আল্লাহর এক অনন্য সৃষ্টি মানুষ। সেই মানুষের মধ্যে দু’টি ভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সৃষ্টি হোচ্ছে পুরুষ এবং নারী। তাদের উভয়কেই আল্লাহ তাঁর প্রতিনিধি বা খলিফা হিসাবে সৃষ্টি কোরলেও নারী ও পুরুষ হিসাবে তাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য পৃথক।

বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের বর্ণনা অনুসারে আল্লাহ আদমকে সৃষ্টির পর জান্নাতের অঢেল সুখ ও শান্তিময় পরিবেশে বসবাস কোরতে দিলেন। সেখানে তাঁর ছিল যেখানে খুশি যাওয়ার, যা খুশি খাওয়ার, যা খুশি করার নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা। কিন্তু এত কিছু পেয়েও আদম (আ:) এর হৃদয়ে সৃষ্টি হোয়েছিল এক অদ্ভূত শূন্যতার অনুভূতি। সব আছে তবু কি যেন নেই। জান্নাতের এত সুখ-সম্ভোগ ও রঙ-রূপ-রসও তাঁকে আনন্দ দিতে পারছে না, সব কিছু অর্থহীন, বিবর্ণ, নিরস মনে হয়।
তখন আল্লাহ তাঁরই পাঁজড়ের হাড় থেকে সৃষ্টি কোরলেন তাঁর সঙ্গিনী এবং সাহায্যকারী হাওয়াকে (বাইবেল- জেনেসিস ২:২২)।
হাওয়াকে পেয়ে শান্তির সুধারসে আদমের হৃদয় পূর্ণ হোয়ে গেল, তিনি বুঝতে পারলেন কিসের অভাবে তিনি এতকাল সব পেয়েও বিমর্ষ ছিলেন। এভাবে জান্নাতেই নির্ধারিত হোয়ে গেল পুরুষ ও নারীর সৃষ্টিগত উদ্দেশ্য।
আল্লাহর একটি হুকুম অমান্য করায় আল্লাহ তাঁদের উভয়কে শাস্তি-স্বরূপ পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন। শাস্তি হোল, পুরুষ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রোজগার কোরে পরিবারের ভরণপোষণ কোরবে আর নারী গর্ভযাতনা সহ্য কোরবে, সন্তান লালন পালন কোরবে (বাইবেল- জেনেসিস ৩:১৬-১৭)। এভাবে তারা বেঁচে থাকবে কিন্তু তাদের জীবনের মূল লক্ষ্য কিন্তু এটা নয়। আল্লাহর প্রতিনিধি বা খলিফা হিসাবে তাদের উভয়েরই জীবনের লক্ষ্য আল্লাহ ঠিক কোরে দিলেন তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার দ্বারা পৃথিবীতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য কেবল পারিবারিক জীবনেই নয়, জীবনের সর্ব অঙ্গনের জন্য আল্লাহ নারীকে পুরুষের সঙ্গী এবং সাহায্যকারী হিসাবে নির্ধারণ কোরে দিলেন। তিনি নারীকে সৃষ্টিই কোরেছেন রহমত, বরকত ও নেয়ামতে পূর্ণ কোরে। সে নিজেই এমন এক শান্তিময় সৃষ্টি যাকে ছাড়া জান্নাতও মানুষকে শান্তি দিতে পারে নি, পারবেও না। পৃথিবীর জীবনেও তাই নারী ছাড়া শান্তি কল্পনা করা যায় না। এজন্যই আল্লাহ বোলেছেন, “আল্লাহর নিদর্শনাবলীর মধ্যে একটি এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের মধ্যে থেকে সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি লাভ কর এবং সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মধ্যে ভালবাসা ও দয়া।” (আর-রূম ৩০:২১) আর আল্লাহর রসুল বোলেছেন, সমগ্র পৃথিবী আল্লাহর নেয়ামত আর সম্পদরাশিতে পূর্ণ এবং সেই সবকিছুর মধ্যে সবচেয়ে মঙ্গলময় সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ ও নেয়ামত হোচ্ছে সেই স্ত্রী যে আল্লাহর আদেশ ও নিষেধের প্রতি সদা সতর্ক (সহীহ মোসলেম, ২য় খণ্ড ৩৪৫৬)। এই হোচ্ছে নারীকে আল্লাহ প্রদত্ত সৃষ্টিগত মর্যাদা।
নারী কেবল তার স্বামীর জন্য শান্তির প্রতিমূর্তি নয়, জান্নাতকে যেভাবে সে শান্তিময় কোরে তুলেছে ঠিক সেভাবে মানবসমাজের প্রতিটি অঙ্গনে যেখানেই সে যাবে সেখানেই সে শান্তির সুবাস ছড়িয়ে দেবে। সে মা হিসাবে সন্তানের জন্য মমতার আশ্রয়, বোন হিসাবে ভাইয়ের জন্য আদরিনী আর øেহের আধার, স্ত্রী হিসাবে সে স্বামীর জন্য প্রেমময়, ঘরের কর্ত্রী, বার্ধক্যের অবলম্বন। কন্যা হিসাবে সে পিতা-মাতার জন্য নিরন্তর আনন্দের ফল্গুধারা। মানবসমাজের দেহ যদি পুরুষ হয় তবে নারী সে দেহের আত্মা বা প্রাণ। যে ঘরে, সমাবেশে, যে কর্মকাণ্ডে নারী নেই, যে মসজিদে, সে সালাতে নারী নেই, যে হজ্বে নারী নাই সেটা প্রাণহীন ও অপূর্ণ। তাদের আগমনেই মানবজীবনের প্রতিটি অঙ্গন শান্তিময় হোয়ে উঠবে
No comments:
Post a Comment