Saturday, May 2, 2015

শান্তি নেই মানেই ইসলাম নেই

শান্তি নেই মানেই ইসলাম নেই
ইসলামের সকল আলেম-ওলামা ও ফকীহগণ একমত যে- আকিদা ঠিক না থাকলে ঈমানের কোনো মূল্য নেই। আর স্বভাবতই ঈমানের মূল্য না থাকলে ঐ ঈমানভিত্তিক আমলেরও কোনো মূল্য থাকে না। তাই ইসলাম-শিক্ষা বইগুলোর প্রথমেই থাকে ‘আকায়েদ’ অধ্যায়। সেই মহামূল্যবান আকিদা কী? আকিদা হচ্ছে কোনো বস্তু বা বিষয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা (Comprehensive concept)। কোনো কাজ কী উদ্দেশ্যে করা হবে- সেটা জেনে বুঝে করাই আকিদা। ঘড়ির কাজ সময় দেওয়া, কলমের কাজ লেখা। এটা বোঝাই ঘড়ি ও কলম সম্পর্কে সঠিক আকিদা। এটা জানা না থাকলে সেগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করা যাবে না। একইভাবে আমাদেরকে জানতে হবে কেন আমরা ঈমান পোষণ করব, ধর্ম বলতে কী বোঝায়, ধার্মিক কারা, কোন কাজটি প্রকৃত এবাদত, নবী-রসুলদের আগমনের উদ্দেশ্য কী, নামায-রোযা-হজ্ব ইত্যাদি কেন আল্লাহ করতে বলেছেন। এ বিষয়গুলো সম্পর্কে সঠিক ধারণা বিগত ১৩০০ বছর ধরে ক্রমে ক্রমে বিকৃত হয়ে গেছে। তাই মানবজাতির ধর্মবিশ্বাস থাকলেও আকিদা ঠিক নেই, ফলে আমলও অর্থহীন হচ্ছে। যেমন- ইসলামকে আজ একটি ব্যক্তিগত ও আনুষ্ঠানিকতার ধর্ম বলে ধারণা করার ফলে নামায, রোযা, ঈদ, কোরবানি, শবে বরাত, আশুরা ইত্যাদি কিছু আনুষ্ঠানিক বিষয় পালন করেই মুসলিমরা মনে করেন যে বুঝি ইসলামের কাজ করা হলো। কিন্তু ইসলাম তো তা নয়। ইসলাম শব্দটি এসেছে সালাম থেকে আর সালাম মানেই শান্তি। অর্থাৎ ইসলাম হচ্ছে সমাজের এমন একটি অবস্থা যেখানে কোনো অন্যায়, অবিচার, মারামারি-কাটাকাটি, দুঃখ-দারিদ্র্য, দুশ্চিন্তা বা আতঙ্ক থাকবে না, সর্বত্র থাকবে কেবল শান্তি, নিরাপত্তা, সর্বপ্রকার স্বাধীনতার অনাবিল আনন্দ। এমন একটি সমাজ সৃষ্টির জন্য কাজ না করে যত নামায, রোযাই করা হোক, সবই অর্থহীন। এজন্যই আজকের দুনিয়ায় মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকা, মুসল্লি বা রোযাদারের অভাব নেই, কিন্তু সবচেয়ে অশান্তির মধ্যে আছে মুসলিম নামের এ জনসংখ্যা। তাদের মধ্যে ইসলাম নেই, অর্থাৎ শান্তি নেই।

আল্লাহর রাসুল বলেছেন - - -

আল্লাহর রাসুল বলেছেন - - -
শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগে তার পাওনা
পরিশোধ করো...........


