Thursday, December 10, 2015

বেগম রোকেয়া এবং প্রকৃত নারী স্বাধীনতা



কাজী আব্দাল্লাহ আল মাহফুজ:
বাংলাদেশের নারী মুক্তির অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন। তিনি বাঙালি নারীদের অশিক্ষা-কুশিক্ষা এবং পশ্চাদপদতা থেকে মুক্তির জন্য এক আলোকবর্তিকার মতো আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন সমাজের উল্লেখযোগ্য অংশ নারীসমাজকে শিক্ষায়, জ্ঞানে বিজ্ঞানে আলোকিত করতে, সামাজিক উন্নয়নে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের ভূমিকাকে দৃঢ়তর করতে। নারীদের নিয়ে তার সকল কর্মকাণ্ড ও সাহিত্যে সে কথার প্রতিফলন ঘটে। তিনি লিখেছেন ‘আমরা সমাজের অর্ধাঙ্গ, আমরা পড়িয়া থাকিলে সমাজ উঠিবে কী রূপে? কোনো ব্যক্তি এক পা বাঁধিয়া রাখিলে সে খুঁড়াইয়া কতদূর চলিবে? পুরুষের স্বার্থ ও আমাদের স্বার্থ ভিন্ন নহে। তাহাদের জীবনাদর্শ ও লক্ষ্য যাহা আমাদের লক্ষ্য তাহাই।’ কিন্তু দুঃখের বিষয় সমস্ত কূপমণ্ডূকতা থেকে নারী মুক্তির জন্য তার কঠোর সংগ্রামকে আজ নারী স্বাধীনতার নামে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে একশ্রেণির মানুষ। যারা পাশ্চাত্য ধ্যান ধারণাকে, সংস্কৃতি, উশৃঙ্খলতা, বেপরোয়া জীবনযাপন ও পোশাক পরিচ্ছদকেই নারী স্বাধীনতার মানদণ্ড ধরে নিয়ে বেগম রোকেয়ার অনবদ্য কর্মকাণ্ডের সাথে মিশ্রিত করে এক জগাখিচুড়ি অবস্থা সৃষ্টি করেছে। তাদের সাথে বেগম রোকেয়ার উদ্দেশ্য ও আদর্শের কোনো মিল নেই এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিপরীত। অপরদিকে ধর্মীয় কুসংস্কারের বেড়াজালে আটকে আরেকশ্রেণি নারীদের সেই পশ্চাদপদতার মধ্যেই ঠেলে দিয়েছে। এক কথায় আমাদের সমাজের নারীরা এখন পর্যন্ত পুরুষের পাশাপাশি সমানতালে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে পারে নি, যা চেয়েছিলেন বেগম রোকেয়া।
এই মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়ার জন্ম ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর। তখন ভারত উপমহাদেশ ব্রিটিশ জাতির গোলাম। একটা গোলাম জাতি জ্ঞান-বিজ্ঞানে, শিক্ষা-দীক্ষায় পশ্চাদপদ হবে এটাই স্বাভাবিক। আমাদের তৎকালীন সমাজও এ অবস্থার বাইরে ছিল না। ব্রিটিশরা তাদের সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখার জন্য এই পশ্চাদপদতার সুযোগ নিল পুরোমাত্রায়। তারা এ জাতিকে গোলাম থেকে তষ্য গোলামে রূপান্তর করার জন্য যে কটি পদক্ষেপ নিয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম শিক্ষাব্যবস্থা। কারণ শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমেই একটি জাতির মনমগজে যে কোনো কিছু সহজেই গেঁথে দেয়া যায়। তাদেরকে যা গেলানো যায় তারা তাই গিলতে শিখে নেয়। তাই তারা তৎকালীন শিক্ষাব্যবস্থাকে দুটি ভাগে ভাগ করল: একটি সাধারণ শিক্ষা যে শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষিতরা ব্রিটিশ সাম্রাজ্য পরিচালনার জন্য একদল কেরনি তৈরি করবে। ভারত উপমহাদেশের অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা এই সাধারণ শিক্ষাকে সহজেই গ্রহণ করে নিলেও মুসলিমরা পারল না। তৎকালীন মুসলিম সমাজ আগে থেকেই ধর্মীয় কুসংস্কারে আকণ্ঠ ডুবে ছিল তাই তারা সাধারণ শিক্ষাকে খুব একটা গুরুত্ব দিল না। এছাড়া ইসলামের সংগ্রামী চরিত্র ক্ষীণ হয়ে গেলেও যা অবশিষ্ট ছিল, তা- ফকির সন্ন্যাসী আন্দোলন, সিপাহী বিদ্রোহ ও তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা ইত্যাদি আন্দোলনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াল। ফলশ্র“তিতে তারা ফন্দি আঁটল যেভাবেই হোক মুসলিমদের সংগ্রামবিমুখ করতে হবে। তারা শিক্ষাব্যবস্থার আরেকটি শাখা তৈরি করল। তৎকালীন বড় লাট ওয়ারেন হেস্টিংকস ১৭৮০ সালে কোলকাতা আলীয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে পূর্ব থেকে চলে আসা ইসলামের সকল ধরনের বিকৃত, কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও মতভেদে পরিপূর্ণ এমন এক সিলেবাস তৈরি করল যা মুসলিমদেরকে সম্পূর্ণরূপে কূপমণ্ডূতার অতল গহ্বরে তলিয়ে দিল। তারা ১৪৬ বছর ধরে ২৬জন খ্রিস্টান পণ্ডিত দিয়ে আমাদের ইসলাম শেখালো। তারা এমনভাবে ইসলাম শেখালো যে মাদ্রাসায় শিক্ষত হয়ে তারা যেন ধর্ম বিক্রি ছাড়া আর কোনোভাবে আয়রোজগার করতে না পারে। ফলে সমাজে ব্যাপকভাবে সংক্রমিত হলো ধর্মীয় কুসংস্কার, বিকৃত মাসলা মাসায়েল, ফতোয়াবাজী, মতভেদ। সেই কুসংস্কারের বেড়াজালে আটকে গেল নারীসমাজ। একসময়ের দুর্ধর্ষ যোদ্ধা জাতির মেয়েরা হয়ে গেল চারদেয়ালের মাঝে বন্দী। সকল প্রকার সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে নারীরা হয়ে গেল বিচ্ছিন্ন, পশ্চাদপদ।
