প্রযুক্তির কালো দিক এবং আপনার সন্তান
কাজী আবদাল্লাহ আল মাহফুজ
ইদানিং স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের স্মার্ট ফোন, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহী দেখা যায়। এটা ঠিক যে বর্তমান যুগের সাথে তাল মেলাতে গেলে তাদের এমন আগ্রহ থাকা খুব স্বাভাবিক। তাদের বুদ্ধিবৃত্তির উৎকর্ষতার জন্য কমপিউটার খুবই জরুরি এটাও ঠিক। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে অভিভাবকগণ আদরের সন্তানকে অনেকটা আগ্রহ করেই কম্পিউটার কিনে দিচ্ছেন। অভিভাবকগণ নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন সন্তানকে কম্পিউটার কিনে দেয়ার পর তার একটি নতুন বায়না- ইন্টারনেট সংযোগ। হ্যাঁ, ইন্টারনেট ছাড়া সে তথ্য-প্রযুক্তির যুগে পা রাখতে পারবে না এটাও ঠিক। আবার দেখা যাচ্ছে আপনার আদরের ছেলে বা মেয়ে বায়না ধরেছে একটি স্মার্ট ফোন বা ভিডিও দেখা যায় এমন মোবাইল সেট কিনে দেয়ার জন্য। আপনি অনেক খেটে খুটে বাজারের খরচ থেকে পয়সা বাঁচিয়ে তার আবদার হয়তো পূরণ করেছেন। এর সবই আপনি করেছেন সন্তানের ভাল বিবেচনা করে; আপনার সন্তান যেন আধুনিক যুগের একজন সুনাগরিক হয় এ কথা ভেবে।
সন্তানের মঙ্গল কামনায় এই যে এতকিছু করলেন, এসব আপনার সন্তানকে সুনাগরিক হতে কতটুকু সাহায্য করছে তা কি একবার খোঁজ নিয়ে দেখেছেন? যে ছেলে বা মেয়েটি একসময় সবার সাথে হেসে খেলে বেড়াত, এখন সে মহাব্যস্ত কম্পিউটার অথবা মোবাইল ফোন নিয়ে। যাকে একসময় ধরে বেঁধে পড়ার টেবিলে বসানো যেতো না সে এখন তার পড়ার টেবিল অর্থাৎ কম্পিউটার থেকে উঠতেই চায় না, বরং গভীর রাত পর্যন্ত সে অনেক ‘লেখাপড়া’ করে। যে ছেলে বা মেয়েটি এক সময় সবাইকে অস্থির করে ফেলত সে এখন একাকী চিলেকোঠায় বা নির্জনে বসে মোবাইল ফোন ঘাটাঘাটিতে ব্যস্ত। আপনি হয়তো তার এই অভূতপূর্ব পরিবর্তে খুব সস্তিতে আছেন যাক আমার সন্তান খুব শান্তশিষ্ঠ হয়ে গেছে! কিন্তু… একবারও কি খোঁজ নিয়ে দেখেছেন আপনার আদরের সন্তানটি রাতের পর রাত কম্পিউটারে বসে অথবা মোবাইল ফোন হাতে নির্জনে বসে কতটুকু সুনাগরিক হয়েছে? আমি হলফ করে বলতে পারি আপনার ছেলেমেয়েদের মধ্যে যে ছেলে বা মেয়েটি দিনের পর দিন কম্পিউটার বা মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে সে স্ত্রী-পুরুষের শারীরিক সম্পর্কের বিষয়ে আপনাদের চেয়ে বেশী জ্ঞানার্জন করে ফেলেছে। অনেকটা অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে পি.এইচডি করে ফেলার মত। সে হতে পারে আপনার কাছে পুচকে সন্তান সিক্স, সেভেন, এইট বা ইন্টারমিডিয়েটে পড়ুয়া।
শুধু ইন্টারনেট নয়, আপনার বাড়ির আশপাশেই অলি-গলির মোবাইলে ডাউনলোড করা হয়, অথবা ভিডিও ক্যাসেট ভাড়া দেওয়া হয় এমন দোকানগুলোতেও নষ্ট ছবির ছাড়াছড়ি। এবং হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন সেসব দোকানে বালক, কিশোর, তরুন ছেলেমেয়েদের খুব বেশী আনাগোনা, আড্ডার স্থল। আপনার ছেলে বা মেয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার না করলেও খুব সহজে সেখান থেকে খারাপ সিনেমা, ছবি ইত্যাদি পেয়ে যাচ্ছে।
যে সকল অভিভাবক ইন্টারনেট বা আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন তারা আমার সাথে অবশ্যই একমত হবেন, অন্তত সত্যের খাতিরে। কিন্তু যারা এসবের কোন জ্ঞান রাখেন না, তারা হয়তো আমার কথা বিশ্বাস করবেন না অথবা আশ্চর্য হবেন। আমি বিষয়টি আরেকটু পরিষ্কার করে দিই যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তারা কিভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে?
