Sunday, June 14, 2015

জাতিকে শেষ করে দিলো মোল্লাতন্ত্র

জাতিকে শেষ করে দিলো মোল্লাতন্ত্র

044শেখ মনিরুল এসলাম:
আখেরি নবী পুরো মানবজাতিকে একটি মহাজাতিতে ঐক্যবদ্ধ করে অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার দূর কোরে ন্যায়, সুবিচার অর্থাৎ শান্তিপূর্ণ একটা বিশ্ব ব্যবস্থা কায়েমের জন্য এসেছেন এবং তার উপর অবতীর্ণ বিধান আসমানের মতো উদার, সমুদ্রের মতো বিশাল। সেই জীবনব্যবস্থাকে মানবজীবনে কার্যকরী কোরে মানুষের সার্বিক জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব উম্মতে মোহাম্মদীর। সেই এসলামটা আজ ধর্ম ব্যবসায়ী মোল্লা পুরোহিতদের হাতে বন্দী হয়ে মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকার চার দেয়ালের মধ্যে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। এটি আজ মানুষকে না দিতে পারছে শান্তি, না দিতে পারছে প্রগতি, না দিতে পারছে মুক্তি। বরং এই ধর্মজীবিদের সৃষ্ট ফেরকা, মাযাহাব নিয়ে বিভক্তি ও শত্র“তা, শিয়া সুন্নির দ্বন্দ্ব সংঘাতে জাতি নিঃশেষিতপ্রায়। এ জাতিকে আবারও আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করে ন্যায়, সুবিচার, শান্তি প্রতিষ্ঠার সেই মহান লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে এগিয়ে চোলছে মহান আন্দোলন হেযবুত তওহীদ, যামানার এমামের অনুসারীরা। মানবজাতির মহাকল্যাণময় এমন একটি উদ্যোগে নিজেদের জীবনসম্পদ সব আল্লাহকে সঁপে দিয়ে মাঠে নেমেছে হেযবুত তওহীদ। এসলামের প্রতি, আল্লাহর দিনের প্রতি, মানবতার প্রতি, সত্যের প্রতি, হকের প্রতি যাদের ন্যূনতম সমবেদনা, সহমর্মিতা বা সমর্থন আছে তাদের উচিত ছিলো হেযবুত তওহীদকে সমর্থন দেওয়া। কিন্তু যারা এসলামের ধারক-বাহক তারা হেযবুত তওহীদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা তো দূরের কথা তারা গত ১৯ বছর ধোরে এর ঘোর বিরোধিতা কোরে যাচ্ছে। তারা এতদিন বোলেছে যে, এরা খ্রিস্টান, নাস্তিক, মুরতাদ ইত্যাদি। এখন দৈনিক দেশেরপত্র পত্রিকার মাধ্যমে আমরা এই সত্য এসলামটা প্রকাশ কোরে যাচ্ছি। একদল কর্মী নিরলসভাবে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, সত্য প্রচারের জন্য তারা জেহাদ করে যাচ্ছে। এই কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্য ধর্মব্যবসায়ীরা এখন ফতোয়া জারি কোরেছে যে ‘দেশেরপত্র পড়ো না, দেশেরপত্র পড়লে ঈমান চলে যাবে’ ইত্যাদি। দুঃখজনক হলেও সত্য ২০০ বছর ব্রিটিশের গোলামীর পরিণতিতে আমাদের দেশের বিরাট সংখ্যক মানুষ শিক্ষাবঞ্চিত, তারা না জানে কোর’আন হাদিসের কথা, না জানে আল্লাহ রসুলের কথা, না জানে ইতিহাস, না জানে দুনিয়াবী কোন জ্ঞান। তারা তাদের আখেরাতের জন্য ধর্ম ব্যবসায়ী মোল্লাদের উপর নির্ভরশীল। তারা টাকার বিনিময়ে জান্নাত কেনে এই মোল্লাদের কাছ থেকে। কিন্তু এই ধর্মব্যবসায়ীরা নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থে জন্য জাতির কী মহা-ক্ষতি কোরে যাচ্ছেন সেটা তারা উপলব্ধি কোরছেন না। তাই তারা সত্যকে চাপা দিতে চাচ্ছেন, তাদের কাজের ফলে এসলামের ক্ষতি হোচ্ছে, মানুষের শান্তির দ্বার রুদ্ধ হোচ্ছে। তারা ভাবছেন মানুষ সত্য জেনে গেলে তাদের ধর্ম ব্যবসা বন্ধ হোয়ে যাবে, মসজিদে এমামতি, ওয়াজ করে টাকা কামাই, মাদ্রাসার চাকুরী ইত্যাদি চলে যাবে। তাদের মনে রাখা উচিত ফিলিস্তিনে, আফগানিস্তানে, ইরাকে, লেবানন, বসনিয়া, সিরিয়া, রুয়ান্ডায় যখন বোমা পড়ে, আগ্রাসন চলে, পাকিস্তান, কাশ্মির, আফগানিস্তান বিভিন্ন জায়গায় যখন গণহত্যা চলে তখন সেখানে মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা, খানকা, দরগা, মাজার কিছুই থাকে না। সুতরাং ব্যবসা না বাঁচিয়ে আগে জাতি বাঁচানোর চিন্তা করা প্রয়োজন, নগরে আগুন লাগলে দেবালয় এড়াবে না। কাজেই ধর্মব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান, ‘নিজের স্বার্থের জন্য জাতিকে আর ভুল পথে পরিচালিত করবেন না, প্রতারিত করবেন না, জাতির সামনে থেকে সত্যকে ফিরিয়ে রাখবেন না, আমাদেরকে সত্য বোলতে দিন। সত্যে সকলের কল্যাণ, আপনাদেরও কল্যাণ হবে। পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা হোলে কেউ না খেয়ে থাকবে না, সবাই বৈধ পথে উপার্জন কোরতে পারবে। আপনারাও পারবেন। মানুষের দৃষ্টি তাই আর কেতাবের পাতায় আর শুধুমাত্র নামাজ, যাকাত, হজ্ব, রোযার দিকে কেন্দ্রীভূত কোরে না রেখে এসলামকে বাস্তব জীবনে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ দিন। আমরা বোলছি যে, তওহীদ বিহীন নামায, যাকাত, হজ্ব, রোযার কোন দাম নাই। কিন্তু ধর্মজীবীরা জাতিকে তওহীদ অর্থাৎ আল্লাহর সার্বভৌমত্বের কথা না বোলে আবার সেই উদ্দেশ্যহীন নামায, রোযা, হজ্বের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তারা চায় এইগুলির মাধ্যমে ধর্মব্যবসা চিরজীবী হোক। মোল্লাতন্ত্র এই জাতিকে ধ্বংস কোরে দিয়েছে, শেষ করে দিয়েছে, জাতির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছে, জাতিটাকে সত্যের, ন্যয়ের পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে দিচ্ছে না। যুগে যুগে মানুষের কল্যাণের বহু বড় বড় উদ্দ্যেগ এরা ধ্বংস করে দিয়েছে, নস্যাৎ কোরে দিয়েছে। এনশাল্লাহ এবার আর পারবে না, কারণ হেযবুত তওহীদ প্রতিষ্ঠা কোরেছেন স্বয়ং আল্লাহ, তিনিই এর পরিচালনা কোরছেন। এবার সত্য উদ্ভাসিত হোয়েছে, মিথ্যাকে বিদায় নিতেই হবে। সমস্ত পৃথিবীতে এই সত্যদীন প্রতিষ্ঠিত হবেই হবে এনশা’ল্লাহ।

No comments:

Post a Comment