এর ফলে মুসলিম সমাজের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেল। মুসলিম নারীরা হয়ে গেল গৃহপালিত পশুর মতো। তাদের সকল অধিকার হরণ করে যে বিকৃত ইসলামটা সমাজে চালু হয়ে গেল তাতে ক্রমান্বয়ে মানুষ অন্তর থেকে ইসলাম বিমুখ হয়ে পড়তে লাগল। অপরদিকে ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থার প্রথম ভাগ সাধারণ শিক্ষায় অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা অগ্রসর হয়ে ব্রিটিশদের অনুকরণ করে, তাদের রাজা বাদশাদের ইতিহাস, তাদের জ্ঞান-বিজ্ঞান সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিয়ে অনুগত কেরানি বনে গেল। দ্বিতীয়ভাগ মাদ্রাসা শিক্ষার কূপমণ্ডূকতা, সমাজে অসম্মান, অভাব-অনটন ইত্যাদি দেখে অনেক মুসলিমরাও তাদের সন্তানদের সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত কেরানি বানানোর চেষ্টায় নেমে গেল। সেখান থেকে যারা শিক্ষা গ্রহণ করল তাদের কোনো ইসলামি জ্ঞান থাকল না, তার ইতিহাস যা জানল তাও ইংরেজদের ইতিহাস, তারা জ্ঞান-বিজ্ঞান যা শিখল তা একজন উপযুক্ত কেরানি হওয়ার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু। সুতরাং ইংরেজদের প্রতি ভালবাসায় বুঁদ হয়ে আরেক পরত গোলামির শেকল মুসলমানরা গলায় পরে নিল। তারা নিজেদের ইতিহাস ভুলে মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিততের অবজ্ঞা করতে গিয়ে একসময় ইসলামকেই অবজ্ঞা করতে লাগল। তথাপি সমাজের একটা বিরাট অংশ ধর্মীয় কুসংস্কারের মধ্যে ডুবে রইল। তৎতালীন কুসংস্কার ও পশ্চাদপদ নারীদের উদ্ধার করতে ব্রত হলেন বেগম রোকেয়া। তিনি বললেন ‘ভগিনীগণ চক্ষু রগড়াইয়া জাগিয়া উঠুন, অগ্রসর হউন! মাথা ঠুকিয়া বল মা! আমরা পশু নই; বল ভগিনী! আমরা আসবাব নই; বল কন্যে আমরা জড়োয়া অলঙ্কার রূপে লোহার সিন্দুকে আবদ্ধ থাকিবার বস্তু নই; সকলে সম্বরে বল আমরা মানুষ।’
আজ ইংরেজরা চলে গেছে ঠিকই কিন্তু আমাদের গোলামির চরিত্র বদলায় নি। তাদের অন্ধ অনুকরণে সমাজের সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত একটি শ্রেণি আজ তাদের রীতি-নীতি, তাদের পোশাক-আশাক, তাদের চালচলন, তাদের উশৃঙ্খলতা, তাদের ইসলাম বিদ্বেষী মনোভাব সবই রপ্ত করেছে তষ্য গোলামের মতো। আর মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত শ্রেণি নারী স্বাধীনতার বিরোধিতায় এমনভাবে লিপ্ত হয়েছে যেন মেয়েরা বাচ্চা ধারণ, লালনপালন ও স্বামীসেবা ছাড়া আর কিছু না করে। তারা আমাদের কাছে যে গোলামি চেয়েছিল আমরা তা কড়ায়গণ্ডায় পর্ণূ করতে সক্ষম হয়েছি। সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষতরা একবারের জন্যেও পবিত্র কোর’আন খুলে দেখে নি যে- আল্লাহ নারীদেরকে কতটুকু স্বাধীনতা দিয়েছেন, তারা প্রকৃত ইসলামের ইতিহাস পড়ে দেখেন নি যে ইসলামের নারীরা সমাজে সর্বক্ষেত্রে কতটুকু অবদান রেখেছেন। আর মাদ্রাসায় শিক্ষতরা তাদের ধর্মব্যবসা, ধর্ম নিয়ে রাজনীতির ক্ষতির কথা চিন্তা করে ইসলামের প্রকৃত ইতিহাস মানুষের আড়ালে নিয়ে গেছে, প্রচার করে দিয়েছে মাদ্রাসাশিক্ষায় শিক্ষিত আলেম না হলে কারো কোর’আন বোঝার সাধ্য নেই। উভয় শ্রেণির এই আহাম্মকির ফলে আজ আমাদের সমাজের নারীদের মধ্যে কোনো ভারসাম্য নেই। ৯০ বছরের বৃদ্ধ দাদী এমনভাবে পর্দা করেন যে তাকে তার পুত্ররাও চিনতে ভুল করবে, কিন্তু তার ২০ বছরের নাতনী পাশ্চাত্যের অনুকরণে অনেকটা বেআব্র“ হয়ে বাজারে বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অর্থাৎ যার জন্য আল্লাহর নির্ধারিত পর্দা করা ফরজ নয় সে বিকৃত ইসলামের পর্দাপ্রথা অনুসরণ করে এমনভাবে চলছে যা আল্লাহ বলেন নি কিন্তু যার ওপর পর্দা ফরজ সে বেআব্র“ অবস্থায় চলাফেরা করছে। (এখানে একটি কথা মনে রাখতে হবে আমি বিকৃত ইসলামের পর্দার কথা বলছি না আমি পবিত্র কোর’আনে আল্লাহ যে পর্দা করার কথা বলেছে, রসুলের সময় নারীগণ যে পর্দা গায়ে রেখে যুদ্ধ করেছেন আমি সেই পর্দার কথা বলছি)। সবকিছু মেলালে দেখা যাবে আমরা এক তালগোলে অদ্ভুত রকমের সমাজব্যবস্থার মধ্যে পতিত হয়েছি। আমরা ইংরেজও নই আবার বাঙালিও নই, সংকর এক নতুন প্রজাতি। আজ ঐসকল বুর্জোয়াদের তৈরি গণতন্ত্রের নামে যে জীবনব্যবস্থা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে তা প্রকারান্তরে আমাদের গলায় গোলামির ফাঁস আরো শক্ত করে পরিয়ে দিয়েছে। এই সিস্টেমটাই হলো ঐক্যবিমুখ, স্রষ্টাবিমুখ, আত্মাহীন এক অমানবিক সিস্টেম। এর যাঁতাকলে পড়ে নারী স্বাধীনতার নামে, সম অধিকারের নামে সমাজের প্রতিটি স্তরে ভাঙ্গনের যে বিষ ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে তার পরিণতি এখন আমরা পুরোমাত্রায় ভোগ করছি। এই সিস্টেম আজ সমাজকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে দিয়েছে। রাজনৈতিকভাবে দলাদলি, অনৈক্য, পারিবারিকভাবে বিভেদ এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে যে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় স্বামী-স্ত্রী পর্যন্ত এক বিছানায় ঘুমাতে পারে না। কিন্তু প্রকৃত ইসলাম নারীর যে স্বাধীনতা দিয়েছে, যে অধিকার দিয়েছে তা অকল্পনীয়, অভাবনীয়। সেই স্বাধীনতা গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র কেউই দিতে পারে নি। পবিত্র কোর’আনে আল্লাহ বলেন(১) মু‘মিন নর ও মু‘মিন নারী একে অপরের বন্ধু, তারা সৎকাজের নির্দেশ দেয় এবং অসৎ কাজে নিষেধ করে- সুরা আনফাল-৭১; (২) পুরুষ যা অর্জন করে তা তার প্রাপ্য অংশ এবং নারী যা অর্জন করে তা তার প্রাপ্য অংশ।