদের বাগানই উজাড় হোয়ে যেত। এটা আল্লাহ কোরতেন, শাসককে কোরতে হোত না। একে বলা হয় আল্লাহর অদৃশ্য প্রশাসন বা Inner Administration. কনভেন্টের কূপে পানি নির্দিষ্ট ছিলো সেখানকার অধিবাসীদের ব্যবহারের জন্য, সরকারি লোকদের ঘোড়ার জন্য নয়। তাই যখন ঘোড়াদেরকে সেই পানি খাওয়ানো হোল সেটা ছিলো একটি অন্যায় কাজ। তাই ঐ পানি পান করার পরে ঘোড়াগুলি অসুস্থ হোয়ে পড়ে। এ সংবাদ শোনার সঙ্গে সঙ্গে মক্কার আমীরও বুঝতে পারেন যে তার প্রতিনিধিরা কি ভুল কোরেছে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসেন এবং কনভেন্টের অধিবাসীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তারা যখন ঘোড়াগুলির পেটে হাত বুলিয়ে দেন সেগুলির পেট থেকে ঐ পানি বের হোয়ে যায় এবং তারা সুস্থ হোয়ে যায়। মূলতঃ এটা ছিলো আমীরের প্রতিনিধিদের জন্য একটি বড় শিক্ষণীয় বিষয়। সেটা হোচ্ছে: কার কি অধিকার বা হক তা আল্লাহ কর্তৃক নির্দিষ্ট করার পর কেউ যদি সেই হক নষ্ট করে তার ফল তাকে অবশ্যই পোহাতে হবে, অন্যরাও এজন্য ক্ষতির শিকার হবে। যেমন তারা কনভেন্ট অধিবাসীদের অধিকারভুক্ত পানির অপব্যবহারের কারণে কিছু নিরপরাধ প্রাণী কষ্ট পেল।- এ শান্তিময় সুন্দর সমাজ আমরা হারিয়েছি।
আর বিনিময়ে যা পেয়েছি তা হোল:- আল্লাহর সত্যদীনকে প্রত্যাখ্যান কোরে আজকে আমরা দাজ্জালের তৈরি মতবাদ গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র ইত্যাদি গ্রহণ কোরে নিয়েছি। প্রশ্ন হোল আমরা কিসের বিনিময়ে কি পেয়েছি? এইসব তন্ত্রমন্ত্রের গালভরা বুলি আছে কিন্তু তা অনাহারী মানুষের পেটের ক্ষুধা মেটাতে পারছে না। প্রতিদিন প্রায় এক বিলিয়ন মানুষ না খেয়ে আছে। এই তন্ত্রমন্ত্রের প্রদত্ত মানবাধিকার সনদ অতি মানবিক, কিন্তু বাস্তবে দেখি পৃথিবীর কোটি কোটি মোসলেম নামধারী মানুষ গৃহহারা, তাদের জীবনের কোন মূল্য নেই, তাদের মেয়েদের ইজ্জতের কোন মূল্য নেই। এই সব তন্ত্রমন্ত্র মানুষকে স্বাধীনতার নামে দেয় দাসত্বের বেড়ি, অধিকারের নামে দেয় অপমান আর লাঞ্ছনা। অন্যায় আর অশান্তির দাবানলে প্রতি মুহূর্তে অঙ্গার হোচ্ছে মানুষ। জীবন ও সম্পদের ন্যূনতম নিরাপত্তাও মানুষের অবশিষ্ট নেই।
এই যে বিপর্যয় সৃষ্টি হোয়েছে তা আমাদেরই কর্মফল। যখনই মানুষ অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ কোরেছে তখনই জন্ম নিয়েছে অশান্তির। সেই অশান্তি আজ পুরো মানবজাতিকে গ্রাস কোরে নিয়েছে। ইহুদি খ্রিস্টান সভ্যতার প্রভাবে সকল মানুষই আজ অন্যায়ের শিকার, সকলেই তার অধিকার বঞ্চিত, সকলেই ক্ষুব্ধ। এমতাবস্থায় এর থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হোল, সেই হারানো সত্যদীনকে, স্রষ্টা প্রদত্ত জীবনব্যবস্থাকে আবার ফিরিয়ে আনা। প্রকৃত এসলাম ১৩০০ বছর আগেই হারিয়ে গেছে। কিন্তু তার প্রভাব যে কয় শতাব্দী পৃথিবীর বুকে ছিলো তার একটি নিদর্শন একটু আগেই উপস্থাপন কোরলাম। মহাকালের অথৈ সাগরে যেই ধনভাণ্ডারের চাবি আজ থেকে ১৩০০ বছর আগে হারিয়ে গিয়েছিল, সেই চাবির কথা দূরে থাক ধনভাণ্ডারের অস্তিত্বই আজ মানুষ ভুলে গেছে। ফলে সেই ধনভাণ্ডার উদ্ধারের কোন আশাই আর ছিলো না। এমন সময় মহান আল্লাহ আবার মানবজাতিকে দয়া কোরলেন। তিনি তাঁর সেই হারিয়ে যাওয়া ধনভাণ্ডারের চাবি, তওহীদ মানবজাতির হাতে ফিরিয়ে দিলেন। যাঁর মাধ্যমে তিনি এই বিরাট সুযোগ মানবজাতিকে দান কোরলেন তিনি এই যামানার এমাম জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী। সেই ধনভাণ্ডার হোচ্ছে আল্লাহর সত্যদীন। তিনি হেযবুত তওহীদের কাছে সেই ধনভাণ্ডার রেখে গেছেন। এখন হেযবুত তওহীদ মানবজাতিকে সর্বান্তকরণে আহ্বান কোরছে এই ধনভাণ্ডার গ্রহণ কোরে তাদের জীবনকে সমৃদ্ধ ও শান্তিময় করার জন্য।

মানুষ দাজ্জালের এবাদত কোরছে

মানুষ দাজ্জালের এবাদত কোরছে

মাননীয় এমামুযযামানের লেখা থেকে সম্পাদিত:
পবিত্র কোর’আনে আল্লাহর ঘোষণা, আমি জ্বীন এবং এন্সানকে শুধুমাত্র আমার এবাদত করার জন্য সৃষ্টি কোরেছি (সুরা যারিয়াত ৫৬)। এই এবাদত বোলতে প্রায় সবাই সালাহ, সওম প্রভৃতি মনে করে। এই ধারণা সঠিক নয়। সালাহ, সওম ইত্যাদি হোচ্ছে প্রকৃত এবাদতের আনুষাঙ্গিক কাজ। আল্লাহ কোর’আনে এরশাদ কোরেছেন, আমি আল্লাহ, আমি ব্যতীত অন্য কোন এলাহ নেই। অতএব আমার এবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে সালাহ কায়েম কর (সুরা ত্বাহা, আয়াত-১৪)। পবিত্র কোর’আনের এই আয়াতে আল্লাহ প্রথমে তাঁর সার্বভৌমত্বের মালিক, নিজেকে মানবজাতির একমাত্র হুকুমদাতা হিসাবে ঘোষণা দিলেন। এলাহ বোলতে বর্তমানে মনে করা হয় উপাস্য। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা নয়। এলাহ হোচ্ছেন সেই সত্তা যার হুকুম শুনতে হবে এবং পালন কোরতে হবে। এক কথায় জীবনের যে কোন অঙ্গনে যেখানে আল্লাহর কোন বক্তব্য আছে সেটা ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজৈেনতিক, আইন-কানুন, দণ্ডবিধি যে বিভাগেই হোক না কেন সেখানে আর কারও কোন বক্তব্য গ্রহণ করা যাবে না অর্থাৎ তওহীদ; আল্লাহর সার্বভৌমত্ব। এরপর এই আয়াতে আল্লাহ তাঁর এবাদত করার কথা বোললেন এবং পরিশেষে তাঁর স্মরণার্থে সালাহ কায়েমের কথা বোললেন। আলোচ্য আয়াতে এটা পরিষ্কার হোয়ে যাচ্ছে যে এবাদত ও সালাহ অর্থাৎ উপাসনা এক জিনিস নয়। 