যে মানুষদের পরিশ্রমের ঘামে রচিত আমাদের
এই সভ্যতা
তাদের সম্মান করার মানসিকতা থাকতে হবে
আমাদের সবার মাঝে.....
আমরা মাঝে মাঝেই ভুলে যাই যে , মজদুরের
ঘামে চলে পৃথিবীর চাকা.....
শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা আর সম্মান দিতে ভুলে যায়
কিছু নাক উঁচু মানুষ.....
শ্রেনী বৈষম্য তৈরী করে সঠিক জ্ঞানের
অভাবে.....
অনেকেই ভুলে যায় শ্রমিকের হাত না পরলে এই
আধুনিক পৃথিবী
থাকতো শুধুই পরিকল্পনায় আর কাগজে কলমে....
শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা ফিরে পাক....
দূর হোক রানা প্লাজা ,, তাজনিন গার্মেন্টসের মত
অবাঞ্ছিত ঘটনা.....
পাশাপাশি শিশু শ্রমকে করা হোক নিষিদ্ধ....
তাদের হাতে তুলে দেওয়া হোক বই খাতা কলম...
ভালবাসায় ভরে উঠুক প্রতিটি শ্রমজীবী মানুষের
জীবন.....

আমরা হেযবুত তওহীদের সদস্য

আমরা হেযবুত তওহীদের সদস্য

আমরা মানবতার কল্যানে নিয়োজিত, আমরা যামানার এমাম এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীর অনুপ্রেরণায় উজ্জীবিত।
বন্ধুরা এই বাংলাদেশের শতকরা ৯৯% মানুষ আমরা কোন না কোন ধর্মে বিশ্বাসি, তার ভিতর ৯০% লোকই ইসলাম ধর্মের অনুসারী। আমরা আল্লাহ, আল্লার রাসূল কে মনে প্রানে ভালবাসি, জান্নাত, জাহান্নম বিশ্বাস করি। পর কালে মুক্তির আসায় নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাহ পালন করি। কিন্তু আজ আমাদের সমাজের তিন শ্রেণীর স্বার্থবাদি মানুষ আমাদের এই ধর্ম বিশ্বাসকে হাইজ্যাক করে ভুল পথে পরিচালিত করছে। এক শ্রেণী আমাদের বোঝাচ্ছে অমুক দলকে সমর্থন কর তাহলে জান্নাতে যাবে না দিলে জাহান্নামে যাবে। আরেক শ্রেণী বোঝাচ্ছে আমাদের অর্থ দান কর তাহলেই জান্নাত যাবে, আমরাও তাদের কথা শুনে আমাদের জায়গা জমি বিক্রয় করে আমরা তাদের অর্থ দান করি। আরেক শ্রেণী বোঝাচ্ছে অমুক জায়গায় বোম মার তাহলে জান্নাতে যাবে। আমরা এদের কথায় প্রভাবিত হয়ে নিজেরা নিজের অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, হানাহানিতে লিপ্ত আছি। আজ আমাদের দেশে একটি গৃহযুদ্ধের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অথচ আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন না করে আমরা স্বার্থপরের মত যার যার মত বসবাস করছি। আমরা মনে করছি আমি ভাল আছি, আমার বাড়িতে কোন বোমা পরে নাই, আমার এলাকায় কোন সন্ত্রাস নেই। যারা এরকম মনে করেন তাদের বলছি আপনারা জানেন ইরাক, আফগানিস্তান এরকম আরো অনেক রাষ্ট্র আজ ধ্বংস হয়ে গেছে। এই সব