- সুরা নিসা-৩২; (৩) ‘আমি তোমাদের মধ্যে কর্মে নিষ্ঠ কোনো নর অথবা নারীর কর্ম বিফল করি না; তোমরা একে অপরের অংশ। সুরা আল এমরান-১৯৫, (৪) মু’মিন হয়ে পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে কেউ ভাল কাজ করবে তাকে আমি নিশ্চয়ই পবিত্র জীবন দান করব এবং তাদেরকে তাদের কাজের শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার দান করব। সুরা নাহল-৯৫। এই আয়াতগুলোতে কি আল্লাহ নারী পুরুষের বিশেষ কোনো ব্যবধান রেখেছেন? ব্যবধান তো রাখেনই বরং তিনি বলেছেন একে অপরের বন্ধু, প্রত্যেকে যা রোজগার করবে তার প্রাপ্য অংশ তার এমনকি তিনি বলেছেন নারী পুরুষ একে অপরের অংশ। পবিত্র কোর’আনেই এই কথাগুলোরই প্রতিফলন ঘটেছিল রসুলাল্লাহ ও তার সাহাবীদের জীবনে। আল্লাহর রসুলের যুগের নারীদের রাষ্ট্রীয়, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক সকল কাজে অংশগ্রহণ, মসজিদে গিয়ে জুমাসহ পাঁচ ওয়াক্ত জামাতে সালাহ আদায় এমনকি যুুদ্ধক্ষেত্রেও অবাধ বিচরণ ছিল। তারা মহানবীর সামনা-সামনি বসে আলোচনা শুনতেন, শিক্ষা গ্রহণ করতেন, মহানবীকে প্রশ্ন করে জরুরি বিষয় জেনে নিতেন, অনেক জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শও দিতেন। এ সময় মহানবী ও মেয়েদের মাঝে কোনো কাপড় টাঙ্গানো ছিল এই ব্যাপারে কেউ কোনো দলিল দেখাতে পারবে না। নারীরা মহানবীর (দ:) সাথে থেকে যুদ্ধ করেছেন, শত্র“দের হামলা করেছেন, সৈন্যদের খাবার, পানীয় ও অন্যান্য রসদ সরবরাহ করেছেন, আহতদের চিকিৎসা দিয়েছেন, নিহতদের দাফনে সহায়তা করেছেন। ওহুদের যুদ্ধে রসুলাল্লাহ (দ:) যখন সাংঘাতিক আহত হন, তখন কাফেরদের সম্মিলিত আক্রমণের মুখে রসুলাল্লাহকে প্রতিরক্ষা দেওয়ার জন্য তলোয়ার হাতে অতি গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন উম্মে আম্মারা (রা.)। পরবর্তীতে রসুলাল্লাহ বলেছিলেন, “ওহুদের দিন যেদিকে তাকাই কেবল উম্মে আম্মারাকেই (রা.) দেখতে পেয়েছি।” যে যোদ্ধাদেরকে তারা খাবার, পানীয় এবং অন্যান্য রসদ সরবরাহ করেছেন, চিকিৎসা ও সেবা দিয়েছেন তারা অধিকাংশই ছিলেন বর্তমান আলেমদের ভাষায় “বেগানা পুরুষ”। মসজিদে নববীর এক পাশে তৈরি করা হয়েছিল যুদ্ধাহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা। এই বিশেষ চিকিৎসা ইউনিটের অধ্যক্ষ ছিলেন একজন নারী, রুফায়দাহ (রা.)। পক্ষান্তরে ব্রিটিশরা, আজ যাদের জীবনব্যবস্থা দিয়ে দুনিয়া চলছে তারা নারীদেরকে ভোটের অধিকার দিয়েছে ১৯২৮ সনে, যার এখনও একশ বছর হয় নি। তারা সেনাবাহিনীতে মেয়েদের অন্তর্ভুক্ত করেছে তারও একশ বছর হয় নি। যুদ্ধাহতদের সেবা দেওয়ার জন্য ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলকে নার্সিং জগতে দেবীর আসনে অধিষ্ঠিত করা হয়, তাকে আধুনিক নার্সিং-এর পুরোধা বলা হয়, কিন্তু ১৪০০ বছর আগের রুফায়দাহর (রা.) কথা এই এ জাতিকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আজ ধর্মব্যবসায়ী কূপমণ্ডূক আলেমদের অপপ্রচারে, বিকৃত পর্দাপ্রথার মাধ্যমে এই জাতির অর্ধাংশ নারীদেরকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে, কেননা প্রকৃত ইসলামের নারী অবলা নয়। পর্দাপ্রথা ছাড়াও আরও হাজারো রকম ফতোয়ার বেড়াজালে বিকৃত ইসলাম নারীদেরকে আটকে রাখে। এইসব ভ্রান্ত বিষয় বিকৃত ইসলামের আলেমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন এবং প্রচার করেন, যার দ্বারা ইসলাম-বিদ্বেষীদের অপপ্রচারের পালে আরও হাওয়া লাগে। তারা মনে করে পশ্চিমা বস্তুবাদী সভ্যতা এসে নারীজাতিকে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত কোরে ধর্মীয় অন্ধত্ব, পশ্চাদপদতা ও অশিক্ষার কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে পাশ্চাত্য সভ্যতা নারীদেরকে মুক্তি দেয়ার শ্লোগান তুলে পণ্যে পরিণত করেছে। নারীদের ব্যাপারে তাদের যে দৃষ্টিভঙ্গি আমরা দেখতে পাই তা ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি নয়, এটা তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি। এই বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গিকে ইসলাম হিসাবে চালিয়ে দেওয়ার কারণে পশ্চিমা প্রভাবাধীন গণমাধ্যমগুলি বিকৃত ইসলামের কূপমণ্ডূকতার দিকে আঙ্গুল উঁচিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে যে ইসলাম নারীদের অবরুদ্ধ করে রাখে, মানুষের বাক-স্বাধীনতায়, চিন্তার স্বাধীনতায়, চলাফেরার স্বাধীনতায় বিঘ্ন ঘটায়, তাই যে কোনোভাবেই হোক ইসলামের উত্থানকে রোধ করতে হবে।
যেহেতু এদেশের ৮৫ ভাগ মানুষ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী সেহেতু বর্তমান পরিস্থিতিতে নারীদের প্রকৃত অধিকার ও মর্যাদা ফিরে পেতে এবং বেগম রোকেয়ার যে ইচ্ছা ‘আমি চাই সেই শিক্ষা যাহা তাহাদিগকে (নারীদেরকে) নাগরিক অধিকার লাভে সক্ষম করিবে।’ এবং তার সেই কথা ‘নারী পুরুষ দেহের দুটি চোখ স্বরূপ, মানুষের সব রকমের কাজকর্মের প্রয়োজনেই দুটি চোখের গুরুত্ব সমান’ বাস্তবায়ন করতে প্রকৃত ইসলামের ছায়াতলে না এসে এ জাতির মুক্তি মিলবে না। নারীদের সকল নিগ্রহ, লাঞ্ছনা, বঞ্চনা এমনকি সম্ভ্রমের পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে পারে দীনুল হক, প্রকৃত ইসলাম।

