Friday, June 5, 2015

যারা পরাজিত হয় তারা উম্মতে মোহাম্মদী নয় (৫ম পর্ব)

যারা পরাজিত হয় তারা উম্মতে মোহাম্মদী নয় (৫ম পর্ব)

Ummote-mohammadi-noi-300x143যামানার এমাম জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী’র লেখা থেকে

কেরানী তৈরির শিক্ষাব্যবস্থা

এখন দেখা দরকার এই জাতিটিকে পরাজিত কোরে দাসত্ব শৃঙ্খলে আবদ্ধ কোরে তাদের আল্লাহ প্রদত্ত আইন-কানুন নিষিদ্ধ কোরে মোশরেক ও কাফের বানানোর পর ইউরোপীয়ান জাতিগুলি তাদের প্রভুত্ব স্থায়ী করার জন্য কি কি ব্যবস্থা নিলো। এই নতুন প্রভুরা বোকা ছিলো না। তারা ভালোকোরেই জানতো যে, কোন জাতিকে তারা শৃঙ্খলিত কোরতে পেরেছে এবং কেন পেরেছে। বুদ্ধিমান শত্র“ বুঝছিলো যে, যে জাতির সামনে তারা একদিন ঝড়ের মুখে শুকনো পাতার মত উড়ে গিয়েছিলো তাদের তারা আজ পদানত কোরতে পেরেছে, কারণ জাতিটি তাদের জন্য যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট কোরে দেয়া ছিলো তা থেকে ভ্রষ্ট হোয়ে গিয়েছে এবং ঐ লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার ফলশ্র“তিতে তাদের বহির্মূখী ও বিস্ফোরণমুখী চরিত্র পরিবর্তীত হোয়ে অন্তর্মূখী হোয়ে জাতির গতি রুদ্ধ হোয়ে স্থবির হোয়ে গিয়েছে এবং এই গতিহীনতা ও স্থবিরত্বের অবশ্যম্ভাবী ফল জাতির পণ্ডিতরা তাদের জীবন ব্যবস্থা দীনের আদেশ নিষেধ গুলির চুলচেরা সুক্ষ্ম বিশ্লেষণ কোরে নানা রকম মাযহাব ও ফেরকা সৃষ্টি করার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং বিকৃত ভারসাম্যহীন সুফীরা আত্মা ঘষামাজার নানা পন্থা তরিকা সৃষ্টি করার সুযোগ ও সময় পেয়েছিলেন। শত্র“ এও বুঝেছিলো যে, যতদিন তারা তাদের দাস জাতিটাকে ঐ লক্ষ্য ভুলিয়ে রাখতে পারবে, যতদিন এই জাতি তাদের দীনের ব্যবহারিক দৈনন্দিন জীবনের খুঁটিনাটি নিয়ম কানুনের মসলা মাসায়েল পালন নিয়ে ব্যস্ত থাকবে, যতদিন তারা তাদের আত্মা পরিষ্কার, ধোয়া মোছায় ব্যাপৃত থাকবে ততদিন তাদের কোন ভয় নাই। কিন্তু একবার যদি এই জাতি কোনও ভাবে আল্লাহ ও তাদের নেতা (দ:) যে লক্ষ্য, যে দিক-নির্দেশনা হেদায়াত তাদের দিয়েছেন তা ফিরে পায় তবে ঠিক আগের মতই তারা আবার এই জাতির সামনে শুকনো পাতার মত উড়ে যাবে এবং তাদের প্রকৃত লক্ষ্যকে যদি তাদের সামনে থেকে আড়াল কোরে রাখতে হয় তবে তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ কোরতে হবে।
Ummote-mohammadi-noi-1-300x284