তাহোলে এবাদত কি? এবাদত হোচ্ছে যে জিনিসকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হোয়েছে সেই কাজ করাই হোচ্ছে ঐ জিনিসের এবাদত। প্রশ্ন হোল- আল্লাহ আমাদের কি কাজের জন্য সৃষ্টি কোরেছেন? এর উত্তর আমরা পবিত্র কোর’আন থেকেই পাচ্ছি। কোর’আনের সুরা বাকারার ৩০ নম্বর আয়াতে আল্লাহর ঘোষণা, আমি মানুষকে আমার খলিফা অর্থাৎ প্রতিনিধি হিসেবে সৃষ্টি কোরেছি। খলিফা অর্থাৎ প্রতিনিধির কাজ হোচ্ছে একজনের কাজ তিনি না কোরে তার হোয়ে আরেকজন করা। তাহোলে কোর’আনে আল্লাহ বোললেন তিনি আমাদেরকে খলিফা অর্থাৎ প্রতিনিধি হিসেবে সৃষ্টি কোরেছেন। অর্থাৎ পৃথিবীতে আল্লাহ নিজে যে কাজটি কোরতেন সেই কাজটি তিনি না কোরে তা আমাদের দিয়ে কোরাবেন। এখন প্রশ্ন হোচ্ছে, আল্লাহর কি কাজ? তিনি কি নামাজ, রোজা করেন? নিশ্চয় না। তাঁর কাজ হোল: তাঁর সৃষ্টজগতকে শাসন করা। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি এ কাজটি নিজে না কোরে মানুষকে দিয়ে করাবেন। তাই তিনি কোর’আনে ঘোষণা কোরেছেন আমি মানুষকে আমার খলিফা হিসাবে সৃষ্টি কোরেছি। তাহোলে এবাদতের সংজ্ঞা অনুযায়ী আল্লাহ্র খেলাফত করাই হোচ্ছে মানুষের এবাদত। অর্থাৎ আল্লাহর দেওয়া বিধান দিয়ে পৃথিবী শাসন করাই হোচ্ছে খেলাফতের কাজ, কিন্তু মানুষ আজ এই খেলাফতের কাজ কোরছে না অর্থাৎ আল্লাহ্র এবাদত কোরছে না। অথচ আল্লাহ্ আমাদেরকে মূলত: তাঁর এবাদত করার জন্যই সৃষ্টি কোরেছেন। এই মোসলেম নামক জাতিটি আল্লাহর প্রকৃত এবাদত কি তা না জেনে, না বুঝে নামাজ রোজা কোরে ভাবছে খুব এবাদত কোরছি।
প্রকৃতপক্ষে তারা কার এবাদত কোরছে, কার প্রতিনিধিত্ব বা খেলাফত কোরছে? সত্য হোচ্ছে এই যে, মোসলেম নামধারী জনসংখ্যাটিসহ গোটা মানবজাতি এখন দাজ্জালের তৈরি আইন-কানুন, দণ্ডবিধি, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অর্থাৎ সামগ্রিক জীবন দাজ্জালের, তথা ইহুদি-খ্রিস্টান সভ্যতার বিধান, মতবাদ অনুযায়ী পরিচালিত কোরছে। সুতরাং মানুষ এখন দাজ্জালেরই এবাদত কোরে চোলেছে।

ওয়াজ নসিহতে অপরাধ বন্ধ হবে না, এর জন্য প্রয়োজন জাতীয়ভাবে আল্লাহর হুকুমের বাস্তবায়ন

ওয়াজ নসিহতে অপরাধ বন্ধ হবে না, এর জন্য প্রয়োজন জাতীয়ভাবে আল্লাহর হুকুমের বাস্তবায়ন

যামানার এমাম জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী’র লেখা থেকে:

আজকের পৃথিবীতে শত শত নয়, হাজারে হাজারে প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলো নানাভাবে মানুষকে অন্যায় থেকে, পাপ থেকে বিরত রাখতে, পুণ্য কাজ বা সওয়াবের কাজে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ব্যস্ত আছে। এই রকমের প্রতিষ্ঠান এসলাম, খ্রীস্ট, হিন্দু, বৌদ্ধ ইত্যাদি পৃথিবীর সব ধর্মেরই আছে। এরা সাধ্যমতো চেষ্টাও কোরে চলেছে মানুষকে অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে ন্যায় ও পূণ্যে ফিরিয়ে আনতে। পারছে কি? না, দশ বিশ বছর আগের পৃথিবীর অন্যায় অপরাধের অবস্থার সঙ্গে একটা পরিসংখ্যান তুলনা কোরলেই পরিষ্কার হোয়ে যাবে যে ঐসব মহৎ প্রচেষ্টা মানব জাতিকে সমষ্টিগতভাবে উন্নত কোরতে পারে নি, তাদের অন্যায়, অপরাধের সংখ্যা কমাতে পারে নি বরং তা বহু বেড়ে গেছে। দশ বিশ বছর আগের তুলনায় শুধু যে পৃথিবীময় অন্যায়, অপরাধ (চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, ধর্ষণ, ছিনতাই, খুন জখম ইত্যাদি) দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে তাই নয়, ঐসব মহতি প্রতিষ্ঠানগুলির অবিশ্রান্ত প্রচার সত্ত্বেও মানব জাতি আজ পারমাণবিক আত্মহত্যার মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে, আর মাত্র একটি পদক্ষেপ বাকি। কেন ঐসব মহতি প্রতিষ্ঠানগুলির চেষ্টার কোন ফল হোচ্ছে না? যদিও ঐ কাজ কোরতে বহু কোটি টাকা প্রতি বছর খরচ হোচ্ছে? তার কারণ শুধু শিক্ষা দিয়ে, উপদেশ দিয়ে মানুষকে শৃঙ্খলায় আনা যাবে না, যদি শিক্ষা উপদেশের পর তা ভঙ্গ কোরে অপরাধ কোরলে কঠিন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না থাকে বা না দেয়া যায়। বর্তমান মোসলেম দুনিয়াতেও অনেক প্রতিষ্ঠান, আনজুমান, জামাত ইত্যাদি আছে যেগুলো মোসলেমদের আরও ভালো ‘মোসলেম’ বানাবার জন্য প্রচার সভা-সমিতি এজতেমা ওয়াজ মাহফিল ইত্যাদি কোরে কোটি কোটি টাকা খরচ করেন, বহু পরিশ্রম করেন। এরা পণ্ডশ্রম করেন। এইসব প্রতিষ্ঠানগুলি বহু বছর থেকেই এই কাজ কোরছে, ত্রিশ-চল্লিশ বছর আগে এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলির যে সংখ্যা ছিলো এবং যতলোক এগুলোতে শামিল ছিলো আজ তার চেয়ে অনেক বেশি আছে। কিন্তু একটি পরিসংখ্যান নিয়ে দেখুন ত্রিশ-চল্লিশ বছর আগে জনসংখ্যার অনুপাতে বিভিন্ন দেশে শতকরা যতভাগ চুরি, ডাকাতি, খুন, ব্যভিচার ইত্যাদি হোত আজ তার চেয়ে অনেক বেশি হোচ্ছে। একটি বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠান আছে যেটার প্রচারিত উদ্দেশ্য হোচ্ছে এসলাম ধর্ম প্রচার ও শিক্ষা দেয়া। বিভিন্ন দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ ঐ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত থেকে ঐ কাজ করেন। এরা জোর দিয়ে প্রকাশ করেন যে তাদের প্রতিষ্ঠান নিছক ‘ধর্মীয়’ সুতরাং অরাজনৈতিক। একটি ‘মোসলেম’ প্রধান দেশে এরা বছরে একবার একত্রিত হন। বলা হয় এদের এই সমাবেশে হজ্বের চেয়েও বেশি লোক হয়। যেখানে ঐ বাৎসরিক সম্মেলন হয় ঐ দেশটাকেই ধরুন উদাহরণ স্বরূপ। ত্রিশ-চল্লিশ বছর আগে ঐ দেশটাতে জনসংখ্যার অনুপাতে যে অপরাধ হোত আজ তার চেয়ে বহুগুণ বেশি অপরাধ ঘটছে। শুধু তাই নয় তখন যত রকমের অপরাধ ঘটতো আজ তার চেয়ে অনেক বেশি নতুন নতুন ধরনের অপরাধ যোগ হোয়েছে। তাহোলে কোটি কোটি টাকা ব্যয় কোরে হজ্বের পর পৃথিবীর বৃহত্তম ‘মোসলেম’ সম্মেলন কোরে, এত পরিশ্রম কোরে লাভটা কী হোল? সত্যিকার এসলামের কথা না হয় এখানে বাদই রাখলাম অন্যান্য ধর্মও যেটুকু কোরতে চেষ্টা করে, অর্থাৎ মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে অন্যায় অপরাধ থেকে বিরত রাখা, সেটুকুও তো তারা কোরতে ব্যর্থ হোয়েছেন। মসজিদ থেকে জুতা চুরিটুকুও তো তারা বন্ধ কোরতে পারেন নি, বরং জুতা চুরি চল্লিশ বছর আগের চেয়ে আজ অনেক বেশি। শুধু তাই নয়, এখন মসজিদের দরজা ভেঙ্গে মাইক, ফ্যান, ঘড়িও চুরি হোয়ে যায়।