সনাতন ধর্মের কথা পারিবারিক শৃঙ্খলায় নারী

সনাতন ধর্মের কথা পারিবারিক শৃঙ্খলায় নারী

হুমায়ূন কবির:

কোকিলানাং স্বররূপং, স্ত্রীনাং রূপং পতিব্রতম,
পুরুষাণাং বিদ্যারূপং, তপস্বীনাং ক্ষমারূপং।
ভাবার্থ: কোকিলের রূপ তার কণ্ঠস্বরে হয়, পতিভক্তি হলো নারীর রূপের পরিচয়,
পুরুষের রূপ তার বিদ্যাগুণে হয়, ক্ষমাগুণে তপস্বী চিরকান্তিময়।
সুপ্রাচীন এই সংস্কৃত প্রবচনটিতে আমরা জানতে পারি একটি নিগুড় সত্য যা নিয়ে বিভ্রান্তি ও বিতর্কের কোনো শেষ নেই। বিতর্কটি হচ্ছে মানুষের রূপের মানদণ্ড কী? মানুষের প্রকৃত রূপের পরিচয় পাওয়া যায় তার চারিত্রিক গুণাবলীতে, চেহারায় নয়। নারীর রূপের মানদণ্ড হচ্ছে তার স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ততা, আনুগত্য ও ভক্তি। এটাই হচ্ছে নিত্যসত্য, যার অস্বীকার পারিবারিক জীবনের শৃঙ্খলাকে একেবারে বিধ্বস্ত করে দিতে পারে।
মানুষের জন্য সবচেয়ে নির্মল, শান্তিদায়ী, চিত্ত-প্রশান্তিকর, ক্লান্তি নিবারক, স্বস্তির আশ্রয় তার পরিবার। কারণ নিজ পরিবারে একজন মানুষ যেমন নিখাদ ভালোবাসা লাভ করে তার তুলনা আর কোথাও নেই। পরিবারিক শান্তিবিধানে পুরুষ ও নারী উভয়ের কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। এই দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলি যুগে যুগে আল্লাহ নবী রসুল অবতারদের মাধ্যমে মানুষকে জানিয়েছেন, যার ফলে পারিবারিক জীবনের একটি ব্যবস্থা, সংস্কৃতি আমাদের সমাজে আমরা দেখতে পাচ্ছি। আল্লাহ পৃথিবীতে একাধিক ধর্ম পাঠান নি, তিনি পাঠিয়েছেন একটি দীন, যার নাম বাংলায় সনাতন জীবনব্যবস্থা বা ধর্ম আর আরবিতে দীনুল কাইয়্যেমাহ। পারিপার্শ্বিকতাভেদে এই দীনের বিধান পরিবর্তন হয়েছে। একেক জাতি গোষ্ঠীতে একেক অবতার, নবী, রসুল এসেছেন যাদেরকে অন্য জাতির লোকেরা অজ্ঞতাবশত গ্রহণ করে নেয় নি। এভাবে ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের অস্তিত্ব সৃষ্টি হয়েছে। সনাতন ধর্ম মানুষের নৈতিক চরিত্র তৈরি করে, মানুষের ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে জীবনের সর্ব অঙ্গনের বিধান দেয়। মানুষের নৈতিক শিক্ষার একমাত্র উৎসই হচ্ছে ধর্ম। আজকে পৃথিবীর সকল মানুষ, সকল ধর্মের অনুসারীরাই তাদের জীবন-বিধাতা হিসাবে পাশ্চাত্য সভ্যতাকে গ্রহণ করে নিয়েছে, সুতরাং তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বিচারিক, জাতীয়, সামষ্টিক জীবনের ক্ষেত্রসমূহ পরিচালিত হচ্ছে পাশ্চাত্য সভ্যতার গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, পুঁজিবাদ, রোমান দণ্ডবিধি, ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদি মতবাদের দ্বারা। লক্ষণীয় যে, মানবরচিত কোনো জীবনব্যবস্থাতেই ব্যক্তিগত, পারিবারিক জীবন সুখময়, শান্তিময় করার পথ দেখায় না। পাশ্চাত্যের কোনো মতবাদে বলা নেই যে, বাবা-মাকে সেবা করতে হবে, বড় ভাইকে পিতার মতো জানতে হবে, ওয়াদা দিলে রক্ষা করতে হবে, ক্ষুধার্তকে খাদ্যদান করতে হবে, কিভাবে মানুষ মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘোটিয়ে মানুষ হিসাবে মহান হবে ইত্যাদি। ধর্মকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেওয়ার ফলে আমাদের সমাজের প্রতিটি অঙ্গনে চরম আত্মিক শূন্যতা, নৈতিকতাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে ধর্ম থেকে আগত যে নৈতিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিগুলি আমাদের ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে ধরে রেখেছিল, সেই শৃঙ্খলার বাঁধন, বিশেষ করে আত্মিক বাঁধন ঢিলে হয়ে গেছে, বহু স্থানে কেবল ঢিলেই হয় নি, একেবারে নিশ্চিহ্নও হয়ে গেছে। পশ্চিমা দেশগুলিতে অধিকাংশ বিয়েই স্থায়ী হয় না, যতদিন বিয়ে থাকে বনিবনা থাকে না, অশান্তি চলতে থাকে। যে বাবা মা সন্তানদেরকে অসীম মায়া মমতায় তিলে তিলে বড় করে তোলে, সেই বাবা মাকে বৃদ্ধ বয়সে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বৃদ্ধাশ্রমে। সমাজের প্রতিটি নারী পুরুষ ব্যভিচারে লিপ্ত, ব্যভিচার কোনো অপরাধ হিসাবেই গণ্য হয় না। পাশ্চাত্য সভ্যতার তৈরি জীবনব্যবস্থা ও সংস্কৃতি এভাবেই গ্রাস করে নিয়েছে মানুষের সকল মনুষ্যত্ব। সে শিখিয়েছে- ধর্ম নারীর অধিকারকে খর্ব করে, নারীকে বন্দী করে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সে নারীদেরকে ক্ষেপিয়ে দিয়েছে, এভাবে সে নারী-পুরুষের মধ্যে একটি স্নায়ুযুদ্ধ লাগিয়ে রেখেছে, এরই ফলশ্র“তিতে আমাদের সমাজের অধিকাংশ ‘আধুনিক’ পরিবারে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে নেই কোনো শ্রদ্ধাবোধ। তারা কে কার উপরে কর্তৃত্ব করবে তা নিয়ে চরম দ্বিধাগ্রস্ত, একে অপরের উপর আধিপত্য বিস্তারের কলহে লিপ্ত। শুরুতেই যে কথাটি বলেছিলাম যে, পরিবার হচ্ছে শান্তির আগার, সেই কথাটি বর্তমানের পরিবারগুলির ক্ষেত্রে আর প্রযোজ্য নয়। এই অবস্থা পেছনের কারণ পাশ্চাত্য সভ্যতার তৈরি আত্মাহীন, ভারসাম্যহীন জীবনব্যবস্থা ও বস্তুবাদী সংস্কৃতি গ্রহণ করে নেওয়া।