দেশের ঐ পরিস্থিতির জন্য কি ঐ দেশের সকল মানুষই দায়ি না কি কিছু সংখক মানুষ। সবাই শিকার করবেন কিছু স্বার্থবাদী মানুষের কারনেই ঐ পরিস্থির সৃষ্টি। তাই বলছি আমাদের দেশে ও যদি গৃহ যুদ্ধো বাদে তাহলে আমরা কেউই রক্ষা পাবো না, কোন গ্রাম মহল্লা ধ্বংস থেকে বাদ পরবে না। এখন এই অবস্থা থেকে আমাদের রক্ষার জন্য আমাদের সকলের ভূমিকা রাখতে হবে, দুই দিক থেকে আমাদের ভূমিকা রাখতে হবে। প্রথমত... ধর্মীয় দায়িত্ব, ডদ্বতীয়ত সামাজিক দায়িত্ব্
প্রথমত ধর্মীয় দায়িত্ব কি ভাবে : কারন ধর্ম হচ্ছে কোন বস্তুর অন্তর নিহীত গুন, যেমন আগুনের ধর্ম পোড়ানো যদি আগুর তার পোড়ানোর ক্ষমতা হারায় সে তার ধর্ম হারাবে। তাহলে মানুষের ধর্ম কি? মানুষের ধর্ম হচ্ছে মানবতা, আমি অন্যোর দু:খ কষ্ট হৃদয়ে ধারণ করব এবং ঐ দু:খ কষ্ট নিবারণের আপ্রাণ চেষ্টা করব তাহলে আমি ধার্মীক যদি আমি তা না করি তাহলে আমি স্বার্থপর। আর স্বার্থপরের কোন ধর্ম নেই, স্বার্থপরের কোন ইবাদত স্রষ্টা কবুল করবেন না, স্বার্থপরের সমাজে বসবাস করার কোন অধিকার থাকে না, স্বার্থপর মানুষ পশুর সমান। এখন জানা দরকার মানুষের ইবাদত কি? মানুষের ইবাদত মানুষের কল্যানে কাজ করা। অথচ আজ আমরা শুধু নামাজ রোজা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিক উপাসনাকেই ইবাদত বলে পালন করে থাকি। তার মানে আমরা নামাজ রোজাকে খাট করে দেখছি না, নামাজ রোজা করতেই হবে তবে উদ্দেশ্য বুঝে। প্রত্যাক মানুষের মানুষের কল্যানে কাজ করার আত্বিক শক্তি থাকে না এই চরিত্র সৃষ্টির জন্যই নামাজ রোজা।
দ্বিতীয়ত সামাজিক দায়িত্ব : কারন আমরা এই সমাজে বড় হয়েছি, এই সমাজের মানুষের কাছ থেকে হাজারো রকম সুবিদা ভোগ করেছি, এই দেশের পদ্মা মেঘনার অববাহিকায় বড় হয়েছি, এই দেশের মাটির সাথে আমাদের পূর্ব পুরুষ আতœীয় স্বজন মিশে আছে, আমরা ও এই মাটির সাথে মিশে যাব সুতরাং এই দেশকে সমস্ত অন্যায় অশান্তি থেকে রক্ষা করা আমাদের সকলের সামাজিক দায়িত্ব। আমাদেরকে এক দিক নয় এক দিক থেকে ভূমিকা রাখতেই হবে। বন্ধুরা যদি আমরা আমাদের সমাজের মানুষগুলোকে এই শিক্ষা দিতে পারি তাহলে আমাদের সমাজ হবে ইসলামের সমাজ। আপনারা সকলেই জানেন ইসলাম অর্থই শান্তি। ইসলাম কোন নির্দিষ্ট পোশাক নয়, ইসলাম হচ্ছে এমন একটি সমাজের নাম যে সমাজে কোন অন্যায় নেই অবিচার নেই হানাহানি নেই দু:খ দারিদ্র নেই শুদু মাত্র অনাবীল শান্তি আছে এমন একটি সমাজের নামই হলো ইসলাম। অথচ আমরা এমন একটি সমাজ প্রতিষ্টা না করে মনে করছি ইসলাম পালন করছি।