বুদ্ধিমান শত্রুরা ঠিক এই পদক্ষেপই নিলো। নিদারুণ পরিহাস এই যে, ইউরোপীয়ান বিজয়ী জাতিগুলি এই দাস জাতির শিক্ষা ব্যবস্থা অধ্যয়ন ও পরীক্ষা কোরে দেখতে পেলো যে, এই জাতিটিকে দাসত্বের শিকলে চিরদিন আবদ্ধ কোরে রাখার জন্য যে রকমের শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি ও প্রচলন করা দরকার তা কোরতে তাদের খুব বেশী পরিশ্রম কোরতে হবে না। কারণ এই জাতির ফূকাহা, মুফাস্সির, মোহাদ্দিস ও মুফতি এক কথায় পণ্ডিতরা ইতিপূর্বেই সে জন্য অতি সুন্দর ক্ষেত্র প্রস্তুত কোরে রেখেছেন। তারা জাতির একটি অংশকে যা শেখাচ্ছিলেন তাতে জাতির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্বন্ধে কিছু নেই, যা আছে তা ভুল। এবং প্রচুর পরিমাণে আছে ছোটখাটো খুঁটিনাটির অবিশ্বাস্য চুলচেরা বিশ্লেষণ, তাই নিয়ে বহুবিধ মতভেদ ও ঝগড়া। এই অধ্যয়নের ফলে তারা এটাও বুঝতে পারলো কেন এই জাতিটি জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, প্রযুক্তিতে পৃথিবীর শিক্ষকের আসন থেকে এতো অল্প সময়ের মধ্যে একটি অশিক্ষিত মুর্খ জাতিতে পর্যবসিত হোয়েছে। তারা আরও দেখলো যে, ঐ বিশ্লেষণকারী পণ্ডিতদের এবং সুফীদের শিক্ষার ফলে এই জাতির যে সামরিক শিক্ষা ও প্রেরণা ছিলো তা সম্পূর্ণভাবে চাপা পড়ে গেছে বা একেবারে বাদ পড়ে গেছে। সুতরাং ইউরোপীয়ান প্রভুরা এই দাস জাতির পণ্ডিতদের প্রস্তুতকৃত ক্ষেত্রের উপরই এক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুললো- এই শিক্ষায় জাতিটি আগের চেয়েও বেশী চুলচেরা বিশ্লেষণে ব্যাপৃত হয়, আরও ফেরকায় বিভক্ত হোয়ে মারামারি করে, আরও অন্তুর্মুখী হয় এবং প্রভুরা আরও নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত হোয়ে প্রভুত্ব ও শোষণ কোরতে পারে। এই সময়ের ইতিহাস পর্যবেক্ষণ কোরলে মনে হয় বিভিন্ন ইউরোপীয়ান শক্তিগুলি একত্রে মিলিত হোয়ে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। কারণ মরক্কো থেকে বোর্নিও পর্যন্ত প্রায় সম্পূর্ণ “মোসলেম” জগত অধিকার কোরেছিলো ইউরোপের ছোট বড় বিভিন্ন জাতিগুলি এবং সকলেই একই রকমের পদক্ষেপ নিয়েছিলো। সেটা হলো এই যে, প্রত্যেকে তাদের নিজ নিজ গোলাম জাতির মধ্যে দু’রকম শিক্ষা পদ্ধতি চালু করলো। একটা হলো তাদের নিজেদের যার যার দেশে প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতি। এটা চালু কোরতে তারা খানিকটা বাধ্যও হলো। কারণ তারা যে বিরাট ভূভাগ ও জনসংখ্যা অধিকার কোরেছিলো তা ভালভাবে শাসন কোরতে যে পরিমাণ মানুষ দরকার তাদের দেশগুলি থেকে অত মানুষ আনা কার্যত সম্ভব ছিলো না, দেশীয় লোকজনের সাহায্য অপরিহার্য ছিলো। তাছাড়া তাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষিত হোলে দেশে তাদের অনুগত একটি শ্রেণি সৃষ্টি হবে এ উদ্দেশ্যও ছিলো। (তবে ঐ শিক্ষা ব্যবস্থায় একটা ব্যাপারে বিদেশী প্রভূরা সর্বত্র সতর্ক থেকেছে যে, তাদের নিজেদের দেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় যে নিজের জাতির প্রতি ভালবাসা, আনুগত্য ও বিশ্বস্ততা গড়ে