ইন্টারনেট এমন একটা মাধ্যম, যাতে ভালোর চেয়ে খারপ জিনিস (সাইট) বেশি এবং যারা এর নিয়ন্ত্রক তারা ইচ্ছে করেই এমনটি করে রেখেছে। আপনি চান আর না চান, খারাপ জিনিস (সাইট) গুলো আপনার সামনে এমনিতেই এসে হাজির হবে। যদি আমার কথা বিশ্বাস না হয় তাহলে আমার কথামতো পরখ করে দেখুন।
প্রথম পরখ: যে কোন কারণে হোক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ছবি দরকার এবং যে ছবি ইন্টারনেট থেকে আপনি খুব সহজেই পেতে পারেন। মনে রাখুন আমরা একটি ভাল উদ্দেশ্যে যাত্রা করছি। এবার ইন্টারনেটের যে কোন একটি ব্রাউজার ওপেন করুন এবং গুগল সার্চ ইঞ্জিনে গিয়ে ওসধমব ট্যাব সিলেক্ট করুন। এবার hasina লিখে এন্টার দিন। আপনার ইন্টারনেট স্পিড ভালো থাকলে দেখবেন প্রধানমন্ত্রীর ছবি, সাথে সাথে আরো অনেক হাসিনার ছবি কম্পিউটারের পর্দায় ভেসে উঠবে। মাউস স্ক্রল করে এবার দেখতে থাকুন। নিজের চোখকে বিশ্বাস হচ্ছে না নিশ্চয়ই। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া যদি একবার অন্য কোন হাসিনার ছবির উপর ক্লিক করেন তাহলে দেখবেন সে হাসিনা আপনাকে কতদূর নিয়ে যেতে পারে।
সন্তানের মঙ্গল কামনায় এই যে এতকিছু করলেন, এসব আপনার সন্তানকে সুনাগরিক হতে কতটুকু সাহায্য করছে তা কি একবার খোঁজ নিয়ে দেখেছেন? যে ছেলে বা মেয়েটি একসময় সবার সাথে হেসে খেলে বেড়াত, এখন সে মহাব্যস্ত কম্পিউটার অথবা মোবাইল ফোন নিয়ে। যাকে একসময় ধরে বেঁধে পড়ার টেবিলে বসানো যেতো না সে এখন তার পড়ার টেবিল অর্থাৎ কম্পিউটার থেকে উঠতেই চায় না, বরং গভীর রাত পর্যন্ত সে অনেক ‘লেখাপড়া’ করে। যে ছেলে বা মেয়েটি এক সময় সবাইকে অস্থির করে ফেলত সে এখন একাকী চিলেকোঠায় বা নির্জনে বসে মোবাইল ফোন ঘাটাঘাটিতে ব্যস্ত। আপনি হয়তো তার এই অভূতপূর্ব পরিবর্তে খুব সস্তিতে আছেন যাক আমার সন্তান খুব শান্তশিষ্ঠ হয়ে গেছে! কিন্তু… একবারও কি খোঁজ নিয়ে দেখেছেন আপনার আদরের সন্তানটি রাতের পর রাত কম্পিউটারে বসে অথবা মোবাইল ফোন হাতে নির্জনে বসে কতটুকু সুনাগরিক হয়েছে? আমি হলফ করে বলতে পারি আপনার ছেলেমেয়েদের মধ্যে যে ছেলে বা মেয়েটি দিনের পর দিন কম্পিউটার বা মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে সে স্ত্রী-পুরুষের শারীরিক সম্পর্কের বিষয়ে আপনাদের চেয়ে বেশী জ্ঞানার্জন করে ফেলেছে। অনেকটা অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে পি.এইচডি করে ফেলার মত। সে হতে পারে আপনার কাছে পুচকে সন্তান সিক্স, সেভেন, এইট বা ইন্টারমিডিয়েটে পড়ুয়া।