বুলবুল আহাম্মেদ
মনিরুয্যামান মনির:Dhormo-babshai
ধর্ম কোন পণ্য নয়, ধর্মীয় কাজ কোন পেশা নয়। ধর্মীয় কাজ মানুষ কোরবে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়ার জন্য, এর বিনিময়ও গ্রহণ কোরবে আল্লাহর কাছ থেকে। আল্লাহর সকল নবী-রসুল এই কথা ঘোষণা দিয়েছেন যে, আমি তোমাদের কাছে কোন বিনিময় চাই না, আমার বিনিময় আল্লাহর কাছে। সুতরাং তাঁদের উম্মতের জন্যও একই বিধান। কিন্তু তা না কোরে প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি বড় জনগোষ্ঠী কিছু ধর্মীয় জ্ঞান আয়ত্ব কোরে সেটাকে পুঁজি কোরে অর্থ উপার্জন থেকে শুরু কোরে বিভিন্ন পার্থিব স্বার্থ হাসিল কোরে থাকে। এই পার্থিব স্বার্থের মধ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতাও আসে, মিলাদ পড়িয়ে, নামাজ পড়িয়ে টাকা নেওয়াও আসে, ভক্ত মুরিদকে আল্লাহর সান্নিধ্য এনে দেওয়ার নাম কোরে উপঢৌকন নেওয়াও আসে। যখনই এসব পার্থিব স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসাবে ধর্মকে ব্যবহার করা হয় তখনই ধর্মে প্রবেশ করে বিকৃতি। অনেক কিছুই তারা বাণিজ্যিক স্বার্থে অতিরঞ্জন করেন, নিজেদের স্বার্থ বিরোধী যা কিছু থাকে তা গোপন করেন। যেহেতু তাদের ধর্মীয় কিছু জ্ঞান থাকে তারা যা বলেন মানুষ সেটাকে আল্লাহ-রসুলের কথা বোলে গ্রহণ কোরে নেয়। তারা যখন কাউকে কাফের ফতোয়া দেয়, মানুষ তাকে ঘৃণা করে। এই ধর্মব্যবসায়ীরা আল্লাহর শত্র“, কারণ এরা আল্লাহর প্রেরিত সত্যকে বিকৃত করে, পার্থিব স্বার্থে ব্যবহার করে। পবিত্র কোর’আনে এবং হাদিসে ধর্মব্যবসার সবগুলি ধরণ সম্পর্কেই নিষেধাজ্ঞা ঘোষিত হোয়েছে, ধর্মকে বিক্রি কোরে পার্থিব সুযোগ সুবিধা, সম্পদ হাসিলের কোন সুযোগ আল্লাহ রাখেন নি। তিনি একে কেবল হারামই করেন নি, তিনি বোলেছেন, তারা পথভ্রষ্ট, তারা আগুন ছাড়া কিছুই খায় না। তিনি আখেরাতে তাদেরকে পবিত্র কোরবেন না, তাদের সঙ্গে কথা বোলবেন না এবং তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ কোরবেন। যাদের গন্তব্য জাহান্নাম, তাদের অনুসারীরাও জাহান্নামেই যাবে এটাই স্বাভাবিক। তবুও আল্লাহ সুস্পষ্ট ভাষায় বোলে দিয়েছেন, তোমরা তাদের অনুরসণ করো যারা বিনিময় গ্রহণ করে না এবং সঠিক পথে আছে (সুরা ইয়াসীন ২১)। এই যে ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণি, তারা কিন্তু এই সত্যগুলি বিষয়গুলি কখনও মানুষের সামনে প্রকাশ করে না। তারা সুদ, ঘুষের বিরুদ্ধে বয়ান করেন কিন্তু ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে নিশ্চুপ। এ প্রসঙ্গটি তারা গোপন রাখতে চান আর আল্লাহ তা যামানার এমামের মাধ্যমে তা প্রকাশ কোরে দিয়েছেন। তাদের একটি শ্রেণি নিজেদের ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সুগম কোরতে মানুষের ধর্মীয় চেতনাকে কাজে লাগায়। তারা নিজেদেরকে এসলামের ধারক হিসাবে প্রকাশ কোরে তাদের বিরুদ্ধপক্ষকে এসলামবিদ্বেষী হিসাবে ফতোয়া দেন। জনগণও তাদের কথায় প্রভাবিত হয়। কিন্তু এই শ্রেণিটি যে স্বার্থের হাতিয়ার হিসাবে ধর্মকে ব্যবহার কোরছে এবং তারা নিজেরাই যে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অবৈধ সেটা যখন প্রকাশ কোরে দেওয়া হবে তখন জনগণ তাদেরকে ধিক্কার দেবে। জনগণ যখন বুঝতে পারবে আল্লাহ তাদেরকে অনুসরণ কোরতে নিষেধ কোরেছেন এবং তাদেরকে অনুসরণ কোরলে জাহান্নামে যেতে হবে তখন জনগণও আর তাদের ডাকে সাড়া দেবে না। এভাবেই আমাদের দেশ থেকে, পৃথিবী থেকে ধর্মের নামে দাঙ্গা, ধর্মের নামে অপরাজনীতি, প্রতিহিংসা, সহিংসতা, ক্ষমতার জন্য, ব্যক্তিগত দলীয় স্বার্থে ধর্মের অপব্যবহার বন্ধ হবে। মানুষের জীবন যেমন নিরাপদ হবে তেমনি তারা সুপথও পাবে। এসলামে ধর্মব্যবসায়ীদের কোন স্থান নেই, যে সমাজে তাদেরকে প্রশ্রয় দেওয়া হয় সেই সমাজেও তারা অশান্তি বিস্তার করে। তাই মানবতার কল্যাণে যেমন দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, চোর, ডাকাত দমন করা উচিত, তেমনি এই ধর্মব্যবসায়ী মোল্লাদেরও দমন করা উচিত।