আগেই বোলেছি পণ্ডশ্রম, কিছুই হবে না। এই জন্য হবে না যে, অপরাধ কোরলে তার শাস্তি দেবার শক্তি না থাকলে শুধু ওয়াজ-নসিহত কোরে মানুষকে অপরাধ থেকে ফেরানো যাবে না এবং ঐ শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা রাষ্ট্রশক্তি ছাড়া সম্ভব নয়। কাজেই রাষ্ট্রীয় ভাবে এসলাম প্রতিষ্ঠিত না হোলে সে এসলাম পূর্ণ এসলাম নয়, সেটা হবে আংশিক, কাজেই ব্যর্থ হবে এবং আংশিক এসলাম আল্লাহ গ্রহণ করেন না, কারণ তা শেরক। সামাজিক জনকল্যাণকর প্রতিষ্ঠানগুলির ব্যাপারেও এসলামের নীতি বর্তমানের এসলামের নীতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেখানে শেষ নবী (দ:) প্রবর্তিত শেষ এসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে সেখানে সামাজিক পর্যায়ে ইয়াতীমখানা, আনজুমানে মফিদুল এসলাম, পঙ্গু-আবাস, প্রতিবন্ধী-আবাস ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের কোনই প্রয়োজন হবে না, কারণ, এ সমস্ত দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তাই মহানবী (দ:) ঐ ধরনের কোন প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করেন নি। যে ইয়াতীমদের সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ তার কোর’আনে বহুবার উল্লেখ কোরেছেন; যে ইয়াতীমদের সম্বন্ধে বিশ্বনবী (দ:) এতবার বোলেছেন; সেই ইয়াতীমদের জন্য একটি ইয়াতীমখানা তিনি প্রতিষ্ঠা কোরতে পারতেন না? যে বিস্ময়কর মহাকর্মী পৃথিবীতে একটা মহাশক্তি সৃষ্টি কোরলেন তার সামান্য একটি নির্দেশেই তো শত শত ইয়াতীমখানা প্রতিষ্ঠিত হোয়ে যেতো। তিনি তা করেন নি, তা তার সুন্নাহ নয়, কারণ তিনি জানতেন যে, যে রাষ্ট্র তিনি প্রতিষ্ঠা কোরে গেলেন, যে জীবন ব্যবস্থা তিনি চালু কোরে গেলেন তা যদি মানুষ তাদের জীবনে চালু রাখে, বিকৃত না করে তবে ঐ সব জনকল্যাণকর প্রতিষ্ঠানের কোনই প্রয়োজন হবে না, রাষ্ট্রই সে দায়িত্ব নেবে।
আজ ‘মোসলেমদের’ আকিদায় রাষ্ট্রের কোন স্থান নেই। ‘ধর্ম’ বোলতে তাদের আকিদা ও খ্রিস্টান, ইহুদি, বৌদ্ধ, জৈন, হিন্দু ইত্যাদির আকিদার সঙ্গে কোন প্রভেদ নেই। তাদের মতই এদের ‘ধর্ম’ ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ এসলাম, মহানবী (দ:) প্রবর্তিত এসলাম নয়। তার শেখানো এসলাম প্রথমেই আরবের বুকে রাষ্ট্রীয় ভাবে প্রতিষ্ঠা কোরেছিলেন। তারপর তার চলে যাবার পর সে এসলাম দুর্বার সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অর্ধেক দুনিয়ার রাষ্ট্রশক্তি অধিকার কোরেছিল, এটা সর্বসম্মত ইতিহাস। ঐ সময়ে ঐ এসলামে অন্য কোন মাযহাব ছিলো না, কোন ফেরকা ছিলো না, মসলা-মাসায়েল নিয়ে কোন মতভেদ ছিলো না, কোন পীর মুরীদ ছিলো না, খানকাহ, হুজরা, ছিলো না, মসলা মাসায়েল বিশ্লেষণকারী পুরোহিত যাজকশ্রেণি ছিলো না। ছিলো শুধুমাত্র দীনুল কাইয়্যেমা, সনাতন ধর্ম সেরাতুল মোস্তাকীম। অর্থাৎ একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, সালাত ও যাকাত, এবং ঐ দীনুল কাইয়্যেমা, সেরাতুল মোস্তাকীমকে সমস্ত পৃথিবীতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠা কোরে মানব জাতির জীবনের প্রতি স্তরে শান্তি আনয়ন করার নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম, জেহাদ। আর আজ ঐ দীনুল কাইয়্যেমার, সেরাতুল মোস্তাকীমের, সংবিধানের চুলচেরা বিচার-বিশ্লেষণ করা আছে, বহু মাযহাব বহু ফেরকায় বিভক্তি আছে, মসলা-মাসায়েল নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি কাটাকাটি আছে, যাজক শ্রেণি আছে, বহু রকম তরিকা আছে, বহু রকম পীর-মুরীদ আছে, খানকাহ আছে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এসলাম নেই, ওখানে আল্লাহর ওয়াহদানীয়াত নেই এবং তা করার জেহাদও নেই। সুতরাং এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ঐ দুই এসলাম একেবারে ভিন্ন জিনিস, একটা অপরটার বিপরীতমুখী। যেহেতু মহানবীর (দ:) প্রবর্তিত এসলাম এবং বর্তমানের এসলাম ভিন্ন, সুতরাং ঐ ভিন্ন এসলামের উৎপাদিত জাতিগুলিও সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং বিপরীতমুখী। আল্লাহর রসুলের (দ:) এসলাম সৃষ্টি কোরেছিল এক অজেয় দুর্ধর্ষ যোদ্ধা জাতি, আজকের এসলাম সৃষ্টি করে কাপুরুষ-ভীতু, যারা যুদ্ধের-সংগ্রামের কাছ দিয়েও যায় না। মহানবীর (দ:) এসলাম সৃষ্টি কোরেছিল এক সিংহের জাতি, দীনের সামান্যতম বিপদে হুংকার দিয়ে শত্র“র উপর ঝাঁপিয়ে পড়তো, আজকের এসলাম সৃষ্টি করে খরগোশ, বিপদের আভাস পাওয়া মাত্র যেগুলি পাগড়ীর লেজ হাওয়ায় উড়িয়ে তীব্রবেগে গর্তের ভেতর লুকায়। বিশ্বনবীর (দ:) এসলাম যে মোসলেম সৃষ্টি কোরেছিল তা সুদূর সিন্ধু দেশে একটি মোসলেম মেয়ের অপমানিত হবার খবর পেয়ে সেখানে মুজাহীদ বাহিনী পাঠিয়ে দিয়েছিল, আজকের এসলাম যে ‘মোসলেম’ সৃষ্টি করে তা কয়েক মাইল দূরে তাদের মতই ‘মোসলেম’দের হত্যা করা হোচ্ছে খবর পেয়ে নির্বিকারভাবে ওজু কোরে টাখনুর