Thursday, June 4, 2015

যেভাবে সৃষ্টি করা হলো অনৈক্য

যেভাবে সৃষ্টি করা হলো অনৈক্য

রাকীব আল হাসান:
ব্রিটিশ শাসকরা এই উপমহাদেশের মানুষকে স্থায়ীভাবে গোলামে পরিণত করার জন্য প্রথমেই এতদাঞ্চলের মানুষের মধ্যে থেকে ঐক্য নষ্ট করে অনৈক্যের বীজ প্রোথিত করার সিদ্ধান্ত নিল। এজন্য প্রথমেই যে কাজটি তারা করল তা হচ্ছে ঐ সময়ের সকল শিক্ষাব্যবস্থা বন্ধ করে দুইটি ধারায় শিক্ষাব্যবস্থা চালু করল। এর একটি অংশ ধর্মীয় অংশ এবং অন্যটি সাধারণ শিক্ষা। উপমহাদেশের বড়লাট লর্ড ওয়ারেন হেসটিংস ১৭৮০ সনে ভারতের তদানীন্তন রাজধানী কোলকাতায় আলীয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করল। এই মাদ্রাসায় ইসলাম শিক্ষা দেওয়ার জন্য খ্রিস্টান পণ্ডিতরা বহু গবেষণা করে একটি নতুন ইসলাম দাঁড় করালেন যে ইসলামের বাহ্যিক দৃশ্য প্রকৃত ইসলামের মতোই কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেটার আকিদা এবং চলার পথ আল্লাহর রসুলের ইসলামের ঠিক বিপরীত।
এই শিক্ষা ব্যবস্থার সিলেবাসে অংক, ভূগোল, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষা ইত্যাদির কোনো কিছুই রাখা হলো না, যেন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে এসে আলেমদের রুজি-রোজগার করে খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য এই দীন, ধর্ম বিক্রি করে রোজগার করা ছাড়া আর কোনো পথ না থাকে। খ্রিস্টানরা এটা এই উদ্দেশ্যে করল যে তাদের মাদ্রাসায় শিক্ষিত এই মানুষগুলো যাতে বাধ্য হয় দীন বিক্রি করে উপার্জন করতে এবং তাদের ওয়াজ নসিহতের মাধ্যমে বিকৃত ইসলামটা এই জনগোষ্ঠির মন-মগজে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। খ্রিস্টানরা তাদের এই পরিকল্পনায় শতভাগ সাফল্য লাভ করল। এই মাদ্রাসা প্রকল্পের মাধ্যমে দীনব্যবসা ব্যাপক বিস্তার লাভ করল এবং এর মাধ্যমে মুসলিমদের মধ্যেও অন্যান্য ধর্মের মতো একটি স্বতন্ত্র পুরোহিত শ্রেণি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করল। তারা দীনের বহু বিতর্কিত বিষয় নিয়ে তর্ক-বাহাশ এবং ফলশ্র“তিতে বিভেদ-অনৈক্যের সৃষ্টি করতে থাকল, যার দরুন জাতি খ্রিস্টান প্রভুদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শক্তি হারিয়ে ফেলল। এই পুরোহিত শ্রেণির কর্মকাণ্ডের ফলে তাদেরকে অনুসরণকারী বৃহত্তর দরিদ্র জনগোষ্ঠির চরিত্র প্রকৃতপক্ষেই পরাধীন দাস জাতির চরিত্রে পরিণত হলো, কোনদিন তাদের প্রভুদের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াবার চিন্তা করারও শক্তি রইল না। ফলে তারা চিরতরে নৈতিক মেরুদণ্ড হারিয়ে ফেলে সমাজের উচ্চ শ্রেণির মুখাপেক্ষি হয়ে রইল।
এভাবেই খ্রিস্টান পণ্ডিতরা নিজেরা অধ্যক্ষ থেকে১৭৮০ থেকে ১৯২৭ সন পর্যন্ত ১৪৬ বছর ধরে এই মুসলিম জাতিকে এই বিকৃত ইসলাম শেখালো। অতঃপর তারা যখন নিশ্চিত হলো যে, তাদের তৈরি করা বিকৃত ইসলামটা তারা এ জাতির হাড়-মজ্জায় ঢুকিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে এবং আর তারা কখনও এটা থেকে বের হতে পারবে না তখন তারা ১৯২৭ সনে তাদের আলীয়া মাদ্রাসা থেকেই শিক্ষিত মওলানা শামসুল ওলামা কামাল উদ্দিন আহমেদ (এম.