ওঠে এদের বেলায় যেন তা না হয় বরং তারা যেন নিজেদের পরিচয় না পায়।) তাদের অতীত ও বর্তমান সম্বন্ধে যেন অবজ্ঞা ও ঘৃণা সৃষ্টি হয় এবং প্রভুদের সম্বন্ধে যেন তারা হীনমন্যতায় ডুবে থাকে। এই শিক্ষা ব্যবস্থায় তারা পাঠ্যবস্তু পাঠ্যক্রম (Curriculum) এমনভাবে তৈরি করলো যাতে এই জাতির ইতিহাসের বদলে ইউরোপের বিভিন্ন জাতিগুলির ইতিহাস স্থান পেলো। বিজ্ঞানের যে ভিত্তি মোসলেম জাতি স্থাপন কোরেছিলো, যে ভিত্তির উপর পরে পাশ্চাত্যের বিভিন্ন জাতিগুলি যে উন্নতি কোরেছিলো তা লুপ্ত কোরে দিয়ে, মোসলেম আবিষ্কারকদের নাম বাদ দিয়ে নিজেদের নাম বসিয়ে তারা শিক্ষার্থীরের মনে বিশ্বাস জন্মিয়ে দিলো যে, জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রবর্তক, প্রচলক শুধু তারাই। প্রাচ্যের জাতিগুলির ধর্ম, বিশ্বাস, কুসংস্কার, মানুষগুলি পশু পর্যায়ের। সামরিক দিক দিয়ে তারা এই দাস জাতির ছাত্র-ছাত্রীদের শেখালো যে, হ্যানিবল, সিজার আর নেপোলিয়নের মত বিজয়ী সেনাপতি ইতিহাসে আর হয় নি। ছাত্র-ছাত্রীরাও তাই শিখলো ও বিশ্বাস করলো। তারা জানলো না যে পৃথিবীর ইতিহাসে চির অপরাজিত অর্থাৎ জীবনে কোন যুদ্ধেই হারেন নি এমন সেনাপতি আছেন মাত্র পাঁচ জন, এবং এই পাঁচজনই প্রাচ্যের। এই পাঁচ জন হোচ্ছেন শেষ নবী মোহাম্মদ (দ:) বিন আব্দাল্লাহ, আল্লাহর তলোয়ার খালেদ বিন ওয়ালিদ (রা:), স্পেনের খলিফা আবদুর রহমান, সুলতান মাহমুদ এবং চেঙ্গিস খান। এবং এই পাঁচ জনের মধ্যে চারজনই মোসলেম। পাশ্চাত্যের কিছু কিছু ইতিহাসবিদ ওহোদের যুদ্ধে বিশ্বনবীকে (দ:) পরাজিত বোলে দেখাতে চেষ্টা কোরেছেন তাদের চিরাচরিত অভ্যাস মোতাবেক তাঁকে ছোট করার জন্য। কিন্তু ঐ যুদ্ধে তার পরাজয় হয় নি। বিপর্যয় হোয়েছিলো, তিনি গুরুতর আহত হোয়েছিলেন, কিন্তু পরাজিত হন নি। প্রকৃতপক্ষে মোসলেমদের একটা শিক্ষা দেবার জন্যই আল্লাহ ঐ ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। সে শিক্ষা হলো এই যে, নেতার বা সেনাপতির আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন না কোরলে কি হয়। খুব বেশী বোললে ওহোদ যুদ্ধের ফলাফলকে সমান সমান অর্থাৎ অচলাবস্থা (Stalemate) বলা যায়। বদর, ওহোদ বা খন্দক; এর যে কোন একটি যুদ্ধেই যদি মহানবী (দ:) পরাজিত হোতেন তবে ঐখানেই এসলামের সমাপ্তি ঘোটতো। স্বসৈন্যে আলপস পর্বত অতিক্রম কোরেছিলেন বোলে নিপোলিয়ানকে অসম্ভব সম্ভবকারী মানুষ বোলে শেখানো হলো এবং এই দুর্ভাগ্য জাতির ছেলেমেয়েরা তাই শিখলো এবং বিশ্বাস করলো। তারা জানলোও না যে এর চেয়েও শতগুন অসম্ভব কাজ কোরেছিলেন তাদের জাতিরই একজন। ইস্থাম্বুল জয় করার যুদ্ধে সুলতান দ্বিতীয় মোহাম্মদ তার সম্পূর্ণ নৌবহরকে পাহাড়ের উপর দিয়ে টেনে অতিক্রম কোরেছিলেন।