উপর পাজামা পড়ে মাথায় টুপি দিয়ে হাতে তসবিহ নিয়ে মসজিদে যায়। আল্লাহর রসুল (দ:) তার নবীজীবনের সংগ্রামের অতি প্রাথমিক সময়ে বোলেছিলেন “শীগগিরই সময় আসছে, যখন একা একটি মেয়ে মানুষ সানা থেকে হাদ্রামাউত পর্যন্ত (কয়েকশ’ মাইল) নির্ভয়ে চলাফেরা কোরতে পারবে ।” অর্থাৎ ঐ রকম নিরাপত্তা সৃষ্টি করা রাষ্ট্রশক্তি ছাড়া সম্ভব নয়। তাই ইতিহাস এই যে কিছুদিন পরই তার (দ:) প্রবর্তিত এসলাম আরবের বুকে আল্লাহ’র তওহীদ ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা কোরে তার ভবিষ্যতবাণীর নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা কোরেছিল যদিও তখন ঐ এসলামের মোসলেম সংখ্যায় ছিলো মাত্র দু’তিন লাখ। আর আজকের এসলাম উৎপাদন করে যে ‘মোসলেম’ তারা বিশ-ত্রিশ লাখ একত্র হোয়ে এজতেমা করে। তাদের চারিদিকে চলে হত্যা, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, ঘুষ, ছিনতাই। ত্রিশ-চল্লিশ লাখ একত্রিত হোয়ে হজ্ব করে আর দুনিয়াময় তাদেরই উপর চলে নির্মম নির্যাতন, যুদ্ধ, রক্তপাত, দেশ থেকে উচ্ছেদ-করণ তবুও তারা টু শব্দটি করার সাহস পায় না। এই সব হাজীদের রাষ্ট্রগুলি শাসিত হয় সেই আইন-কানুন দিয়ে যেগুলো ধ্বংস কোরে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা কোরতে বিশ্বনবী (দ:) প্রেরিত হোয়েছিলেন। বিশ্বনবীর (দ:) প্রবর্তিত এসলাম যে মোসলেম উৎপাদন কোরেছিল সে মোসলেমের আকিদা এই ছিলো যে, তাদের নেতা আল্লাহর রসুলের (দ:) জীবনের উদ্দেশ্য ছিলো সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে সমস্ত পৃথিবীতে শেষ এসলাম সমস্ত মানব জাতির উপর কায়েম কোরে পৃথিবীময় শান্তি প্রতিষ্ঠা, আর আজ যে এসলাম প্রচলিত তা যে মোসলেম উৎপাদন করে তাদের আকিদা হোল এই যে আল্লাহ নবী রসুলদের নেতা, তার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি যার কোন তুলনা নেই তাকে পাঠানো হোয়েছিল মানুষকে টাখনুর উপর পাজামা পড়ার মত, মাথায় টুপি দেবার মত, দাঁত মাজার মত, কুলুখ নেয়ার মত, ডান পাশে শোয়ার মতো তুচ্ছ ব্যাপার শেখাতে। মানুষের ইতিহাসে বোধহয় কোন জাতি তার নেতার এমন অপমানকর অবমূল্যায়ন করে নি। কাহ্হার আল্লাহও তার শ্রেষ্ঠ ও প্রিয়তম রসুলের (দ:) এই অপমানের প্রতিশোধ নিতে ছাড়েন নি। তিনি ইউরোপীয়ান খ্রিস্টান জাতিগুলি দিয়ে এদের লাইন কোরে দাঁড় কোরিয়ে মেশিনগান দিয়ে গুলি কোরিয়েছেন, বেয়নেট কোরে, জীবন্ত কবর দিয়ে, পুড়িয়ে, ট্যাংকের তলে পিষে মেরেছেন, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, শিশুরাও বাদ যায় নি। এদের মেয়েদের ইউরোপের আফ্রিকার বেশ্যালয়ে বিক্রি কোরিয়েছেন এবং তারপর মাত্র চারটি ছোট দেশ বাদে মরক্কো, থেকে ফিলিপাইন পর্যন্ত এই বিশাল এলাকার সমস্তটুকুর রাষ্ট্রশক্তি এদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ইউরোপীয়ান খ্রিস্টান জাতিগুলির হাতে দিয়ে দিয়েছেন এবং তারা এদের সর্বস্ব লুণ্ঠণ ও শোষণ কোরে দারিদ্র্যের চরম সীমায় নামিয়ে দিয়েছে, গৃহপালিত পশুর মতো এদের নিজেদের কাজে লাগিয়েছে, তাদের জুতা পরিষ্কার কোরিয়েছে।
পৃথিবীর রাজনৈতিক পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে কিছুদিন আগে এই তথাকথিত মোসলেম নামের এই জাতি ইউরোপের দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু মুক্তি তারা দিয়ে গেলেও এরা মুক্তি নেয়নি। এখনও স্বেচ্ছায় তাদের পূর্ব প্রভূদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা-সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও সভ্যতার দাসত্ব কোরছে। আর যারা মহা মোসলেম তারা সেই আগের মতই ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ বিপ্লবী, যিনি মানব জাতির জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন তাকে টুপি, পাগড়ী, আর দাড়ি-মোচের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোরে তার চরম অপমান কোরে চলেছেন। এরা যদি আজও সেই পৃথিবী কাঁপানো ব্যক্তিত্বকে তাদের নিজেদের মতো গর্তের ভেতরে লুকানো মেরুদণ্ডহীন খরগোশ মনে কোরে তার অপমান কোরতে থাকেন তবে এরপর আল্লাহর শাস্তি হবে আরো কঠিন, তার প্রতিশোধ হবে আরও ভয়াবহ।
কাজেই শুরুতেই যে কথা বোলতে চেয়েছি তা হোল শুধু ওয়াজ নসিহত কোরে, উপদেশ বিতরণ কোরে, বাণী শুনিয়ে অন্যায়, অবিচার, অশান্তি দূর করা যাবে না। আল্লাহর সার্বভৌমত্ব-ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন কোরে সেই রাষ্ট্রশক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেই কেবল সকল অবিচার দূর করা সম্ভব। উপদেশবাণী, নীতিকথা শুনে ব্যক্তিগত ভাবে কিছু ভালো মানুষ তৈরি হোলেও সমষ্টির চাপে, বৃহত্তর শক্তির চাপে ব্যক্তিগত ভাবে আর ভালো থাকা যায় না। কাজেই এসলাম ব্যক্তিগত নয়, জাতীয় ও সমষ্টিক। শুধু আইন প্রয়োগ কোরে, শরিয়াহ্ প্রয়োগ কোরে যেমন শান্তি আনা যায় না ঠিক তেমনই শুধু আধ্যাত্মিক শিক্ষা, নসিহত কোরে, শান্তি আনা যায় না। দুটোই দরকার। এটাই ভারসাম্য, ওয়াসাতা; একদিক শরিয়াহ’র দণ্ডবিধি অন্যদিকে আল্লাহর ভয়ে অন্যায় না করার আত্মিক প্রশিক্ষণ।
[সমস্ত পৃথিবীতে ন্যায়, সুবিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৫ সনে এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী হেযবুত তওহীদ নামক আন্দোলনটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই নিবন্ধটি লেখকের বিভিন্ন লেখা ও বক্তব্য থেকে সম্পাদিত।

কে মো’মেন কে কাফের?