এ.আই.আই.এস) এর কাছে অধ্যক্ষ পদটি ছেড়ে দিল, এর আগে পর্যন্ত মোট ৪৬ জন খ্রিস্টান পণ্ডিত এই মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল পদে আসীন ছিল। (আলীয়া মাদ্রাসার ইতিহাস, মূল- আঃ সাত্তার, অনুবাদ- মোস্তফা হারুণ, ইসলামী ফাউণ্ডেশন, বাংলাদেশ, Reports on Islamic Education and Madrasah Education in Bengal” by Dr. Sekander Ali Ibrahimy (Islami Faundation Bangladesh), মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার ইতিহাস, মাওলানা মমতাজ উদ্দীন আহমদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ)।
অপরদিকে সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত অংশটিতে এই বিরাট এলাকা শাসন করতে যে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের কেরানীর কাজ করার জনশক্তি প্রয়োজন সেই উপযুক্ত জনশক্তি তৈরি করার বন্দোবস্ত করা হলো। তারা এতে ইংরেজি ভাষা, সুদভিত্তিক অংক, বিজ্ঞানের বিভিন্ন দিক, প্রযুক্তিবিদ্যা অর্থাৎ পার্থিব জীবনে যা যা প্রয়োজন হয় তা শেখানোর বন্দোবস্ত রাখল। এখানে আল্লাহ, রসুল, আখেরাত ও দীন সম্বন্ধে প্রায় কিছুই রাখা হলো না। ইসলামের গৌরবময় ইতিহাসের পরিবর্তে ইউরোপ-আমেরিকার রাজা-বাদশাহদের ইতিহাস, তাদের শ্রেষ্ঠত্বের কাহিনীই শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলো। ফলে এই সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত শ্রেণিটি মনে-প্রাণে প্রভুদের সম্বন্ধে একধরনের ভক্তি ও নিজেদের অতীত সম্বন্ধে হীনমন্যতায় ভুগতে লাগল। বাস্তবতা এমন দাঁড়াল যে তারা নিজেদের প্রপিতামহের নাম বলতে না পারলেও ইউরোপীয় শাসক, কবি, সাহিত্যিকদের তস্য-তস্য পিতাদের নামও মুখস্ত করে ফেলল। নিজেদের সোনালি অতীত ভুলে যাওয়ায় তাদের অস্থিমজ্জায় এটা প্রবেশ করল যে সর্বদিক দিয়ে প্রভুরাই শ্রেষ্ঠ।
এই দুই অংশের বাইরে বাকি ছিল উভয়প্রকার শিক্ষাবঞ্চিত এক বিশাল জনসংখ্যা। এখন যখন প্রভুদের এদেশ ছেড়ে যাবার সময় হলো তখন তারা কাদের হাতে শাসনভার ছেড়ে যাবে তা নিয়ে মোটেও তাদের চিন্তা করতে হলো না। একে তো মাদ্রাসা শিক্ষিত শ্রেণিটি শাসন করার যোগ্য নয়, এমনকি শাসন করার ব্যাপারে আগ্রহীও নয় (বর্তমানেও এদের উত্তরসূরিদের একটা অংশ তাই মনে করে। এরা মনে করে শাসন যে-ই করুক, আমরা ধর্ম-কর্ম করতে পারলেই চলবে), আর সাধারণ মূর্খ জনতার হাতে শাসনদণ্ড ছাড়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তাই অবশ্যই বাকি থাকে সাধারণ শিক্ষিত অংশটি। এদের হাতে শাসনভার ছেড়ে যাওয়ার লাভ বহুমুখী। একে তো তারা প্রভু বলতে অজ্ঞান, তাছাড়া প্রভুরা না থাকলেও তারা যে প্রভুদের স্বার্থই রক্ষা করে চলবে এ ব্যাপারে প্রভুরা একেবারেই নিশ্চিত ছিলেন।