হে মানবজাতি আগে মো’মেন হও পরে আমল কর

আল্লাহর হুকুম, বিধান বাদ দেওয়ার কারণে এরা মো’মেনই না মোসলেমই না? এই সরল প্রশ্নের উত্তর কে দেবে যে, জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় জীবনে কোর’আনের হুকুম বাদ দিয়ে কী কোরে মোসলেম দাবি করা যায়? এ জাতি যে দিন থেকে পৃথিবীময় সত্যদীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বাদ দিয়েছে অর্থাৎ রসুলাল্লাহর এন্তেকালের ৬০/৭০ বছর পর তখনই তাদেরকে আল্লাহ মো’মেন এর খাতা থেকে বাদ দিয়েছেন। অতঃপর অন্য জাতির (এই উপমহাদেশে ব্রিটিশ জাতির) গোলাম হওয়ার পর মোসলেম থেকেই বহিষ্কার; তাদের তৈরি আইন-বিধান, দণ্ডবিধি, অর্থনীতি, শিক্ষানীতি অর্থাৎ এক কথায় জীবনব্যবস্থা গ্রহণ করার পর চূড়ান্তরূপে কাফের, জালেম, ফাসেক হয়ে যায় (সুরা মায়েদা ৪৪, ৪৫, ৪৭)। কাজেই এখন আগে আল্লাহর কলেমা, তওহীদ অর্থাৎ আল্লাহর সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দিয়ে মো’মেন হওয়া জরুরি। তারপরে যত পারা যায় ঐসব আমল। আজ দাঙ্গা, হাঙ্গামা, সন্ত্রাস, আতঙ্ক, হত্যা, ডাকাতি, ঘুষ, দুর্নীতি অর্থাৎ সর্বত্র এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি বিরাজ কোরছে। এই শ্বাসরুদ্ধকর ভয়াবহ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য সেই পশ্চিমা প্রভুদের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দেওয়া হোচ্ছে। একবারের জন্যও এ জাতি চিন্তা করে না যে, আমরা এই যে সংকটে পড়েছি এর মূল কারণ তো আল্লাহর শাস্তি, আল্লাহর লানৎ। আল্লাহ আমাদেরকে এই শাস্তি, অভিশাপ দেওয়ার কারণ: আমরা মুখে দাবি করি মুসলমান, আইন-বিধান, হুকুম মানি এবং অনুসরণ কোরি ইহুদি খ্রিস্টান সভ্যতা দাজ্জালের। এখন এই লানৎ, শাস্তি থেকে পরিত্রাণের একটাই পথ আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া। সেই প্রকৃত, অনাবিল, শান্তিদায়ক, নিখুঁত, ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা কোথায় পাওয়া যাবে?
সেটা আল্লাহ হেযবুত তওহীদকে দান কোরেছেন। আজ সারা পৃথিবীতে যে এসলামটি চর্চা করা হোচ্ছে, মসজিদ, মাদ্রাসা, মক্তবে, খানকায় যে এসলামটা শিক্ষা দেওয়া হোচ্ছে সেটা আল্লাহর দেওয়া প্রকৃত এসলাম নয়। এই এসলাম ১৬০ কোটির এই জনসংখ্যাকে শান্তি দিতে পারে নি, অন্য জাতির গোলামি থেকে রক্ষাও কোরতে পারে নি। আমরা এমন এক এসলামের কথা বোলছি, যে এসলাম সমস্ত মানবজাতিকে পরিপূর্ণ শান্তি ও নিরাপত্তা দিতে পারবে, সমস্ত মানবজাতিকে একটি পরিবারে পরিণত কোরবে, এনশা’আল্লাহ।