Tuesday, December 8, 2015

সৃষ্টির কল্যাণই ধর্ম

সৃষ্টির কল্যাণই ধর্ম


রাকীব আল হাসান:
——————
প্রাণীগণের অভ্যুদয়, ক্লেশনিবারণ ও পরিত্রাণের নিমিত্তই ধর্ম্মের সৃষ্টি হইয়াছে; অতএব যাহা দ্বারা প্রজাগণ অভ্যুদয়শালী, ক্লেশবিহীন ও পরিত্রাণ প্রাপ্ত হয়, তাহাই যথার্থ ধর্ম্ম। (কালি প্রসন্ন সিংহ অনুদিত মহাভারত ২য় খণ্ড: শান্তিপর্ব, নবাধিকশততম অধ্যায়- পৃষ্ঠা: ৬৪৪)।
মহাভারতের এই সত্যবাণী থেকে বোঝা যায় যে, ধর্মের মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষের কল্যাণ, সৃষ্টির কল্যাণ, জগতের কল্যাণ। যা দ্বারা মানুষের কল্যাণ হয়, সমাজের কল্যাণ হয়, সৃষ্টির কল্যাণ হয় তা-ই ধর্ম আর অকল্যাণকর সবই অধর্ম। সত্য প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু মানুষ নয় প্রতিটি প্রাণী, প্রতিটি উদ্ভিদ নিরাপদ থাকবে। কারণ ছাড়া একটি গাছের পাতাও কেউ ছিড়বে না।
আরেকটু বিস্তারিতভাবে বললে ধর্ম ও ধারণ একই শব্দ থেকে এসেছে। যে গুণ বা বৈশিষ্ট ধারণ করে কোনো বস্তু তার স্বকীয়তা, নিজস্বতা পায় তাকেই ঐ বস্তুর ধর্ম বলে। যেমন একটি লৌহদণ্ড আকর্ষণ করার গুণ ধারণ করে চুম্বকে পরিণত হয়। এই আকর্ষণ করার গুণটিই হলো ঐ চুম্বকের ধর্ম। যদি কোনো কারণে চুম্বক তার ধর্ম তথা আকর্ষণ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে তবে সেটি পুনরায় লৌহে পরিণত হয়, সেটি আর চুম্বক থাকে না। শ্রেষ্ঠতম সভ্যতার লীলাত্রে ভারতবর্ষের তিন কোটি মানুষ ব্রিটিশ শাসনের শেষার্ধে না খেয়ে মারা গেছে। কিন্তু সেই শোষণ নিপীড়নের কথা আমরা জাতিগতভাবে অবলীলায় বিস্মৃত হয়েছি। আজকের উত্তর আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়া সেই ইউরোপেরই সম্প্রসারিত অংশ যদিও এক সময় সেগুলোও ব্রিটিশ কলোনি ছিল। সেখানকার আদিবাসীদেরকে কীভাবে নির্মূল করা হয়েছিল তা পাঠ করলে কঠোরহৃদয় মানুষও অশ্র“সংবরণ করতে পারবেন না। উপনিবেশ যুগের সীমাহীন শোষণের ফলে পাশ্চাত্য জগৎ হয়ে গেল উন্নত ধনী বিশ্ব, আর এশিয়া, আফ্রিকার দেশগুলো হয়ে গেলো অনুন্নত, পশ্চাৎপদ তৃতীয় বিশ্ব। গত একশ বছরে তারা কেবল ভাগ্যোন্নয়ন, ক্ষুণিœবৃত্তির নিবারণ, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও ভৌগোলিক স্বাধীনতার জন্য প্রাণপণ লড়াই করেছে, কিন্তু পেরে উঠছে না। কারণ পশ্চিমাদের শোষণ এখনো চলছে, তবে ভিন্নরূপে। ঋণের বোঝা দিন দিন বাড়ছে। ওদিকে এই একশ বছরে ইউরোপ জ্ঞান বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে এত বেশি অগ্রগতি অর্জন করেছে যে বাকি দুনিয়ার পক্ষে তাদের উপর নির্ভরশীল ও অনুগামী হওয়া ছাড়া আর কোনো গতি নেই। তারাই আজ এই পশ্চাৎপদ দেশগুলোর মানুষকে বাথরুম সেরে হাত ধোয়ার উপকারিতা শেখায়।
তিনি বলেন, এই অবস্থা থেকে আবারও এই মুসলিম নামক জাতিকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে ফিরে যেতে হলে জঙ্গিবাদের দ্বারা ইসলামের উপর যে কলঙ্কটিকা পশ্চিমা ষড়যন্ত্রকারীরা লেপন করে দিয়েছে তাকে মুছে ফেলে প্রকৃত ইসলামের বিকাশ ঘটাতে হবে। অন্যথায় জঙ্গিবাদ নামক মতবাদের দানব আমাদের দেশটিকেও গ্রাস করে নেবে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টির কথা সবাই বলেন কিন্তু কারা সেটা করবে? একজন পেশাদার রাজনীতিবিদ যখন তার বক্তৃতায় মানুষকে দেশমাতৃকার জন্য ত্যাগস্বীকার করার আহ্বান করেন তাতে মানুষ কতটা অনুপ্রাণিত হয়? অনেকে বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আলেম সাহেবদের জুম্মার খোতবায় বয়ান করা উচিত, তাদের বিরাট দায় রয়েছে। কিন্তু ধর্মজীবী আলেমসমাজ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে চাইলে তা কখনোই গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। কারণ জঙ্গিবাদীরা ঈমানী চেতনা দ্বারা আÍোৎসর্গীকৃত পাক্ষান্তরে ধর্মজীবী দরবারী আলেমরা টাকার বিনিময়ে ওয়াজ করেন। তাদের ওয়াজের কোনো তাসির (প্রভাব) মানুষের উপর পড়ে না, জনতা কেবল ওয়াজ শোনার সওয়াবটারই প্রত্যাশী, যদিও এতে কোনো ফায়দা হয় না। দুর্নীতিবাজ পুলিশ যদি ঘুষের বিরুদ্ধে উপদেশ দেয় তার ফল যতটুকু হবে, লেবাসধারী ধর্মব্যবসায়ীরা বা ধর্ম থেকে পার্থিব স্বার্থ হাসিলকারীরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ওয়াজ করলে ততটাই ফলপ্রদ হবে।
তিনি আরও বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আদর্শিক লড়াইয়ের কাজটি করতে পারে হেযবুত তওহীদ। কারণ হেযবুত তওহীদকে জঙ্গিবাদের অসারতা প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ধর্মীয় যুক্তিনির্ভর প্রমাণ আল্লাহ দান করেছেন এবং আমরা সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে মানবতার কল্যাণার্থে তা মানুষের সামনে তুলে ধরছি। তথাপি স্রেফ সন্দেহ করে আমাদের বিরুদ্ধে এদেশের মিডিয়াগুলো অনেক অপপ্রচার করেছে। ফলে আমরা বিরাট হয়রানির শিকার হয়েছি। পাঁচ শতাধিক সন্দেহমূলক মামলা করা হয়েছে। কিন্ত আজ পর্যন্ত একটি মামলাতেও তদন্ত করে একটি অপরাধ বা আইনভঙ্গ করার প্রমাণ কেউ দেখাতে পারে নি। এর কারণ আমাদের আন্দোলনের একটি নীতি হচ্ছে, আমরা দেশের আইন কোনো অবস্থাতেই ভঙ্গ করব না। আমরা এদেশে আইন মান্য করার ক্ষেত্রে একটি রেকর্ড স্থাপন করেছি যা কোনো রাজনীতিক দল দূরের কথা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও দাবি করতে পারবে না। তাদের হাজার হাজার সদস্য সাজা পায় কিন্তু আমাদের প্রতিটি সদস্য আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। যার ফলে বর্তমানের এই চরম সঙ্কটপূর্ণ সময়ে হেযবুত তওহীদ বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি প্রিয় নামে পরিণত হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই সত্য একদিন সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং বিশ্বমানবতাকে মুক্তির পথ প্রদর্শন করবে।