এরাই যে প্রভুদের অনুপস্থিতিতে শাসনভার পাওয়ার অধিকারী এবং পাশ্চাত্য প্রভুরা আগে থেকেই তাদের জন্য এ ব্যাপারে প্রশিক্ষিত করে তুলেছে তার একটি বড় প্রমাণ তাদেরকে অধিকার আদায়ের পথ শিক্ষা দেওয়ার নামে তাদের পছন্দসই রাজনীতি শিক্ষা দেওয়া। এই প্রভুদেরই একজন, এলান অক্টাভিয়ান হিউম (Allan Octavian Hume. 1829-1912) নামে কথিত ‘ভারতপ্রেমী’ ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস (Indian National Congress) নামে একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে এদেশীয় শিক্ষিত শ্রেণিটিকে এদেশীয়দের অধিকার আদায়ের রাজনীতি শিক্ষা প্রদান করেন। অবাক করা ব্যাপার এই যে তিনি তাদের কাছে ‘ভারতপ্রেমী’ নামে পরিচিত। তারই শিক্ষায় শিক্ষিত এই রাজনীতিকরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রভুদের পছন্দসই রাজনীতি শিক্ষা লাভ করেছেন। বর্তমানে আমাদের দেশের সাধারণ জনগণের ঘৃণা কুড়ানো রাজনীতিকরা তাদেরই বর্তমান উত্তরসূরি।
কাল অতিবাহিত হয়েছে, কিন্তু আমাদের প্রতি প্রভুদের পূর্ব মানসিকতা এখনো যায় নি। আমাদের সম্পদ থেকে ভাগ নেওয়ার মানসিকতাও এখন পর্যন্ত তাদের দূর হয় নি। ঐ সময়ে নিয়েছে জোর করে আর এখন নেয় নেতা-নেত্রীদেরকে ক্ষমতা বসিয়ে দেওয়ার নামে আঁতাত করে। যারা তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তারাই তাদের আনুকূল্য পায়। আর এই আনুকূল্যের রসদ হচ্ছে আমাদের নেতাদের বিভিন্ন দাসত্ব চুক্তি, দাসখত।
যাই হোক, গোলামি যুগে প্রভুরা আমাদেরকে যে রাজনীতি শিক্ষা দিয়ে গেছেন আমরা নির্দ্ধিধায় আজও তা চর্চা করে যাচ্ছি। এর উপমা এই যে, জেল-পুলিশ জেল গেট খুলে চলে গেছে, কিন্তু কয়েদীরা এতই ভাল কয়েদী যে তারা জেল থেকে বের না হয়ে তাদের মধ্য থেকেই অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী লোকদেরকে পুলিশ বানিয়ে মনোযোগের সাথে জেল খাটা অব্যাহত রাখল। কোনো কোনো সচেতন কয়েদী তাদের এই দুরবস্থা দেখে এই জেল থেকে বের হওয়ার কথা বললে বরং তারা কয়েদীকে অবাধ্য ও বিদ্রোহী বলে মারতে লাগল।
তাদের শেখানো রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের মাধ্যম অর্থাৎ ‘গণতন্ত্র’ আসলে কি এ সম্বন্ধে এবার জানা যাক। গণতন্ত্র এমন একটি জীবনব্যবস্থা যার গোড়াতেই অনৈক্যের বীজ রোপণ করা। বহুদল, বহুমত হচ্ছে এর অন্যতম প্রধান উপাদান। যে যা খুশি বলবে, যে যা খুশি করবে, দাবি আদায়ের নামে মানুষের পথ চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি করবে, গাড়ি পোড়াবে, রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিসাধন করবে, জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারবে, পিটিয়ে মারবে, এই জাতীয় সকল কার্যক্রম গণতন্ত্র দ্বারা সিদ্ধ। এই সব কার্যক্রম যারা চালিয়ে যাবে তাদেরকে বলা হয় নিয়মতান্ত্রিক দল। এসব যারা করে না তারা অগণতান্ত্রিক, সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই পরিত্যাজ্য। গণতন্ত্রে যত দল সৃষ্টি হবে ততো নাকি গণতন্ত্র বিকশিত হয়। মূলতঃ গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তিতেই অনৈক্য প্রোথিত হয়ে আছে। আর এটা একটা প্রাকৃতিক নিয়ম যে ঐক্যই সমৃদ্ধি আর অনৈক্য ডেকে আনে ধ্বংস। বাস্তবতা হচ্ছে গণতন্ত্র এমন একটি ব্যবস্থা যা একমাত্র গোলামদের জন্যই প্রযোজ্য, অনুগত দাসদের বিদ্রোহ করার পরিবর্তে গোলামিতে ব্যস্ত রাখতে এটি ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। এ জন্যই এটি সাম্রাজ্যবাদীরা বার বার তাদের কাক্সিক্ষত ভূ-খণ্ডে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
