তাকওয়া ও হেদায়াহ কি এক জিনিস? (দ্বিতীয় পর্ব)
এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী:
দীনের বিকৃতির একটি ভয়াবহ পরিণতি হোল গুরুত্বের ওলটপালট হোয়ে যাওয়া। তাছাড়া এর পাশাপাশি আরো একটি বিকৃতি হোল দু’টি ভিন্ন বিষয়কে একই অর্থের বিষয়ে পরিণত করা। তাকওয়া ও হেদায়াহ সম্পূর্ণ পৃথক দু’টি বিষয়। অথচ বর্তমানে এই দু’টি শব্দ একই অর্থে প্রয়োগ করা হয়, চূড়ান্তভাবে একই জিনিস মনে করা হয়। আসলে তাকওয়া ও হেদায়াহ দু’টি সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থবোধক গুরুত্বপূর্ণ শব্দ। হেদায়াহ হোল মানুষ যে পথে চোলবে সেই পথ সঠিক পথ হওয়া। মানবজাতি যদি আল্লাহর নির্দিষ্ট কোরে দেওয়া পথে, সেরাতাল মোস্তাকীম অর্থাৎ সহজ-সরল পথে চলে তাহোলে তারা হেদায়াতে থাকবে। আর তাকওয়া হোল ঐ নির্দিষ্ট পথে সাবধানে চলা। মানবজাতি যেন জীবনে চলার পথে কোন কাজে-কর্মে যাতে আল্লাহর বেঁধে দেওয়া ন্যায়ের পথ ছাড়া অন্যায়, অসৎ বা অশ্লীল পথে না চলে সেই বিষয়ে সদা সতর্ক থাকা হোল তাকওয়া। যদি তাদের চলার পথই সঠিক না হয় অর্থাৎ হেদায়াহই না থাকে তাহলে শত-সহস্র চেষ্টা কোরে আল্লাহর ভয়ে পাপ কাজ থেকে বিরত থাকায় কোন লাভ হবে না কারণ একমাত্র আল্লাহর নির্দিষ্ট পথ-সেরাতাল মোস্তাকীমই হোল জান্নাতের পথ, মুক্তির পথ অন্যগুলি শয়তানের পথ। অন্য পথে যতই ভালো কাজ করা হোক না কেন তা চূড়ান্তভাবে মুক্তি দিতে সক্ষম নয়।
সুতরাং এটা স্বাভাবিক যে – তাকওয়া অর্থহীন যদি হেদায়াহ না থাকে এবং সেই হেদায়াত সঠিক পথটি হোল সেরাতুল মোস্তাকীম, সহজ সরল পথ, জীবনের কোন ক্ষেত্রে এক আল্লাহ ছাড়া কারো বিধান না মানা, তওহীদ। এ জন্যই রসুলাল্লাহ (দ:) মো’য়াজ (রা:) কে বোললেন, ‘মো’য়াজ! কোন লোক যদি মৃত্যু পর্য্যন্ত এক আল্লাহকে ছাড়া আর কাউকে প্রভু বোলে স্থান না দেয়, তবে জাহান্নামের আগুন তাকে স্পর্শ কোরতে পারবে না।” তারপর আবু যর (রা:) – কে বোললেন, যে আল্লাহ ছাড়া আর কোন প্রভু স্ব^ীকার না করে তবে সে ব্যভিচার কোরলেও, চুরি কোরলেও, জান্নাতে প্রবেশ কোরবে। অর্থাৎ ঐ লোক সঠিক পথে সেরাতুল মোস্তাকীমে আছে, হেদায়াতে আছে, কিন্তু তাকওয়ায় নেই, সে মুত্তাকী নয়। কিছুই আসে যায় না, কারণ সে সঠিক পথে আছে বোলে সে গায়ে কাদামাটি ময়লা নিয়েও তার গন্তব্য স্থানে, ‘জান্নাতে’ পৌঁছবে আর যারা অতি