চুলের যত্নে অদ্বিতীয় অ্যালোভেরা

চুল, ত্বক এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের ভার নিশ্চিন্তে ছেড়ে দিন সবুজ ক্যাকটাস অ্যালোভেরার দায়িত্বে। ত্বক ফর্সা করার ক্রিম থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে ব্যবহৃত ডায়েট সাপ্লিমেন্টের কয়েক লাখ ডলারের বাণিজ্যের মূল উপাদান হচ্ছে অ্যালোভেরা।
অতি উপকারী ভেষজ অ্যালোভেরা গাছ কিন্তু আপনি ঘরেই রাখতে পারেন। মাত্র এক কিংবা দুই ফুট লম্বা এই গাছ টবেই লাগানো সম্ভব।
অ্যালোভেরার স্বচ্ছ প্রতিটি পাতায় রয়েছে ৯৬ শতাংশ পানি এবং ভিটামিন এ, বি, সি ও ই। অ্যালোভেরার রস কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অব্যর্থ। কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ অ্যালোভেরা জেল ত্বকের কোষে পুষ্টির যোগান দেয় এবং একই সঙ্গে ত্বকের টক্সিন দূর করে।
চীনা এবং ব্রিটিশ আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় একবাক্যে স্বীকৃত হয়েছে অ্যালোভেরার উপকারিতা। অ্যালোভেরা খাওয়া অথবা ত্বকে লাগানো দুভাবেই আপনি উপকৃত হতে পারেন। আয়ুর্বেদ চিকিৎসা শাস্ত্রে অ্যালোভেরাকে ‘অলৌকিক ভেষজ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ এই একমাত্র ভেষজটি কাটাছেঁড়া, শুষ্ক ত্বক এবং পোড়া সারাতে কাজ করে।
দিল্লির চিকিৎসক ডা. দীপালি ভরদোয়াজ বলেন, ‘ভিটামিন সি, ই এবং বিটা ক্যারোটিন সৃমদ্ধ অ্যালোভেরা একদিকে যেমন পুষ্টিকর তেমনি বার্ধক্য ধরে রাখতে সক্ষম। তৈলাক্ত ত্বকে ময়েশ্চরাইজারের কাজ করে অ্যালোভেরা। ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নিয়ে ত্বককে রাখে প্রাণবন্ত।
সকালে খালি পেটে এক গ্লাস অ্যালোভেরার জুস পানের পরামর্শ চিকিৎসাবিদদের। এটি হজম শক্তি বাড়ায় এবং পাকস্থলির যেকোনো সমস্যা সমাধানে কাজ করে। আপনি যদি ভেতর থেকে সুস্থ থাকেন তাহলে বাহ্যিক সৌন্দর্য্য তো প্রকাশ পাবেই।
অ্যালোভেরায় বিদ্যামান প্রোটোলেটিক এনজাইম মাথার ত্বকের মরা কোষগুলোতে সারিয়ে তুলতে ভূমিকা রাখে। এটি কন্ডিশনার হিসেবেও সেরা এবং চুলকে মসৃন ও উজ্জ্বল করে। এটি চুলের বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে এবং তালুতে চুলকানি প্রতিরোধ করে। চুলকে কন্ডিশনিং করে খুশকি দূর করতেও কাজ করে এই ওষধি ভেষজটি।
অ্যালোভেরার উপকারিতা সম্পর্কে লেখক ড্যানি গেজ বলেন, ‘অ্যালোভেরায় রয়েছে চুলের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক প্রোটিন ক্যারাটিন। রয়েছে অ্যামাইনো এসিড, অক্সিজেন, কার্বন এবং অল্প পরিমাণে হাইড্রোজেন এবং নাইট্রোজেন। অ্যালোভেরার উপাদানগুলো চুলের নমনীয়তা বাড়িয়ে এর ভঙ্গুরতা দূর করে।’
অ্যালোভেরা প্যাক কমপক্ষে সপ্তাহে একবার কিংবা একদিন অন্তর আপনি ব্যবহার করতে পারেন। চারপাশের সবুজ অংশ ফেলে দিয়ে পিচ্ছিল উপাদান মাথায় ঘষে নিন। এটি চুলতে মজবুত, নমনীয় এবং প্রাণবন্ত করবে।

নদীতে জাল দিয়ে মাছ নয়, টাকা আর টাকা!























অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় দানিউব নদীতে এক ঝাক মাছের মতো ভাসছিলো ইউরোর চকচকে বেশকিছু ব্যাঙ্ক নোট।  অল্প বয়সী এক ছেলে তখন ওই নোটগুলো দেখতে পেয়ে জাল নিয়ে নদীতে নেমে পড়ে এবং সাতার কেটে সেগুলো তীরে নিয়ে আসে। একশো বা দুশো নয়, গুণে দেখা গেলো ওই ব্যাঙ্ক নোটের মূল্য এক লাখ ইউরোরও বেশি। হায়রে কপাল, ছেলেটির জন্যে তখনও শিকে ছেড়েনি।
স্থানীয় একটি পত্রিকা বলছে, নদীর পার দিয়ে হেঁটে যাওয়া কয়েকজন লোক প্রথমে মনে করেছিলো ছেলেটি নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করছে। তখন তারা পুলিশকে খবর দেয়।
বিধিবাম!
ছেলেটি যখন ব্যাঙ্ক নোটগুলো বগলদাবা করে তীরে এসে পৌঁছায় ততোক্ষণে সেখানে এসে হাজির হয় পুলিশ।  তারপর সেই টাকা চলে যায় পুলিশের হাতে। সবগুলোই ৫০০ আর ১০০ টাকার নোট, একেবারেই আনকোরা। কিন্তু টাকার ব্যাপারে ছেলেটি দমে যায়নি এখনও।
পুলিশের কাছে সে ওই টাকার ভাগ চাইছে। কারণ সে দাবি করছে যে নদীতে ঝাপ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সে এই টাকা উদ্ধার করেছে।
অস্ট্রিয়ায় সাধারণত কেউ যদি অর্থ খুঁজে পান তারপর সেটা পুলিশের কাছে জমা দেন তাহলে তাকে ওই অর্থের ৫ থেকে ১০ ভাগ দেওয়া হয়ে থাকে।
পুলিশ বলছে, এক বছরের মধ্যে যদি টাকার মালিককে খুঁজে না পাওয়া যায় তাহলে শেষ পর্যন্ত পুরোটা টাকাই এই ছেলেটিকে দিয়ে দেওয়া হবে।
পুলিশ এখন এই রহস্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে যে এত্তো ইউরো নদীতে আসলো কিভাবে? প্রথমে তারা ভেবেছিলেন জাল নোট। কিন্তু পরে তারা পরীক্ষা করে দেখেছেন নোটগুলো আসল। পুলিশের একজন মুখপাত্র বলছেন, কোনো অপরাধের সাথে তারা এখনও এই টাকার সংযোগ খুঁজে পাচ্ছেন না। ইউরোর নোটগুলো এখন শুকানো হচ্ছে।

