নিজেকে ধিক্কার
সোয়াইব আল বান্না:
“কান্নায় হতবিহ্বল বাবার কোলে নিষ্পাপ শিশুর রক্ত আর বারুদ মাখা লাশ, কিশোর পুত্রের ছিন্ন-ভিন্ন নিথর দেহের পাশে আহাজারি কোরছে পাগলিনী মা, আদরের বোনের রক্তমাখা লাশ ওড়নায় পেঁচিয়ে চোখের পানি মিশিয়ে মাটি চাপা দিচ্ছে ভাই, বাতাসে শুধু ঝাঁঝালো বারুদের গন্ধ আর অজানা আশঙ্কা, কখন যেন একটা বুলেট এসে কেড়ে নেয় প্রাণ, পূর্বপুরুষের ভিটেমাটির মায়া ছেড়ে অজানার উদ্দেশে যাত্রা কোরছে লক্ষ লক্ষ মানুষ, মসজিদগুলি চূর্ণ করা হোচ্ছে নির্দয়ভাবে, হাসপাতালও নিরাপদ নয় পাশবিক, বর্বরোচিত এই হামলা থেকে।”- এই হোচ্ছে ফিলিস্তিনিদের নিত্য দৃশ্য। টেলিভিশনের পর্দায়, পত্রিকার পাতায় এই করুণ, হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে আর সহ্য করা যায় না। কেবল নিজেদেরকে ধিক্কার জানাতে ইচ্ছা হয়, নিজের সত্ত্বাকে, নিজের অস্তিত্বকে। আমি যদি মোসলেম হোই, ওরাও যদি মোসলেম হয় তবে ভাই হোয়ে আরেক ভাইয়ের জন্য তো কিছুই কোরতে পারছি না। শুধু মোসলেম বোলে দাবি করা। বেহায়ার মতো সহাস্যবদনে নিজের স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মার্কেটে গেলাম, ঈদের কেনাকাটা কোরলাম, পাঞ্জাবি-টুপি কিনলাম, স্ত্রী-সন্তানদের জন্য ইচ্ছা মতো কেনাকাটা কোরলাম। নতুন জামা-কাপড়ের পাশাপাশি কসমেটিকস্, কিছু ফার্নিচার, আরও প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র। সবশেষে লাচ্ছি সেমাই, চিনি। কী নির্লজ্জ আমি, কী পাষণ্ড! ভাইয়ের রক্তমাখা লাশ, বোনের উপর নির্মম নির্যাতনের খবর, সন্তানহারা মায়ের হৃদয়বিদারি ক্রন্দন, হাহাকার আমার ঈদ-আনন্দে বিঘœ ঘটাতে পারেনি। ঈদ কোরছি, খুশি কোরছি। আনন্দ কোরে কি এটাই প্রমাণ কোরছি না যে, আমরা একজাতি নই, আমরা মোসলেম নই?
ধিক তোকে নরপিশাচ, শত ধিক তোর মুসলমানিত্বকে, লেবাস তথা পাঞ্জাবী, টুপি, পাগড়ীকে, ধিক তোর হজ্বসহ সকল উপাসনাকে। আরে তুই তো আল্লাহর হুকুম বহু আগেই বাদ দিয়ে ইহুদি-খ্রিস্টান ‘সভ্যতা’ দাজ্জালের পায়ে সেজদা কোরছিস। তোর মুসলমানিত্ব বহু আগেই খতম হোয়ে গেছে। এই লোক দেখানো সেজদা কাকে কোরছিস তুই? তোর জাতির উপরে তো বহু আগেই লানত দিয়েছেন স্রষ্টা, এখন তো তুই শিয়া, সুন্নি, হানাফী, শাফেয়ী, হাম্বলী, আহলে হাদিস ইত্যাদি ইত্যাদি। আবার আধ্যাত্মিকভাবে তুই কাদেরিয়া, নক্শবন্দিয়া, মোজাদ্দেদিয়া, আহলে বাইত ইত্যাদি হোয়ে আছিস। তুই তো আর উম্মতে মোহাম্মদী নেই, মোসলেম বা মো’মেন নেই। আল্লাহ বলেন, “সকল মো’মেন ভাই ভাই (সুরা হুজরাত ১০)”। রসুলাল্লাহ (দ:) বোলেছেন, ‘সমগ্র উম্মতে মোহাম্মদী জাতি যেন একটা শরীর, তার একটা অঙ্গে ব্যথা পেলে সারা শরীরেই ব্যথা অনুভূত হয়’ (আব্দাল্লাহ এবনে ওমর রা: থেকে বোখারী মোসলেম আবু দাউদ)। সেই উম্মতে মোহাম্মাদীর দাবিদার, এক মোসলেম জাতির দাবিদার হাজারো লক্ষ ভাগে বিভক্ত হোয়ে নিজেরা নিজেরা মারামারি, যুদ্ধ, রক্তপাত, দাঙ্গা ইত্যাদি কোরছি। ফলে আমাদেরই অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে অন্য জাতিগুলিও আমাদের উপর নানা অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়ন চালাচ্ছে। আর আমরা মহাসমারোহে ঈদ উদযাপন কোরছি। নামাজ পড়ছি, রোজা কোরছি, হজ্ব কোরছি। আর যখন ধর্মব্যাবসায়ী মোল্লাদের শকুনী দৃষ্টি পড়ছে আমাদের উপর তখন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, ওয়াজমাহফিল, ওরশ, মাজার ইত্যাদিতে কিছু অর্থ খরচ কোরে মহা দাতা বনে যাচ্ছি। একবারও ভাবছি না যে, আমরা আসলে মো’মেন, মোসলেমই নেই। কাজেই এসব দান না আমাদের, না সমাজের কোন কল্যাণ বোয়ে আনছে। এত শুধু ধর্মব্যাবসায়ীদের কল্যাণ করা হোচ্ছে। কাজেই এই পথভ্রষ্ট, বহুধাবিভক্ত, ছিন্ন-ভিন্ন, বিজাতির করুণার পাত্র হতভাগা এই জাতির একজন সদস্য হিসাবে নিজেকে ধিক্কার জানাই। আমি আল্লাহর রসুলের কাছে কী লজ্জায় দাঁড়াবো?