সাবধানে পথ চোলছেন অতি মুত্তাকি কিন্তু সেরাতুল মোস্তাকীমে হেদায়াতে’ নেই তাদের সম্বন্ধেও আল্লাহর রসুল (দ:) বোলে গেলেন। বোলেছেন, ‘ভবিষ্যতে এমন সময় আসছে, যখন মানুষ রোযা রাখবে কিন্তু তা উপবাস অর্থাৎ না খেয়ে থাকা হবে (রোজা হবে না), রাত্রে ওঠে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়বে কিন্তু শুধু তাদের ঘুম নষ্ট করা হবে (নামাজ হবে না)” রসুলাল্লাহ যে সময়টার কথা বোলে গেছেন এখন সেই সময়। বর্তমান মোসলেম দুনিয়ার যে উল্লেখযোগ্য অংশটা অতি মুত্তাকি সেটার শুধু ব্যক্তিগত জীবন ছাড়া আর সবটাই অর্থাৎ রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক আইন, দণ্ডবিধি ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই আল্লাহকে বাদ দিয়ে মানুষের তৈরি ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রয়োগ করা হোয়েছে, অর্থাৎ তওহীদে সেরাতুল মোস্তাকীমে দীনুল কাইয়্যেমাতে ‘হেদায়াতে’ নেই। আদম (আ:) থেকে বিশ্বনবী (দ:) পর্যন্ত এসলামের ভিত্তিই হোল তওহীদ, সেরাতুল মোস্তাকীম, দীনুল কাইয়্যেমা। সেখানেই যদি না থাকে তবে আর এসলামে রইলো কেমন কোরে? কাজেই গোনাহ সওয়াব দেখে দেখে অতি সাবধানে তাকওয়ার সাথে পথ চোললেও সেই পথ তাদের জান্নাতে নিয়ে যাচ্ছে না, নিয়ে যাচ্ছে জাহান্নামে।
এই যে হেদায়াত এবং তাকওয়া দু’টো একেবারে ভিন্ন বিষয়, এটা যদি কেউ মনে করেন আমার ব্যক্তিগত মত তাহোলে তিনি ভুল কোরবেন। এটা আমার কথা নয় সুরা ফাতেহার পর সুরা বাকারা দিয়ে কোর’আন আরম্ভ কোরেই আল্লাহ বোলছেন, “এই বই সন্দেহাতীত।” (এটা) মুত্তাকীদের (সাবধানে পথ চলার মানুষদের) জন্য হেদায়াহ (সঠিক পথ প্রদর্শনকারী)”। পরিষ্কার দু’টো আলাদা জিনিস হোয়ে গেলো। একটি তাকওয়া অন্যটি হেদায়াহ। কাজেই আল্লাহ বোলছেন, যারা মুত্তাকী, কিন্তু হেদায়াতে নেই- সঠিক পথে নেই, তাদের পথ দেখাবার জন্যই এই কোর’আন। অন্যান্য, ধর্মে এমন কি আল্লাহকে অবিশ্বাসকারী নাস্তিক কমিউনিস্টদের মধ্যেও বহু মানুষ আছেন যারা ন্যায়-অন্যায়, ঠিক-অঠিক দেখে জীবনের পথ চোলতে চেষ্টা করেন। তারা মিথ্যা বলেন না, মানুষকে ঠকান না, অন্যের ক্ষতি করেন না, যতটুকু পারেন অন্যের ভালো করেন, গরীবকে সাহায্য করেন ইত্যাদি। তারা মুত্তাকী, কিন্তু তারা হেদায়াতে নেই। তাদের হেদায়াতে অর্থাৎ তওহীদে আনার জন্য কোর’আন। সুরা বাকারা ছাড়াও