
কয়েকশ’ বছর ঘৃণ্য দাসত্বের পর কিছুদিন থেকে আপাতদৃষ্টিতে স্বাধীনতা পেলেও এই জনসংখ্যা প্রকৃতপক্ষে আজও আদর্শগত ও মানসিকভাবে পূর্বতন পাশ্চাত্য প্রভুদের গোলামই আছে, বোধহয় গোলামী যুগের চেয়েও বেশিভাবে আছে। তারা তাদের সব ক্ষমতা ও শক্তি হারিয়ে এখন নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া চাওয়াকেই একমাত্র উপায় বলে মনে করছে। তাই আজ এই শক্তিহীন অক্ষম ব্যর্থ জাতির এখন একমাত্র কাজ হচ্ছে আল্লাহর কাছে দোয়া চাওয়া। এর ধর্মীয় নেতারা, আলেম, মাশায়েখরা এই দোয়া চাওয়াকে বর্তমানে একটি আর্টে, শিল্পে পরিণত করে ফেলেছেন। লম্বা সময় ধরে এরা লম্বা ফর্দ ধরে আল্লাহর কাছে দোওয়া করতে থাকেন, যেন এদের দোয়া মোতাবেক কাজ করার জন্য আল্লাহ অপেক্ষা করে বসে আছেন। মাঝে মাঝে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাহফিলেরও ডাক দেওয়া হয়, মাইকে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয় এবং তাতে এত লম্বা সময় ধরে মোনাজাত করা হয় যে হাত তুলে রাখতে রাখতে মানুষের হাত ব্যথা হয়ে যায়। এসব মাহফিলের উদ্দেশ্য থাকে সাধারণত কোনো নির্মাণাধীন মসজিদ বা মাদ্রাসার জন্য অর্থ সংগ্রহ করা যে অর্থের সিংহভাগই আলেম দাবিদার ধর্মব্যবসায়ীদের ভোগে যায়।
মসজিদে দান করা ইসলামের কাজ হতে পারে, কিন্তু যে রাস্তায় মানুষ চলাচল করে সেই রাস্তা নির্মাণের জন্য দান করা কি এবাদত নয়, ইসলামের কাজ নয়? এই এবাদত করার দিকে কোনোদিন কোনো আলেম সাহেব ওয়াজ করেন কি? করেন না, কারণ সেই দানে তার ব্যক্তিগত কোনো লাভ হবে না।
No comments:
Post a Comment