শুধু ইন্টারনেট নয়, আপনার বাড়ির আশপাশেই অলি-গলির মোবাইলে ডাউনলোড করা হয়, অথবা ভিডিও ক্যাসেট ভাড়া দেওয়া হয় এমন দোকানগুলোতেও নষ্ট ছবির ছাড়াছড়ি। এবং হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন সেসব দোকানে বালক, কিশোর, তরুন ছেলেমেয়েদের খুব বেশী আনাগোনা, আড্ডার স্থল। আপনার ছেলে বা মেয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার না করলেও খুব সহজে সেখান থেকে খারাপ সিনেমা, ছবি ইত্যাদি পেয়ে যাচ্ছে।
যে সকল অভিভাবক ইন্টারনেট বা আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন তারা আমার সাথে অবশ্যই একমত হবেন, অন্তত সত্যের খাতিরে। কিন্তু যারা এসবের কোন জ্ঞান রাখেন না, তারা হয়তো আমার কথা বিশ্বাস করবেন না অথবা আশ্চর্য হবেন। আমি বিষয়টি আরেকটু পরিষ্কার করে দিই যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তারা কিভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে?
ইন্টারনেট এমন একটা মাধ্যম, যাতে ভালোর চেয়ে খারপ জিনিস (সাইট) বেশি এবং যারা এর নিয়ন্ত্রক তারা ইচ্ছে করেই এমনটি করে রেখেছে। আপনি চান আর না চান, খারাপ জিনিস (সাইট) গুলো আপনার সামনে এমনিতেই এসে হাজির হবে। যদি আমার কথা বিশ্বাস না হয় তাহলে আমার কথামতো পরখ করে দেখুন।
প্রথম পরখ: যে কোন কারণে হোক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ছবি দরকার এবং যে ছবি ইন্টারনেট থেকে আপনি খুব সহজেই পেতে পারেন। মনে রাখুন আমরা একটি ভাল উদ্দেশ্যে যাত্রা করছি। এবার ইন্টারনেটের যে কোন একটি ব্রাউজার ওপেন করুন এবং গুগল সার্চ ইঞ্জিনে গিয়ে ওসধমব ট্যাব সিলেক্ট করুন। এবার hasina লিখে এন্টার দিন। আপনার ইন্টারনেট স্পিড ভালো থাকলে দেখবেন প্রধানমন্ত্রীর ছবি, সাথে সাথে আরো অনেক হাসিনার ছবি কম্পিউটারের পর্দায় ভেসে উঠবে। মাউস স্ক্রল করে এবার দেখতে থাকুন। নিজের চোখকে বিশ্বাস হচ্ছে না নিশ্চয়ই। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া যদি একবার অন্য কোন হাসিনার ছবির উপর ক্লিক করেন তাহলে দেখবেন সে হাসিনা আপনাকে কতদূর নিয়ে যেতে পারে।
দ্বিতীয় পরখ: গুগল সার্চ ইঞ্জিনে গিয়ে বাংলা করে নিন। আপনি বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে চান। নিশ্চয়ই একটি ভাল কাজ, দেশ সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের জন্য আপনি ইন্টানেটের সহায়তা নিতেই পারেন। অতি উত্তম কাজ। এজন্য আপনি ইরেজিতে বাংলাদেশ বানান করে লিখুন বেশীদূর লিখতে হবে না- শুধু নধ লিখুন এবং দেখুন সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পর্কে ভাল কিছু পান না খারাপ কিছু পান। এত খারাপ কিছু পাবেন যা আপনি জীবনে কল্পনাও করতে পারেন নি।