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে দেশকে বাঁচানো এখনো সম্ভব

[দৈনিক বজ্রশক্তির দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে “বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার নানামুখি ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় জনসচেতনতার বিকল্প নেই” শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশেরপত্র.কম এর নির্বাহী সম্পাদক রিয়াদুল হাসান। তার বক্তব্যের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো।]
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জনসম্পৃক্ততার প্রসঙ্গটি যখনই আসে তখনই জনগণকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে অনুপ্রাণিত করা, উদ্দীপ্ত করার জন্য একটি আদর্শের প্রয়োজন পড়ে। সাম্রাজ্যবাদী ও ধর্মব্যবসায়ীদের সম্মিলিত ষড়যন্ত্রেই আজকে সারা বিশ্বে জঙ্গিবাদের উৎপত্তি হয়েছে। এই সংকটের সূচনা আফগানিস্তান থেকেই। এভাবে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদকে ভিত্তি করে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রায় শুরু হয়ে গেছে। যে কোন মুহূর্তে একটা কিছু হবে, পরিস্থিতি প্রতি মুহূর্তে অবনতির দিকে যাচ্ছে। ভারী ভারী মারণাস্ত্র নিয়ে আসা শুরু হয়েছে। পুতিনকে ইতোমধ্যেই অ্যাটম বম্ব নিক্ষেপ করার জন্য প্ররোচিত করা হচ্ছে। আজকে যে এই পর্যন্ত আসলো এটা তো এক দিনে হয় নাই। তাহলে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হলে জনগণের সামনে দুইটা জিনিস পরিষ্কার করতে হবে। একটা হলো এসব জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদের উদগাতা কারা, এর উৎপত্তি কোত্থেকে। শুধু অন্ধের মত ধর্মকে দোষারোপ করে লাভ হবে না। কোন ধর্মই সন্ত্রাসবাদের জন্ম দেয় নাই। ধর্ম যখন ধর্মব্যবসায়ীদের হাতে বন্দী হয়ে গেছে, তারা যখন বাণিজ্যিক স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করতে শুরু করেছে, ধর্মের অপব্যবহার করেছে, হারামকে হালাল, হালালকে হারাম বলা হয়েছে, জায়েজকে নাজায়েজ, নাজায়েজকে জায়েজ বলা হয়েছে। জাতির ক্ষতি, জনগণের ক্ষতি চিন্তা না করে ব্যক্তিস্বার্থে, গোষ্ঠী স্বার্থে তারা ধর্মকে ব্যবহার করেছে। এটাকে কাজে লাগিয়েছে সাম্রাজ্যবাদ। তাই আমি বলব বর্তমানের যে সন্ত্রাসবাদ তা ধর্মব্যবসায়ী আর সাম্রাজ্যবাদীদের ষড়যন্ত্রের সম্মিলিত রূপ। আমাদেরকে সমস্যার মূল গোড়া চিহ্নিত করতে হবে।
তারপর আরেকটা জিনিষ বুঝতে হবে যে আমাদের জনগণ ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত। ধর্মকে তারা বিশ্বাস করে। অল্পসংখ্যক লোক আছে তারা ধর্মের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আমাদের গণমাধ্যমগুলো ফোকাস করছে একেকজন একেক দিকে। মিডিয়ায় দেখা যায় অধিকাংশই ইসলামবিদ্বেষী কথা, ধর্মহীন কথা। কারণ আমাদের মিডিয়া তো পশ্চিমাদের অনুসারীমাত্র, পশ্চিমা বড় বড় গণমাধ্যমগুলো তাদের ইমাম, আর আমাদের মিডিয়াগুলো সেই ইমামের অনুসারী, মুসল্লী। ইমামরা যে দিকে সেজদা করে, মুসল্লি মিডিয়ারাও সেদিকেই সেজদা করে। এই মিডিয়ারা একচেটিয়াভাবে ধর্মবিরোধিতা করছে, মানুষের দৃষ্টিকে এদিক সেদিকে নিয়ে যাচ্ছে বিক্ষিপ্ত বিষয়ের উপর ফোকাস করার মাধ্যমে। জনগণ বিভ্রান্ত হয়ে যাচ্ছে, পথ দেখছে না। আমাদের জনগণকে বুঝাতে হবে যে জঙ্গিবাদের উৎপত্তি কোথা থেকে, কে তাকে বড় করছে।
দ্বিতীয় যেটা বুঝাতে হবে সেটা হচ্ছে, জনগণ, আপনারা যে নির্বিকার থাকেছেন, খাচ্ছেন-দাচ্ছেন, ঘুমাচ্ছেন, আপনারা ভাবছে এটা সরকারের দায়, পুলিশের মাথাব্যথা। কিন্তু এটা সরকারের মাথাব্যথা নয়। জনগণ হলো দেহ আর সরকার তার মাথা। সরকারের মাথাব্যথা হলে শরীরও সুস্থ থাকে না। তাই জনগণকেও ভূমিকা রাখতে হবে, তাকেও চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। তাকে শিক্ষা নিতে হবে যে, আপনারাই মরছেন সিরিয়াতে, আপনাদের বউ-বাচ্চা প্রাণ হারাচ্ছে, লাঞ্ছিত হচ্ছে, আপনারই উদ্বাস্তু হবে, না খেয়ে মরবেন। রাজনীতি যারা করছে তারাও মরে, তবে দুই চারজন স্বার্থপর পালিয়ে গিয়ে রাজনীতিক আশ্রয় পায়। সুতরাং আমাদের দেশ আক্রান্ত হলে আমরা যারা সাধারণ জনতা, আমরাই মরব, আমাদেরই বাড়িঘর, ব্যবসা-বাণিজ্য যাবে, মান সম্মান সব যাবে, আমাদের মাথার উপরে ছাদ থাকবে না, পায়ের নিচে মাটি থাকবে না। আমাদের এক চিলতে দেশ সেটাও হারাবো। আমাদের বংশধর বড় হবে শরণার্থী শিবিরে। এটা বাস্তবতা। সুতরাং জনগণ কেন সংযুক্ত হবে এটা তাদেরকে বুঝাতে হবে।
জনগণকে ধর্ম দিয়ে বুঝাতে হবে। সেক্যুলার দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বোঝালে হবে না, কারণ জঙ্গিবাদ সেক্যুলার সমস্যা নয়, এটি ধর্মীয় অপব্যাখ্যা। এর সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরতে হবে। যেমন কোর’আনে কেতাল করতে বলা হয়েছে, রাসুল কেতাল করেছেন কিন্তু তিনি কখন করেছেন? তিনি যখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন তখন করেছেন। জঙ্গিরা এ বিষয়ে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। আমাদের দেশে একটি জঙ্গিবাদী ব্যক্তি বা সংগঠন হঠাৎ একজন বিরুদ্ধমতের মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করছে। তার হাতে তো রাষ্ট্রশক্তি নেই, সুতরাং তার এই কাজ তো ইসলাম সমর্থনই করে না। জেহাদ মানে কী? জেহাদ মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা। যারা নিজেরাই অন্যায় করছে তারা আবার সেটাকে জেহাদ বলে প্রচার করছে। যারা এটা বোঝে না, তারা তাদের কথায় প্রভাবিতও হচ্ছে।
মানুষকে বোঝাতে হবে যে, আকীদা ঠিক না থাকলে তোমার ঈমানের মূল্য নাই। আকীদা হচ্ছে সামগ্রিক ধারণা। কোনটা আগে, কোনটা পরে, কোনটা এখন, কোনটা তখন, কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কোনটা কম, এই জিনিসটা আগে বুঝাতে হবে। তারপর হল জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব বোঝাতে হবে। মুসলিমরা নিজেরাই যখন শিয়া-সুন্নীতে মারামারি করছে সেখানে তারা অমুসলিমদেরকে হত্যা করতে যাচ্ছে। তাদেরকে বোঝাতে হবে যে আগে তোমরা মুসলিম দাবিদাররা এক হও, সকল অন্যায়- অবিচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হও। তাহলেই তোমরা শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পাবে। তোমাদের ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতের সূত্র ধরেই মধ্যপ্রাচ্য গুড়িয়ে দিচ্ছে, তোমরা ১৬০ কোটি হয়েও ভেসে যাওয়া আবর্জনার মতো মূল্যহীন। তাদেরকে বোঝাতে হবে যে তোমরা সিরিয়া যাচ্ছ, আফগানিস্তান যাচ্ছ জেহাদ করতে? তোমার নিজের দেশকে আগে শান্তিমণ্ডিত করো, সত্যের পক্ষে আনো। সেটাই তোমার জেহাদ, সেটাই আসল এবাদত। এইভাবে মানুষকে ধর্মের প্রকৃত রূপ শিক্ষা দিতে হবে।
ইদানীং তো আমরা কথা বলায় বেশি অভ্যস্ত হয়ে গেছি। ২৬-২৭ টা চ্যানেলে সমানে চলে টকশো। রাজনৈতিক নেতারা পার্লমেন্টে দাঁড়িয়ে, মঞ্চে উঠে আহ্বান করতে থাকেন। কিন্তু আহ্বানই সার, কেউ এগোয় না। কারণ আহ্বান এক জিনিস, বাস্তবতা আরেক জিনিস। এগিয়ে আসবে কি করে? একটা কনসেপ্ট দ্বারা যে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা যাবে এটা তো তাদের ধারণাতেই নেই। সবাই তাদের পরিণতিকে নিয়তির উপর ছেড়ে দিচ্ছে। পুতিন আর ওবামা কি করে বসে বসে ঐ খেলা দেখছে। আমরা দর্শক আর তারা হলো বিশ্ব রঙ্গমঞ্চের বড় বড় একেকজন শিল্পি। আমরা টিভি দেখি আর স্বার্থপরের মতো আত্মকেন্দ্রিক জীবনযাপন করি, আর সবাইকে আহ্বান জানাই কিন্তু নিজেই যাই না।
জঙ্গি বিমান বানানো হয়েছে জঙ্গ মানে যুদ্ধ করার জন্য। যারা এসব জঙ্গি বিমান বানাচ্ছে তারাই যে বড় জঙ্গি তা কেউ খেয়াল করছে না। জনগণ বেখবর। কাজেই আমাদের কথা হলো এটাই যে ফোকাস অন্য দিকে নিবেন না। ফোকাস এক দিকে দিতে হবে। আমরা টিভিতে দেখেছি, পৌরসভার একটি নির্বাচনকে কয়েকদিন ধরে সব টিভিতে দিনরাত দেখিয়েছে। পুরো জাতির ফোকাস নিয়ে গেছে ঐদিকে। সেখানে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে মিডিয়াগুলা কারণ মানুষ কোটি কোটি টাকা খরচ করে নমিনেশন কিনেছে। সেখানে টাকার খেলা চলছে। তাই মিডিয়াগুলো সেদিকে দৌড়াচ্ছে। এটা ঠিক নয়। আমাদের ফোকাস ঠিক রাখতে হবে। আমাদের একটি স্বভাব হয়েছে যে রাষ্ট্রপ্রধান কোনো কথা বললেই সেটাকে তাচ্ছিল্য করতে হবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, প্রধানমন্ত্রী তার অবস্থাগত কারণে যা জানেন তা আমরা জানতে পারি না। তাই তার কথার অন্ধের মত বিরোধিতা করলে হবে না। তিনি বলেছেন, দেশকে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য ষড়যন্ত্র চলছে, চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে রীতিমত। স্বীকার করলেই পশ্চিমারা উড়ে আসবে, সহযোগিতার নাম করে দেশ দখল করে নেবে। এখন তো এ সংকট দৃশ্যমান। আমাদের জনগণ যত দ্রুত এই সংকটটি বুঝতে পেরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবে ততই আমরা নিরাপদ হবো।

