সমাজ পরিবর্তনে অন্তরায়
আতাহার হোসাইনঃ
আমাদের সমাজে প্রকৃত বিপ্লবীদের বড় অভাব। কিন্তু ভুয়া বিপ্লবীদের অভাব নেই। মুখে বড় বড় কথা বলেন, নীতি-নৈতিকতার কথা বলেন, অথচ হালাল-হারামের দিকে না তাকিয়ে তারা দুহাতে অর্থ কামাই করেন, ব্যাংকে তাদের সেভিংস একাউন্ট আর ফ্রিজে সঞ্চিত রাখা আছে খাবার, বউয়ের আবদার মোতাবেক মাসে মাসে নতুন শাড়ি উপহার দেন, ছেলে-মেয়েকে বড় বড় নামি-দামি স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়ে, প্রতি সাবজেক্টের উপর শিক্ষক রেখে, আত্মীয় স্বজনের আবদার মেনে নিয়ে, ইস্ত্রি করা পরিপাটি পোশাক পড়ে- ব্যবসা-বাণিজ্য ঠিক-ঠাক রেখে এরা দিব্যি বহাল তবিয়তে আছেন। কিন্তু প্রকৃত বিপ্লবীদের অবস্থা কি কখনো এমন হয়? না, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের ঘর থাকে না, বাড়ি থাকে না। সাজানো সংসার, সংসারে সুখী সুখী চেহারার স্ত্রীও থাকে না, থাকে না সঞ্চিত সম্পদ, ব্যাংকে থাকে না ডিপিএস একাউন্ট। আরাম-আয়েশ, প্রিয়ার হাসি, আত্মীয়-স্বজনদেরকে খুশি রাখাই ইত্যাদি সব কিছু থেকেই তাদেরকে ব্যর্থ হতে হয়। বাবা হিসেবে সন্তানের দাবি-দাওয়াও পূরণ করা হয়ে উঠে না। ক্যারিয়ার গঠন করে বিএসসি, এমএসসি কিংবা বিসিএস ক্যাডার হয়ে সরকারি চাকুরি জোটানোর কথা মাথায় আনা যায় না। কেননা ওসব যে বিপ্লবের অন্তরায়! মানব জাতির মধ্যে সবচেয়ে বড় বিপ্লবী কারা ছিলেন? হাতে গোনা সেসব সংখ্যার মধ্যে নিশ্চয় শেষ রসুলের নাম সর্ব প্রথমে উঠে আসবে। তিনি আজ থেকে ১৪০০ বছর আগের পরস্পর হানাহানিতে লিপ্ত, ক্ষুৎ পিপাসায় আক্রান্ত পৃথিবীর অন্যতম দরিদ্র একটি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে পৃথিবীতে সামনে ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর অনুসারীরা তৎকালীন দুনিয়ার বুকে সর্বশ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত হয়েছিলো। রসুলাল্লাহর সহধর্মিনী আম্মা খাদিজার প্রচুর সম্পদ ছিলো তা কার অজানা? কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সেসব কোথায় গিয়েছে? বিপ্লবের পথে সব উজাড় হয়ে গেছে। বিপ্লবের পথে সম্পদ আসে না। বরং বিপ্লব সম্পদশালীকে নিঃস্ব থেকে নিঃস্বতর করে। রসুলাল্লাহর আসহাবদের মধ্যে যারা ধনী ছিলেন তারাও পরবর্তীতে ফকিরের ন্যায় জীবন-যাপনে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু যখন অঢেল সম্পদ রাশি তাদের পায়ের তলায় গড়াগড়ি খাচ্ছিলো তখন সেসবকে আগলে রাখতে গিয়ে, ভোগ করতে গিয়েই তাদের সবচেয়ে বড় সর্বনাশটি ঘটে। তখন তারা আর বিপ্লবী রইলো না। অন্যদিকে বিপ্লবে নারীদের স্থান নিয়েও রয়েছে ভুল দৃষ্টিভঙ্গি। সব কাজেই নারীদের অংশগ্রহণকে দেখা হয় বাঁকা চোখে। প্রশ্ন হচ্ছে বিপ্লবে নারীরা যদি অংশ নেয় তাতে ক্ষতিটা কি? বরং একটি জাতীর পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও যদি কোন মহৎ কাজে যোগ দেয় তবে জাতি তার পুরো শক্তিকে কাজে লাগাতে পারে। নারীরা কি পুরুষের প্রতিযোগী? না, বরং তারা বিপ্লবীদের সহযোগী। জাতির অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে ঘরে বসিয়ে রেখে বিপ্লবের চিন্তা করা, শত্র“র মোকাবেলা করা সাংঘাতিক বোকামী। তবে একথা ঠিক, নারীরা সৌন্দর্যের উৎস। প্রকৃতিতে তাদেরকে কোমল স্বভাবে দেখতেই ভাল লাগে। তাছাড়া কঠিন ও পরিশ্রমের কাজ তাদের দিয়ে মানায় না, তারা তা করতে শারীরিকভাবে পুরোপুরি সক্ষমও নয়। কিন্তু নারীকে বিপদের সম্মুখীন করে, পৃথিবীতে অসভ্য এক ব্যবস্থা কায়েম রেখে, হায়েনাদের হাতে ধর্ষিত হতে দিয়ে সমস্ত অক্ষমতা নিয়ে বসে থেকে লাভটা কী? আগে সভ্য সমাজব্যবস্থা কায়েম করতে হবে, সকলের নিরাপত্তা ও মান-সম্মান নিশ্চিত করতে হবে, তারপর নারীদেরকে তাদের যথাস্থানে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবতে হবে।
No comments:
Post a Comment