অন্যত্রও তাকওয়া ও হেদায়াত যে দু’টো ভিন্ন বিষয় তা আল্লাহ পরিষ্কার কোরে দিয়েছেন। তিনি বোলছেন- যারা সঠিক পথে (হেদায়াতে) চলে (আল্লাহ) তাদের হেদায়াত বৃদ্ধি করেন ও তাদের তাকওয়া প্রদান করেন। এই আয়াতেও তাকওয়া ও হেদায়াহ যে এক নয়, আলাদা তা দেখা গেলো এবং হেদায়াত তাকওয়ার পূর্বশর্ত তাও পরিষ্কার হোয়ে গেলো। তাকওয়া ও হেদায়াহ যে এক নয় তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ হোচ্ছে এই যে, কোর’আনে বহু জায়াগায় আল্লাহ তাঁর রসুলকে বোলছেন, ‘আমি তোমাকে হেদায়াত কোরেছি।” আমি শুধু দু’টি এখানে উল্লেখ কোরছি। সুরা আল ফাতাহ-র দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ তাঁর রসুলকে বোলেছেন, আমি তোমাকে সেরাতুল মোস্তাকীমে হেদায়াত কোরেছি”। তারপর সুরা দুহার সপ্তম আয়াতে তাঁকে বোলছেন, তোমাকে হেদায়াত কোরেছি।” বর্তমানে প্রচলিত ভুল আকিদায় মুত্তাকী হওয়া মানেই যদি হেদায়াত হওয়া হয় তবে বিশ্বনবীর (দ:) চেয়ে বড় মুত্তাকী কে ছিলেন, আছেন বা হবেন? আল্লাহ নবুয়াত দেবার আগেও যার গোনাহ, পাপ ছিল না তাকে আবার হেদায়াত করার দরকার কী? বর্তমান পৃথিবীর মোসলেম জাতির একটা অংশ প্রচণ্ড তাকওয়ায় আপ্রাণ চেষ্টা কোরছেন আল্লাহকে খুশি করার জন্য, তাঁর সান্নিধ্য লাভ করার জন্য, জান্নাতে স্থান পাওয়ার জন্য, কিন্তু চোলছেন আল্লাহ ও রসুল (দ:) যে হেদায়াহ পথ- প্রদর্শন দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন তার ঠিক বিপরীত দিকে। আল্লাহর রসুলের প্রদর্শিত পথের বিপরীত পথ অবশ্যই জাহান্নামের পথ, এ সহজ সত্য তাদের মনমগজে আসছেনা। তারা ওয়াজ কোরছেন- অমুক কাজ কোরলে এত হাজার সওয়াব লেখা হয়; অমুক কাজ কোরলে এত লাখ সওয়াব লেখা হয়। তারা হাওলা দিচ্ছেন যে এসব কথা হাদীসে আছে। হাদীসে ঠিকই আছে। কিন্তু আকিদার বিকৃতিতে তারা বুঝছেনা না যে ওগুলো তাদের উদ্দেশ্যে বলা হোয়েছে যারা সেরাতুল মোস্তাকীমে আছেন, সঠিক পথে আছেন, যাদের আকিদা সঠিক তাদের জন্য। যারা উল্টোপথে আছেন বিপরীত দিকে চোলছেন তাদের জন্য নয়। এই দীনের কঠিনতম দু’টি এবাদত রোজা ও তাহাজ্জুদই যদি তাদের জন্য অর্থহীন হয় তবে ও সব ছোটখাট ব্যাপারগুলো তো প্রশ্নের অতীত। আল্লাহর রসুল (দ:) জানতেন যে আকিদা ভ্রষ্ট হোয়ে তাঁর উম্মাহ একদিন আল্লাহ ও তাঁর প্রদর্শিত দিক-নির্দেশনা থেকে বিচ্যুত হোয়ে উল্টো দিকে চোলতে থাকবে। সেদিন অনেক আগেই এসে গেছে। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী কোরে গেছেন – “এমন সময় আসবে যখন মসজিদগুলি মুসল্লী দিয়ে পূর্ণ হবে” এমন কি একটি হাদীসে আছে যে, “এমন পূর্ণ হবে যে সেগুলিতে জায়গা পাওয়া যাবে না, (আজকাল তাই হোয়েছে) কিন্তু সেখানে হেদায়াত থাকবে না।” লক্ষ্য কোরুন মহানবী (দ:) কোন শব্দটা ব্যবহার কোরলেন। তিনি তাকওয়া শব্দ ব্যবহার কোরলেন না, ব্যবহার কোরলেন হেদায়াত। অর্থাৎ তাকওয়া থাকবে, খুবই থাকবে, কারণ তাকওয়া না থাকলে তো আর তারা মসজিদ পূর্ণ কোরতনা, কিন্তু হেদায়াত থাকবে না। মহানবীর (দ:) ভবিষ্যতবাণী বহু আগেই পূর্ণতা লাভ কোরেছে।
নুবয়াত শেষ হোয়ে গেছে। এই উল্টো পথে চলা জাতিকে আবার উল্টিয়ে সঠিক পথে কে আনবে? শেষনবী (দ:) বোলে গেছেন একজন মাহদী আসবেন ঐ কাজ করার জন্য। মাহদী তাঁর নাম নয়, ওটা তাঁর বিশেষণ বা উপাধি, তার নিজের অন্য নাম থাকবে। লক্ষ্য কোরুন তাঁর বিশেষণটি কী? মাহদী। শব্দটি এসেছে হেদায়াত থেকে- যিনি হেদায়াত প্রাপ্ত এবং হেদায়াতকারী; সত্যপথপ্রাপ্ত এবং সত্যপথ প্রদর্শনকারী। শেষনবী (দ:) ভবিষ্যতের সেই মানুষটির উপাধি ও বিশেষণে বোললেন ‘মাহদী’ তিনি বোললেন না যে মুত্তাকী আসবেন। কারণ মুত্তাকী আমরা যথেষ্ট, একেবারে চুলচেরা ব্যাপারেও আমরা প্রচণ্ড মুত্তাকী। আমাদের নামাজ, রোজা, হজ্ব¡, যাকাত, দাড়ি, মোচ, পাগড়ী, পাজামা, খাওয়া-দাওয়া, তসবিহ যিকরে ভুল ধরে কার সাধ্য? কিন্তু চোলছি সেরাতুল মোস্তাকীমের, দীনুল কাইয়্যেমার ঠিক বিপরীত দিকে, সংগ্রামের বিপরীত দিকে, গর্তের দিকে, পলায়নের দিকে, জাহান্নামের ভয়াবহ আযাবের দিকে। যিনি আমাদের এই জাহান্নামের দিকে গতি উল্টিয়ে আবার জান্নাতের দিকে কোরবেন অর্থাৎ হেদায়াত কোরবেন তার উপাধি, বিশেষণ হোচ্ছে মাহদী (আ:)।
এই যে হেদায়াত এবং তাকওয়া দু’টো একেবারে ভিন্ন বিষয়, এটা যদি কেউ মনে করেন আমার ব্যক্তিগত মত তাহোলে তিনি ভুল কোরবেন। এটা আমার কথা নয় সুরা ফাতেহার পর সুরা বাকারা দিয়ে কোর’আন আরম্ভ কোরেই আল্লাহ বোলছেন, “এই বই সন্দেহাতীত।” (এটা) মুত্তাকীদের (সাবধানে পথ চলার মানুষদের) জন্য হেদায়াহ (সঠিক পথ প্রদর্শনকারী)”। পরিষ্কার দু’টো আলাদা জিনিস হোয়ে গেলো। একটি তাকওয়া অন্যটি হেদায়াহ। কাজেই আল্লাহ বোলছেন, যারা মুত্তাকী, কিন্তু হেদায়াতে নেই- সঠিক পথে