কে মো’মেন কে কাফের?

রাকীব আল হাসান:
মো’মেন ও কাফের, অতি পরিচিত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দু’টি আরবি শব্দ। শব্দ দু’টির মাদ্দা, মাজদার, সিগা, বাব ইত্যাদি জটিল বৈয়াকরণীক প্যাঁচের মধ্যে না গিয়ে সরলভাবে বিশ্লেষণ করাই আমার এই লেখার উদ্দেশ্য। প্রথমে জানা যাক শব্দ দু’টির শাব্দিক অর্থ। মো’মেন শব্দের আভিধানিক অর্থ- বিশ্বাসী। মো’মেন শব্দটি ঈমান শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ বিশ্বাস। কাফের শব্দের আভিধানিক অর্থ- অবিশ্বাসী। যারা কোর’আনের বাংলা অনুবাদ পড়েন তারা নিশ্চয় লক্ষ কোরে থাকবেন যে মো’মেন ও কাফেরের বাংলা অনুবাদ এ দু’টি শব্দেই করা হোয়েছে। যদিও আরও বেশ কিছু অর্থ রয়েছে। যতটুকু বোঝা গেল শব্দ দু’টি বিপরীত অর্থবোধক। অর্থাৎ একই সাথে কেউ মো’মেন ও কাফের থাকতে পারে না এবং প্রত্যেক ব্যক্তিই হয় মো’মেন নতুবা কাফের হবেই।
এবার জানা যাক শব্দ দু’টির পারিভাষিক অর্থ। পারিভাষিক অর্থে মো’মেন হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে এসলামের নির্দিষ্ট কিছু মৌলিক বিষয়ে বিশ্বাস রাখে। আর কাফের হোল ঐ বিষয় গুলিতে যে বিশ্বাস রাখে না।
স্বাভাবিকভাবে আমরা যেটা জানি, কাফের হবার বিশেষ কোনো প্রক্রিয়া নাই। মো’মেন না হওয়া মানেই কাফের হওয়া, সুতরাং মো’মেন হবার একটি প্রক্রিয়া থাকতে হবে। এই প্রক্রিয়াটি হোল তওহীদে বা কলেমাতে (লা এলাহা এল্লাল্লাহ্- মুহাম্মাদুর রসুলাল্লাহ) মনে প্রাণে বিশ্বাস করে মুখে তার স্বীকৃতি দেওয়া এবং সেটা কাজে প্রতীয়মান করা। কেউ এই কলেমায় কৃত অঙ্গীকার থেকে সরে গেলে সে আর মো’মেন থাকলো না, মো’মেন থাকলো না মানেই কাফের হোয়ে গেল। সুতরাং এই কলেমাটিকে বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কলেমাতে দু’টি বিষয়ে আমাদের সাক্ষ্য দিতে হয়। ১. আল্লাহর উলুহিয়াত (লা এলাহা এল্লাল্লাহ্) এবং ২. মোহাম্মদ (দ:) বিন আব্দুল্লাহ’র রেসালাত (মোহাম্মাদুর রসুলাল্লাহ)। আল্লাহর উলুহিয়াত হোচ্ছে জীবনের প্রতিটা অঙ্গনে (ব্যক্তিগত, জাতীয়, আন্তর্জাতিক সকল পর্যায়ে) আল্লাহকে হুকুমদাতা হিসাবে মানা। অর্থাৎ যেখানেই আল্লাহর কোনো বক্তব্য থাকবে সেখানে আর কারো বক্তব্যের প্রাধান্য না দিয়ে আল্লাহর বক্তব্যের বাস্তবায়ন করতে পারলেই কেবল আল্লাহকে এলাহ্ হিসাবে মানা হোল। আর মোহাম্মদ (দ:) কে আল্লাহর রসুল হিসাবে বিশ্বাস করা হোল তাঁর রেসালাতে বিশ্বাস। মোহাম্মদ (দ:) কে রসুল হিসাবে বিশ্বাস কোরলে ও মেনে নিলে স্বাভাবিক ভাবেই আল্লাহ ও তাঁর রসুল (দ:) নির্দেশিত পথে চলাও অবশ্য কর্তব্য হয়ে পড়ে।
এবার মো’মেন ও কাফেরের সংজ্ঞা জেনে নেওয়া যাক। কে মো’মেন এবং কে কাফের তাঁর সংজ্ঞা দেওয়ার এখতিয়ার আল্লাহ ছাড়া আর কারও থাকতে পারে না এবং নেই। আমি এখানে শুধু আল্লাহ পাকের দেওয়া সংজ্ঞা উদ্ধৃত কোরছি। আল্লাহ পাক সুরা হুজরাতের ১৫ নং আয়াতে এরশাদ কোরেছেন, “নিশ্চয় মো’মেন শুধুমাত্র তারা যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রসুলের উপর ঈমান আনে, পরে কোনো সন্দেহ পোষণ করে না এবং সম্পদ ও জীবন দিয়ে (সত্যদীন এসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য) আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম করে। তারাই সত্যনিষ্ঠ।” আল্লাহ এখানে মো’মেনের যে সংজ্ঞা দিয়েছেন তা পরিপূর্ণ সংজ্ঞা, এর বাইরে আর কোন সংজ্ঞা গ্রহণযোগ্য নয়। আমি মো’মেন শব্দটির আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ এবং মো’মেন হবার যে প্রক্রিয়া ইতোপূর্বে বর্ণনা করেছি তার সঠিকতা বিচার কোরব আল্লাহ পাকের দেওয়া সংজ্ঞার প্রেক্ষিতে।
আল্লাহ পাক প্রথমেই বোলেছেন “যারা বিশ্বাস স্থাপন করে”। আল্লাহ পাক এখানে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের উপর ঈমান আনয়ন বোলতে কলেমার স্বীকৃতি প্রদানের কথা বুঝিয়েছেন অর্থাৎ আল্লাহর উলুহিয়াত ও রসুলের রেসালাতে ঈমান আনার কথা বুঝিয়েছেন। মো’মেন হবার জন্য, এসলামের গণ্ডিতে অন্তর্ভুক্ত থাকার জন্য এ পর্যন্তই যথেষ্ট। সুতরাং মো’মেন হবার জন্য শর্ত হোচ্ছে আল্লাহকে হুকুমদাতা এবং মোহাম্মদ (দ:) কে রসুল হিসাবে মেনে নেওয়া। কিন্তু বর্তমানে আল্লাহকে হুকুমদাতা হিসাবে কোথাও মানা হোচ্ছে না, শুধুমাত্র উপাস্য হিসাবে তাঁর উপাসনা করা হোচ্ছে। আর মো’মেন থাকার জন্য শর্ত হোচ্ছে বিশ্বাস আনয়নের পরে আর কোনো সন্দেহ পোষণ করা যাবে না এবং ঐ কলেমা (আল্লাহর উলুহিয়াত ও রসুলের রেসালাত) প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন ও সম্পদ দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম কোরতে হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই সংগ্রাম কতদিন কোরতে হবে বা কবে থেকে আর সংগ্রামের প্রয়োজন হবে না? এ বিষয়ে আল্লাহ বোলেছেন, “আমি আমার রসুলকে সঠিক পথ প্রদর্শন (হেদায়াহ্) এবং সত্যদিন দিয়ে প্রেরণ কোরলাম এই জন্য যে তিনি যেন একে (এই হেদায়াহ ও সত্যদিনকে) পৃথিবীর অন্যান্য সমস্ত জীবন ব্যবস্থার উপর বিজয়ী বা প্রতিষ্ঠিত করেন”- (সুরা আল ফাতাহ্- ২৮, সুরা তওবা- ৩৩ এবং সুরা আস সাফ- ৯)। এটাই যে রসুলের আগমনের উদ্দেশ্য তার সত্যায়ন পাওয়া যায় রসুলের ঘোষণাতেই। তিনি বোলেছেন- আমি আদিষ্ট হোয়েছি মানব জাতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম (কেতাল) চালিয়ে যেতে যে পর্যন্ত না সমস্ত মানুষ আল্লাহকে একমাত্র এলাহ (হুকুম দাতা) এবং আমাকে তাঁর রসুল বোলে মেনে নেয় (হাদিস- আবদাল্লাহ বিন ওমর (রা:) থেকে- বোখারী, মেশকাত)। রসুল (দ:) তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে এতটাই সচেতন ছিলেন যে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এই সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন এবং চোলে যাবার সময় এই দায়িত্ব দিয়ে গেলেন তাঁর হাতে গড়া উম্মাহ’র উপর। তাঁর উম্মাহও দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁদের মহান নেতার ওফাতের পরপরই সমস্ত কিছু ত্যাগ কোরে সংগ্রামে নেমেছিলেন ফলে মাত্র ৬০/৭০ বছরের মধ্যে অর্ধ পৃথিবী তাদের পায়ে লুটিয়ে পড়েছিল। এরপর দুর্ভাগ্যজনকভাবে জাতি দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম তথা জেহাদ ছেড়ে দিল, যদিও তখনও অর্ধ পৃথিবী এসলামের ছায়াতলে আসা বাকি, অর্থাৎ রসুল (দ:) এর উপর অর্পিত দায়িত্ব পূর্ণ হয় নি। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে আল্লাহর দেয়া মো’মেনের সংজ্ঞা থেকে তারা কি বের হোয়ে গেলো না?