নিদারুণ নিপাত

আমি পেছনে বোলে এসেছি মহানবীর (দ:) ৬০/৭০ বছর পর থেকে এই জাতি আর জাতি হিসাবে প্রকৃত উম্মতে মোহাম্মদী ছিলো না। কিন্তু মোসলেম ছিলো কারণ তাদের সংবিধান ছিলো কোর’আন এবং হাদিস অর্থাৎ তাদের এলাহ ছিলেন আল্লাহ, আর পথপ্রদর্শক ছিলেন – মোহাম্মদ (দ:)। যদিও লক্ষ্যচ্যুত হোয়ে যাবার এবং আকীদা বিকৃত হবার কারণে তাদের এমন নিদারুণ পতন এলো যে, তারা ক্রীতদাসে পরিণত হলো কিন্তু এইবার গোলামে পরিণত হবার পর এই জাতি আর মোসলেমও রোইলো না, মোশরেকে পরিণত হলো। কারণ বোলছি। আল্লাহ কোর’আনে অনেকবার এই জাতিকে লক্ষ্য কোরে বোলেছেন যে, যদি তোমরা মো’মেন হও তবে আমি তোমাদের পৃথিবীতে উচ্চ রাখব, অন্যান্য জাতিদের উপর তোমাদের প্রবল রাখবো, পৃথিবীর কতৃত্ব, ক্ষমতা তোমাদের হাতে দেব (কোর’আন- সুরা আন নূর ৫৫)। তাহোলে যখন এই জাতি ইউরোপীয়ানদের কাছে যুদ্ধে হেরে গেলো তখন প্রমাণ হলো যে, ঐ জাতি আর মো’মেন নয়। না হলে আল্লাহর প্রতিশ্র“তি মিথ্যা (নাউযুবিল্লাহ)। তারপর সুরা ফাতাহতে আল্লাহ বোলছেন- “যখন অবিশ্বাসীরা তোমাদের (মোসলেমদের) সঙ্গে যুদ্ধ কোরবে (এখানে আল্লাহ সশস্ত্র যুদ্ধের কথা বোলছেন, কারণ শব্দ ব্যবহার কোরেছেন কিতাল) তখন নিশ্চয়ই তারা পালিয়ে যাবে। (অর্থাৎ হেরে যাবে) অতঃপর তাদের রক্ষা করার কোন অভিভাবক বা সাহায্যকারী থাকবে না। এটা সর্বকালে (পূর্বকাল থেকে সব সময়ই) আল্লাহর সুন্নাহ (রীতি) এবং আল্লাহর এই সুন্নাহ (রীতি) তিনি কখনও বদলান না (কোর’আন- সুরা আল ফাতাহ ২২-২৩)। লক্ষ্য কোরুন, মোসলেম জাতিকে, উম্মতে মোহাম্মদীকে আল্লাহ কী বোলছেন। তিনি বোলছেন- তোমাদের সঙ্গে যখনই অবিশ্বাসীদের (এখানে অবিশ্বাসী অর্থ যারা শেষ নবীর (দ:) উপর অবতীর্ণ জীবন ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না) যুদ্ধ হবে তখনই তারা পরাজিত হোয়ে পালিয়ে যাবে। কারণ হিসাবে বোলছেন যে, তাদের রক্ষা করার জন্য কোন অভিভাবক বা সাহায্যকারী নেই অর্থাৎ আল্লাহতো উম্মতে মোহাম্মদীর অভিভাবক এবং সাহায্যকারী আর ঐ পক্ষে কে অভিভাবক বা সাহায্যকারী? আর কেউ নেই। কাজেই পরাজয় ছাড়া তাদের জন্য আর কী সম্ভব? এই বোলে পরের আয়াতে আল্লাহ বোলছেন- এটা অর্থাৎ এই কাজ আমার সর্বকালের সুন্নাহ। সুন্নাহ শব্দের অর্থ হলো কারো কোন রীতি, নীতি, অভ্যাস, নিয়ম ইত্যাদি এবং আল্লাহ বোলছেন এটা আমার সর্বকালের রীতি, অর্থাৎ উম্মতে মোহাম্মদীর আগেও যে নবীদের (আ:) তিনি পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন তাদের উম্মাহগুলিও- যখন অবিশ্বাসীদের সঙ্গে যুদ্ধ হোয়েছে তখনও আল্লাহ সব সময়ই তাদের জয়ী কোরেছেন, তাদের শত্র“রা হেরে পালিয়ে গেছে। এরপর বোলছেন আল্লাহর এই সুন্নাহ কখনও বদলাবার নয়।