গণতন্ত্রের এই সব বৈধ কার্যক্রম চর্চা করতে করতে পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের ৪২ বছর পর নানা উত্থান-পতনের মাধ্যমে এই জাতিটি আজ চূড়ান্ত গহ্বরে পতিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাই প্রভুরা আবারো ফিরে আসছেন স্ব-মূর্তিতে, প্রেমিকের বেশে। সবাইকে নিয়ে বসিয়ে, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এই গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য একের পর এক জোরালো মিশন চলছে। জোর করে ঔষধ গেলানোয় রোগী তা বমি করে উগরে দিচ্ছে, তাই আমাদের প্রভুরা বিশেষ ব্যবস্থায় তা গলধঃকরণ করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন।
প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে এর বিকল্প কি?
এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, এর বিকল্প হচ্ছে আমাদেরকে একতাবদ্ধ হতে হবে। এদেশ আমাদের, সুতরাং এদেশ কিভাবে চলবে, কোনো জীবনব্যবস্থা এদেশের মানুষ গ্রহ করবে তা একান্তই আমাদের নিজস্ব ব্যাপার। আমাদেরকে সর্বপ্রথম নিজেদের মধ্যে বিদ্যমান বিভেদ দূর করতে হবে। সিদ্ধান্তে আসতে হবে যে, আমরা বিদেশী মগজ দিয়ে চিন্তা করব না। এদেশের মাটি ও মানুষ যে স্বাভাবিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে জীবন ধারণ করে আসছিল তার মধ্যে যে অংশটুকু আমাদের ভুল ছিল তা খুঁজে বের করে অর্থাৎ ঐ ভুল শুধরিয়ে আমাদেরকে সামনে এগোতে হবে। এই দেশ বহুকাল আগে থেকেই ধর্মীয় অনুশাসন দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছিল। তখন এই উপমহাদেশীয় অঞ্চলটিতে দুইটি প্রধান ধর্ম পাশাপাশি অবস্থান করলেও মানুষ সুখ, সমৃদ্ধি, ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে দিনাতিপাত করে আসছিল। ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাব এদেশে ঔপনিবেশিক আমলের আগে কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয় নি। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্রপাত ঘটে ব্রিটিশদের এদেশ দখল করার পর থেকেই। কারণ, তাদের মূল নীতিই ছিল ‘ভাগ করো এবং শাসন করো’। এদেশীয় হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সংঘাত লাগিয়ে তারা নিশ্চিন্তে তাদের শাসনদণ্ড আমাদের উপর ঘুরিয়ে গেছে। তাই বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বর্তমান চলমান সঙ্কটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রথম কাজ হচ্ছে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। ১৯৭১ সালে শেষবার বাঙ্গালি জাতি পাকিস্তানিদের দুঃশাসনের হাত থেকে মুক্তির জন্য একতাবদ্ধ হয়েছিল। আজ সে ঐক্যের বড় অভাব। জাতির এখন প্রয়োজন সকল বিভেদ-ব্যবধান ভুলে এক কাতারে দাঁড়ানো, সেই ঐক্যকে ফিরিয়ে আনা। তাহলেই একমাত্র আমাদের দ্বারা সম্ভব পৃথিবীর বুকে আত্ম-মর্যাদাসম্পন্নভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো একটি জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া।

No comments:

Post a Comment