নেই, তাদের পথ দেখাবার জন্যই এই কোর’আন। অন্যান্য, ধর্মে এমন কি আল্লাহকে অবিশ্বাসকারী নাস্তিক কমিউনিস্টদের মধ্যেও বহু মানুষ আছেন যারা ন্যায়-অন্যায়, ঠিক-অঠিক দেখে জীবনের পথ চোলতে চেষ্টা করেন। তারা মিথ্যা বলেন না, মানুষকে ঠকান না, অন্যের ক্ষতি করেন না, যতটুকু পারেন অন্যের ভালো করেন, গরীবকে সাহায্য করেন ইত্যাদি। তারা মুত্তাকী, কিন্তু তারা হেদায়াতে নেই। তাদের হেদায়াতে অর্থাৎ তওহীদে আনার জন্য কোর’আন। সুরা বাকারা ছাড়াও অন্যত্রও তাকওয়া ও হেদায়াত যে দু’টো ভিন্ন বিষয় তা আল্লাহ পরিষ্কার কোরে দিয়েছেন। তিনি বোলছেন- যারা সঠিক পথে (হেদায়াতে) চলে (আল্লাহ) তাদের হেদায়াত বৃদ্ধি করেন ও তাদের তাকওয়া প্রদান করেন। এই আয়াতেও তাকওয়া ও হেদায়াহ যে এক নয়, আলাদা তা দেখা গেলো এবং হেদায়াত তাকওয়ার পূর্বশর্ত তাও পরিষ্কার হোয়ে গেলো। তাকওয়া ও হেদায়াহ যে এক নয় তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ হোচ্ছে এই যে, কোর’আনে বহু জায়াগায় আল্লাহ তাঁর রসুলকে বোলছেন, ‘আমি তোমাকে হেদায়াত কোরেছি।” আমি শুধু দু’টি এখানে উল্লেখ কোরছি। সুরা আল ফাতাহ-র দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ তাঁর রসুলকে বোলেছেন, আমি তোমাকে সেরাতুল মোস্তাকীমে হেদায়াত কোরেছি”। তারপর সুরা দুহার সপ্তম আয়াতে তাঁকে বোলছেন, তোমাকে হেদায়াত কোরেছি।” বর্তমানে প্রচলিত ভুল আকিদায় মুত্তাকী হওয়া মানেই যদি হেদায়াত হওয়া হয় তবে বিশ্বনবীর (দ:) চেয়ে বড় মুত্তাকী কে ছিলেন, আছেন বা হবেন? আল্লাহ নবুয়াত দেবার আগেও যার গোনাহ, পাপ ছিল না তাকে আবার হেদায়াত করার দরকার কী? বর্তমান পৃথিবীর মোসলেম জাতির একটা অংশ প্রচণ্ড তাকওয়ায় আপ্রাণ চেষ্টা কোরছেন আল্লাহকে খুশি করার জন্য, তাঁর সান্নিধ্য লাভ করার জন্য, জান্নাতে স্থান পাওয়ার জন্য, কিন্তু চোলছেন আল্লাহ ও রসুল (দ:) যে হেদায়াহ পথ- প্রদর্শন দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন তার ঠিক বিপরীত দিকে। আল্লাহর রসুলের প্রদর্শিত পথের বিপরীত পথ অবশ্যই জাহান্নামের পথ, এ সহজ সত্য তাদের মনমগজে আসছেনা। তারা ওয়াজ কোরছেন- অমুক কাজ কোরলে এত হাজার সওয়াব লেখা হয়; অমুক কাজ কোরলে এত লাখ সওয়াব লেখা হয়। তারা হাওলা দিচ্ছেন যে এসব কথা হাদীসে আছে। হাদীসে ঠিকই আছে। কিন্তু আকিদার বিকৃতিতে তারা বুঝছেনা