Saturday, May 2, 2015

আমরা হেযবুত তওহীদের সদস্য

আমরা হেযবুত তওহীদের সদস্য

আমরা মানবতার কল্যানে নিয়োজিত, আমরা যামানার এমাম এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীর অনুপ্রেরণায় উজ্জীবিত।
বন্ধুরা এই বাংলাদেশের শতকরা ৯৯% মানুষ আমরা কোন না কোন ধর্মে বিশ্বাসি, তার ভিতর ৯০% লোকই ইসলাম ধর্মের অনুসারী। আমরা আল্লাহ, আল্লার রাসূল কে মনে প্রানে ভালবাসি, জান্নাত, জাহান্নম বিশ্বাস করি। পর কালে মুক্তির আসায় নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাহ পালন করি। কিন্তু আজ আমাদের সমাজের তিন শ্রেণীর স্বার্থবাদি মানুষ আমাদের এই ধর্ম বিশ্বাসকে হাইজ্যাক করে ভুল পথে পরিচালিত করছে। এক শ্রেণী আমাদের বোঝাচ্ছে অমুক দলকে সমর্থন কর তাহলে জান্নাতে যাবে না দিলে জাহান্নামে যাবে। আরেক শ্রেণী বোঝাচ্ছে আমাদের অর্থ দান কর তাহলেই জান্নাত যাবে, আমরাও তাদের কথা শুনে আমাদের জায়গা জমি বিক্রয় করে আমরা তাদের অর্থ দান করি। আরেক শ্রেণী বোঝাচ্ছে অমুক জায়গায় বোম মার তাহলে জান্নাতে যাবে। আমরা এদের কথায় প্রভাবিত হয়ে নিজেরা নিজের অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, হানাহানিতে লিপ্ত আছি। আজ আমাদের দেশে একটি গৃহযুদ্ধের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অথচ আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন না করে আমরা স্বার্থপরের মত যার যার মত বসবাস করছি। আমরা মনে করছি আমি ভাল আছি, আমার বাড়িতে কোন বোমা পরে নাই, আমার এলাকায় কোন সন্ত্রাস নেই। যারা এরকম মনে করেন তাদের বলছি আপনারা জানেন ইরাক, আফগানিস্তান এরকম আরো অনেক রাষ্ট্র আজ ধ্বংস হয়ে গেছে। এই সব দেশের ঐ পরিস্থিতির জন্য কি ঐ দেশের সকল মানুষই দায়ি না কি কিছু সংখক মানুষ। সবাই শিকার করবেন কিছু স্বার্থবাদী মানুষের কারনেই ঐ পরিস্থির সৃষ্টি। তাই বলছি আমাদের দেশে ও যদি গৃহ যুদ্ধো বাদে তাহলে আমরা কেউই রক্ষা পাবো না, কোন গ্রাম মহল্লা ধ্বংস থেকে বাদ পরবে না। এখন এই অবস্থা থেকে আমাদের রক্ষার জন্য আমাদের সকলের ভূমিকা রাখতে হবে, দুই দিক থেকে আমাদের ভূমিকা রাখতে হবে। প্রথমত... ধর্মীয় দায়িত্ব, ডদ্বতীয়ত সামাজিক দায়িত্ব্
প্রথমত ধর্মীয় দায়িত্ব কি ভাবে : কারন ধর্ম হচ্ছে কোন বস্তুর অন্তর নিহীত গুন, যেমন আগুনের ধর্ম পোড়ানো যদি আগুর তার পোড়ানোর ক্ষমতা হারায় সে তার ধর্ম হারাবে। তাহলে মানুষের ধর্ম কি? মানুষের ধর্ম হচ্ছে মানবতা, আমি অন্যোর দু:খ কষ্ট হৃদয়ে ধারণ করব এবং ঐ দু:খ কষ্ট নিবারণের আপ্রাণ চেষ্টা করব তাহলে আমি ধার্মীক যদি আমি তা না করি তাহলে আমি স্বার্থপর। আর স্বার্থপরের কোন ধর্ম নেই, স্বার্থপরের কোন ইবাদত স্রষ্টা কবুল করবেন না, স্বার্থপরের সমাজে বসবাস করার কোন অধিকার থাকে না, স্বার্থপর মানুষ পশুর সমান। এখন জানা দরকার মানুষের ইবাদত কি? মানুষের ইবাদত মানুষের কল্যানে কাজ করা। অথচ আজ আমরা শুধু নামাজ রোজা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিক উপাসনাকেই ইবাদত বলে পালন করে থাকি। তার মানে আমরা নামাজ রোজাকে খাট করে দেখছি না, নামাজ রোজা করতেই হবে তবে উদ্দেশ্য বুঝে। প্রত্যাক মানুষের মানুষের কল্যানে কাজ করার আত্বিক শক্তি থাকে না এই চরিত্র সৃষ্টির জন্যই নামাজ রোজা।
দ্বিতীয়ত সামাজিক দায়িত্ব : কারন আমরা এই সমাজে বড় হয়েছি, এই সমাজের মানুষের কাছ থেকে হাজারো রকম সুবিদা ভোগ করেছি, এই দেশের পদ্মা মেঘনার অববাহিকায় বড় হয়েছি, এই দেশের মাটির সাথে আমাদের পূর্ব পুরুষ আতœীয় স্বজন মিশে আছে, আমরা ও এই মাটির সাথে মিশে যাব সুতরাং এই দেশকে সমস্ত অন্যায় অশান্তি থেকে রক্ষা করা আমাদের সকলের সামাজিক দায়িত্ব। আমাদেরকে এক দিক নয় এক দিক থেকে ভূমিকা রাখতেই হবে। বন্ধুরা যদি আমরা আমাদের সমাজের মানুষগুলোকে এই শিক্ষা দিতে পারি তাহলে আমাদের সমাজ হবে ইসলামের সমাজ। আপনারা সকলেই জানেন ইসলাম অর্থই শান্তি। ইসলাম কোন নির্দিষ্ট পোশাক নয়, ইসলাম হচ্ছে এমন একটি সমাজের নাম যে সমাজে কোন অন্যায় নেই অবিচার নেই হানাহানি নেই দু:খ দারিদ্র নেই শুদু মাত্র অনাবীল শান্তি আছে এমন একটি সমাজের নামই হলো ইসলাম। অথচ আমরা এমন একটি সমাজ প্রতিষ্টা না করে মনে করছি ইসলাম পালন করছি।

বুলবুল আহাম্মেদ

No comments:

Post a Comment