আল্লাহর এই কথা যে কত সত্য তার প্রমাণ আমরা পাই যখন আমরা উম্মতে মোহাম্মদী অর্থাৎ প্রথম ৬০/৭০ বছরের ইতিহাস পড়ি। সংখ্যায়, আয়োজনে, অস্ত্র-শস্ত্রে, বাহনে, রসদে এক কথায় প্রতি ক্ষেত্রে নগন্য এই জাতি দুইটি বিশ্বশক্তিকে পরাজিত করলো। আল্লাহ তার সুন্নাহ বজায় রাখলেন। কিন্তু এইবার ইউরোপ থেকে যে আক্রমণ এলো সে আক্রমণে এই জাতি প্রতি যুদ্ধে পরাজিত হলো, যদিও আক্রমণগুলি এসেছিলো ই্উরোপের বিভিন্ন ছোট বড় রাষ্ট্রগুলি থেকে। এই পরাজয় প্রমাণ করলো যে, এই জাতি আর আল্লাহর চোখে মো’মেনও নয় উম্মতে মোহাম্মদীও নয়। কারণ যদি এই জাতি মো’মেন হোয়ে থেকেও যুদ্ধে পরাজিত হোয়ে খ্রীস্টান ইউরোপের দাসে পরিণত হোয়ে যায় তবে আল্লাহর বাণী মিথ্যা (নাউজুবিল্লাহ)। আর নইলে তিনি তার সুন্নাহ বদলিয়ে ফেলেছেন এবং পুর্ববর্তী সব নবীদের উম্মাতের বেলায় না বদলিয়ে তার সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর (দ:) উম্মাহর বেলায় এসে প্রথম তার সুন্নাহ ত্যাগ কোরলেন। এর দু’টোর একটাও সম্ভব নয়, কাজেই একমাত্র সিদ্ধান্ত হলো এই যে, যখন ইউরোপের রাষ্ট্রগুলি এই জাতিকে, যে জাতি তখনও নিজেকে মো’মেন ও উম্মতে মোহাম্মদী বলে মনে কোরতো (এবং আজও করে) আক্রমণ করলো তখন সেটা আর মো’মেন নয় উম্মতে মোহাম্মদীও নয়। দীনের অতি বিশ্লেষণের ফলে বিভিন্ন মাযহাবে ও ফেরকায় বিভক্ত, ছিন্নভিন্ন, ঐক্যহীন এবং সুফী মতবাদের প্রভাবে বিকৃত আকীদায় অন্তমুর্খী, স্থবির জনসংখ্যা। আল্লাহ আর ঐ জনসংখ্যার অভিভাবকও নন, সাহায্যকারীও নন। কাজেই অবশ্যম্ভাবী ফল পরাজয়। সেই যে বিশ্বনবী (দ:) সতর্ক কোরে দিয়েছিলেন, দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি কোর না, পরাজিত হবে- ঠিক তাই হলো। উল্লেখিত হাদীসে মহানবী আল্লাহর কাছ থেকে যে প্রতিশ্র“তি নিয়েছেন যে, তাঁর উম্মাহ কখনও শত্র“র কাছে পরাজিত হবে না। সুতরাং আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবীবের সঙ্গে করা ওয়াদা রক্ষায় হক- সেটা ইতিহাস। কাজেই সিদ্ধান্ত হোল, শত্র“র নিকট পরাজিত হওয়া মানেই আর উম্মতে মোহাম্মদী নয়, যতই নামাজ পড়–ক, যতই রোজা রাখুক, যতই মোরাকাবা মোশাহেদা কোরুক, ফানা ফিল্লাহ হোয়ে যাক সবই অর্থহীন। (চোলবে…)

No comments:

Post a Comment