Sunday, December 6, 2015

শীতে ঠোঁট ফাটা থেকে মুক্তি পেতে যা করবেন

শীতে ঠোঁট ফাটা থেকে মুক্তি পেতে যা করবেন


শীতের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। আর সেই সঙ্গে তার প্রভাব পড়ছে ত্বকে, ঠোঁটে। অনেকেই আছেন যারা ঠোঁট ফাটার সমস্যায় ভোগেন। তাদের জন্য কিছু ঘারোয়া টিপস।
– এক চা চামচ মধু ও এক চা চামচ গোলাপ জল মিশিয়ে নিন ঠোঁটে লাগান। ১৫ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দিনে অন্তত চারবার মিশ্রণটি ঠোঁটে লাগানোর চেষ্টা করুন। এতে ঠোঁট ফাটবে না আর ঠোঁট থাকবে নরম ও পেলব।
– গ্রিন টি ব্যাগ খুব ভালো ময়শ্চারাইজারের কাজ করে। ব্যবহৃত টি ব্যাগ ঠোঁট দিয়ে চেপে ধরুন। চার মিনিট রাখুন। দিনে একবার করে করলেই হবে।
– নিয়মিত লেবুর রস লাগালে ঠোঁট ফাটা থেকে মুক্তি পাবেন। ঠোঁটের কালো ছোপ কমে যাবে।
– এক চা চামচ দুধের সর ও তিন ফোঁটা লেবুর রস ভালো করে মিশিয়ে মিশ্রণটা ফ্রিজে রেখে দিন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মিশ্রণটা লাগিয়ে নিন। ভালো ফল পাবেন।
– অ্যালোভেরা জেল অর্থাৎ ঘৃতকুমারির রস ঠোঁটে লাগান। শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন।
– শসার রস ১৫-২০ মিনিট ঠোঁটে লাগিয়ে রাখুন | দিনে যতবার খুশি শশার রস লাগাতে পারেন |
– ঠোঁটে কয়েক ফোঁটা নারকেলের তেল লাগান। ঠোঁট ফাটা সেরে যাবে। এক্ষেত্রে আপনি অলিভ অয়েলও লাগাতে পারেন।