কয়েকশ’ বছর ঘৃণ্য দাসত্বের পর কিছুদিন থেকে আপাতদৃষ্টিতে স্বাধীনতা পেলেও এই জনসংখ্যা প্রকৃতপক্ষে আজও আদর্শগত ও মানসিকভাবে পূর্বতন পাশ্চাত্য প্রভুদের গোলামই আছে, বোধহয় গোলামী যুগের চেয়েও বেশিভাবে আছে। তারা তাদের সব ক্ষমতা ও শক্তি হারিয়ে এখন নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া চাওয়াকেই একমাত্র উপায় বলে মনে করছে। তাই আজ এই শক্তিহীন অক্ষম ব্যর্থ জাতির এখন একমাত্র কাজ হচ্ছে আল্লাহর কাছে দোয়া চাওয়া। এর ধর্মীয় নেতারা, আলেম, মাশায়েখরা এই দোয়া চাওয়াকে বর্তমানে একটি আর্টে, শিল্পে পরিণত করে ফেলেছেন। লম্বা সময় ধরে এরা লম্বা ফর্দ ধরে আল্লাহর কাছে দোওয়া করতে থাকেন, যেন এদের দোয়া মোতাবেক কাজ করার জন্য আল্লাহ অপেক্ষা করে বসে আছেন। মাঝে মাঝে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাহফিলেরও ডাক দেওয়া হয়, মাইকে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয় এবং তাতে এত লম্বা সময় ধরে মোনাজাত করা হয় যে হাত তুলে রাখতে রাখতে মানুষের হাত ব্যথা হয়ে যায়। এসব মাহফিলের উদ্দেশ্য থাকে সাধারণত কোনো নির্মাণাধীন মসজিদ বা মাদ্রাসার জন্য অর্থ সংগ্রহ করা যে অর্থের সিংহভাগই আলেম দাবিদার ধর্মব্যবসায়ীদের ভোগে যায়।
মসজিদে দান করা ইসলামের কাজ হতে পারে, কিন্তু যে রাস্তায় মানুষ চলাচল করে সেই রাস্তা নির্মাণের জন্য দান করা কি এবাদত নয়, ইসলামের কাজ নয়? এই এবাদত করার দিকে কোনোদিন কোনো আলেম সাহেব ওয়াজ করেন কি? করেন না, কারণ সেই দানে তার ব্যক্তিগত কোনো লাভ হবে না।

আল্লাহ ও তার রসুল (সা:) যে পাঁচটি কাজের দায়িত্ব অর্পণ কোরেছেন

আল্লাহ ও তার রসুল (সা:) যে পাঁচটি কাজের দায়িত্ব অর্পণ কোরেছেন

আল্লাহর রসুল (সা:) বোলেছেন - আল্লাহ আমার ওপর পাঁচটি কাজের দায়িত্ব অর্পণ কোরেছেন, আমি সেই পাঁচটি কাজের দায়িত্ব তোমাদের ওপর অর্পণ কোরছি । সেগুলো হোল :

1, ঐক্যবদ্ধ হও ।
2,নেতার আদেশ শোন ।
3, নেতার ঐ আদেশ পালন কর ।
4, হেজরত করো ।
5, আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করো ।
যে ব্যক্তি এই ঐক্যবদ্ধনী থেকে এক বিঘত পরিমাণ ও বহির্গত হলো, সে নিশ্চয় তার গলা থেকে ইসলামের রজ্জু খুলে ফেললো -যদি না সে আবার ফিরে আসে তওবা করে এবং যে ব্যক্তি অন্ধকার যুগের দিকে আহ্বান কোরলো, সে নিজকে মোসলেম বোলে কোরলেও, নামাজ পোড়লেও এবং রোজা রাখলে ও নিশ্চয়ই সে জাহান্নামের জ্বালানি পাথর হবে ।
এবার বলেন সারা দুনিয়ায় কোথায় ঐক্য আছে???
তাহলে আপনি কি করে নিজকে মুসলিম বলে দাবি করেন ???