বর্তমানে পৃথিবীর এক ইঞ্চি জায়গাতেও আল্লাহকে এলাহ হিসাবে মানা হোচ্ছে না। অর্থাৎ আল্লাহর উলুহিয়াত (সার্বভৌমত্ব) ও মোহাম্মদ (দ:) এর আনীত কেতাব তথা শিক্ষা প্রতিষ্ঠিত নেই, এক কথায় এসলাম প্রতিষ্ঠিত নেই। তাহোলে জীবন ও সম্পদ দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করা এখনও মো’মেন থাকার প্রধান একটি শর্ত। এ শর্ত পূরণ না করে আল্লাহর সংজ্ঞা মোতাবেক মো’মেন থাকার কোন সুযোগ নেই। সুতরাং বর্তমানে মো’মেন হওয়ার দাবিদার ১৬০ কোটির এই বিরাট জনসংখ্যা মোমেন নয়। আর মো’মেন না হওয়ার অর্থই কাফের হওয়া।
আল্লাহ মো’মেনদের সম্পর্কে বোলেছেন, “তোমরা যদি মো’মেন হও তবে পৃথিবীর কর্তৃত্ব তোমাদের হাতে দেব যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের দিয়েছিলাম (সুরা নূর- ৫৫)।” আবার আল্লাহ বোলেছেন, “যারা ঈমান এনেছে অর্থাৎ মো’মেন হয়েছে তাদের অভিভাবক নিশ্চয় আল্লাহ আর অবিশ্বাসীদের (কাফেরদের) কোনো অভিভাবক নেই।” (সুরা মুহাম্মাদ- ১১)। এখন যারা নিজেদেরকে মো’মেন বলে দাবি করেন তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, আপনাদের হাতে কি এই পৃথিবীর কর্তৃত্ব আছে? রূঢ় বাস্তবতা হোচ্ছে এই যে, পৃথিবীর কর্তৃত্ব তো দূরের কথা আপনারা পৃথিবীর সর্বত্র অন্য সব জাতি দ্বারা পরাজিত, অপমানিত, অবহেলিত, নিগৃহিত এবং প্রতিটি জাতির লাথি খাচ্ছেন, সব জাতি আপনাদেরকে ঘৃণার চোখে দেখছে, আপনাদের রাষ্ট্রগুলি আক্রমণ কোরে দখল কোরে নিচ্ছে (যদিও প্রকৃত এসলামে ভৌগোলিক জাতিরাষ্ট্রের কোন ধারণা নেই, সুতরাং তা শেরক)। ইহুদি খ্রিস্টান ‘সভ্যতা’ তথা দাজ্জালের ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত্র পুরো মোসলেম নামক এই জাতি, আরব অনারব নির্বিশেষে সকলে ভয়ে তাদের পায়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে। মো’মেন এর প্রতি আল্লাহর উল্লেখিত অঙ্গীকার থেকে বাস্তবতার দূরত্ব লক্ষ যোজন। সুতরাং যদি আল্লাহ সত্যি অঙ্গীকার রক্ষাকারী হোয়ে থাকেন, তাহোলে আপনারা মো’মেন হোতে পারেন না, এবং মো’মেন না হওয়ার মানেই কাফের হওয়া। আল্লাহ যদি আপনাদের অভিভাবকই হবেন তবে আপনাদের এই করুণ দুর্দশা কেন? আল্লাহ যাদের অভিভাবক নয় তারা কি মো’মেন? নিশ্চয় না।
এবার একটু সত্যিকারের মো’মেনদের সাথে অর্থাৎ রসুলাল্লাহর আসহাবদের সঙ্গে আজকের মো’মেন দাবিদারদের চরিত্র মিলিয়ে দেখি। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সর্বোৎকৃষ্ট মো’মেন ছিলেন রসুলাল্লাহ’র আসহাবগণ। তাদের জীবন যাত্রার সাথে আমাদের জীবন যাত্রা একটু মিলিয়ে দেখি। আম্মা খাদীজা (রা:), আবু বকর (রা:), ওমর (রা:), ওসমান (রা:), আলী (রা:), বেলাল (রা:), আম্মার (রা:), আবু ওবায়দা (রা:), খালেদ বিন ওলিদ (রা:) প্রমুখ রসুলাল্লাহর সাহাবীরা তাঁদের প্রাণপ্রিয় নেতার (দ:) কাছ থেকে এসলাম শিখে তাঁরা সেটিকে অর্থাৎ আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থাকে সমস্ত দুনিয়াময় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবজাতির সামষ্টিক জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের বাড়ি-ঘর, স্ত্রী, পুত্র, সহায় সম্পত্তি সর্বস্ব বিসর্জন দিয়ে অবশেষে নিজের প্রাণটুকু বিসর্জন দেওয়ার জন্য দুনিয়ার বুকে বহির্গত হোয়ে গিয়েছেন। এই অধিকাংশ সাহাবীর কবর হোয়েছে বিদেশের মাটিতে। তারা এসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠার কাজ কোরতে গিয়ে পার্থিব বিনিময় নেওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না বরং তারা অবর্ণনীয় নির্যাতন ও দুঃখ কষ্টের শিকার হোয়েছেন। তারা জান দিয়ে জাতির ঐক্য রক্ষা কোরেছেন, আল্লাহর রসুলের হুকুমের বিপরীতে কোন শক্তির কাছে মাথা নত করেন নি। তাদের এই অতুলনীয় কোরবানির বিনিময়ে আটলান্টিকের তীর থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত অর্ধ পৃথিবীতে আল্লাহ রসুলের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত হোয়েছিল। কোন শক্তি দুনিয়াতে ছিল না যে এই জাতির দিকে চোখ তুলে তাকায়। জ্ঞানে, বিজ্ঞানে, সামরিক শক্তিতে সকল জাতির শিক্ষকের আসনে অধিষ্ঠিত হোয়েছিলেন। আল্লাহর রসুলের এসলাম যে জাতি গঠন কোরেছিল সে জাতির চরিত্রের সর্বপ্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল যোদ্ধার চরিত্র, তার প্রমাণ জাতির নেতা আল্লাহর রসুল (দ:) সহ সমস্ত জাতির মধ্যে এমন একটা লোকও বোধ হয় খুঁজে পাওয়া যেত না যার শরীরে অস্ত্রের আঘাত নেই। সেই মো’মেনদের অভিভাবক ছিলেন আল্লাহ্, আল্লাহ্ তাদের কাছে ওয়াদা রক্ষা কোরেছিলেন অর্থাৎ কর্তৃত্ব তাঁদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন, প্রমাণ কোরেছিলেন আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্র“তির ব্যতিক্রম করেন না।
আমার কথাগুলো হয়তো অনেকের কাছে রূঢ় মনে হোতে পারে, কিন্তু আমি নিরূপায়, আমি যা বোলছি তা সত্যের খাতিরেই আমাকে বোলতে হোচ্ছে, নয়তো আল্লাহর কাছে আমি দায়ী থাকবো। আমি শুধু বলতে চাই আল্লাহর রসুল যে জাতি রেখে গেছেন, সে জাতির সঙ্গে বর্তমানের এই জাতিকে একটু মিলিয়ে দেখুন, তাহোলেই আমাদের আজকের এই হীনতা, এই লাঞ্ছনা, অনৈক্য পরিশেষে ইহুদি খ্রিস্টান সভ্যতার নিকৃষ্ট দাসত্বের কারণ দেখতে পাবেন।
বর্তমানের এসলাম যে জাতি গঠন করে তার চরিত্রের সর্বপ্রধান বৈশিষ্ট্য হোচ্ছে কাপুরুষতা, ছোট বড় সমস্ত রকম সংঘর্ষ, বিপদ আপদ থেকে পলায়নপর মনোবৃত্তি। যে যতো বড় মো’মেন হবার দাবিদার সে তত বেশি কাপুরুষ; অস্ত্রের আঘাত তো দুরের কথা, এদের গায়ে সুঁচের খোঁচারও দাগ নেই। তসবীহ হাতে মসজিদে, খানকায় বোসে থাকে এবং কোন রকম বিপদের আভাষ পেলেই হাওয়ার বেগে ইঁদুরের গর্তে লুকিয়ে যায়। সম্প্রতি আমাদের দেশে একটি ঘটনা ঘোটেছে। আল্লাহ ও রসুলের অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল কোরতে গিয়ে পুলিসের ধাওয়া খেয়ে হাজার হাজার মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষক এমাম সাহেবরা এমনভাবে পালিয়েছেন যে পালাতে গিয়ে দিশেহারা হোয়ে কয়েকজন ঝাঁপ দিয়েছেন পদ্মানদীতে। এর তিনদিন পরে এক মাদ্রাসা ছাত্রের লাশ নদী থেকে উদ্ধার করা হয় (২৬ ফেব্র“য়ারি ২০১৩- দৈনিক ইত্তেফাক)। আজকে মো’মেন হবার দাবিদার এই জাতি পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট, তারা অন্য জাতি গুলির কাছে ফুটবলের মতো লাথি খাচ্ছে; লাঞ্ছনা, অপমান এদের গা সওয়া হোয়ে গেছে। আমরা এটুকু নির্দ্বিধায় বোলতে পারি যে, রসুলাল্লাহর হাতে গড়া সেই জাতি আর আজকের মো’মেনের দাবিদার এই জাতি এক তো নয়ই বরং সম্পূর্ণ বিপরীত। সুতরাং আজকের এই জাতিকে যদি আপনি মো’মেন বলেন আবশ্যই আপনাকে স্বীকার কোরতে হবে যে, রসুলাল্লাহর হাতে গড়া জাতিটি মো’মেন ছিলো না (নাউযুবিল্লাহ)।
আমি প্রথমেই বলে এসেছি যে মো’মেন ও কাফের বিপরীত শব্দ, যেমন সাদা-কালো, দিন-রাত, জান্নাতি-জাহান্নামী, সত্য-মিথ্যা ইত্যাদি। আপনি জান্নাতি না মানেই আপনি জাহান্নামী, আপনি সত্যবাদী না মানেই মিথ্যাবাদী; ঠিক একইভাবে আপনি মো’মেন না মানেই আপনি কাফের। কাফেরের আল্লাহ প্রদত্ত সংজ্ঞা হোচ্ছে- “যারা আল্লাহর নাজেল করা বিধান (কোর’আন) অনুযায়ী বিচার-ফায়সালা ও শাসনকার্য পরিচালনা (হুকুম) করে না তারা কাফের।”- (সুরা মায়েদা-৪৪)
পৃথিবীর কোথায় কোর’আন অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালিত হোচ্ছে কেউ বোলতে পারেন? পৃথিবীর এক ইঞ্চি জায়গাতেও আল্লাহর সার্বভৌমত্ব অর্থাৎ আল্লাহর নিরঙ্কুশ আধিপত্য ও তাঁর নাযেলকৃত বিধান প্রতিষ্ঠিত নেই। তাহোলে আল্লাহর দেওয়া সংজ্ঞা অনুযায়ী (মো’মেন, মোসলেমের দাবিদার) এ জাতি কি কাফের নয়?