না যে ওগুলো তাদের উদ্দেশ্যে বলা হোয়েছে যারা সেরাতুল মোস্তাকীমে আছেন, সঠিক পথে আছেন, যাদের আকিদা সঠিক তাদের জন্য। যারা উল্টোপথে আছেন বিপরীত দিকে চোলছেন তাদের জন্য নয়। এই দীনের কঠিনতম দু’টি এবাদত রোজা ও তাহাজ্জুদই যদি তাদের জন্য অর্থহীন হয় তবে ও সব ছোটখাট ব্যাপারগুলো তো প্রশ্নের অতীত। আল্লাহর রসুল (দ:) জানতেন যে আকিদা ভ্রষ্ট হোয়ে তাঁর উম্মাহ একদিন আল্লাহ ও তাঁর প্রদর্শিত দিক-নির্দেশনা থেকে বিচ্যুত হোয়ে উল্টো দিকে চোলতে থাকবে। সেদিন অনেক আগেই এসে গেছে। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী কোরে গেছেন – “এমন সময় আসবে যখন মসজিদগুলি মুসল্লী দিয়ে পূর্ণ হবে” এমন কি একটি হাদীসে আছে যে, “এমন পূর্ণ হবে যে সেগুলিতে জায়গা পাওয়া যাবে না, (আজকাল তাই হোয়েছে) কিন্তু সেখানে হেদায়াত থাকবে না।” লক্ষ্য কোরুন মহানবী (দ:) কোন শব্দটা ব্যবহার কোরলেন। তিনি তাকওয়া শব্দ ব্যবহার কোরলেন না, ব্যবহার কোরলেন হেদায়াত। অর্থাৎ তাকওয়া থাকবে, খুবই থাকবে, কারণ তাকওয়া না থাকলে তো আর তারা মসজিদ পূর্ণ কোরতনা, কিন্তু হেদায়াত থাকবে না। মহানবীর (দ:) ভবিষ্যতবাণী বহু আগেই পূর্ণতা লাভ কোরেছে।
নুবয়াত শেষ হোয়ে গেছে। এই উল্টো পথে চলা জাতিকে আবার উল্টিয়ে সঠিক পথে কে আনবে? শেষনবী (দ:) বোলে গেছেন একজন মাহদী আসবেন ঐ কাজ করার জন্য। মাহদী তাঁর নাম নয়, ওটা তাঁর বিশেষণ বা উপাধি, তার নিজের অন্য নাম থাকবে। লক্ষ্য কোরুন তাঁর বিশেষণটি কী? মাহদী। শব্দটি এসেছে হেদায়াত থেকে- যিনি হেদায়াত প্রাপ্ত এবং হেদায়াতকারী; সত্যপথপ্রাপ্ত এবং সত্যপথ প্রদর্শনকারী। শেষনবী (দ:) ভবিষ্যতের সেই মানুষটির উপাধি ও বিশেষণে বোললেন ‘মাহদী’ তিনি বোললেন না যে মুত্তাকী আসবেন। কারণ মুত্তাকী আমরা যথেষ্ট, একেবারে চুলচেরা ব্যাপারেও আমরা প্রচণ্ড মুত্তাকী। আমাদের নামাজ, রোজা, হজ্ব¡, যাকাত, দাড়ি, মোচ, পাগড়ী, পাজামা, খাওয়া-দাওয়া, তসবিহ যিকরে ভুল ধরে কার সাধ্য? কিন্তু চোলছি সেরাতুল মোস্তাকীমের, দীনুল কাইয়্যেমার ঠিক বিপরীত দিকে, সংগ্রামের বিপরীত দিকে, গর্তের দিকে, পলায়নের দিকে, জাহান্নামের ভয়াবহ আযাবের দিকে। যিনি আমাদের এই জাহান্নামের দিকে গতি উল্টিয়ে আবার জান্নাতের দিকে কোরবেন অর্থাৎ হেদায়াত কোরবেন তার উপাধি, বিশেষণ হোচ্ছে মাহদী (আ:)।
No comments:
Post a Comment