এবার ভাবুন আপনার আদরের সন্তানকে আধুনিক যুগের আধুনিক নাগরিক হাওয়ার জন্য তার হাতে কি তুলে দিয়েছেন। রাতের পর রাত জেগে বা নির্জনে বসে কম্পিউটার বা মোবাইলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আপনার স্কুল বা কলেজ পড়ুয়া ছেলে বা মেয়েটির পড়াশুনার বিষয়বস্তু কী হতে পারে এবার ভেবে দেখুন। হয়তো ভাবছেন আপনার ছেলেমেয়ে এমন নয় শুধু একটি কথা বলবো আমাদের সমাজে এমন কোন নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হয় না যে আপনার ছেলেমেয়ে চরিত্রবান ও সুশিক্ষিত হয়েছে।
এবার আসি যাদের কম্পিউটারে ইন্টারনেটের বালাই নেই। তাদের সন্তানদের কাছে যদি স্মার্ট ফোন বা ভিডিও দেখা যায় এমন কোন ফোন থাকে তাহলে? জেনে রাখুন এখনকার মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো কলরেটের চেয়ে কম রেটে ইন্টারনেট সুবিধা দেয় আর এখনকার বেশীরভাগ ফোনেই ইন্টারনেট ব্রাউজিং এর সুবিধা আছে। আর আগেই বলেছি মহল্লার ভিডিও সিডি যারা ভাড়া দিয়ে থাকে অথবা যে সকল দোকানে মোবাইলে, গান ছবি ইত্যাদি ডাউনলোড করা হয় লেখা থাকে, নিজে না পারলেও অন্যদের মারফৎ খোঁজ-খবর নিয়ে দেখুন আপনার ছেলেমেয়েরা কিভাবে নষ্ট ছবি, সিনেমা তার মোবাইলে বা কম্পিউটারে লোড করে নিচ্ছে।
এবার ভাবুন আপনার আদরের সন্তানকে আধুনিক যুগের আধুনিক নাগরিক হাওয়ার জন্য তার হাতে কি তুলে দিয়েছেন। রাতের পর রাত জেগে বা নির্জনে বসে কম্পিউটার বা মোবাইলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আপনার স্কুল বা কলেজ পড়ুয়া ছেলে বা মেয়েটির পড়াশুনার বিষয়বস্তু কী হতে পারে এবার ভেবে দেখুন। হয়তো ভাবছেন আপনার ছেলেমেয়ে এমন নয় শুধু একটি কথা বলবো আমাদের সমাজে এমন কোন নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হয় না যে আপনার ছেলেমেয়ে চরিত্রবান ও সুশিক্ষিত হয়েছে।
এবার আসি যাদের কম্পিউটারে ইন্টারনেটের বালাই নেই। তাদের সন্তানদের কাছে যদি স্মার্ট ফোন বা ভিডিও দেখা যায় এমন কোন ফোন থাকে তাহলে? জেনে রাখুন এখনকার মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো কলরেটের চেয়ে কম রেটে ইন্টারনেট সুবিধা দেয় আর এখনকার বেশীরভাগ ফোনেই ইন্টারনেট ব্রাউজিং এর সুবিধা আছে। আর আগেই বলেছি মহল্লার ভিডিও সিডি যারা ভাড়া দিয়ে থাকে অথবা যে সকল দোকানে মোবাইলে, গান ছবি ইত্যাদি ডাউনলোড করা হয় লেখা থাকে, নিজে না পারলেও অন্যদের মারফৎ খোঁজ-খবর নিয়ে দেখুন আপনার ছেলেমেয়েরা কিভাবে নষ্ট ছবি, সিনেমা তার মোবাইলে বা কম্পিউটারে লোড করে নিচ্ছে।
No comments:
Post a Comment