কি সাংঘাতিক প্রশ্নের সামনে আপনাদের দাঁড় করালাম! এই উত্তরের মধ্যেই আপনি খুঁজে পাবেন আপনার পরিচয় আপনি মোমেন না কাফের, আপনি জান্নাতি না জাহান্নামী, আপনার নামাজ, রোজা ইত্যাদি কবুল হয় নাকি ব্যর্থ হয়, সবগুলি প্রশ্নের জবাব।

দাজ্জালকে না চেনার কারণ

দাজ্জালকে না চেনার কারণ

এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীর লেখা থেকে সম্পাদিত:
চৌদ্দশ’ বছর থেকে মোসলেম উম্মাহর ঘরে ঘরে দাজ্জাল সম্বন্ধে আলোচনা চোলে আসছে। আল্লাহর শেষ রসুল মানবজাতির ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে যেসব কথা বোলে গেছেন, পৃথিবীতে কি কি ঘটনা ঘোটবে সেগুলোর সম্বন্ধে আভাষ ও সরাসরি যা জানিয়ে দিয়েছেন সেগুলোর মধ্যে দাজ্জাল সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণীগুলো যেমন চিত্তাকর্ষক তেমনি গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্বিগ্নকর। উদ্বিগ্নকর ও ভীতিপ্রদ এই জন্য যে দাজ্জালের শক্তি, প্রভাব ও প্রতিপত্তি সমগ্র মানবজাতির উপর প্রচণ্ড প্রভাব বিস্তার কোরে ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেবে, সমস্ত মানবজাতিকে বিপথে চালাবার চেষ্টা কোরবে। শুধু তাই নয়, বেশ কিছু সময়ের জন্য দাজ্জাল তার শক্তি ও প্রভাব বিস্তার কোরে গোটা মানবজাতিকেই বিপথে পরিচালিত কোরবে। কাজেই দাজ্জালকে কোনোভাবেই ছোট কোরে দেখার বা অবজ্ঞা করার উপায় নেই।
আলাহর রসুলের ভবিষ্যদ্বাণীগুলোকে একত্রে নিলে যা দাঁড়ায় তাহোল, দাজ্জাল মানবজাতিকে বোলবে তাকে রব বোলে মেনে নিতে। তার কাছে জান্নাত ও জাহান্নামের মতো দুইটি জিনিস থাকবে। যারা তাকে রব বোলে মেনে নেবে তাদেরকে সে তার তৈরি জান্নাতে স্থান দেবে আর যারা তাকে রব বোলে মানবে না তাদেরকে সে তার তৈরি জাহান্নামে নিক্ষেপ কোরবে। তার কাছে রেজেকের বিশাল ভাণ্ডার থাকবে। যারা তাকে রব বোলে মানবে তাকে সে সেখান থেকে দান কোরবে আর যারা তাকে মানবে না তাদেরকে সে তার রেজেকের ভাণ্ডার থেকে দান কোরবে না। দাজ্জালের আদেশে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হবে, মাটির গভীর থেকে সম্পদ উপরে উঠে আসবে। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কি হোচ্ছে দাজ্জাল তা দেখতে ও শুনতে পারবে। সমস্ত পৃথিবীর এক ইঞ্চি মাটি বা পানি থাকবে না যা দাজ্জালের প্রভাব বলয়ের বাইরে থাকবে। দাজ্জালের ফেতনা যে কতখানি ভয়ানক হবে তা বোঝা যায় তখনই যখন রসুলাল্লাহ নিজেই এই দাজ্জালের ফেতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন।
এখন প্রশ্ন হোচ্ছে এই এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপারে আমরা কতটুকু সচেতন? বাস্তব অবস্থা হোল এই যে আমরা মোটেও সচেতন নই। আর সচেতন নই বোলেই আমরা বুঝছিনা যে আজ থেকে ৪৭৫ বছর আগেই মানবজাতির মহাবিপদের ঘণ্টা বাজিয়ে মানবতার মহাশত্র“, এবলিসের চূড়ান্ত রূপ দাজ্জালের জন্ম হোয়েছে। বর্তমানে সে তার শৈশব, কৈশোর পার কোরে যৌবনে উপনীত হোয়েছে এবং দোর্দণ্ড প্রতাপে সারা পৃথিবীকে পদদলিত কোরে চোলেছে। আমরা এও বুঝছিনা যে সমস্ত পৃথিবীসহ আমরা মোসলেমরাও দাজ্জালকে রব, প্রভু বোলে স্বীকার কোরে নিয়েছি ও তার পায়ে সাজদায় পোড়ে আছি। হেযবুত তওহীদের এমাম, এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী কোর’আন-হাদিস-বাইবেল এবং বিজ্ঞানের আলোকে ষ্পষ্টভাবে প্রমাণ কোরেছেন যে পাশ্চাত্যের বস্তুবাদী ইহুদি-খ্রিস্টান সভ্যতাই হোচ্ছে রসুলাল্লাহ বর্ণিত সেই ভয়ংকর দানব দাজ্জাল। এখানে প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে দাজ্জালকে আমরা কেউ চিনছিনা কেনো? আমরা তো নিজেদেরকে মো’মেন, মোসলেম, উম্মতে মোহাম্মদী দাবি কোরি, আমাদের মাঝে লক্ষ লক্ষ কোর’আনের হাফেজ, আলেম, মোহাদ্দেস, মোফাসসের রোয়েছেন যারা সারা জীবন ধরে কষ্ট কোরে এসলামের অতি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়ে গবেষণা কোরে পাণ্ডিত্য জাহের কোরছেন। আমাদের মাঝে লক্ষ লক্ষ পীর মুরীদ রোয়েছেন, যারা দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টাই তাদের আত্মা পরিষ্কার কোরতে সদা ব্যস্ত থাকেন। তাছাড়াও রোয়েছেন হাজার হাজার আলেম, মাওলানা, মাশায়েখ, মোহাদ্দীস ইত্যাদি ধর্মের ধারক-বাহকরা। তাহোলে এত বড় একটা বিষয়ে তারা নীরব কেনো? তারা কেনো দাজ্জালকে দাজ্জাল বোলে চিনতে পারছেন না? সত্যান্বেষী মনে এই প্রশ্ন আসা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে এই প্রশ্নের উত্তর আমাদেরকে দিতে হবে না, স্বয়ং রসুলাল্লাহই এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছেন। তিনি বোলেছেন, “দাজ্জালের দুই চোখের মাঝখানে কাফের লেখা থাকবে। শুধু মো’মেন, বিশ্বাসীরাই তা দেখতে এবং পড়তে পারবে; যারা মো’মেন নয় তারা পড়তে পারবে না” [ আবু হোরায়রা (রা:), আবু হোযায়ফা(রা:) এবং আনাস (রা:) থেকে বোখারী ও মোসলেম]
এই হাদিসটি শুধু অর্থবহ এবং আকর্ষণীয়ই নয়, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণও বটে। মো’মেন হোলে লেখাপড়া না জানলেও, নিরক্ষর হোলেও তারা পড়তে পারবেন আর মো’মেন না হোলে শিক্ষিত হোলেও, পণ্ডিত হোলেও দাজ্জালের কপালে কাফের লেখা দেখতে ও পড়তে পারবেন না, এই কথা থেকেই বোঝা যায় যে দাজ্জালের কপালের এই লেখা কাফ, ফে, রে এই অক্ষরগুলো দিয়ে লেখা নয়। মো’মেনরা নিরক্ষর হোলেও ঐ লেখাগুলো দেখতে ও পোড়তে পারবেন। মো’মেন কারা? আল্লাহ কোর’আনে বোলছেন- শুধু তারাই মো’মেন যারা আল্লাহ ও তাঁর রসুলকে বিশ্বাস করে, তারপর আর তাতে কোনো সন্দেহ করে না, এবং নিজেদের জীবন ও সম্পদ দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করে; তারাই হোল খাঁটি (সুরা হুজরাত ১৫)।”
এখানে মনে রাখতে হবে আল্লাহ ও তাঁর রসুলকে বিশ্বাস করা অর্থ হোল ব্যক্তিগত এবং জাতীয় জীবনে আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে বিশ্বাস করা এবং জীবনের কোনো অঙ্গনে আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে না মানা। আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার কোরে দাজ্জালের সার্বভৌমত্বকে মেনে নেওয়ার ফলে মোসলেম দাবিদার এই জাতি কার্যতঃ মোশরেক ও কাফের হোয়ে গেছে, তাদের রব এখন আল্লাহর পরিবর্তে দাজ্জাল। কাজেই বৃহত্তর জীবনে দাজ্জালের কপালের কাফের লেখা অর্থাৎ দাজ্জাল যে সমষ্টিগত জীবনে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব অস্বীকারকারী কাফের এরা তা দেখতেও পাননা সুতরাং পড়তেও পারেন না। তাই আমরা দেখি মোসলেম বোলে পরিচিত এই জাতিটির প্রায় সমস্ত মানুষ দাজ্জালকে রব বোলে স্বীকার কোরে নিয়েছে কিন্তু ওদিকে মহা পরহেযগার, মুত্তাকি। এমন কি এই জাতির মধ্যে কয়েকটি দেশ আছে যাদের শীর্ষস্থানীয় নেত্রীদের কপালে সাজদার কালো দাগ আছে কিন্তু তারা দাজ্জালের আশ্রয়ে থেকে, দাজ্জালের কাছে থেকে অস্ত্রসহ সবরকম সাহায্য নিয়ে তাদের দেশের মধ্যে যারা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, তওহীদ প্রতিষ্ঠা কোরতে চান তাদের বন্দি কোরছেন, নির্যাতন কোরছেন, গুলী কোরে ফাঁসি দিয়ে হত্যা কোরছেন। এর কারণ এসব নেতাসহ মোসলেম বিশ্ব দাজ্জালের শেখানো এই কথা বিশ্বাস কোরে নিয়েছেন যে ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয়, সমষ্টিগত নয়, তাই তারা দাজ্জালের কপালে কাফের লেখা দেখতে ও পড়তে পারেন না।