ধিক তোকে নরপিশাচ, শত ধিক তোর মুসলমানিত্বকে, লেবাস তথা পাঞ্জাবী, টুপি, পাগড়ীকে, ধিক তোর হজ্বসহ সকল উপাসনাকে। আরে তুই তো আল্লাহর হুকুম বহু আগেই বাদ দিয়ে ইহুদি-খ্রিস্টান ‘সভ্যতা’ দাজ্জালের পায়ে সেজদা কোরছিস। তোর মুসলমানিত্ব বহু আগেই খতম হোয়ে গেছে। এই লোক দেখানো সেজদা কাকে কোরছিস তুই? তোর জাতির উপরে তো বহু আগেই লানত দিয়েছেন স্রষ্টা, এখন তো তুই শিয়া, সুন্নি, হানাফী, শাফেয়ী, হাম্বলী, আহলে হাদিস ইত্যাদি ইত্যাদি। আবার আধ্যাত্মিকভাবে তুই কাদেরিয়া, নক্শবন্দিয়া, মোজাদ্দেদিয়া, আহলে বাইত ইত্যাদি হোয়ে আছিস। তুই তো আর উম্মতে মোহাম্মদী নেই, মোসলেম বা মো’মেন নেই। আল্লাহ বলেন, “সকল মো’মেন ভাই ভাই (সুরা হুজরাত ১০)”। রসুলাল্লাহ (দ:) বোলেছেন, ‘সমগ্র উম্মতে মোহাম্মদী জাতি যেন একটা শরীর, তার একটা অঙ্গে ব্যথা পেলে সারা শরীরেই ব্যথা অনুভূত হয়’ (আব্দাল্লাহ এবনে ওমর রা: থেকে বোখারী মোসলেম আবু দাউদ)। সেই উম্মতে মোহাম্মাদীর দাবিদার, এক মোসলেম জাতির দাবিদার হাজারো লক্ষ ভাগে বিভক্ত হোয়ে নিজেরা নিজেরা মারামারি, যুদ্ধ, রক্তপাত, দাঙ্গা ইত্যাদি কোরছি। ফলে আমাদেরই অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে অন্য জাতিগুলিও আমাদের উপর নানা অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়ন চালাচ্ছে। আর আমরা মহাসমারোহে ঈদ উদযাপন কোরছি। নামাজ পড়ছি, রোজা কোরছি, হজ্ব কোরছি। আর যখন ধর্মব্যাবসায়ী মোল্লাদের শকুনী দৃষ্টি পড়ছে আমাদের উপর তখন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, ওয়াজমাহফিল, ওরশ, মাজার ইত্যাদিতে কিছু অর্থ খরচ কোরে মহা দাতা বনে যাচ্ছি। একবারও ভাবছি না যে, আমরা আসলে মো’মেন, মোসলেমই নেই। কাজেই এসব দান না আমাদের, না সমাজের কোন কল্যাণ বোয়ে আনছে। এত শুধু ধর্মব্যাবসায়ীদের কল্যাণ করা হোচ্ছে। কাজেই এই পথভ্রষ্ট, বহুধাবিভক্ত, ছিন্ন-ভিন্ন, বিজাতির করুণার পাত্র হতভাগা এই জাতির একজন সদস্য হিসাবে নিজেকে ধিক্কার জানাই। আমি আল্লাহর রসুলের কাছে কী লজ্জায় দাঁড়াবো?
No comments:
Post a Comment